সামনে ফয়জুর নেপথ্যে কারা একাধিকবার ক্যাম্পাস রেকি করে সে, মৃত্যুর জন্যও প্রস্তুত ছিল, নেই কোনো অনুশোচনা

প্রকাশিত : ০৫ মার্চ, ২০১৮     আপডেট : ৩ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাহাদাত হোসেন পরশ, ঢাকা চয়ন চৌধুরী, ফয়সাল আহমদ বাবলু ও তন্ময় মোদক, সিলেট–পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী একাধিক দফায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস রেকি করেই জনপ্রিয় লেখক জাফর ইকবালকে হত্যার জন্য টার্গেট করা হয়েছিল। তাকে হত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েই ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকা টুকেরবাজারের শেখপাড়ার বাসিন্দা ২৪ বছরের যুবক ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুর ওরফে ফয়জুল হাসান শনিবার ছুরি নিয়ে তার ওপর নৃশংস হামলা চালায়।

হাতেনাতে ধরা পড়ার পর ফয়জুরকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র‌্যাব-পুলিশের একাধিক টিম। ফয়জুর স্বীকার করেছে, হামলা চালাতে গিয়ে ধরা পড়লে নিজের প্রাণও যেতে পারে- এটা জেনেশুনেই জাফর ইকবালকে হত্যা করতে যায় সে। উগ্রপন্থায় বিশ্বাসী হলেও জঙ্গিদের কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা গতকাল পর্যন্ত স্বীকার করেনি সে।

তবে হামলা করে সে মোটেও বিচলিত বা অনুতপ্ত নয়। কারণ তার ভাষায়, ‘জাফর ইকবাল ইসলামের শত্রু। তিনি নাস্তিক।’ তাই তাকে প্রাণে মেরে ফেলতে চেয়েছে ফয়জুর। পুলিশ-র‌্যাবের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী  শেখ  হাসিনা এ হামলাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে বলেন, হামলাকারী কারা, তা আক্রমণের ধরন থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। যারা এ ঘটনাগুলো ঘটায়, তারা ধর্মান্ধ হয়ে গেছে। তারা মনে করে, একটা মানুষ খুন করলেই বুঝি তারা বেহেশতে চলে যাবে। তারা কোনোদিন বেহেশতে যাবে না।

এদিকে বিকেলে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের বিক্ষোভ সমাবেশে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, অন্যায়ের বিচার না হওয়ার ধারাবাহিকতায় হুমায়ুন আজাদ, অভিজিৎ রায়সহ ১৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। মুক্তমনা মানুষদের ওপর হামলা ও হত্যার বিচার না হওয়ায়, সরকার কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ড. জাফর ইকবালের ওপরও আক্রমণ হয়েছে। এর দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বলেছেন, গত দুই বছর নয়, অনেক বছর ধরেই নানাভাবে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কাফনের কাপড় পাঠানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা তাদের সঙ্গে পুলিশ থাকে। তিনি অনুভব করেন না হামলার জন্য সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে বা পুলিশকে ব্লেইম করা ঠিক হবে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, হামলাকারী ফয়জুর একজন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। তবে এ হামলার নেপথ্যে অন্য কুশীলব রয়েছে। তারাই প্রশিক্ষণ দিয়ে তাকে হামলার জন্য প্রস্তুত করে তুলতে পারে। তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। হামলাকারী ফয়জুর আনসার আল ইসলাম (সাবেক আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-এবিটি) সদস্যও হতে পারে।

শাবিপ্রবি ও আশপাশ এলাকায় এই উগ্রপন্থি সংগঠনের সদস্যদের সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। গত এক বছরে এবিটির সঙ্গে সংশ্নিষ্টতার অভিযোগে শাবিপ্রবির ১২ ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় এই সংগঠনের পক্ষ থেকে জাফর ইকবালকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। অতীতে ড. অভিজিৎ রায়সহ অন্যান্য ব্লগার ও লেখককে এবিটির জঙ্গিরা যে কায়দায় হামলা করেছে, তার সঙ্গে জাফর ইকবালের ওপর হামলার পুরোপুরি মিল রয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী রোববার সমকালকে বলেন, হামলার ধরন বলছে এটি জঙ্গি হামলা। সেটা না হলে কীভাবে এই পরিবেশে দ্রুত সময়ের মধ্যে জাফর ইকবালের ওপর আক্রমণ করা হলো? দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ ছাড়া এটা অসম্ভব।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে র‌্যাব-৯-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ সমকালকে বলেন, ফয়জুরকে ধরার পর গণধোলাই দেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামলার ব্যাপারে সে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে। এসব যাচাই-বাছাই চলছে। র‌্যাব এ ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু করেছে। ফয়জুরকে পরে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (গোপনীয়) মো. মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, হামলার ধরন ও অন্যান্য তথ্য বিশ্নেষণ থেকে এটি জঙ্গিদের কাজ বলে মনে হচ্ছে। সব সন্দেহ সামনে রেখেই তদন্ত চলছে।

