শেকড়ের সন্ধানে আনন্দ ভ্রমণ

,
প্রকাশিত : ১৪ জুলাই, ২০১৮     আপডেট : ৩ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বেলাল আহমদ চৌধুরী: সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে দেশ ভ্রমণ সম্বন্ধে বলেছেন। দেশ ভ্রমণের মাধ্যমে খোদাওয়ান্দ করীমের সৃষ্টির অপূর্ব রহস্য এবং কৌশল, বিশ্বজগতের বিচিত্রতা ও লীলাখেলা দর্শন করা যায়। ভ্রমণ অনুপ্রেরণার মূল কারণ বা তাগিদ হলো- ১। দৈহিক অনুপ্রেরণা, ২। সাংস্কৃতিক অনুপ্রেরণা, ৩। আত্মীয়তার অনুপ্রেরণা, ৪। ধর্মীয় অনুপ্রেরণা। ১১ মার্চ ২০১৭ সকাল ১০ ঘটিকার সময় কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ প্রাঙ্গন থেকে এক ঝাঁক কবি-সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, চিকিৎসক, আইনজীবি, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক ফাল্গুনের সকালে আষাঢ়ের মেঘের ঘনঘটা মাথায় নিয়ে জগন্নাথপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা সূচনা হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায় বলিÑ
আমাদের যাত্রা হলো শুরু, এখন ওগো কর্ণধার
তোমারে করি নমস্কার।
এখন বাতাস ছুটুক, তুফান উঠুক, পিরবো নাতো আর
তোমারে করি নমস্কার।
সমাজ বিশেষজ্ঞগণ মানবজীবনকে কর্মের ভিত্তিতে বয়সের অনুপাতে যে কয়টি ভাগে ভাগ করেছেন তা প্রায় সবটাই যুক্ত হয়েছিল এই আনন্দ অভিযাত্রায়। সফরের প্যাকেজে যাত্রীরা কৈশোর-যৌবন-পৌঢ় আর বার্ধক্যের সমন্বয়ে সাজানো ছিল। শিক্ষাবিদ আবুল ফজল লেখকের রোজনামচায় বলেছেন, ঐতিহ্যকে মেনে অতীতের ও বর্তমানের যা কিছু স্মরণীয় তাকে যথাযথ মূল্য দেওয়া। এই মূল্য দেওয়ার উপরেই নির্ভর করে সাহিত্য শিল্পের তথা সভ্যতার ধারাবাহিকতা। তাছাড়া প্রত্যেক মানুষের জন্য সজীবতা ও সতেজতা আনয়নের জন্য বিনোদন আবশ্যক। এই বিনোদনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার বুদ্ধিভিত্তিক, চিন্তাভাবনা, সৌন্দর্যবোধকে জাগিয়ে তোলে। বিনোদনের মাধ্যমে অভিযাত্রায় অনুসন্ধানী দৃষ্টি অনেক কিছু জীবনদৃষ্টি ও বোধের কল্প নিয়ে সত্যকে উপস্থাপন করতে পারেন।
বৃহত্তর সিলেটের গৌরবের অহংকার মুসলিম সাহিত্য সংসদ। এই গৌরবময় সাহিত্য সংসদের ডিজাইনার হলেন প্রয়াত মুহম্মদ নুরুল হক। তাঁহার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল ¯েœহধন্য গ্রন্থরাজির সুরক্ষিত প্রতিষ্ঠান- “মুসলিম সাহিত্য সংসদ”। ১৯৩১ সালে সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র মুহম্মদ নুরুল হক ‘অভিযান’ নামের যে সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করে অভিযাত্রা শুরু করেছিলেন সেই অভিযান ১৯৩২ সালে ‘আল ইসলাহ’ নাম ধারণ করে এবং এই আল-ইসলাহকে আবর্ত করে ১৯৩৬ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর মাসে বাংলা সাহিত্যতরুর শেকড় প্রোথিত হয়- “কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ সিলেট”। সিলেটের বহু কৃতী সন্তান ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব কবি-সাহিত্যিক সকলের সপ্রশংসিত উৎফুল্ল উচ্ছ্বাস রয়েছে এই সাহিত্য সংসদে।
বিগত ২০০০ সাল থেকে মুসলিম সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে একটি সাহিত্যমোদী কাফেলা-শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় প্রাণকেন্দ্র হিসেবে সিলেটের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারে বাড়ির কাছে আরশি নগরেই যে পড়শী বসত করে তার সন্ধানে ব্রতী হয়ে সংসদ উদ্দীপকের কাজ করে চলেছেন। মুসলিম সাহিত্য সংসদের কার্যনির্বাহী কমিটির সুদক্ষ, সুযোগ্য ও সাহিত্য অনুরাগীদের উদ্যোগে ২০০০ সাল থেকে শেকড়ের সন্ধানে অভিযাত্রা শুরু হয়। অতি সম্প্রতি ১১ মার্চ ২০১৭ স্বাধীনতার মাসে এক ঝাঁক কবি সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সাহিত্য অনুরাগী ও সমাজকর্মী জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে কৃষ্ণ প্রেমের সাধক ভাব কবি রাধারমন দত্তের বসত ভিটা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং মরমী কবি সৈয়দ শাহ নূর এর স্মৃতিবিজড়িত সৈয়দপুর গ্রাম, মরমী কবি সাধক পীর মজির উদ্দিন ও মরমী পীর আসহর আলী পূণ্যভূমি পরিদর্শন করেন।
শেকড়ের সন্ধানে ইতিপুর্বে প্রথম অভিযাত্রা ১১ ফেব্রুয়ারি ২০০০ সালে অধ্যাপক দার্শনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফের স্মৃতিধন্য জন্মস্থান সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার দুহালিয়া গ্রামে অভিযাত্রা শুরু করেন। দ্বিতীয় অভিযাত্রা ১৪ মার্চ ২০০২ সালে মহাকবি সৈয়দ সুলতানের স্মৃতি বিজড়িত হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সুলতানশী, হাবিলী গ্রামে যাওয়া হয়। তৃতীয় অভিযাত্রা ছিল ১২ এপ্রিল ২০০৮ সালের মরমী কবি হাছন রাজার স্মৃতিধন্য তেঘরিয়া গ্রামে। চতুর্থ অভিযাত্রা ছিল ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২ সালের মরমী কবি শিতালং শাহার স্মৃতিধন্য জকিগঞ্জ থানার বারঠাকুরিয়া গ্রাম। পঞ্চম অভিযাত্রা ছিল ৩০ মার্চ ২০১৩ সালের সর্বশেষ প্রাচীন লাউড় রাজ্যের রাজধানী বনিয়াচং অসংখ্য লোককাহিনীর লীলাভূমি। যষ্ঠ অভিযাত্রা ০৮ মার্চ ২০১৪ সালের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সংগ্রামী নেতা মাওলানা আব্দুর রহমান চৌধুরী সিংকাপনীসহ কমলারানীদীঘি ও বিপ্লবী লীলীানাগের বাড়ি, ইটার দেওয়ান বাড়ি সহ হালাতুন্নবী পুঁথির রচয়িতা মুন্সি সাদেক আলীর কবর জিয়ারত করে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাদ অন্বেষণের মাধ্যমে ঐতিহ্য চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়েছেন।
