সাতচারা থেকে সাইক্লোন এবং…. হারান কান্তি সেন মিশিগান,ইউএসএ

প্রকাশিত : ০৭ জানুয়ারি, ২০২০     আপডেট : ৫ মাস আগে  
  

আমরা সমবয়সী ক’জন গোল্লায় সাতচারা খেলা শুরু করবো করবো করছি এমনি সময় আমাদের মত হালকা-পাতলা গড়নের একজন এসে বললো-আমি খেলতে পারি আমায় নিবে!সাথে সাথে তাকে নিয়ে আমাদের সাতচারা খেলা শুরু হয়।
খেলা শেষ হবার পর দেখি ওই নবাগত সহ খেলোয়াড়টি ৯নম্বরের দিকে চলে যাচ্ছে।আমি তাকে জিঞ্জেস করলাম-এ্যাই তুমি কি কোনাপাড়ায় থাক?তখন সে বললো আমার নাম জাবেদ-আমি ৯ নম্বরের জহির উদ্দিন সাহেবের ভাতিজা।
আমাদের আম্বরখানা সরকারী কোয়ার্টারের সবার খেলাধূলার গুরু শায়েস্তাভাই(আখলাকুল আম্বিয়া চৌধুরী,বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী)নেতৃত্বে কোয়ার্টারের নিজস্ব ফুটবল মাঠে রোজ বিকেলে আমরা যখন ফুটবল খেলতাম তখন জাবেদও ক্রমে ক্রমে এসে আমাদের সাথে মিশে যায়।
সেই সময়ে বাংলাদেশের ফুটবলে আবাহনী-মোহামেডান দুই পরাশক্তি!ক্লাব দুটির সাপোর্টারেরও অভাব ছিল না!সিলেট শহরে তখন পাড়াভিত্তিক একমাত্র আম্বরখানা সরকারী কোয়ার্টারে ওখানকার একমাত্র ক্লাব ঘরকে মাঝখানে পার্টিশন দিয়ে আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠী ও মোহামেডান ফ্যান ক্লাব গঠন করা হয়।জহিরুল আনাম খান মারুফ,জলিলুল চৌধুরী কয়েস,আশরাফ হোসেন জামান,জাবেদ আহমদ,আবুল ফয়েজ চৌধুরী,আব্দুস শহিদ বাবুল,জিয়াউল কবির পলাশ প্রমুখ মোহামেডান ফ্যান ক্লাবে।আর সোয়েব চৌধুরী,নোমান চৌধুরী,জামিল আহমদ চৌধুরী,আমি সহ একঝাঁক কিশোর-যুবকের নেতৃত্বে ছিল আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠি।
তখন মোহামেডান ফ্যান ক্লাবের উদ্যোগে ফি বছর গল্ফ ক্লাব থেকে মিনি ম্যারাথন দৌড় হতো এবং ওখানে জাবেদ থাকতো গুরুত্বপূর্ন ভূমিকায়!
বন্ধু জাবেদ,ফয়েজ,আব্দুল মালিক যখন জনতা ইন্সুরেন্সে চাকরী করতো তখন রোজ বিকেলে আমাদের আড্ডা হতো ওখানে। তখন লটারী করে একেকজন একদিন একদিন করে বৈকালিক নাস্তা স্পন্সর হতো!
সাইক্লোন থেকে আমরা যখন আম্বরখানা সরকারী কোয়ার্টারের প্রাক্তন অধিবাসী বয়োজ্যেষ্ঠদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাক্ষাৎ শুরু করলাম তখন জাবেদ ও আমি সব যায়গায়ই একসাথে গেছি আর বাদবাকীরা প্রায় সময় বাদ পড়তেন!সপ্তাহে অন্ততঃ একদিন হলেও আমরা দুই বন্ধুতে মিলে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখি দীর্ঘদিন!
সর্বশেষ এই তো ২/৩ মাস আগে জাবেদ তার স্কুল জীবনের এক সহপাঠী যে কিনা স্হানীয় একটি পেট্রল পাম্পে চাকুরী করে এবং সে চোখের জটিল রোগে আক্রান্ত!এই অসুস্হ লোকটি নিজের চোখের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এক চক্ষু বিশেষঞ্জের কাছে গেলে তিনি বলেন অনেক টাকা লাগবে!খবরটি জাবেদের কাছে এলে সে ওই চিকিৎসক ভদ্রলোকের সাথে যোগাযোগ করে এবং তিনি নামমাত্র অর্থে(৳ ৪৫,০০০/-টাকা)অপারেশন করতে সম্মত হন!অতঃ,পর জাবেদ নিজে ও দেশ-বিদেশে অবস্হানকারী আত্মীয়-বন্ধুর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে লোকটিকে সাহায্য করে!
এমন অগুনতি মানুষের সেবায় জাবেদ তার জীবন উৎসর্গ করেছে বলে আমার বিশ্বাস।
