শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী কামরানকে বিজয়ী করাই আমাদের প্রত্যাশা

প্রকাশিত : ২৩ জুলাই, ২০১৮     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন- জনগণের ভোটের রায়ে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার মনোনীতপ্রার্থী সিলেটের বদরউদ্দিন উদ্দিন আহমদ কামরান নির্বাচিত হবেন। এটা যুবলীগ বিশ্বাস করে। এ লক্ষ্যে যুবলীগের প্রত্যেক নেতাকর্মী কাজ করে যাচ্ছে। নেতাকর্মীদের ভোট কেন্দ্রে সজাগ থেকে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। এটাই হবে আমাদের প্রধান কাজ।
তিনি আরও বলেন- জনগণের ভোটের রায়ে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে আবার নির্বাচিত করা হবে যুবলীগের সবচেয়ে বড় সংবর্ধনা। সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে ওমর ফারুক বলেন- রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত দশ বছরে বাংলাদেশের অর্জন অসংখ্যক। বাংলাদেশ খাদ্য স্বয়সম্পন্ন হয়েছে। দেশে বেকারত্বের হার কমেছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ইতিমধ্যে নাম লিখেছে। শিক্ষার হার বেড়েছে। মানুষের গড় আয় বেড়েছে। জনগণের ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ মধ্য দিয়ে মহাকাশে পৌঁছে গেছে। ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ে বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষিত হয়েছে। এসব অর্জন এতটাই বেশি যে সংখ্যায় এর পরিমাপ করা যাবে না। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সবাইকে সবকিছু দিয়ে যাচ্ছেন। সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচির আওতায় বিধবা ভাতা দিয়েছেন। একটি বাড়ী একটি খামারের মাধ্যমে তিনি প্রান্তিক এলাকার তরুণদের সাবলম্ভী করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। মেট্রোরেল ও পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। কিন্তু বিনিময়ে নিজে কিছু নেন নি। শুধু দিয়ে গেছেন। তাঁকে আমরা কোনো উপহার দিতে পারি নি। তাই আমরা জনগণের ভোটের রায়ে পুনরায় তাঁকে নির্বাচিত করে জনগণের সেবা করার সুযোগ করে দিতে চাই। যখন আমরা তা পারবো তখনি রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে উপহার দিয়ে আমরা প্রকৃত সংবর্ধনা প্রদান করবো। এজন্য সকল ঈর্ষা প্রতিহিংসা ভুলে আমাদের প্রত্যেক নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে।
সোমবার (২৩ জুলাই) দুপুরে নগরীর দরগাগেটস্থ একটি হলরুমে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও নৌকা মার্কার সমর্থনে সিলেট মহানগর যুবলীগের অন্তর্গত ২৭ টি ওয়ার্ড এর যুবলীগের কেন্দ্র কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
যুবলীগ চেয়ারম্যান বিএনপির সমালোচনা করে বলেন- আওয়ামী লীগ দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। দেশ স্বাধীন করা থেকে শুরু করে দেশের যতো বিশাল উন্নয়ন হয়েছে সবগুলোই আওয়ামী লীগের হাতে ও নেতৃত্বে হয়েছে। দেশকে পিছিয়ে নিতে বিএনপি বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলে দেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছিলো। সেটা ইতিহাস সাক্ষী। বাংলাদেশ তখন পর পর তিনবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো। আর এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে ও বিশ্বের কাছ থেকে বড় বড় পুরস্কার পাচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নিতে আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ জনগণের সেবা করে আর বিএনপি জীবন্ত মানুষকে হত্যা করে আগুনে পুড়িয়ে মারে। এখন বাংলাদেশ অস্থিতিশীল কারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। মানুষ এদের চায় না। এদের প্রত্যাখ্যান করে। ২০০৮ তে যেভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন সেভাবে এবারও প্রত্যাখ্যান করবেন। এদের প্রত্যাখ্যান করে দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করবেন। তখন নিজেই ভালো থাকবেন দেশও ভালো রাখবেন।
যোগ করে ওমর ফারুক আরও বলেন- গুজব, মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্র, বিএনপির রাজনীতির মূলমন্ত্র। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বিএনপি একের পর এক গুজব ছড়াচ্ছে, মিথ্যাচার করছে। একবার বলছে খালেদা জিয়া হাঁটতে পারছেন না, আবার বলছে তার মাইন্ড স্টোক করেছে, আবার বলছে বেগম জিয়া নাকি প্যারালাইসিস হয়ে যাবে। আসলে কোনটা সত্য? খালেদা জিয়ার ‘অসুস্থতা’র নাটক করে বিএনপি রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়।

সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন- যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন- বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে, বর্তমান সরকার একটি লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে সার্বিকভাবে দেশকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও প্রত্যাশা পূরনে শেখ হাসিনা একের পর এক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তাই আগামী ৩০ জুলাই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে।
মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আলম খান মুক্তির সভাপতিত্বে ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মহসিন কামরানের সঞ্চালনায় মেয়রপ্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ছাড়াও বক্তব্য রাখেন জাতি সংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী রাষ্ট্রদূত ডক্টর একেএম আবদুল মোমিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন, প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, ফারুক হোসেন, আতাউর রহমান, ড. আহমেদ আল কবির, শাহজাহান ভূঁইয়া মাখন, যুগ্ম সম্পাদক নুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল হক আতিক, দপ্তর সম্পাদক কাজি আনিসুর রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড.সাজ্জাদ হায়দার লিটন, সিলেট জেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমদ, যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমদ সেলিম, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মুসফিক জায়গীরদার ও সেলিম আহমদ সেলিম প্রমুখ।
তিনি সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান জনগণের সেবক হিসেবে দীর্ঘদিন ছিলেন। যখন পরাজিত হয়েছেন জনগণের পাশ থেকে চলে যাননি। তিনি আছেন, ভবিষতেও থাকবেন। আর বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন এখন লুটপাতকারী। তিনি উন্নয়নের নামের সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাত করেছেন। এছাড়া বিএনপির জামায়াতের আমলে অবৈধ ভাবে প্রচুর অর্থ বিত্তের পাহাড় গড়েছেন। যা তৎকালিক বিভিন্ন মিডিয়ার প্রকাশিত হয়েছে। জনগণের বন্ধু কামরানকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে ডিজিটাল মহানগরী গড়তে আগামী ৩০ তারিখ বিজয়ের মালা উপহার দিতে হবে।
তিনি বলেন- এখানের উন্নয়ন নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। সিলেটের উন্নয়নে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা স্বয়ং কাজ করছেন। রাষ্ট্রনায়কের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করে উন্নয়নের গতি তরান্বিত করতে হবে।
এসময় যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিটের প্রচুর নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন



সুমা ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক :  সুমা আক্তার...

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগদান করলেন শফিকুল

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে অতিরিক্ত পুলিশ...