এবারের অভিযাত্রায় আনন্দ ভ্রমণে ছিলেন না প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাংবাদিক, দক্ষ অনুবাদক, সুবক্তা, দৈনিক সিলেটের ডাকের নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল হামিদ মানিক, কেমুসাসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সকলের সুপ্রিয় আজিজুল হক মানিক, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ সু-লেখক মুছা আল হাফিজ, লেখক ও প্রিন্সিপাল আতাউর রহমান পীর, এডভোকেট আ.ফ.ম কামাল (সাবেক পৌর চেয়ারম্যান, সিলেট), বিগ্রেডিয়ার জেনারেল জোবায়ের সিদ্দিকী, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিষ্ট আফতাব চৌধুরী, মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাবেক সভাপতি রাগীব হোসেন চৌধুরী, লেখক ফজলুল হক মিনা, ইসলামী চিন্তাবিদ গবেষক শাহ নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট কবি মুকুল চৌধুরী, লেখক আজিজুর রহমান লস্কর, লেখক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল জলিল, কবি আব্দুল বাসিত মোহাম্মদ, কবি বাসিত ইবনে হাবিবসহ অনেক গুণিজন। তাদের অনুপস্থিতি আনন্দ ভ্রমণে অনেককে নিরাশ করেছে। তবে এবারের অভিযাত্রায় অনেক প্রতিভাবান উৎফুল্ল চিত্ত হাসিখুশিমাখা নতুন মুখ আমাকে আনন্দ দিয়েছে।
অভিযাত্রী দলের অভিভাবক হিসেবে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাবেক সভাপতি হারুনুজ্জামন চৌধুরী সংসদের সহ-সভাপতি বিশিষ্ট গল্পকার সাংবাদিক ও সংগঠক সেলিম আউয়াল এবং সংসদের যোগ্য সংগঠক ও পরিশ্রমী সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী ও নবীন এবং প্রবীণ লেখকের সুপ্রিয় কবি আবদুল মুকিত অপির মুল্যবান কথা সাহিত্যমোদীদের গৌরবৌজ্জ্বল ঐতিহাসিক তথ্য উপাত্ত দিয়ে ধন্য করেছেন। অভিযাত্রী দল মরমী সাধক কবি রাধারমন দত্ত পুরকায়স্থের বাড়ির আঙ্গিনায় পৌঁছিলে রাধারমনের পরিচিত তুলে ধরে সরস বক্তব্য প্রদান করেন গল্পকার সেলিম আউয়াল। সুধী ভ্রমণপিপাসুদেরকে কন্ঠশিল্পী সৈয়দ মাহবুব এলাহী ভক্তিরসে বাদ্যযন্ত্র ছাড়া দরাজ কন্ঠে মাধুর্য ভরা সুরে রাধারমনের প্রেমাস্পদে বিলীন হয়ে একটি গান পরিবেশন করেন।
নামে যেন এতো মধু
দেখরে নাম লইয়া
শয়নে স্বপনে মুর্শিদ
আছইন নিরকিয়া
আমার অন্তরায় রে……..।
গানের এই আকুলতা অনেকের মত আমাকে রাধারমনের প্রতি ভক্তি ও প্রেমে ব্যাকুল করে তুলে। রাধারমন দত্তের গানের বাণী অনিত্য সংসারের বন্ধন, মুক্তির বাণী ¯্রষ্টার সাথে মিলনের সকরুন আবেদন। যাহা উপস্থিত কবি সাহিত্যকদের রাধারমনের প্রতি আগ্রহ ও উৎসুক্য জাগিয়ে তুলে।
অভিযাত্রি দলের পদযাত্রা এগুচ্ছে মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহ-সভাপতি কবি সৈয়দ আলী আহমদের বাড়ীতে আয়োজিত মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নিতে। আমরা কবিকে সুরম্য আলিশান বাড়ির আঙ্গিনায় নান্দনিক শামিয়ানা টাঙ্গিয়ে চেয়ার টেবিল সাজিয়ে অভিযাত্রী দলের আগমণের জন্য অপেক্ষারত দেখতে পেলাম। অনেকের সাথে করমর্দন করে খাবার টেবিলে বাসার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন। তাঁর অতিথিয়তায় বাহারী খাবারের আয়োজনে আত্মতৃপ্তি নিয়ে ভুরিভোজন করে তাঁকে ধন্যবাদা জানাই।
অতঃপর অভিযাত্রী দল পরবর্তী ভ্রমণ স্থল মরমী কবি সৈয়দ আসহর আলীর স্মৃতি বিজড়িত চৌধুরী বাড়ি পরিদর্শন করি। এই বাড়ির কৃতি সন্তানদের পরিচিতি বর্ণনা করেন কবি সৈয়দ আলী আহমদ, কেমুসাসের সহ সভাপতি সেলিম আউয়াল এবং সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী। অত:পর মরমী কবি পীর মজিরউদ্দিনের পীরমঞ্জিলে পৌঁছিলে সরস আলোচনা ও গান উপভোগ করি। ইসলামী উম্মাহর বিস্তৃতি ও বিস্তারের মুলে রয়েছে ওলী, আউলিয়া, গাউস-কুতুবের মানব প্রেম। কেমুসাসের সাবেক সভাপতি হারুনুরজ্জামান চৌধুরী ও গবেষক সৈয়দ মবনু তাদের সারগর্ভ বক্তব্যে এই মরমীদ্বয়ের সত্য ও সুন্দরের পক্ষে ইসলামের জন্য লেখনীর মাধ্যমে তারা যে বিকাশ ঘটিয়েছেন তা তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে মাওলানা ফজলুল করিম আজাদ দোয়া পরিবেশন করেন। পরবর্তী পথযাত্রা সৈয়দ শাহনুর এর এক সময়ের বসতবাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। পশ্চিম আকাশে মেঘের ঘনঘটা আমার মন উদাস হচ্ছে, মনের সুরে ঝংকার উঠছে, কিন্তু তা যেন প্রকাশে বাধা রয়েছে। তাই বলে মনের সুকুমার বৃত্তিগুলোকে টুঁটি চেপে রাখতে পারি না, কারণ কি এক গভীর বন্ধনে জড়িয়ে আছে মনের আনন্দের সাথে, সুরের সাথে তাই অজান্তেই মনে ঠাঁই পেল আজি ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে জানিনে জানিনে/কিছুতে কেন যে মন লাগেনা/ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে।
দেহ ও রূহ এক জিনিস নয়। এক দেহে বসবাস করলে একে অন্যের মধ্যে বিস্তর ফারাক। এ বিষয়ে সৈয়দ শাহ নুর বলেনÑ
তুমি চিনলায় নারে মন
একৈ মন্দিরে বাসা না হৈল মিলন
একৈ আশা একৈ বাসা একৈ ঘরের ধন
একৈ ঘরে থাকতে কেনে না হৈল মিলন।
আসিতে আসিলায় মনা একৈ সঙ্গি হৈয়া
যাইবার কালে নিষ্ঠুর মনা না যাইবায় জিগাইয়া।
গোধুলীর লগনে মরমী সাধক শাহনুরের বসত ভিটা এসে কিছুই দেখার ছিল না । ছিল শুধু তার হৃদয়ভরা মরমী গান। যা স্মরণ করে মানব তনে রূহ যেন খাঁচার পাখির মত চঞ্চল হয়ে উঠে। মানুষ অসহায়! মানুষ তাই মাবুদের কাছে সপে দেয় নিজেকে। মোয়াজ্জিনের সুললিত আজান ধ্বনি ‘হাইয়্যা আলাছ ছালাহ’ ॥২ ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’॥ শুনে বাড়ির সামনে মাগরিবের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে প্রবেশ করলাম।
অভিযাত্রী দলকে প্রাণবন্ত করে রেখেছেন এক ঝাঁক লেখক লেখিকা। তন্মেধ্যে সংগঠক শফিকুর রহমান চৌধুরী, গবেষক ও কবি শহীদুজ্জামান চৌধুরী, কবি ও গল্পকার মিনহাজ ফয়সল, লেখক ও গল্পকার মাহবুব জামান, লিটলম্যাগ ম্যাগাজিনের সম্পাদক বশিরুল আমিন, কন্ঠ শিল্পী ও কবি মুক্তাদা হামিদ, কবি নাজমুল হক চৌধুরী, লেখক কামরুল আলম, লেখক সাহেদ হোসেন, কবি সুলেমান আল মাহমুদ, লেখক মোস্তাক চৌধুরী, সাংবাদিক ও উপস্থাপিকা তাসলিমা খানম বীথি, কবি ইসরাত জাহান, কবি সুলেমান আল মাহমুদ, সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান চৌধুরী, উপন্যাসিক আলেয়া রহমান, কবি আমিনা শহীদ চৌধুরী মান্না, কবি ও লেখক নাঈমা চৌধুরী, কবি ইসমত হানিফা চৌধুরী, কবি ফয়জুর রহমান, লেখক আব্দুল কাদের জীবন, গল্পকার রেনুফা বেগম ও লেখক মামুন হোসেন বেলাল সহ আরো অনেকে।
