সম্প্রীতির হাউজিং এষ্টেট

,
প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল, ২০১৯     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী:
সিলেট শহরের একটি পরিকল্পিত ও অভিজাত এলাকা হিসাবে সুপরিচিত আবাসিক এলাকা হচ্ছে হাউজিং এষ্টেট। এটি একটি সিলেট শহরের মডেল এলাকা হিসাবেও সুপরিচিত।সম্প্রতি এই এলাকা প্রতিষ্ঠার ৫০ বৎসর অতিক্রম করেছে। শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. সামসুদ্দিন আহমদ, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানসহ সিলেট নগরীর বিভিন্নসেক্টরের প্রতিষ্ঠিত স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন সময় এই এলাকায় বসবাস করেছেন এবং এখনও অনেকে বসবাস করেন, এমনকি সদ্য সাবেক অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আব্দুল মহিত এবং বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী জনাব ড. এ কে আব্দূল মোমেন এর একাধিক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় স্বজন এ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ায় তাদেরও এ এলাকার সাথে রয়েছে ঘনিষ্ট যোগাযোগ। এই এলাকার স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ সিলেটের বিভিন্ন ফোরামে নিতিনির্ধারনী ভূমিকা রাখছেন। প্রায় ১৯৮০ সালথেকে আমরা হাউজিং এষ্টেটেবসবাস করছি। প্রথমে ২৪ নং পরবর্তীতে ১২ নং হয়ে বর্তমানে ২০ নং বাসায় বসবাস করছি। দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে এই এলাকার সাথে একটি আধ্যাতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এই এলাকায়ছোটথেকে বড় হওয়ার পথে সকল পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার বৃহদাংশ এই এলাকার নাগরিক ও পরিবেশথেকে লাভ করেছি। আমরা যে আনন্দঘন পরিবেশে সামাজিক শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে বড় হয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ কর সম্ভব নয়। ছোটকালথেকে দেখে আসছি এই এলাকার একটি অন্যতম বৈশিষ্ঠ্য হচ্ছে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক, এখানে মুরব্বীথেকে শুরু করে স্কুলে যাওয়া কিশোর পর্যন্ত একে অপরের সাথে সম্মানজনক সম্পর্ক গড়ে তোলেছেন। আমার মনে আছে যখন ক্লাস সিক্স অথবাসেভেন এ ছিলাম তখন শ্রদ্ধেয় মরহুম শহীদ ভাইথেকে শুরু করে আমাদের সমবয়সী পর্যন্ত একসাথে ২০থেকে ২৫ জন বসে খেলাধুলা সহ সামাজিক সংগঠন বিষয় আলোচনা করতাম।যারা এই এলাকারসৌহার্দপূর্ণ পরিবেশের মাধ্যমে শিক্ষা অর্জন করে বড় হয়েছেন তারা সবাই আজ স্বস্বক্ষেত্রে সর্বোচ্ছ সফলতা লাভ করেছেন। ১৯৮৮ সালের দিকেওঅনেক প্লটই খালি ছিল। এই এলাকায় কোনখেলার মাঠ না থাকায় উক্ত খালি প্লট গুলি ছিল বিভিন্ন ধরনেরখেলাধুলার প্রাণকেন্দ্র, তারমধ্যে ১০৯ নং বাসার পাশের মাঠ ও সম্মুখের রাস্তা, ১২, ১৩,১৪,১৭,৭১ (রমন লম্বা মাঠ),১১২,১২২, ১৪৯ নং প্লট এবং ২, ৩,৫, ৫এ, ৭এ লেনগুলি ছিল উল্লেখযোগ্য। এমনকি যখন খালি প্লটগুলিতে বাসা নির্মিত হয়ে গেলে প্রতিদিন আমরা ৩০থেকে ৩৫ জন প্রায় ৩ কি.