শাবি’র দু’শিক্ষার্থীর একই দিনে মৃত্যু

প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: একই দিনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গতকাল বুধবার দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০-১১ সেশনের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আল আমিন ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়দ আরিফ সাদিক প্রান্ত মৃত্যু বরণ করেন।
কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রান্ত জিবিএস (Guillain barre syndrome) নামক ভয়াবহ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মাসখানেক যাবত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল বুধবার সকালে সবাইকে কাঁদিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। প্রান্তের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে থাকাকালীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগ।
বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সালমা আক্তার জানান, ‘এ ঘটনায় আমরা সবাই মর্মাহত। আমরা আশা করছি, প্রান্তের পরিবার ও বন্ধুরা খুব দ্রুত এ শোক কাটিয়ে উঠবে।’
জানা যায়, জিবিএস বা গিয়েন বারে সিনড্রোম বা ল্যান্ড্রির প্যারালাইসিস, প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণকারী অ্যাকিউট বা তীব্র পলিনিউরোপ্যাথি রোগ যার ফলে হাত-পা খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। কোন সংক্রমণ বা ইনফেকশনের পর এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। সাধারণত প্রতি এক লাখে একজন দু’জন এ রোগে আক্রান্ত হয়। রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই প্রান্তর জন্য আর্থিক সাহায্য সংগ্রহ করেছিলো তার বিভাগ।
এদিকে, গতকাল বিকেল ৩টায় সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আল আমিন দুরারোগ্য ব্যাধি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সমাজকর্ম বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও আল আমিনের সহপাঠী সোহাগ আহমেদ।
জানা যায়, দীর্ঘ একমাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর বুধবার বিকেল ৩টা দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মো. আল আমিন চলতি বছরের শুরুর দিকে পুলিশের এসআই পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমীতে যোগদান করেন। প্রশিক্ষণরত অবস্থায় হঠাৎ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে প্রাথমিকভাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পরবর্তীতে ল্যাব এইড হাসপাতালে এবং সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
মো. আল আমিন ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার তিলাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবা আবুল বাশার পেশায় একজন কৃষক। চার ভাইয়ের মধ্যে আল আমিন ছিলেন সবার বড়।
একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর অকাল প্রয়াণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন