শীর্ষ পদ প্রত্যাশী ১৫ জন

প্রকাশিত : 27 November, 2019     আপডেট : ২ সপ্তাহ আগে  
  

কাউসার চৌধুরী সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের কান্ডারী হতে আলোচনায় এসেছেন ১৫ নেতা। আগামী দিনে তারা পুণ্যভূমি সিলেট নগরে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিতে চান। দলের নেতৃত্ব নির্বাচনে নগর আওয়ামী লীগে রয়েছেন ৪১০ কাউন্সিলর। তবে এখনো নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতি চূড়ান্ত হয়নি। আগামী ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সিলেটের ডাককে জানিয়েছেন, সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এখন থেকেই সিলেট নগরী উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেছেন, নতুন কমিটিতে ত্যাগী, সৎ ও যোগ্যদেরকেই মূল্যায়ন করা হবে।
২ পদের জন্য আলোচনায় ১৫ নেতা
আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে এ পর্যন্ত ১৫ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৫ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্যে ১০ নেতা তৎপর বলে জানা গেছে। পদ প্রত্যাশীদের সকলেই মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির বিভিন্ন পদে রয়েছেন। সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি ও দলের কেন্দ্রীয় সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, বর্তমান সহ-সভাপতি এডভোকেট মফুর আলী, সহ-সভাপতি এডভোকেট রাজ উদ্দিন, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের নাম সর্বত্র শোনা যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলাওর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজিত চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র, বন ও পরিবেশ সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র দাস, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও এ টি এম হাসান জেবুল এবং সদস্য সালেহ আহমদ সেলিমের নাম শোনা গেছে। পদ প্রত্যাশী ১৫ জনের মধ্যে বিগত বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে বার বার জঙ্গীদের টার্গেটের শিকার হন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। এডভোকেট মফুর আলী, এডভোকেট রাজ উদ্দিন, ফয়জুল আনোয়ার আলাওর, অধ্যাপক জাকির হোসেন, তপন মিত্র, এ টি এম হাসান জেবুল গ্রেনেড হামলায় আহত হন। ২০১১ সালের কমিটিতে এ সকল নেতার নামের পার্শ্বে ‘গ্রেনেড হামলায় আহত’ লেখা রয়েছে। পদ প্রত্যাশীরা স্থানীয় কাউন্সিলরদের মন জয়ের পাশাপাশি কেন্দ্রের সাথেও জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
দলে উৎসবের আমেজ
২০০৫ সালের পর ১৪ বছরের ব্যবধানে আবারো মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এজন্যে নেতাকর্মীদের মাঝে আবেগ-উচ্ছ্বাসের কোনো কমতি নেই। নগর জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ২০০৫ সালের সম্মেলন শেষে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সভাপতি ও মিসবাহ উদ্দিন সিরাজকে সাধারণ সম্পাদক করে নগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। ২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়। এরপর ২০১১ সালে সম্মেলন ছাড়াই ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে পুনরায় সভাপতি ও আসাদ উদ্দিন আহমদকে এ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর এ কমিটি নগরের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২১ ওয়ার্ডের সম্মেলন ও কমিটি গঠন করে। গত কয়েক মাস আগে কেন্দ্রের কঠোর নির্দেশের পর ১০ অক্টোবর নগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটি বৈঠক করে ৬ ওয়ার্ডের সম্মেলনের তারিখ ধার্য্য করে। পাশাপাশি এ সভায় নগর সম্মেলনের জন্যে ৩০ নভেম্বর সম্ভাব্য দিন নির্ধারণ করা হয়। পরে কেন্দ্রের সাথে আলোচনা করে ৫ ডিসেম্বর সম্মেলনের দিন চূড়ান্ত করা হয়। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যে ৬টি ওয়ার্ডের সম্মেলন সম্পন্নের ফলে ২৭ ওয়ার্ডের সম্মেলন সফলভাবেই শেষ করে নগর আওয়ামী লীগ। বর্তমানে সম্মেলন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে মাদ্রাসা মাঠের আশপাশ এলাকা ব্যানার-বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে।
নেতৃত্ব নির্বাচনে ৪১০ কাউন্সিলর
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ১২৬ নং পৃষ্ঠায় ‘মহানগর আওয়ামী লীগ কাউন্সিল’ এর (খ) তে বলা হয়েছে, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ মহানগর থানায় প্রতি ওয়ার্ড হইতে ১২ জন করে কাউন্সিলর থানা কাউন্সিল অধিবেশনে মহানগর কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হবেন। প্রতি মহানগর আওয়ামী লীগ ইহার প্রথম কাউন্সিল অধিবেশনে প্রতি থানা হতে ৫ জন করে কাউন্সিলর কো-অপশন করবে। কাউন্সিলর প্রত্যেককে ত্রি-বার্ষিক ২০০ টাকা হারে চাঁদা প্রদান করিতে হবে।’ ৩৭ (ক) তে বলা হয়, প্রতি মহানগর আওয়ামী লীগ ইহার কাউন্সিল অধিবেশনে নি¤œরূপ কর্মকর্তা ও সদস্য নির্বাচন করবেন। নি¤œরূপ বলতে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ কর্মকর্তা ৩৯ জন ও ৩৬ জন সদস্যসহ ৭৫ সদস্যের কমিটির কথা বলা হয়েছে। নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে কাউন্সিলর সংখ্যা প্রায় ৪১০ জন। যদি ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হয় তাহলে এই ৪১০ জন কাউন্সিলরই তাদের আগামী দিনের কান্ডারী নির্বাচিত করবেন। তবে সূত্র জানায়, কোন পদ্ধতিতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন হবে তা এখনো স্পষ্ট হয়নি।
দলের জন্যে তারা প্রস্তুত
সম্মেলন ও কাউন্সিলের ব্যাপারে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ সিলেটের ডাককে বলেন, কাউন্সিলরদের ভোটে যদি কমিটি হয় এজন্যে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। এজন্যে নজরুল অডিটোরিয়াম বুকিং দেয়া আছে। কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত দেবে-যে পদ্ধতিতে করবেন আমরা তা মেনে নেব। অতীতে দলের প্রধান আমাদের প্রিয় নেত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তা পালন করেছি। আগামীতেও যে দায়িত্ব দিবেন তার জন্যও প্রস্তুত আছি। দলের জন্যে কাজ করতে প্রস্তুত।
কেন্দ্রীয় সদস্য ও নগর সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, দলের যে দায়িত্ব দেয়া হবে সেই দায়িত্ব মেনে নিয়েই কাজ করব। দলের জন্যে আমি সবসময়ই প্রস্তুত। পদ প্রত্যাশী হলেই যে পদ পাওয়া যাবে-তা কিন্তু নয়। আমাদের সভানেত্রী আমাদের ব্যাপারে ভালো জানেন। তিনি ভালো করে জানেন, কে কি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। দলের জন্য যে কোন দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দলকে আরো শক্তিশালী করাই হলো আমাদের লক্ষ্য। সম্মেলন সফলের জন্যে তিনি দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সিলেটবাসীর সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ কামনা করেন।

আরও পড়ুন