মি. দূরে হেঁটে এয়ারপোর্ট রোডের কাছে গল্ফের মাঠে (বর্তমানে সিলেট আন্তর্জাতি ক্রিকেট স্টেডিয়াম) ক্রিকেট খেলতে যেতাম এবং বৃষ্টির দিন ফুটবল খেলতাম। তখানকার সময় সবার খেলাধুলার প্রতি এতই আকর্ষন ছিলযে খেলার মাঠের অভাবের জন্য একদিনও খেলা থেমে থাকেনি, যেখানেই সামান্য খালি জায়গা নির্জন রাস্তা পাওয়াগেছে সেখানেই খেলার আয়োজন করা হয়েছে।সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিবন্ধিত ইলেভেন স্টারস ক্রিকেট ক্লাব দীর্ঘদিন থেকে এই এলাকা থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে ফলশ্রুতিতে হাউজিং এষ্টেটসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার ক্রিকেটারদের প্রাণকেন্দ্র ছিল এই এলাকা। বর্তমানে হাউজিং এস্টেটের সামাজিক, খেলাধুলা সহ বিভিন্ন কর্মকান্ড ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জনাব রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, হাউজিং এস্টেট এসোসিয়েশন এবং হাউজিং এস্টেট ইয়ূথ এসোসিয়েশন কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে, কিন্তু অতীতে যখন হাউজিং এষ্টেট এসোসিয়েশন এর কার্যক্রমে গতিশীলতা এবং কোন জনপ্রতিনিধির কার্যকর সহযোগীতা ছিলনা বিশেষ করে ১৯৮৫-২০০২ পর্যন্ত তখন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংগঠন এলাকার উন্নতি সাধন ও সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারেখেছে, তারমধ্যে পূর্বাশা সমাজ কল্যান সংঘ, ইদানিং সমাজ কল্যাণ সংঘ, হাউজিং এস্টেট সমাজ কল্যাণ সংঘ এবং হাউজিং এস্টেট ক্রিকেট একাডেমী অন্যতম। অতীতে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, মাতৃভাষা দিবস সহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে এই এলাকায় নিয়মিত ক্রীড়া ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজ করা হতো ,সেখানেমেরাতনদৌড়, কাবাডি, সাইকেলরেস,যেমন খুশিতেমন সাজো সহ ক্রিকেট ও ফুটবল প্রতিগোতিা এবং পিকনিকের আয়োজন করা হতো, সেখানে শুধুমাত্র হাউজিং এষ্টেট নয় পার্শ্ববর্তী এলাকারও কিশোর যুবকরা অংশগ্রহন করতেন। হাউজিং এস্টেট সমাজ কল্যান সংঘ এসোসিয়েশন নিষ্ক্রিয় থাকাকালীন সময় বিভিন্ন্ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করে অত্র এলাকার নিরাপত্তার জন্য নাইট গার্ড নিয়োগ, স্ট্রিট লাইট স্থাপন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য জনবল নিয়োগ, বৃক্ষ রোপন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং মশক নিধন অভিযানসহ উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম পরিচালনা করে, এমনকি বর্তমান কমিউনিটি হলের জায়গা যাতে দখল না হয় সেজন্য হাউজিং এস্টেট সমাজ কল্যাণ সংঘের উদ্যোগেসেখানে কার্যালয়ের জন্য সর্বপ্রথম সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। পরবর্তিতে হাউজিং এস্টেট এসোসিয়েশন পুর্ণগঠনের মাধ্যমে সক্রিয় হলে পর্যায়ক্রমে তারা উপরোক্ত সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তাছাড়া ২০০৩ সাল থেকে অত্র এলাকাথেকে জনাব কয়েস লোদী সিটি কর্পোরেশন এর কমিশনার ও পরবর্তীতে কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত হলে তার বিশেষ সহযোগীতায় বিশেষ করে স্ট্রিট লাইট, বর্জ ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সহ অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রমগুলি এসোসিয়েশনের মাধ্যমে সুষ্ঠূভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই এলাকার সুনাম বৃদ্ধি, ঐতিহ্য রক্ষায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তি সামাজিক কার্যক্রম,খেলাধুলা সহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারেখেছেন। হাউজিং এস্টেট এলাকার ৫০ বৎসর পূর্তিতে আমারদেখা (যাদের কাজদেখেছি এবং ব্যক্তিগতভাবে পরিচয় ছিল) কিছু ব্যক্তির নাম উল্লেখ করতে চাই যাদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি আমাদের মধ্যে নাই এবং অনেকে প্রবাসে বা অন্যান্য এলাকায় বসবাস করছেন।
যেসকল বয়:জৈষ্ঠ মুরব্বি বিভিন্ন সময় এসোসিয়েশনের সভাপতি বা অন্যান্য দায়িত্বেথেকে এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন তাদের মধ্যে মরহুম ওয়াহাবচৌধুরী, মরহুম অধ্যাপকগোলাম রসুল, মরহুম এডভোকেট আবু সলমানচৌধুরী, মরহুম ছমির উদ্দিন আহমদ, মরহুম ডা. কামাল এ শহীদচৌধুরী, মরহুম আব্দুর রবচৌধুরী, মরহুম ডা. এস ইউ আহমদ, মরহুম আব্দূর রহমানচৌধুরী, মরহুম এডভোকেট সদরুল আমিনচৌধুরী, মরহুম কাজি এনাম আহমদ এবং জীবিতদের মধ্যে জনাব এম এ করিম চৌধুরী, হান্নান চৌধুরী, এম এ বকর, নুরুল হোসেন খান, সৈয়দ একরামুল হক, শফিক উদ্দিন আহমদ, আজিজুল হক চৌধুরী (মতি), প্রকৌশলী শোয়েব আহমদ মতিন, আব্দুর রহিম,মতিউস সামাদচৌধুরী, কয়ছর রশীদ চৌধুরী, জাহিদরেজা চৌধুরী অন্যতম। একাধিকবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে ডা. আজিজুর রহমান ও ডা. একে এম হাফিজ এলাকায় উন্নয়নে অনেকটা সময় ব্যয় করেছেন এবং এখনও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।জনাব মরহুম মোয়জ্জমহোসেনচৌধুরী দীর্ঘদিন হাউজিং এষ্টেট এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন, তার দায়িত্ব পালনকালিন সময়ে তৎকালিন স্থানীয় সাংসদ ও স্পিকার মরহুম হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী এর বিশেষ সহযোগিতায় হাউজিং এস্টেট কমিউনিটি হলের জন্যজেলা পরিষদের প্লটটি বরাদ্দপেতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সনে কাউন্সিলর কয়েছলোদী এবং এসোসিয়েশন নেতৃবিন্দের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠা এবং তৎকালিন স্থানীয় সাংসদ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান এর সহযোগীতায়জেলা পরিষদের অর্থায়নে দ্বিতল ভবন নির্মিত হয়। জনাব মরহুম আব্দুল মুনিম একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন, তিনি বড়ভাই নামে সবার কাছে পরিচিত ছিলেন, দীর্ঘদিন হাউজিং এস্টেট এশোসিয়েশনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন কালীন সময়ে সামাজিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন, তারছোট দুই ভাই মরহুম ছালেহ আহমদ ও মরহুম ছয়েফ আহমদ দুলু ও সবার কাছে সমাজসেবী হিসাবে পরিচিত ছিলেন। মরহুম শহীদ উ্িদ্দন আহমদ একজন ক্রীড়াবিদ হিসাবে সুপরিচিত ছিলেন। একসময় তার বাসভবন (১০৯ নং বাসা) ও পাশের ফরিদ ভাগখেলার মাঠ (বর্তমানে বাসা) খেলাধুলার প্রাণকেন্দ্র ছিল।তার দুই ভাই শামীম আহমদ ও মিনহাজ আহমদ তানিম ও সকলের কাছে সুপরিচিত ছিলেন, তারা দীর্ঘদিনথেকে যথাক্রমে যুক্তরাজ্যে ও জার্মানীতে বসবাস করছেন। তার ভগ্নিপতি মরহুম জসিম উদ্দিন আহমদ বাদল ও একজন সমাজসেবী হিসাবে এলাকার বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকারেখেছেন। সেলিম জিলানী একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসাবে পরিচিত ছিলেন, তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। জুলকার নাইন জায়গীরদার যিনি কর্ণেল ভাই নামে সবার কাছে পরিচিত একজন দক্ষ সংগঠক ছিলেন, এসোসিয়েশনে দীর্ঘদিন বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদেথেকে এর পূনর্গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রেখেছেন, এছাড়া যেকোন বিষয়ে তার কাছে স্বরাপন্ন হলে তিনি সবসময় যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন, তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তার ছোট ভাই মিস্কি ভাইও সবার কাছে পরিচিত ছিলেন, যিনি বর্তমানে কানাডায় আছেন। কায়েস চৌধুরী ছিলেন হাউজিং এস্টেট ক্রিকেট দলের অধিনায়ক এবং তার বড় ভাই কামাল চৌধুরী একজন সক্রিয় ক্রিকেটার ছিলেন, তারা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। শেখ ফারুক আহমদ দীর্ঘদিন হাউজিং এস্টেট সমাজ কল্যাণ সংঘের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন, তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ফররুখ আহমদ চোধূরী একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসাবে পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন ক্রীড়া ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে তিনি সবসময় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতেন, তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেনএবংসেখানে টানা দুইবার কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত হয়ে তার সমাজসেবায় দক্ষতার স্বাক্ষররেখে চলছেন। তার বড় দুই ভাই জনাব শহিদ আহমদচৌধুরী (জুয়েল) বর্তমান বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থারকোষাধ্যক্ষ এবং এসোসিয়েশনের সাবেক সম্পাদক মাসুদ আহমদচৌধুরী (মাকুম) সিলেটচেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি হিসাবে বিভিন্ন ক্রীড়া, সামাজিক, অর্তনৈতিক অঙ্গনে অবদানরেখে চলছেন। শাহান রবচৌধুরী দীর্ঘদিন হাউজিং এস্টেট এসোসিয়েশনের সম্পাদক সহ বিভিন্ন দায়িত্বেথেকে সমাজ উন্নয়নে কার্যকর ভুমিকারেখেছেন, তিনি দীর্ঘদিন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে।এছাড়া তার তিন ভাই এসোসিয়েশনের সাবেক সম্পাদক ফুয়াদ রবচৌধুরী (শামীম), হাম্মাদ রবচৌধুরী ও সোয়াদ রবচৌধুরী এখনও এলাকার সামাজিক উন্নয়নে সক্রিয় আছেন। আনোয়ার মজিদচৌধুরী আজাদ দীর্ঘদিন হাউজিং এষ্টেট এসোসিয়েশনের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ১৪ নং বাসায় বসবাস করতেন আশফাকচৌধুরী (আনাছ) ও ফুয়াদচৌধুরীপ্রমুখ, তাদের বাসার সামনের খালি জায়গায় প্রতিদিন ক্রিকেটখেলা হতো পলিথিন ও কাগজ দিয়ে বানানো বিশেষ বল দিয়ে যা যতজোরেই মারাহোক নাকেন তা নির্দিষ্ট দূরত্বের বেশী অতিক্রম করতনা,সেখানে খেলায় প্রতিদিন অংশগ্রহণ করতেন মরহুম এডভোকেট আবু সলমানচৌধুরী সাহেবেরছেলে মিন্টু ভাইও মিজান ভাই এবং পারিজাতের তুহিন ভাই, সাইদ রেজা চৌধুরী (বর্তমান ব্যাংকার) সহ অনেকে, তাদের বেশীর ভাগই বর্তমানে প্রবাসী। মহিউস সামাদচৌধুরী (মিটু) ক্রিকেটার হিসাবে সুপরিচত ছিলেন, হাউজিং এষ্টেট দলে মিটু নামে ০২ জন ক্রিকেটার থাকায় তার পরিচিতি ছিল ওয়াহাব মিটু নামে এবং অন্যজন এস.ইউ মিটু (নুরুলমোস্তফা মিটু) নামে। দেওয়ান তৌহিদ মজিদ শায়েক দীর্ঘদিন হাউজিং এস্টেট একাডেমীর সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন, বর্তমানে তিনি য্ক্তুরাজ্য প্রবাসী, তার ভাই জনাবতৌফিক মজিদ লায়েক এখনও বিভিন্ন ক্রীড়া ও সংস্কৃতিক কার্যক্রমে জড়িত আছেন। হাউজিং এষ্টেট সমাজ কল্যাণ সংঘের কার্যক্রম চলাকালীন সময়েতখনকার সকল কার্যক্রমের মূল উদ্যোক্তাছিলেন ওলায়েতহোসেন লিটন, আহমদ মুনিরচৌধুরী,রেজওয়ানচৌধুরী,শাম্মাকরেজাচৌধুরী (তাকিম), সোয়াদ রবচৌধুরী,কবির আহমদ, কল্লোল আহমদ, মো: ইকবাল খান, আখতার আহমদ, চৌধুরীমোকাম্মেল ওয়াহিদ (ফারাবী), সৈয়দ ফজলুল করিম মারজান প্রমূখ। জনাবরেজওয়ানচৌধুরী (১০ নং বাসা),দীর্ঘদিনথেকে কানাডায়, আখতার আহমদ যুক্তরাজ্যে এবং কল্লোল আহমদ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তবে সম্প্রতি তিনি নিয়মিতদেশে অবস্তান করে অন্যান্যদের সাথে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহন করছেন। এছাড়া আরও যারা প্রবাসে বা অন্যান্য এলাকায় আছেন তাদের মধ্যে জাহিদ উদ্দিন আহমদ, সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী, সিলেট চেম্বার সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ, ডা. শাহরিয়ার চৌধুরী, এনামুল হক, জোবায়ের রকিব চৌধুরী, আব্দুল গফফার চৌধুরী অপু, প্রিন্স সদরুজ্জামান, সাদেক আহমদ, আজাদ আহমদ, আহমদ শহীদ, আশফাক আহমদ চিনু, জিয়াউর রহমান মিটু, আশরাফ গাজী, সৈয়দ এমদাদ আহমদ, ইসমাইল হোসেন টিটু (প্রথম ভিপি, শাবিপ্রবি), সৈয়দ সাফেক মাহবুব, নাহিদ আহমদ,ছোবেক আহমদ,সালেক লোদী, সামসুজ্জামান রিংকু, সৈয়দ নজমুল করিম (তানজান), মিজান চৌধুরী, তানভীর আহমদ, অপু চৌধুরী, এনায়েত মতিন মনি, জুবেদ আহমদসোহেল, মুহিবুর রহমান রানা, মাহমুদুরচৌধুরী নিপু,তায়েফচৌধুরী,সদরুজ্জামানচৌ:, সুমন আহমদ,চৌধরীমোফাচ্ছিল ওয়াহিদ ফাহমি, নুরুন্নবীখোকন, শরীফ আহমদ,মোসাদ্দেক আহমদচৌধুরী, সৈয়দ এরশাদুররহমান, তারেকলোদী,তৌফিক চৌধুরী, আতিকুর রহমান পান্না, জাওয়াদ আহমদ, শাহ অপু, মোয়াজ্জম আহমদচৌধুরী, রুমিন কোরেইশী,সাহেদ আহমদ, নুরুজ্জামান সুমন, নাসিম আহমদ,জাকুয়ান আহমদ, ডা. আহসান মোহাম্মদ হাফিজ, আহমদ সাইফ চৌ:, জায়েদ আহমদ, মাজহারুল ইসলাম মান্না, মন্জুরুল হক,আফজালুর রহমান তুহিন, সুমন চৌধুরী, আবু সায়েম রনি, ইয়ামিন আহমদ সুফল, আশরাফূল ইসলাম জুয়েল,ওমর মাসুদ, শেখ জালালআহমদ, আরিফ মাহমুদ, বর্তমান বালাগঞ্জ সদর ইউপিচেয়ারম্যান আব্দুল মুনিম, শাহেদ আশরাফ রুপু, ডা. তারেক বিন নূর, হাসান মাহমুদ, সায়েরচৌধুরী, মাহফুজ জান্না,ফুয়াদ হক, জায়িদ আহমদ, শাহরিয়ার দ্বীপ প্রমুখ অন্যতম। হাউজিং এষ্টেট ছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকা সমুহের অনেকে এই এলাকার সামাজিক ও ক্রীড়া উন্নয়নে সক্রিয় ছিলেন বিশেষ করে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম (বর্তমান হাউজিং এষ্টেট অধিবাসী),বর্তমান বিসিবি পরিচালক সফিউল আলমচৌধুরী নাদেল(বর্তমান হাউজিং এষ্টেট অধিবাসী),বিভাগীয় আম্পায়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি আশরাফ হোসেন আরমান, প্রবাসী ফয়সল আহমদ, সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট কোচ একে মাহমুদ ইমন, বর্তমান প্রবাসী সিলেট জেলা ক্রিকেট কোচ মারুফ হোসেন হাসান, সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার এনামুল হক (জুনিয়র) অন্যতম।
উপরে উল্লেখিত অনেকের নাম সঠিকভাবে লিখতে পারি নাই এবং জৈষ্ট্যতা অনুসারে আসে নাই, এছাড়া কারও নাম অনৃচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়ে থাকলে এবং লেখাটি সংক্ষিপ্ত রাখতে গিয়ে আরও অনেকের নাম উল্লেখ করা সম্ভব না হওয়ায়আমি আন্তরিকভাবে দু:খিত। বিষয়টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতেদেখবেন। এই এলাকার ইর্শ্বণীয় সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে যখন ২০০৩ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে হাউজিং এষ্টেটথেকে দুই জন প্রার্থী প্রতিদ্ধন্ধিতা করেন, তখন থেকে এলাকার মধ্যে কিছুটা বিভেদ বিদ্যমান, যদিও দীর্ঘ ১৫ বৎসরে তা অনেকটাকেটে উঠলেও সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনেও হাউজিং এষ্টেটথেকে ০২ জন প্রার্থী প্রতিদ্ধন্ধিতা করায় তা নতুন করে আবারও দেখা দিয়েছে। কিন্তু এলাকার সকল নাগরিক ঐক্যবদ্ধ, সম্প্রীতির,সুশৃংখল ও নিরাপদ হাউজিং এষ্টেট দেখতে চায় এবং এক্ষেত্রে সবার সহযোগীতা নিয়ে অগ্রগামী ভুমিকা পালন করতে হবে টানা ০৪ বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর জনাব কয়েছ লোদী-কে তাই সর্বশেষে প্রত্যাশা ছোটখাট মতপার্থক্য বিভেদ ভূলে সবাই একতাবদ্দভাবে হাউজিং এষ্টেট এর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবেন।
লেখক: সহকারী প্রকৌশলী, শাবিপ্রবি,সিলেট।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

হাউজিং এস্টেট এসোসিয়েশন যুক্তরাজ্য’র ৫ হাজার কেজি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

2        2Sharesনিজস্ব প্রতিবেদকঃ- হাউজিং এস্টেট এসোসিয়েশন...

সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির মতবিনিময় সভা

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: ইন্ডিয়ান এসিসটেন্ট...

সিলেট-২ আসন আর জাতীয় পার্টিকে দেওয়া হবে না -শফিক চৌধুরী

         সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ...