শেষ দেখা হলো না হক ভাই

প্রকাশিত : ০৩ জুলাই, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে

মো: সিরাজুল ইসলাম :- প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে প্রতিদিনই তাড়া করছে একেকটি দু:সংবাদ। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র , আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের শোক কাটতে না কাটতেই এর সাথে আজ যোগ হলো সিলেটের সিনিয়র বিএনপি নেতা জনাব এম এ হকের ইন্তেকাল (ইন্না—রাজিউন)। বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট হলেও এম এ হক ছিলেন সিলেটের সবার কাছে একজন গ্রহণযোগ্য নেতা। বিএনপি’র জেলা ও মহানগরের একাধিকবারের সভাপতির দায়িত্ব পাশাপাশি দলের সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সর্বশেষ তিনি সহ-সভাপতির পদমর্যাদায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ছিলেন। দলের অনেক বিষয়াদি নিয়ে তার মধ্যে মান অভিমান থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি বিএনপি রাজনীতির সাথেই জড়িয়ে ছিলেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি’র ব্যানারে সিলেট-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি তিনি দুই দুই বার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করেন।
সিলেট অঞ্চলে বিএনপিকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী ও অর্থনৈতিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করার পেছনেও তার অবদান অগ্রগণ্য ছিল বলে দলের অনেক নেতা-কর্মী জানিয়েছে। কেবল দলের নেতা-কর্মী নয়, এলাকার মসজিদ-মাদ্রাসা এবং অসহায় লোকজনকে তিনি অকাতরে দান করতেন। আলেম-উলামার প্রতিও তার বিশেষ শ্রদ্ধাবোধ। তাদেরকে তিনি খুবই সমীহ করতেন।
এম এ হক ও তার স্ত্রী গত কয়েক বছর ধরেই অসুস্থ। চোখের সমস্যা, ডায়াবেটিসহ তিনি নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এজন্য মাঝে-মধ্যে এ দম্পতি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ছুটে যেতেন।
এম এ হকের একমাত্র পুত্র ব্যারিস্টার রিয়াশাদ আজিম হক ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। জানান, গত মঙ্গলবার তার বাবার এক্সরে করা হয়। এক্সরে তে তার নিউমোনিয়ার সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিউমোনিয়া ছাড়া তার করোনার অন্য কোন উপসর্গ ছিল না। রিয়াশাদ জানান, বুধবার তার বাবার শ্বাস কষ্ট বেড়ে যায়। এ অবস্থায় তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। কিন্তু, আইসিইউকে এম এ হক বাসায় যাওয়ার জন্য ছটপট করতে থাকেন। বৃহস্পতিবার তিনি ছেলেকে এও বলেন, ‘আমার কোন উপসর্গ নেই। তুমি আমাকে খামাখা এখানে ফেলে রেখেছো। আমাকে বাসায় নিয়ে যাও।’ রিয়াশাদ জানান, হয়তো মৃত্যুর তাড়া থেকেই তার প্রিয়তম বাবা বাসায় যেতে চেয়েছিলেন।
শুক্রবার এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে রিয়াশাদ তার বাবার জন্য সবার দোয়া কামনা করেছেন।
ব্যারিস্টার রিয়াশাদ আরো জানান, গত চার মাস তার বাবা কোথাও বের হননি।
নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইনচার্জ অধ্যাপক ডা: নাজমুল ইসলাম জানান, এম এ হকের শরীরে করোনার উপসর্গ ছিল। তার নমুনা সংগ্রহ করা হলেও রিপোর্ট এখনো আসেনি বলে জানান এ চিকিৎসক।
সাংবাদিকতার সুবাদে এম এ হকের সাথে মূলত আমার পরিচয়। সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিক এটিএম হায়দার ও ইত্তেফাকের ব্যুরো প্রধান হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর সাথে এম এ হকের ছিল খুব সখ্যতা। সেই সুবাদে আমাকেও এম এ হক খুবই স্নেহ করতেন। পাশাপাশি সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক ট্রেজারার জনাব খালেদ আহমদের সাথেও ছিল তাঁর ভালো সম্পর্ক। প্রায়শ তিনি (এম এ হক) ফোনে বলতেন, খালেদকে নিয়ে এসো সিরাজ। করোনার প্রাদুর্ভাবকালীন একদিন অনুরুপ কথা বলেছিলেন তিনি। ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের কারণে তার সাথে শেষ দেখা হলো না। আল্লাহ হক ভাইকে জান্নাতবাসী করুন।আমিন।
লেখক :- মো: সিরাজুল ইসলাম, সাংবাদিক। ফেইসবুক ষ্ট্যাটাস তুলে ধরা হলো।

পরবর্তী খবর পড়ুন : বাবাকে বড় মনে পড়ে

আরও পড়ুন

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, তবে আজ কেন ?

মোঃ নিজাম উদ্দিন  দেশবাসীর নিশ্চয়ই...

সিলেট পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের মতবিনিময় সভা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দক্ষিণ সুরমার...

যুবলীগের আলোচনা সভা ও ইফতার

সিলেট মহানগরের ২৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের...