শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত

,
প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট, ২০২১     আপডেট : ৩ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সনাতন ধর্মের প্রাণপুরুষ, বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের স্রষ্টা ও নিয়ন্তা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সিলেটের বিভিন্ন মন্দির, আখড়ায় ও হিন্দু গৃহে অনাড়ম্বন ভাবে জন্মাষ্টমী পালন করা হয়।

অধর্ম, পাপাচার ও পেশী শক্তির রাহুগ্রাস থেকে পৃথিবীকে রক্ষা ও ধর্ম সংস্থাপনের উদ্দেশ্যে দ্বাপর যুগে ধুলায় আচ্ছাদিত ভূ-মন্ডলে নিরাকার ব্রহ্মের সাকার মূর্তিরূপে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল মথুরা নগরে মামা কংসের কারাগারে। পিতা বসুদেব, মাতা দেবকী ছিলেন তারই মামা কংসের কারাগারে দীর্ঘদিন অন্তরীণ। কংস তার পিতা উগ্রসেনকে সিংহাসনচ্যুত করে মথুরার রাজা হয়েছিলেন। তার অত্যাচারে জনজীবন ছিল বিপর্যস্ত। রাজ্যের সর্বত্র অশান্তি আর অশান্তি। এ সংকটময় মুহূর্তে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম।
মামা কংস, শিশুপালসহ অসুরদের বধ করে পাপাচারক্লিষ্ট সমাজকে ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন শ্রীকৃষ্ণ। কুরুক্ষেত্রের ধর্মযুদ্ধে ধর্মের পক্ষে থেকে দুর্যোধনাদি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে পালন করেন ঐতিহাসিক গুরুদায়িত্ব।

শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও কর্ম, সত্য সুন্দর ও ন্যায়ের পথে অবিনাশী-অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তার মুখনিসৃত বাণী শ্রীশ্রী গীতা বিশ্বমানবতার মুক্তি কর্ম-জ্ঞান ও বৈরাগ্যের সর্বোৎকৃষ্ট পাথেয়। পার্থসারথী শ্রীকৃষ্ণ সনাতন ধর্ম, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রাণপুরুষ।
সার্বজনীন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ : পরমেশ^র ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি জন্মাষ্টমী মহোৎসব উপলক্ষে গতকাল সোমবার রাত ১২টায় নগরীর মির্জাজাঙ্গালস্থ শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী মন্দির ও আশ্রমে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) সিলেট : করোনা মহামারিকালে এক ব্যতিক্রমী পরিবেশে পালিত হলো পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৪৭ তম শুভ আবির্ভাব তিথি। এ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) সিলেট যুগলটিলায় সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।
জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে ছিল গতকাল মধ্যরাত্রি পর্যন্ত নির্জলা উপবাস, মহাসংকীর্ত্তন দাস ব্রহ্মচারীর পরিচালনায় সকাল ৬টায় কীর্ত্তন মেলা, অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ ও শ্রীপাদ ভাগবত করুণা দাস ব্রহ্মচারীর পরিবেশনায় বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় কৃষ্ণলীলামৃত। বিকেল ৫টায় শ্রীল প্রভুপাদ কথামৃত (জুমের মাধ্যমে), সন্ধ্যা ৬টায় কীর্ত্তন মেলা, সন্ধ্যা ৭টায় শ্রীকৃষ্ণের মহা-অভিষেক ও রাতে অনুকল্প মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
এদিকে, আজ মঙ্গলবার ব্যাসপূজায় থাকছে নন্দোৎসব ও শ্রীল প্রভুপাদের আবির্ভাব তিথি বিষয়ে নানা আয়োজন। ইসকন মন্দিরে এসব আয়োজনের মধ্যে রয়েছে সকাল সাড়ে ৭ টায় গুরুপূজা, সকাল ৮টায় শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, সকাল ৯ টায় শ্রীমদ্ভাগবদগীতা পারায়ণ ও শ্রীল প্রভুপাদের জীবনী-গ্রন্থ পাঠ, সকাল ১০টায় শ্রীল প্রভুপাদের মহা-অভিষেক অনুষ্ঠান, দুপুর সাড়ে ১২টায় আরতি নিবেদন ও শ্রীল প্রভুপাদের চরণকমলে ১০২৫ লাল গোলাপ নিবেদন, বেলা দেড়টায় শ্রীল প্রভুপাদের উদ্দেশ্যে ১২৫ পাউন্ড ওজনের কেক নিবেদনসহ নানা অনুষ্ঠান।
এতে ভক্তদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে উপস্থিত থাকার জন্য ইসকন মন্দিরের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মণিপুরী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ : পরমেশ^র ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি জন্মাষ্টমী মহোৎসব উপলক্ষে মণিপুরী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ সিলেট বিভাগের উদ্যোগে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করা হয়। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে গতকাল সোমবার বেলা ১১ টায় নগরীর মাছিমপুরস্থ শ্রীশ্রী গোপীনাথ জিউর আখড়ায় পবিত্র গীতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র গীতা পাঠ করেন রাজু গোপাল সিংহ।
সন্ধ্যা ৭টায় মণিপুরী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের ফেসবুক পেইজে ও জুমের মাধ্যমে পবিত্র গীতা পাঠ করেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কৈলাশহরের গায়ত্রী কুঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা অঙ্কুট বাবা চন্দ্রকান্ত সিংহ। পরে রনজিত সিংহের পরিচালনায় সম্প্রচার করা হয় ২০০৬ সালে থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পালিত জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানমালার প্রামাণ্য চিত্র।
মণিপুরী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মণিসেনা সিংহের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মন্টুরাজ সিংহের পরিচালনায় আলোচনা সভায় ভারত ও বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মণিপুরী সম্প্রদায়ের আলোচকরা অংশ নেন।
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট : ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ আবির্ভাব তিথি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এর উদ্যোগে গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় নগরীর মিরাবাজারস্থ শ্রীশ্রী বলরাম জিউড় আখড়ায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন