সমাজ ও দেশের জন্য যারা কাজ করেন তারাই সত্যিকার মানুষ

প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

মো. আব্দুল বাছিত: প্রবাসী কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক ড. মোজাম্মেল হক বলেছেন, সত্যিকার মানুষ তারাই যারা সমাজ ও দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করে। আর্তমানবতার সেবায় যারা নিবেদিত থাকেন, তাদের দ্বারাই সমাজে পরিবর্তন আসে। এ ক্ষেত্রে সোহাগ সাহিত্য গোষ্ঠী সমাজের কল্যাণে এবং গুণীজনদের সংবর্ধনা প্রদান করে ভালো মানুষ গঠনে উদ্বুদ্ধ করছে। ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এমন উদ্যোগে আমি অভিভূত। এই গোষ্ঠীর মত অন্য সবাই যদি সাহিত্য, সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করে, তবে তারাই জাতির কারিগর হিসেবে বিবেচিত হবেন।
সোহাগ সাহিত্য গোষ্ঠী, সিলেট-এর উদ্যোগে ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাহিত্যপত্র ‘সোহাগ’-এর মোড়ক উন্মোচন ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সোহাগ সাহিত্য গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা কবি লায়েক আহমদ নোমানের সভাপতিত্বে গত রোববার (১৫ এপ্রিল) বাদ সন্ধ্যা সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী কবি-গবেষক ইকবাল বাহার সুহেল, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য কবি সাবিনা আনোয়ার।
সোহাগ সাহিত্য গোষ্ঠী, সিলেট-এর সভাপতি সাংবাদিক শফিকুর রহমান চৌধুরীর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কলামিস্ট বেলাল আহমদ চৌধুরী, দৈনিক জালালাবাদের চীফ রিপোর্টার ও সিলেট ক্রীড়া লেখক সমিতির আহবায়ক আহবাব মুস্তফা খান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে সংবর্ধনা প্রদান করাহয়। এর মধ্যে চিকিৎসা সেবায় ডা. সফির উদ্দিন আহমদ, রোটারী আন্দোলনে ও সমাজসেবায় রোটারিয়ান ইয়াকুতুল গণি ওসমানী, মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান, শিক্ষায় নেছারুল হক চৌধুরী বোস্তান, সমাজসেবায় রোটারিয়ান আলী মেরাজ মুস্তাক, ছড়াসাহিত্যে অবদানের জন্য এডভোকেট আব্দুস সাদেক লিপন, শাহাদাত বখত শাহেদ, সামাজিক কর্মে ইফজাল আহমদ চৌধুরীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সংবর্ধিত অতিথিদেরকে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে অতিথিবৃন্দ তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথিবৃন্দ তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন ঔপন্যাসিক সিরাজুল হক, কবি আব্দুল কাদির জীবন, ডা. লুকমান হেকিম, কবি ও সাংবাদিক মো. আব্দুল বাছিত এবং শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কবি লায়েক আহমদ মাসুম। অনুষ্ঠানে সাহিত্যপত্র ‘সোহাগ’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিবৃন্দ।
ডা. সফির উদ্দিন আহমদ বলেন, সংবর্ধনা অর্জন সত্যিই আনন্দের। এই সংবর্ধনা মানবসেবা তথা চিকিৎসাসেবায় আরো বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। আপনাদের ভালোবাসা আমাকে উৎফুল্লিত করেছে। আমি এর জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
অনুভূতি ব্যক্ত করে রোটারী ইন্টারন্যাশনাল-এর সুপারস্টার প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান ইয়াকুতুল গণি ওসমানী বলেন, এই সংবর্ধনা আমার সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি কোনো সংবর্ধনার লোভে নয়, মানবতার স্বার্থে আমি সমাজ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমাকে এই সংবর্ধনার জন্য নির্বাচিত করায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে আরো বেশি কাজ করার জন্য নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।
মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান বলেন, কোনো সামাজিক মর্যাদা লাভের জন্য নয়, দেশমাতৃকার প্রতি অপরিসীম প্রেম থেকে দেশকে স্বাধীন করার জন্য জীবন বাজি রেখেছি। এই সংবর্ধনা পেয়ে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।
নেছারুল হক চৌধুরী বোস্তান বলেন, শিক্ষাই আমার ধ্যান-জ্ঞান ছিল। এই জন্য সারাজীবন শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে গেছি। সত্যিকার মানুষ হতে হলে আমাদেরকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে আসার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা অর্জন করতে হবে।
রোটারিয়ান আলী মেরাজ মুস্তাক বলেন, সংবর্ধনা পাওয়া অত্যন্ত আনন্দের। আমি ও তার ব্যতিক্রম নয়। সমাজেসবায় যাতে আরো বেশি এগিয়ে আসতে পারি, সেজন্য সবার দোয়া চাই।
এডভোকেট আব্দুস সাদেক লিপন বলেন, ছড়া সাহিত্যে সংবর্ধনা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এর মাধ্যমে সিলেটের ছড়া আন্দোলন আরো এগিয়ে যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। আজকের এই সংবর্ধনা আমার দায়িত্ববোধকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
ছড়াকার শাহাদাত বখত শাহেদ বলেন, আমাদেরকে কাজে বিশ^াসী হতে হবে। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা রেখে সাহিত্য চর্চা করলে সমাজ মূল্যায়ন করবে। আজকের এই সংবর্ধনা তাঁরই প্রমাণ বহন করে।

 

 

আরও পড়ুন