শুভ নববর্ষ

প্রকাশিত : ০১ জানুয়ারি, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

মো:শামসুল ইসলাম সাদিক:
শুভ নববর্ষ! বিদায় ২০১৮ সাল, স্বাগতম ২০১৯ সাল। সবার মঙ্গল আর শান্তি কামনায় মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে ইংরেজি নতুন বছর। দেখতে দেখতে চলে যাচ্ছে একটি বছর। চলে যাচ্ছে অনেক স্মৃতি। অনেক স্বপ্নেবিভোর রাত। অনেক সূর্যালোকিত ভোর। ২০১৮ সালের সুখ-দুঃখের সব হিসাব-নিকাশ পেছনে ফেলে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শুরু হচ্ছে নতুন বছর ২০১৯ সাল। সুখ-সমৃদ্ধির ও শান্তির প্রত্যাশায় নতুন বছরকে স্বাগতম। রাত শেষে সকালটা নতুন বছরের। শুভ ইংরেজি নববর্ষ। নতুন সূর্য উঁকি দেবে পুরাতনের গানি ভুলে। বিদায় নিচ্ছে ২০১৮ সাল। আসছে ২০১৯ সাল। ৩৬৫ দিনের এই হিসেব-নিকেশ চলবে অনন্তকাল। বিদায়ের ব্যথা ভুলতে না ভুলতেই মেতে উঠবো নতুন আরেকটি বছরের আনন্দে।
তবে আমরা সেটা চাই না। আমাদের যেদিন, পুরনো বছরের ব্যর্থতা, গানি, হতাশাকে ঝেড়ে ফেলে নবউদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগাবে নববর্ষ। পাশাপাশি অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সুন্দর ভবিষ্যত বিনির্মাণে তৎপর হতে পারলে নতুন বছরটি হয়ে উঠতে পারে সাফল্যময়। আমরা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনগুলো সাজাবো সুন্দর ও নির্ভুলভাবে। প্রবাদ থাকুক প্রবাদের মতো; আমরা চলবো নিজেদের বুদ্ধিমত্তায়।
গত এক বছর আমাদের জন্য অনেক কারণেই আলোচিত-সমালোচিত। রাজনৈতিক যোগ-বিয়োগ, ধর্মীয় সম্প্রীতি-সহিংসতা, আন্তর্জাতিক শুভ-মন্দ দৃষ্টি আমাদের বারবার হোচট খেতে বাধ্য করলেও নিশ্চয় আমরা উঠে দাঁড়িয়েছি। বিপদসংকুল পথেই দীপ্ত পায়ে হেঁটেছি। আমাদের প্রতি ক্ষেত্রে ত্রিমুখি থাবা এসেছে- তবুও আমরা থমকে যাইনি। আমাদের বিনোদনের সফলতা-ব্যর্থতাও আমাদের নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। আমাদের সাহিত্যাঙ্গনে নতুন বাঁক এসেছে। আমরা সমৃদ্ধ হয়েছি। আমরা ডিজিটাল হয়েছি। আমরা আমাদের দেশ কে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পেয়ে গর্বিত হয়েছি। আমরা হোচট পথে চলতে চলতে দুরন্ত ও দূর্বার পথিক হয়েছি।
হিসেব-নিকেশ, চুলচেড়া বিশেষণ চলে মাসজুড়ে। যা কিছু ঘটেছে, তা আমাদের চোখের সামনেই। চোখ বুজলেই তা দেখতে পাই। তবুও স্মরণ করিয়ে দেয়া, একটু আলোড়িত করা। আপনি না হয় চোখ বন্ধ করে নিজের হিসেব নিজেই করে নিন। দেখুন কোথায় আপনি সফল আর কোথায় ব্যর্থ? খুঁজে বের করুন সফলতা ও ব্যর্থতার কারণ। তবেই আগামীর পথচলা আপনার জন্য কণ্টকমুক্ত হবে।
তবুও মনে হয়, বিগত বছরটা আমাদের ভালোই কেটেছে। হিসেবের খাতা খুলে দেখেছি- খুব বেশি ব্যর্থতার কিছু ছিলো না। কিছু ভুল-ত্রুটি তো থাকতেই পারে যা স¦াভাবিক। যেহেতু আমরা মানুষ।
আর মানুষ হিসেবে কিছু ভুল করার অধিকার কেবল আমাদেরই আছে। ব্যর্থতা এবং সফলতার মাপকাঠিতে খুব বেশি ব্যর্থ নই আমরা। বরং সফলতার ঝুলিটা বরাবরই সমৃদ্ধ হয়েছে।
বাংলার সর্বস্তরের মানুষের জন্য শুভময় সফলতম বছর আসুক- এ প্রার্থনা করবে সব ধর্মের মানুষ। অরো একটি কঠিন ফলকে নিজেদের মতো করতে তৈরী আমরা। ২০১৮ সালের যাবতীয় ঘটনার আলোকপাত মূল উদ্দেশ্য নয়। ব্যক্তিজীবনে, সামাজিক প্রেক্ষাপটে, রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যত অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য থমকে যাওয়ার কারণ না খুঁজে অশুভকে কঠিন হস্তে বিতাড়িত করে শুভক্ষণকে বরণ করবো আজ আমরা। রবি ঠাকুরের ভাষায়, ‘মুছ যাক গানি, ঘুচে যাক জরা। অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জানিয়েছেন, ‘ছন্দে ছন্দে পদে পদে অঞ্চলের আবর্ত-আঘাতে/ উড়ে হোক ক্ষয় / ধূলিসম তৃণসম পুরাতন বৎসরের যত / নিষ্ফল সঞ্চয়’- এভাবেই কবিতায় নতুন বছরকে স্বাগত।
সবশেষেও কবির ভাষায় বলতে হয়, ‘মুকুলিত সব আশা,/ স্নেহ, প্রেম, ভালবাসা,/ জীবনে চির স্মৃতি হয়ে রয়। পুরাতন বর্ষ বিদায় লয়।/নববর্ষের আগমন হয়।’ সব আশা-স্নেহ-ভালোবাসা স্মৃতি হয়ে থাকুক। আগামী আসুক পুষ্পশোভিত হয়ে। প্রজ্জ্বলিত সূর্যের আলোকচ্ছটায় আলোকিত হোক বিশ্ব। বিশ্বের যাবতীয় মানুষের কল্যাণ হোক। বাংলাদেশ উত্তরোত্তর সফলতার দিকে এগিয়ে যাক। বিদায় ২০১৮; স্বাগতম ২০১৯ সাল।
লেখক:
শিক্ষার্থী
এম, সি কলেজ- সিলেট।
মোবাইল নং-০১৭২৫-৭২৪৫০৮

আরও পড়ুন



চোরদের মৃত্যুভয় নেই, কিছু মানুষ তো বাঁচতে চায়

মোঃ নিজাম উদ্দিন  বিশ্ব ভূমন্ডল...

স্বপ্নের দেশে যাওয়া হলো না

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: আমেরিকার ভিসা...

বদরুজ্জামান সেলিমের কার্যালয় উদ্ধোধন মঙ্গলবার

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: আসন্ন সিলেট...