আগে থেকেই রেকি করে হামলা : দায়িত্বশীল উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানায়, ফয়জুর স্বীকার করেছে, জাফর ইকবালকে টার্গেট করে হামলা করতে কিছুদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রেকি করে সে। জাফর ইকবাল কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে মিশছেন- তা জানতে অনেক দিন ক্যাম্পাসে যায় সে। এমনকি শনিবার জাফর ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আয়োজনে ‘ইইই ফেস্টিভ্যালে’ উপস্থিত থাকবেন, তা আগেই জানত সে। ঘটনার দুপুর থেকেই সে ক্যাম্পাস এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে থাকে। বাসা থেকে হেঁটে হেঁটে ক্যাম্পাসে যায় সে। ছুরিটি কোথায় পেয়েছে- এমন প্রশ্নে নিরুত্তর ছিল ফয়জুর। কেউ তাকে হামলার জন্য নির্দেশ দিয়েছে, নাকি অর্থ দিয়েছে? এমন প্রশ্নে সে জানায়, ‘পত্রিকায়, টেলিভিশনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে জাফর ইকবালের লেখালেখি ও কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রেখে আসছিল।

তার মনে হয়েছে, জাফর ইকবাল ইসলামের শত্রু। সে নাস্তিকতা প্রচার করে। তাই তার প্রতি তার ঘৃণা জন্মায়।’ এই ঘৃণা থেকেই জাফর ইকবালকে টার্গেট করে সে। তবে তার অন্য কোনো সহযোগী ছিল কি-না এ ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হয়নি ফয়জুর। কারও কাছ থেকে অর্থ নিয়ে হামলায় অংশ নেয়নি বলে জানায়। পুলিশের ধারণা, ফয়জুরের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আশপাশে তার অন্য সহযোগী থাকতে পারে। সাধারণত জঙ্গিদের একেকটি স্লিপার সেলে তিন থেকে সাতজন সদস্য থাকে। আবার অনেক সেলফ রেডিকালাইজড উগ্রপন্থি এককভাবে হামলা চালায়। শনিবারের হামলার পর ফয়জুরের কাছ থেকে আরও কিছু আলামত পাওয়া গেছে, সেসব পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর ফয়জুর হাসছিল। তখনও তার মাথায় ছিল ব্যান্ডেজ। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে মানসিকভাবে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, এত বড় ঘটনার পরও তার চোখে-মুখে চিন্তা বা অপরাধের বিন্দুমাত্র ছাপ নেই।

জঙ্গি হলেও তার সঙ্গে আর কারা জড়িত, একজন বহিরাগত হয়েও কার পরিকল্পনায় ক্যাম্পাসে গিয়ে একটি বিভাগের অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে গিয়ে সে ওই হামলা চালাল, সে প্রশ্নের উত্তর এখনও দেয়নি ফয়জুর। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, সামনে ফয়জুর থাকলেও এ হামলার নেপথ্যে রাঘববোয়াল থাকতে পারে। তদন্তে সেটা বের করাই এখন পুলিশের চ্যালেঞ্জ।

ভিন্নভাবে নামাজ আদায় করত হামলাকারী ও তার চাচা : এলাকাবাসী জানান, ফয়জুর ও তার এক চাচা স্থানীয় মসজিদে আলাদা কায়দায় নামাজ আদায় করত। মসজিদের ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে তারা আগ্রহী ছিল না। এ নিয়ে এলাকার অন্য বাসিন্দাদের সঙ্গে তাদের ঝগড়াও হয়েছিল। পরে ফয়জুরের ওই চাচা কুয়েত চলে যান। ধারণা করা হচ্ছে, কুয়েত প্রবাসী দুই চাচার মাধ্যমে জঙ্গিবাদে ভেড়ে ফয়জুর। সে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার গ্রামের বাড়ি সংলগ্ন ধল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করার পর আলিম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। তবে সিলেট নগরীর উপকণ্ঠ টুকেরবাজারের শেখপাড়ায় শাবি সংলগ্ন বাসায় এসে জঙ্গি মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হামলাকারী ফয়জুর লেখাপড়া ছেড়ে দেয়। এ সময় নগরীর জিন্দাবাজারের একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করার পাশাপাশি নামাজসহ ইসলামের বিভিন্ন রীতিনীতি ভিন্ন পন্থায় পালন শুরু করে সে। গত মাসে সে কম্পিউটারের দোকানের কাজ ছেড়ে দিয়ে ‘নতুন মিশন’ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়।

আত্মসমর্পণ করেছে ফয়জুরের মা-বাবা : জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুরের বাবা-মা থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। রোববার রাত পৌনে ১১টার দিকে ফয়জুরের বাবা আতিকুর রহমান ও মা মিনারা বেগম সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানায় আত্মসমর্পণ করেন। এরপর রাতেই ফয়জুরের মা-বাবাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে রোববার বিকেলে হামলাকারী ফয়জুর রহমানকে পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। এর পরই পুলিশ ফয়জুর রহমানকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত অবস্থায় ফয়জুরকে গ্রহণ করে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। এর আগে রোববার বিকেলে শেখপাড়া ও কালিয়ারকাপন গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ফয়জুরের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। হামলার পর শনিবার রাতে সিলেট মহানগর পুলিশ ফয়জুরের মামা ফজলুর রহমানকে আটক করে। এদিকে জাফর ইকবালের ওপর হামলার পরপরই ঢাকা থেকে সিটিটিসির পাঁচ সদস্যের একটি দল আসামি ফয়জুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিলেটে যায়।

পুলিশের দুই সদস্য প্রত্যাহার : জাফর ইকবালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত দুই পুলিশ সদস্যকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য প্রত্যাহার করে গতকাল পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হামলার সময় নিরাপত্তায় নিয়োজিত ওই দুই পুলিশ সদস্য মুঠোফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) আবদুল আহাদ বলেন, ‘দুইজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। হামলার সময় তারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।’

তথ্য জানতে চারজনকে আটক :  এ হামলার ঘটনায় গতকাল সকাল পর্যন্ত র‌্যাব সন্দেহভাজন হিসেবে আরও চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তাদের মধ্যে একজন হামলাকারী ফয়জুরের চাচা আবুল কাহার। গতকাল ভোরে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদলের কালিয়ারকাপন গ্রামের বাড়ি থেকে চাচা আবুল কাহারকে আটক করা হয়। আসামি ফয়জুরের বাবা মাদ্রাসা শিক্ষক আতিকুর রহমানের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনজন দেশে থাকেন। এ ছাড়া নগরীর জিন্দাবাজারের রাজা ম্যানশনের মঈন কম্পিউটার অ্যান্ড প্রিন্টার্সের মালিক মঈনুল হক মঈনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব হেফাজতে নিয়েছে। জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজা ম্যানশনের দ্বিতীয় তলার মঈনের কম্পিউটারের দোকানে গত জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ফয়জুর কাজ করত বলে জানা গেছে। আটক অন্যজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে র‌্যাব রাজা ম্যানশনের তৃতীয় তলার মসজিদ সংলগ্ন একটি কম্পিউটার দোকানের একজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। এই কম্পিউটারের দোকানগুলোতে ফয়জুর জামায়াতের বিভিন্ন প্রচারপত্রসহ জঙ্গি মতবাদে বিশ্বাসী বিভিন্ন প্রকাশনা কম্পোজের কাজ করত বলে জানা গেছে। এ ছাড়া গতকাল দুপুরে ফয়জুরকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও ‘কয়েকজনের’ বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সিলেট সদর উপজেলার কুমারগাঁওয়ের ফয়জুরের শেখপাড়ার বাড়ি থেকে বিভিন্ন ধরনের ইসলামী বই ও ল্যাপটপ-সিডি উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার আলামত হিসেবে ছুরি ও একটি চাবি পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। এছাড়া ফয়জুরের ব্যাপারে তথ্য জানতে গতকাল তার মামা সুনামগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের বহিস্কৃত নেতা ফজলুর রহমানকে আটক করে পুলিশ।

তদন্ত কমিটি :  এদিকে হামলার ঘটনা তদন্তে গতকাল শাবিপ্রবি প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক আবদুল গণি, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক শহিদুর রহমান। গত শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে অতর্কিতে জাফর ইকবালের মাথার পেছনে ছুরিকাঘাত করে এক যুবক। এর পর তাকে দ্রুত নেওয়া হয় সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে শনিবার রাতেই বিমানবাহিনীর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিএমএইচে আনা হয়। এখন তিনি আশঙ্কামুক্ত। এ হামলার পর সারাদেশে নিন্দা-প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি ওঠে। সুত্র সমকাল 4.3.18

 


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

মুক্তি পেলেন বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ ২ ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিএনপি নেতাকর্মী

         সিলেটের বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার...

কানাডা এক্সিবিশন থ্রু দ্য লেন্সেস অব রজার গোয়েন অ্যান্ড আনিস মাহমুদ

         আলোকচিত্রভ্রমণের মাধ্যমে একটি বিশেষ ভূনৈসর্গিক...

আজ জানাজা আল্লামা শাহ আযহার আলীর

         আল-হাইআতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া...