বন্ধু জাবেদ আহমদের সিলেট শহরের জীবন ১৯৭৬ খ্রিঃ শুরু হলেও সে আম্বরখানা সরকারী কোয়ার্টারে(৯ জি)আসে ১৯৭৮খ্রিঃ এবং ওখানে ছিল ১৯৯০ পর্যন্ত।
জাবেদ ১৯৮৪ খ্রিঃ এইডেড হাইস্কুল থেকে এসএসসি, মদন মোহন কলেজ থেকে ১৯৮৬ খ্রীঃ ও ১৯৮৮ খ্রিঃ এইচএসসি ও বিকম পাস করে।১৯৯৪ খ্রিঃ সিলেট ল’কলেজ থেকে এলএলবি ও ২০০৭ খ্রিঃ সাউথইষ্ট বিশ্ব বিদ্যালয়
জাবেদ ১৯৮৮ খ্রিঃ হতে ১৯৯১ পর্যন্ত দৈনিক সিলেটের ডাক,জনতা ইন্সুরেন্স,সরকারী স্বাস্হ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে চাকরী করে।১৯৯১ খ্রিঃ বাংলাদেশ ব্যাংকে মূদ্রা নোট পরীক্ষক হিশেবে যোগদান করে।১৯৯৬ খ্রিঃ অফিসার,২০০৩ খ্রিঃ সহকারী পরিচালক,২০১১ খ্রিঃউপপরিচালক,২০১৫ খ্রিঃ যুগ্ম পরিচালক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হয়জাবেদ ১৯৯০ সালে ভয়েস অব আমেরিকা ফ্যান ক্লাব, সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৯৯০ সালের ২৪ মার্চ ভারতের কলকাতায় আন্তর্জাতিক রেডিও শ্রোতা সম্মেলনে ৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয় এবং প্রথম বিদেশ সফর করে। দলের সদস্যরা ছিলেন হাছান মোসাদ্দিক আহমদ সুহেল, আহমদ শোয়েব সাব্বির,মোঃ মিজানুর রহমান, ফখরু ও মোহাম্মদ আলী আকিক। তাঁরা সকলে আমরা মোহামেডান এর কর্মকর্তা (জাবেদ সভাপতি ও সাব্বির সাধারণ সম্পাদক) থাকায় কলকাতায় অবস্থানকালে সেখানে পরিচিত এক ভারতীয় বন্ধু মোহাম্মদ রুমীকে নিয়ে কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে গেলে ক্লাব কর্মকর্তারা উষ্ণ সংবর্ধনা জানান। উপমহাদেশের ্ঐতিহ্যবাহি ক্লাবের সুদৃশ্য হলরুমে তাদের নিয়ে বিশেষ সভা হয় এবং বাহারি নাস্তায় আপ্যায়িত করানো হয়। এ দৃশ্য দেখে ভারতীয় বন্ধু রুমী কিছুটা হতবাক হয়। জাবেদ মাতাসহ ২০০২ সালে পবিত্র হজ্বব্রত পালন করেন এবং পরিবার সদস্যদের নিয়ে ২০১৯ সালে পবিত্র ওমরাহ পালন করেন। অফিসিয়াল প্রশিক্ষণে ২০১৮ সালে শ্রীলংকা গমণ করেন। এছাড়া জাবেদ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেন।ব্যাক্তিগত জীবনে তার স্ত্রী নূরজাহান পারভীন চৌধুরী (বি,এ)উন্দাল কিং কাবাব ও রয়েল শেফ চাইনিজ রেষ্টুরেন্টের পার্টনার।বড় মেয়ে চৌধুরী নায়িমা বুশরা আহমদ স্হাপত্য বিদ্যা(অনার্স)৩য় বর্ষ,সায়িমা হুমায়রা আহমদ এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী,পুত্র চৌধুরী সামিন ইয়াসার আহমদ এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী,হাসিন ইয়াসার আহমদ ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
সব শেষে স্বামী বিবেকানন্দের একটা উক্তি দিয়ে শেষ করছি,তিনি বলতেন-‘পৃথিবীতে যখন এসেছিস তখন অন্ততঃ একটা দাগ রেখে যা’!আমার বিশ্বাস জাবেদের জীবন ও কর্ম অবশ্যই একটা দাগ রেখে যাওয়ার মত।
বন্ধু জাবেদ আহমদের ৫০ তম জন্মদিনে এই কামনা করি সে যেন সুস্হ দেহে শতায়ূ হয়!

আরও পড়ুন



ধ্বংসের মুখে সুরমা নদী

ইফতেখার শামীম নদীমাতৃক বাংলাদেশের অন্যতম...

মৌলভীবাজারে সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে নিহত-১

এইচ এম সামাদ,মৌলভীবাজার:: মৌলভীবাজার সদর...