শৈল্পিক নন্দন কাননে নান্দনিক আর করিম

,
প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে
  • 117
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    117
    Shares

ইফতেখার শামীম
কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার পুটিবিল্যা গ্রামের সন্তান আর করিম। বাবা মোস্তাক আহমেদ ও পারিবারিক দেয়া নাম রেজাউল করিম। ১৯৯৫ সালের মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কৃষ্ণচূড়ার মতো মায়ের কোল আলোকিত করেন পরিবারের চতুর্থ সন্তান হিসেবে। মূল নাম রেজাউল করিম হলেও শিল্পী নাম আর করিম হিসেবেই অধিক সমাধিত তিনি। কক্সবাজার উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ুয়া আর করিম তার চিত্রকর্মের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে হচ্ছেন দেশের অধিকাংশ পত্রিকার শিরোনাম। তার চিত্রকর্মের প্রশংসায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের স্বনামধন্য শিক্ষক চিত্রশিল্পী কামালুদ্দিন’কে নিজের আইকন মানা আর করিমের চিত্রশিল্পে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই। শৈশবেই ছবি আঁকার প্রেমে পড়া আর করিম নিজের অদম্য আত্মশক্তি আর অধ্যবসায়ের ফলে আজ দেশের অন্যতম উদীয়মান চিত্রশিল্পী।
চিত্রকর্মকেই নিজের জীবন ভাবা আর করিম জানান,
“আমার স্বপ্ন বিরতিহীন এঁকে যাওয়া। আমি স্বপ্ন দেখি আমার ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে। আমি মনে করি এবং বিশ্বাস করি কাজে লেগে থাকলে কাজে পরিবর্তন আনা সম্ভব। আমি তাঁর প্রমাণ। আমি যোগ্যতার বাইরে গিয়ে স্বপ্ন দেখিনা, আমি মনে করি আমি যোগ্য হলে আমি যা যা পাবার তা আমি পাবো৷ না পেলেও সমস্যা নেই। পেলে বোনাস হিসাবে নিবো। যোগ্য না হওয়ার আগে ঐ সকল কিছু আশা করছিনা। জানিনা কতটুকু ভালো আঁকি। তবে আমি মনে করি আমি ভালো চেষ্টা করি। আমার আগের কাজ গুলো এখন তেমন ভালো লাগেনা, কারণ অনেক ভুল চোখে পড়ে । হয়তো বর্তমানের কাজ গুলোও একসময়ে গিয়ে ভালো লাগবেনা। এটাই হচ্ছে পরিবর্তন। এটা অনেক পরিশ্রমের ব্যাপার। অনেক সময়ের ব্যাপার। তারপরেও আমি সময় বেশী লাগলেও সঠিকটাই শিখতে চাই”।

এখন পর্যন্ত স্বহস্তে ৩০০০ এর অধিক চিত্রকর্ম অঙ্কন করেছেন তিনি। তাঁর মধ্যে মানুষের মুখের ছবি, মানুষের ফিগার, ফুল, পশু – পাখি, প্রকৃতি ইত্যাদি। সংগীত জ্যোতিষ্ক মান্না দে’র ছবি আঁকতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা আর করিম জানান “এ যাবত মহান শিল্পী মান্না দে’র ৫০ টির উপরে ছবি এঁকেছি। আসলে আমি মান্না দে’র ছবি আঁকিনা, মান্না দে’কে আঁকি। তাঁকে না এঁকে থাকতে পারিনা বলে আঁকি। তাঁর প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা – ভালোবাসা ভাষায় প্রকাশ করা দুষ্কর বলে মনে করি। আমি মান্না দে’র ভক্ত কিনা জানিনা। শুধু জানি তাঁকে আঁকতে হবে প্রশান্তির জন্য। মান্না দে’কে নিয়ে কিছু বলার মতো আমার সে যোগ্যতা নেই। আমি মনে করি মহান মহান মানুষদের ভক্ত হতে কিছু যোগ্যতাও লাগে”।

আগামীতে চারুকলায় পড়ার ইচ্ছে পোষণ করা আর করিম ছবি আঁকতে গিয়ে একসময় প্রবল বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন। এবং সেই ঘোরতর বাধাঁ’টা এসেছিল নিজের পরিবার থেকে। ধার্মিক পরিবার চান’নি আর করিম একজন চিত্রশিল্পী হোন। কিন্তু যে ছেলে ভাবে, ছবি আঁকা ছাড়া তাকে দিয়ে আর কোনো কাজ হবে না, সেই ছেলেকে রুখার সাধ্য তো কারো থাকার কথা নয়। তাই পরিবারের সব বাঁধা একসময় পরিবর্তন হলো উৎসাহে এবং ছবি আঁকার জগতে তার মা হয়ে উঠলেন তার অন্যতম প্রেরণা।

আর করিমের অধিকাংশ আকাঁ ছবি’ই প্রয়াত বিখ্যাত মানুষের। সেই তালিকায় আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, নেলসন ম্যান্ডেলা, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ভুপেন হাজারিকা, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, কবি শামসুর রহমান,কবি আল মাহমুদ, সৈয়দ শামসুল হক, সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, সংগীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোর’সহ আরো অনেকেই। তবে জীবিত মানুষের আঁকা ছবির সংখ্যাও কম নয়। এবং এই তালিকাও অনেক সমৃদ্ধ এবং বিখ্যাত মানুষ হিসেবে এই দলে রয়েছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, কুদ্দুস বয়াতি, ঔপন্যাসিক আনিসুল হক, কন্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ,কবি ইমতিয়াজ মাহমুদ, আবৃত্তিকার শিমুল মুস্তফা, গীতিকার লিয়াকত আলী বিশ্বাস, আর জে কিবরিয়া, চলচ্চিত্রকার মালেক আফসারী, ড. সলিমুল্লাহ খান’সহ অনেকেই।


  • 117
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    117
    Shares

আরও পড়ুন

মধ্যে রাতে সুবিদবাজারে ভবন ঘিরে র‌্যাবের অভিযান : অস্ত্রসহ আটক ৪

         সিলেট নগরের সুবিদবাজারে একটি বহুতল...

খন্দকার মুক্তাদির‘র বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ইফতার

         বিএনপির চেয়ারপারসন উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল...