সরকার নারীদের যথাযথ সম্মানের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে

প্রকাশিত : ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০     আপডেট : ৪ মাস আগে  
  

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি বলেছেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জঙ্গী হামলা হচ্ছে। হতাহতের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার জঙ্গি হামলা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। একইভাবে প্রশাসন আন্তরিক থাকলে এদেশে শিশু এবং নারী নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু নারীদের দাম্পত্য জীবনের কল্যাণে কাজ করেছেন। খালেদা জিয়ার সংসারও ভঙে গিয়েছিলো। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তা হতে দেননি। তিনি তাদের সংসার জোড়া লাগিয়ে দিয়েছেন। আর সেই পথ ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীবান্ধব সমাজ গঠনে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। নারীদের যথাযথ সম্মানের জায়গা প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী সিলেট বিভাগীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর রিকাবীবাজারস্থ কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, সিলেট-এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শামীমা আক্তার খানম ও সৈয়দা জোহ্রা আলাউদ্দিন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তার ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর মহাপরিচালক (গ্রেড-১) পারভীন আকতার, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান এনডিসি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আরো বলেন, এ বছর বাঙালির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিছুদিন পরই জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ। বঙ্গবন্ধু সারাজীবন অধিকারহারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনি নারীদের প্রতিষ্ঠায় পুনর্বাসন বোর্ড গঠন করেছিলেন। তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, সংসদে বিএনপি নারীদের বসার সুযোগ করে দিতে পারেনি। তারা নারীদের যথাযথ মূল্যায়ন করেনি। তাদের সময়ে সংসদের অধিকাংশ আসনই খালি ছিলো। আর বর্তমান সরকার অভূতপূর্ব জাগরণসহ নারীদের পূর্ণ মর্যাদার আসনে বসিয়েছে। বর্তমান সরকারের নারী উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মপরিকল্পনা সমস্ত বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। এই পরিবর্তন, এই বদলে যাওয়া অলৌকিক কোনো ঘটনা নয়। এটি শেখ হাসিনার সাফল্য।
সিলেট বিভাগীয় কমিশনার এনডিসি মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে ‘তোমরাই বাংলাদেশের বাতিঘর’ প্রতিপাদ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তৃণমূলের নারীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য শামীমা আক্তার খানম তার বক্তব্যে বলেছেন, নারীরা পিছিয়ে নেই। রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ শাখায় নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইউনিয়ন থেকে শুরু করে সংসদ পর্যন্ত নারীদের রয়েছে সরব উপস্থিতি। বাঙালি নারীরা এভারেস্ট পর্যন্ত জয় করেছে। তাদের নেতৃত্বে দেশও আরো গতিশীল হবে।
বিশেষ অতিথি সৈয়দা জোহ্রা আলাউদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশে সর্বক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যেভাবে উন্নয়ন অগ্রগতি অব্যাহত আছে, তাতে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। আর এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে বাল্য বিয়ে অনেকাংশে কমে আসবে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তার বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সরকারি-বেসরকারিসহ তৃণমূল পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রে এখন নারীর উপস্থিতি দৃশ্যমান। বাংলাদেশে সর্বক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা এখন এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশুর সর্বাত্মক উন্নয়নের জন্য সরকার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের (নারী ও শিশু) উন্নয়নের জন্য মূল বিষয় হলো কমিটমেন্ট। এই কমিটমেন্টকে সামনে রেখেই আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাবো।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর মহাপরিচালক (গ্রেড-১) পারভীন আকতার তার বক্তব্যে বলেন, দেশে প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের স্পিকারও একজন নারী। দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও নারী বিচারক রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়েও আছেন নারী উপাচার্য। এমনকি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতেও নারী আছে। আজ যাদের সম্মাননা জানানো হলো তারা দেশকে এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান এনডিসি বলেছেন, বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। এই এগিয়ে যাবার পেছনে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অভাবনীয় সাফল্য রয়েছে। তিনি বলেন, মুজিববর্ষকে সামনে রেখে বাংলাদেশ নতুন স্বপ্নে উজ্জীবিত হয়ে আরো এগিয়ে যাবে। এজন্য নারীদের আরো ভূমিকা রাখতে হবে।
জেলা কালচারাল অফিসের অসিত বরণ দাস গুপ্ত ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাস রায়ের যৌথ পরিচালনায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যাদের এই সম্মাননা দেয়া হয় তারা হলেন :
সিলেট জেলা : অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য সিলেট নগরীর নয়াসড়ক এলাকার মৃত মিসবাউল মান্নানের স্ত্রী মিনারা বেগম, সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় নগরীর কাজিটুলা এলাকার মৃত বসির মিয়া শিকদারের মেয়ে আছিয়া খানম শিকদার, শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে সফলতার জন্য সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. নাসরিন সুলতানা লাকি, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করায় কানাইঘাট উপজেলার নিজ চাউরা দক্ষিণ গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের স্ত্রী সালেহা বেগম এবং সফল জননী হিসেবে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হলেন বালাগঞ্জের গৌরীপুর গ্রামের মৃত মকবুল হোসেন চৌধুরীর স্ত্রী শামসুন্নাহার চৌধুরী।
সুনামগঞ্জ জেলা : অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য দোয়ারাবাজার উপজেলার নতুন কৃষ্ণনগর গ্রামের জমির আহমদের স্ত্রী ছালেহা বেগম, সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার অনামিকা গ্রামের রেজাউল হক মিন্টুর স্ত্রী সামিনা চৌধুরী মনি, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সফলতার জন্য দোয়ারাবাজার উপজেলার দেওরা বাজার গ্রামের মনোরঞ্জন দেবের মেয়ে স্বর্ণালী দে, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের গোপেশ চৌধুরীর মেয়ে ছায়া রাণী চৌধুরী এবং সফল জননী হিসেবে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হলেন বিশ্বম্ভরপুর গ্রামের মাঝাইর গ্রামের সুরেশ রঞ্জন দাসের স্ত্রী রানী দাস।
হবিগঞ্জ জেলা : অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য লাখাই উপজেলার বামৈ গ্রামের মাসুদ মিয়ার স্ত্রী সেলিনা আক্তার, সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় হবিগঞ্জ পৌরসভা এলাকার শেখ শাহেদুজ্জামানের স্ত্রী শেখ সুমা জামান, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সফলতার জন্য মাধবপুরের মোদকপট্টি গ্রামের মদন গোপাল মোদকের মেয়ে শিল্পি রানী মোদক, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যেমে জীবন শুরু করায় বাহুবল উপজেলার স্বর্ণরেখা গ্রামের জালাল উদ্দিনের মেয়ে মোছা. সাহিদা আক্তার রেজিয়া এবং সফল জননী হিসেবে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হলেন লাখাই উপজেলার কালাউক গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল আলমের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম।
মৌলভীবাজার জেলা : অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য কুলাউড়া উপজেলার নন্দনগর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে রওশন আরা বেগম, সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় কমলগঞ্জ উপজেলার গোপালনগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে রুমানা আক্তার রুবি, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সফলতার জন্য শ্রীমঙ্গল উপজেলার লৈয়ারকুল গ্রামের মৃত শেখ মুন্সি আব্দুল গফুরের মেয়ে নাজমীন আক্তার, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করায় কুলাউড়া উপজেলার সিংগপুর গ্রামের মো. জাফর মিয়ার মেয়ে হাজেরা আক্তার এবং সফল জননী হিসেবে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার শান্তিবাগ আবাসিক এলাকার লক্ষিীমনী কান্ত দত্তের মেয়ে রীতা দত্ত।

আরও পড়ুন



ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ আজ

ঈদুল ফিতর রোববার না সোমবার...

ছাতকে গাঁজা ব্যবসায়ী গ্রেফতার

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : ছাতকে...

সিলেট লায়ন্স ক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট লায়ন্স...

সুনামগঞ্জে করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড...