সম্ভাবনাময় এক রায়হানের কথা বলছি!

,
প্রকাশিত : ০১ অক্টোবর, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আলী মুহাম্মাদ ইউসুফ :
আলহামদুলিল্লাহ! সমস্ত প্রসংশা মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের, যিনি আমাদেরকে মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। লক্ষকোটি দুরুদ ও সালাম সরকারে কায়েনাত, দু’জাহানের বাদশা, নুরে মুজাসসাম, হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবারে রিসালতে। যার উম্মত হিসেবে আমরা দুনিয়া-আখিরাতে সম্মানিত।
আবু তায়্যিব মুহাম্মদ রায়হান : বয়সে অনেক ছোট হলেও ইতিপূর্বে ইতিহাসে স্থান করে নেওয়া একটি নাম। তার অনেক পরিচয় আছে, আমাদের এলাকার যেসব মানুষ তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনেন; তাদের কাছে তার পরিচয় হচ্ছে সে “আসামপুরী হুজুরের বড় ছেলে।” হ্যাঁ! সে আমাদের এলাকার সর্বোচ্চ দ্বীনি বিদ্যাপীঠ, সবুজের সমারোহে প্রাকৃতিক মায়াময় ছায়াঘেরা ক্যাম্পাস; ঐতিহ্যবাহী রসুলগঞ্জ জামেয়া কোরআনিয়া আলিম মাদরাসার সাবেক শিক্ষক, হযরত মাওলানা আব্দুল মান্নান (আসামপুরী হুজুর) রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বড় ছেলে। তার সব পরিচয়ের বড় পরিচয় হচ্ছে- সে একজন তুখোড় মেধাবী মানুষ। যেকারণে একজন মাদরাসার ছাত্র হয়েও এদেশের নামীদামী একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় (শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট) থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেছে। যেখানে বিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তির এই যুগেও মানুষ বিশ্বাস করে যে, “মাদরাসাশিক্ষা কিংবা দ্বীনি শিক্ষা শুধুমাত্র গরীব-অসহায়, এতিম-অনাথদের জন্য!” আর একসময় তো তথাকথিত প্রথা ছিল যে, জন্মের সময় পঙ্গু (লেংড়া-আতুর) হলেই এরা মাদরাসার ছাত্র হিসেবে বরাদ্দ! যেখান থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অলিক স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু না! আর আমাদের দেশের মাথামোটা বুদ্ধিজীবী এবং নাস্তিক্যবাদী সুশীল সমাজের উস্কানিমূলক বক্তব্যের কথা না-ই বললাম। অথচ আজ রায়হান মাদরাসার ছাত্র হয়েও জার্মানীর একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে (Ruhr University Bochum) স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য যাচ্ছে।
আমাদের রসুলগঞ্জ মাদরাসা প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে এযাবৎকালে আমার জানামতে দুজন ছাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। আর এই দুজনই হলো- তারা দুই সহোদর; আসামপুরী হুজুরের বড় ছেলে- আবু তায়্যিব মুহাম্মদ রায়হান (শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট) এবং ছোট ছেলে আবুল খয়ের মুহাম্মদ সালমান (চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়)। যা প্রকৃতপক্ষে আসলেই ভাবার বিষয়। যেখানে গড় হার মিলিয়ে কয়েক গ্রামে এখনো একজন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মিলে না। সেখানে এক ঘরে দুইজন! মা-বাবা হারা আমার আত্মার-আত্মীয় এই দুটি ভাই তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছার জন্য মহান মাবুদের দরবারে করজোড়ে প্রার্থনা করছি।
আসামপুরী হুজুরের সীমাহীন স্বপ্ন ছিল রায়হানকে নিয়ে। যে কথাগুলো হুজুর প্রায়সময় একান্তই বলতেন। আজ হুজুর জীবিত থাকলে রায়হান জার্মানীতে যাচ্ছে শুনে তিনি নিশ্চয় আনন্দে আত্মহারা হতেন! মহান আল্লাহর হুকুমে যেহেতু ক্ষণস্থায়ী জীবনের ইতি টেনে কিছুদিনের ব্যবধানে হুজুরের সহধর্মিণী এবং হুজুর চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আমার বিশ্বাস; কবরদেশে থেকেও রায়হান-এর এ অগ্রযাত্রায় তাদের আত্মা শান্তি পাবে।
প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী একজন রায়হান :
রায়হান-এর অদম্য ইচ্ছা ছিল যে, সে উপমহাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ “শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে” লেখাপড়া করবে, তাই সে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিল নবম-দশম শ্রেণিতে থাকাকালীন সময় থেকেই। অতঃপর আল্লাহর দয়া, মা-বাবার দোয়া এবং তার মেধা ও সীমাহীন শ্রমের বিনিময়ে তার সেই ইচ্ছা অপূর্ণ থাকেনি। যেখানে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য একপ্রকার “অঘোষিত নিষিদ্ধ” থাকা সত্ত্বেও শত ব্যথা-বেদনা হৃদয় গহীনে নিয়ে মায়ের ইন্তেকালের চতুর্থদিন রায়হান অংশগ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধে। মহান মাবুদের অশেষ দয়ায় এই যুদ্ধে রায়হান বিজয়ী হয়। ধারাবাহিকভাবে স্নাতক শেষ করে এখন স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য সে জার্মানীতে যাচ্ছে।
ক্ষুদ্র এই জীবনে বেশকিছু মধুময় স্মৃতি মিশ্রিত একজন রায়হান সম্পর্কে লিখতে গেলে আসলে অনেককিছু লিখেও লিখা শেষ করা যাবে না। আবার রায়হান সম্পর্কে কোনকিছু লিখতে গেলে তার মতো একজন যোগ্য এবং মেধাবী মানুষের প্রয়োজন; যার কোনটিই আমার মধ্যে নেই! তবুও আবেগপ্রবণ হয়ে এই নিয়ে ভাবতে ভাবতে মনের মধ্যে অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্ব অতিক্রম করে এলোমেলো কিছু কথা লিখলাম। লেখাটি যেভাবে সাজানোর ইচ্ছা ছিল, সেভাবে সাজাতে পারিনি; তাছাড়া বিভিন্ন কারণে মানসিক অবস্থাটাও খুবই খারাপ! সর্বোপরি যে কথাটি বলতে চাইছি- একজন সম্ভাবনাময় স্বপ্নের ফেরিওয়ালা সুপ্রিয় রায়হান-এর স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সর্বাঙ্গিণ সফলতা কামনায় সকলের কাছে দোয়া চাই। সে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখুক এটাই প্রত্যাশা। সেইসাথে গুফরান, সালমান এবং তাদের বোনগুলোর জন্যও অশেষ শুভ কামনা রইলো।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরবর্তী খবর পড়ুন : লন্ডনী কন্যার শাকুর মজিদ

আরও পড়ুন

নারী দিবসে তিন নারীকে সম্মাননা দিল উইমেন্স চেম্বার

         আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সিলেট...

নিখোঁজ সাংবাদিক মুশফিকুর রহমানকে সুনামগঞ্জ থেকে উদ্ধার

         বেসরকারি মোহনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার...

মেটলাইফ’র সেলস অফিস ঘেরাও, ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সকল এজেন্সির ধর্মঘট

6        6Sharesসিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক আমেরিকান লাইফ...