অভিযাত্রায় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সিলেটের অনেক কবি, সহিত্যিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, চিকিৎসক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্য অনুরাগী সুলেখক, গবেষক ও সমাজ সেবক সফর সঙ্গী ছিলেন। অনেকের নিরবতা, ন¤্রতা ও বিন¤্র কথোপকতনের মধ্যে আর্ট ছিল। প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহÑসভাপতি আ ন ম শফিকুল হক, কেমুসাসের সাবেক সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী, বিশিষ্ট কবি কালাম আজাদ, কেমুসাসের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, প্রবীণ গবেষক আতিকুর রহমান, এডভোকেট বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান চৌধুরী, প্রবাসী লেখক আবুল কালাম ছোটন, আব্দুল কাদের তফাদার, সমাজসেবক এডভোকেট চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদ, কেমুসাসের সাহিত্য সম্পাদক আবুল মকিত অপি, কেমুসাসের সহ সভাপতি মোঃ বশিরউদ্দিন, এডভোকেট লেখক আব্দুল মালেক, গবেষক রুহুল ফারুক, এডভোকেট ছড়াকার আব্দুস ছাদেক লিপন, কবি মুহিত চৌধুরী, রম্য লেখক হারান কান্তি সেন, এডভোকেট কবি কামাল তৈয়ব, কবি নাজমুল আনসারীসহ অনেকের বুদ্ধিদীপ্ত বক্তব্য ও উপস্থিতি প্রাণবন্ত করে রেখেছিল। কেমুসাসের সহ সভাপতি বশির ভাই, পান্ডুলিপির স্বত্বাধিকারী বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল, কবি কামাল তৈয়ব, কবি কামাল আহমদ তাঁদের জীবন সারথী নিয়ে ভ্রমনকে করেছেন মধুময়, আনন্দদায়ক। যা আড়াল থেকে দেখে ভালই লেগেছে। সন্ধ্যার স্বরুপ স্পষ্ট।
সজল কাজল করুন নয়ন অধরে মধুর হাসি
মলিন বাসনা সন্ধ্যা দাঁড়ায় গগন কিনারে আসি।
সন্ধ্যার আগমণে পশ্চিম আকাশ যেন অপরূপ রূপাঞ্জলিতে ছেয়ে গেছে। আর দেরী নয়, এবার ঘরের ফেরার পালা। সবাই নির্দিষ্ট গাড়ীতে উঠে পড়লাম। গাড়ী ছুটছে কর্ম কোলাহলময় ব্যস্ত মহানগরের দিকে। ওরা সবাই হইচই করছে, গল্প করছে, আমার মন পড়ে আছে দূরে কোথায়- দূরে-দূরে, আমার মন বেড়ায় ঘুরে-ঘুরে।

বেলাল আহমদ চৌধুরী
কবি ও কলামিষ্ট।
মোবা: ০১৭১১-৩১১৯২০


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরবর্তী খবর পড়ুন : নৌকার সমর্থনে গণসংযোগ

আরও পড়ুন

সাংবাদিক মঞ্জুর বাসায় সন্ত্রাসী হামলা, আহত ৪

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: চ্যানেল এস...

কলমগঞ্জে চা-শ্রমিক সংঘের শোকসভা

         সিলেট আইন মহাবিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ,...

শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় এলো সিলেট’র ৩ উপজেলা

         প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার...