সমানীনগরে স্বামীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়েছে একটি চক্র’

প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

সিলেটে এক্সপ্রেস ডেস্ক : জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মাদকদ্রব্য ইয়াবা দিয়ে স্বামী সহিদুল ইসলাম চৌধুরীকে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্ত্রী তাহমিনা বেগম চৌধুরী। এলাকার একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে তাকে র‌্যাব আটক করেছে অভিযোগ করে তিনি জানান, এর আগেও একই চক্র অস্ত্রদিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টাকালে তারা নিজেই ফেসে যায়। গত কয়েক বছর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলার পর মামলা দিয়ে ওই মহলটি বিপর্যস্থ করে তুলেছে বলেও জানান তাহমিনা। সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজারের কচপুরাই গ্রামের তাহমিনা বেগম চৌধুরী রবিবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করে প্রকৃত ঘটনা তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তাহমিনা বেগম চৌধুরী বলেন, আমার স্বামী সহিদুল ইসলাম চৌধুরীকে গত ২১ অক্টোবর র‌্যাব আটক করে। এলাকার একটি কুচক্রী মহল এর জন্য দায়ি। কিছু সংখ্যক র‌্যাব সদস্যের বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারনে একটি সুশৃংখল বাহিনী বিতর্কিত হোক সেটা আমি চাই না। র‌্যাব আমার স্বামীকে ইয়াবাসহ আটক করলেও আমার বিশ্বাস তিনি নির্দোষ প্রমানিত হবেন।

তিনি জানান, পরিবারের বিপর্যস্থ অবস্থার কথা জানিয়ে ২০১৬ সালের ১৩ জানুয়ারি পরিবারের সদস্য রোকশানা বেগম চৌধুরী সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। আর ওই ঘটনার জের ধরেই র‌্যাবকে ব্যবহার করে তার নিরপরাধ স্বামীকে ইয়াবা দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে। যা শুধু ন্যাক্কার জনকই নয়, এই ঘটনা অতীতের সব ঘটনাকেও হার মানিয়েছে।

তাহমিনা চৌধুরী জানান, তার স্বামী সহিদুল ইসলাম চৌধুরী ওসমানীনগরের কচপুরাই গ্রামের বনেদী ঘরের সন্তান। গোয়ালাবাজারে হাজী মার্কেটে ফার্মেসী ব্যবসা রয়েছে। প্রতিদিনের মতো গত ২১ অক্টোবর আনুমানিক রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তিনি ও তার অপর ব্যবসায়ী দুই ভাই নুরুল ইসলাম চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম চৌধুরী মোটরসাইকেল যোগে গোয়ালাবাজার থেকে নিজ বাড়ি কচপুরাই গ্রামে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় র‌্যাব সদস্যরা মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে তার স্বামীকে আটক করে নিয়ে যায়। আটকের দুইদিন পর র‌্যাব সদস্যরা তার স্বামীর সঙ্গে ১ হাজার ৫০ পিস নিষিদ্ধ ঘোষিত ইয়াবা ট্যাবলয়েড পাওয়া গেছে জানিয়ে মামলা দায়ের করে তাকে ওসমানীনগর থানায় হস্তান্তর করে। পুলিশ পর দিন মামলার আসামি হিসেবে তার স্বামীকে আদালতে সোর্পদ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

তাহমিনা বক্তব্যে আরও জানান, ওই ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। স্বামী সহিদুল ইসলাম চৌধুরী আটকের ঘটনায় এলাকায় প্রতিবাদের ঝড় উঠে। সহিদুল ইসলাম চৌধুরীকে ইয়াবা দিয়ে আটকের প্রতিবাদে ২৪শে অক্টোবর স্থানীয় গোয়ালাবাজারে কয়েক হাজার মানুষ মানববন্ধন করেন। আর এই প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে তারা সহিদুল ইসলাম চৌধুরীর মুক্তির দাবি করেন। এলাকাবাসীর ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছেন মানববন্ধন ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে।

জমি নিয়ে তার স্বামী সহিদুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে আসাদ ও রুবেল নামের দুই ব্যক্তির বিরোধ ছিল দাবি করে তাহমিনা বলেন, আমার স্বামীকে গ্রেপ্তারের পর আসাদ ও রুবেল এলাকায় বলে বেড়াচ্ছে- ‘সবে মাত্র শুরু। একজনকে শায়েস্তা করেছি। এখন একে একে সবাইকে জেলের ভাত খাওয়াবো।’ এমনকি তারা হুমকি অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনায় আমার শাশুড়ী মিনারা বেগম চৌধুরী গত ২৬ অক্টোবর রাতে ওসমানীনগর থানায় ওই দুই জনের বিরুদ্ধে জিডি (নং-১৮০২, তারিখ-২৬.১০.২০১৮ ইং) দায়ের করেছেন। তাদের দুই জনের কথা বার্তায় এটা প্রমানিত হয়- তাদের প্ররোচনা কিংবা স্বার্থের বিনিময়ে কতিপয় র‌্যাব সদস্যরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, আমার স্বামীর ফুফু জেবু চৌধুরী ও তার পরিচিত জন মিজান এলাহী ২০১৫ সালের আগষ্ঠ মাসে একই কায়দায় তাকে অস্ত্র দিয়ে ফাসানোর চেষ্ঠা করেছিলেন। ওই সময় তারা জালাল নামের একজনকে দিয়ে আমাদের বাড়িতে অস্ত্র রাখতে পাঠায়। র‌্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে জালালকেই অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসেন। ভাগ্য সহায় ছিল বলেই ওই সময় রেহাই পান সহিদুল ইসলাম চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাহমিনা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার বিচার চান। স্বামী সত্যিকার দোষি হলে এলাকাবাসী তারও বিচার চায়। আর নির্দোষ হলে যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিচারের দাবি জানান তাহমিনা চৌধুরী।

আরও পড়ুন



সাপ্তাহিক ঈদ জু’মার দিন

মো:শামসুল ইসলাম সাদিক জুম্মার দিন...