শহীদের রক্তে ভেজা নিউজিল্যান্ড

প্রকাশিত : ১৬ মার্চ, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল : হিংসার আগুনে জ্বলছে পৃথিবী। মানুষে মানুষে ভালবাসা, মায়া-মমতা, সহমর্মিতা সবই যেন হারিয়ে গেছে। ‘কাক কাকের গোশত খায় না’ বলে একটা প্রবাদ আছে। কিন্তু এখন মানুষ মানুষের গোশত খাচ্ছে। যত মারণাস্ত্র তৈরী হচ্ছে সবই মানুষকে মারার জন্য। প্রতিহিংসা নিতে পারলেই যেন মানুষের মনে প্রাণে তৃপ্তি আসে । মানুষ প্রত্যেকেই পরম স্রষ্টার সৃষ্টি এবং সবাই বিশ্বাস করে এ পরম সত্যটি । তারপরও একজন আরেক জনের ভাল, একজন আরেকজনের প্রশংসা এবং অন্য জনের উন্নতি দেখতে পারেনা, যেন এক পরম অসহ্য কারো উন্নতি বা ভাল কিছু দেখলে । একজনকে কিভাবে দমিয়ে রাখা যায় দাবিয়ে রাখা যায় অবনমন করা যায় তারই প্রচেষ্টা যেন সদাসর্বদা বেশীর ভাগ মানুষের । এর ব্যতিক্রম নেই তা বলছিনা কিন্তু বেশীর ভাগ মানুষ প্রতিহিংসার রাস্তাতেই হেটে চলেছে এবং চলতে পছন্দ করে তার কথায় বলছি ।প্রতিহিংসা পরায়ন হলে কারো কোন সময় মঙ্গল হয়না এবং হবেওনা বরং ধবংস আরো বেশী বৃদ্ধি পাবে ।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশত মুসলিম হত্যার ঘটনা বিশ্বজুড়ে ঘৃণা, ভয়, নিন্দা ও ক্ষোভ উসকে দিয়েছে।জানতে পারলাম কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদ পড়ে , নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের আল নুর মসজিদের হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্টের ইউরোপীয় খ্রিস্টান জঙ্গী সংগঠন ব্লাক সানের সদস্য। আসলে ব্লাক সান মুলত উগ্রবাদী খ্রিস্টান জঙ্গী সংগঠন। যারা ইউরোপে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত। তারা মুলত ইউরোপ থেকে মুসলমানদের বিতাড়িত করতে চায়। আর এইসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে উৎসাহিত করতে চায় ইউরোপ থেকে মুসলমানদের বিতাড়িত করতে।

তাদের ইসলামভীতি, মুসলিমবিদ্বেষ ও অভিবাসীদের প্রতি ঘৃণা থেকে জন্ম এ হামলায় । শুক্রবার ওই হামলার আগে টুইটারে ইসলামফোবিয়া ও মুসলিমবিদ্বেষী নানা বক্তব্যে ইশতেহার প্রকাশ করে ভয়ংকর সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট।পৃথিবীর পবিত্রময় শান্তির স্থান হলো আল্লাহ তায়ালার ঘর মসজিদ ৷ শান্তির স্থান মসজিদকে এখন সন্ত্রাসীরা রক্তাক্ত করেছে ৷

পৃথিবী অনেক দূর এগিয়েছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সভ্যতাকে উজ্জ্বল করেছে। ফলে মানুষের অনেক অসাধ্য আজ সাধ্য ও সামর্থ্যের মধ্যে এসে ধরা দিয়েছে। এ কথা বলার আর অপেক্ষা রাখে না যে বর্তমান সভ্যতা আগের যেকোনো শতাব্দীর তুলনায় সৌন্দর্য, উৎকর্ষ ও স্বচ্ছন্দতায় সমৃদ্ধ হয়েছে। তবে মানুষের মধ্যে অস্বস্তি, অস্থিরতা, ব্যস্ততা ও ব্যাকুলতা আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে দেশে বেড়েছে সমস্যা। বেড়েছে সংঘাত ও হানাহানি। আর এসব স্থিতিহীনতা, সংঘাত ও সংঘর্ষের কেন্দ্রভূমি হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও জনপদ। বিপুল ধন ও জনসম্পদ এবং দ্বীন ও নৈতিকতার এক মহান আদর্শ থাকা সত্ত্বেও মুসলিম দেশগুলো আজ দুর্দশাগ্রস্ত। এরা খ্রিস্টান ও ইহুদি লবির কাছে নতজানু। মুসলমানরা আজ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর চরম নিপীড়ন ও ধ্বংসযজ্ঞের শিকার। মুসলমানদের দ্বীন ও ধর্ম যেন অবিশ্বাসীদের করুণার ওপর নির্ভরশীল। মুসলিম বিশ্বের রাজনীতি অনৈসলামী লোকদের হাতে বন্দি। ইসলামী সভ্যতা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি আজ জরাজীর্ণ।এমন ভয়াবহ অবস্থায় মুসলমানরা পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও হিংসায় নিমজ্জিত। মুসলিম দেশগুলো আজ অনৈক্য ও হানাহানির সর্বনাশা খেলায় লিপ্ত। আদর্শহীনতা ও অনৈতিকতার চরম বিপর্যয় মুসলমানদের চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। তারা এখন নিরুপায় ও অসহায়। এই সুযোগে মুসলিম বিশ্বের জনপদগুলোতে বিধর্মীরা দুর্গম বিভ্রান্তির প্রাচীর নির্মাণ করে চলছে। মুসলমানদের ধর্ম, রাজনীতি ও অর্থনীতিকে পঙ্গু করে ফেলার চেষ্টা করছে। এ জন্য ইসলামবিরোধীরা দুনিয়ার তাবৎ বিরুদ্ধবাদী শক্তিগুলোকে একত্র করেছে। ব্যবহার করেছে আন্তর্জাতিক সংগঠন ও সংস্থাগুলোকেও। সব শেষে এরা জাতিসংঘের মতো বিশ্ব সংস্থাকেও মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে। দেশে দেশে জাতিসংঘের নীরবতায় চলছে মুসলিম নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ। মুসলমানদের এই দুরবস্থা ও অধঃপতন সঠিকভাবে অনুধাবন করতে হলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।
এক. মুসলিম শাসক ও শাসিতের সম্পর্ক।
দুই. ইসলামী বিশ্বের পারস্পরিক সম্পর্ক।
তিন. ইসলামী চিন্তাবিদদের দায়দায়িত্ব।
চার. ওআইসির কার্যকারিতা।
পাঁচ. মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক বাস্তবতা।
ছয়. মুসলিম বিশ্বের সামরিক সামর্থ্য।

যারা মনে করছেন, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে আক্রমণকারী কেবলমাত্র একজ খ্রিষ্টান জঙ্গি, তবে অনেক কিছুই বলা বাকি থাকবে।

জুমআর নামাজের জন্য আগত ৫০ জন মুসলিমকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা মোটেও বিকৃত মস্তিষ্ক বা আবেগতাড়িত কোনো ফ্যানাটিকের কাজ নয়। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে গভীর অনেক বার্তা এবং ঐতিহাসিক অনেক যোগসাজশ। কীভাবে এর জবাব পাওয়া যাবে হত্যাকারী (সন্দেহযুক্ত ব্রেন্টন টারান্ট) ব্যবহৃত অটোমেটিক রাইফেলের মাজল, ম্যাগজিন এবং বাটে লিখিত শব্দ-সংকেতে। রাইফেলজুড়ে যেসব শব্দ-সংকেত লিখিত আছে সেগুলোর প্রায় সবই ঐতিহাসিক বিভিন্ন ঘটনা ও ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে।

এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো, শব্দ-সংকেতের প্রতিটিই ‘ইউরোপে’র ইতিহাসে মুসলিমদের বিভিন্ন পরাজয় বা মুসলিমবিরোধী বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ইঙ্গিত করে। যেসব ঘটনার সাল উল্লেখ করা হয়েছে তার প্রত্যেকটি মুসলিমদের বিরুদ্ধে ইউরোপের কথিত ‘ক্রুসেড’ বা ‘হলি লিগ’-এর বিভিন্ন যুদ্ধের ইতিহাস জড়ি
নিউজিল্যান্ড মসজিদে হামলাকারীকে(খ্রিস্টান সন্ত্রাসী) জঙ্গি না বলে কেন বন্দুকধারী বলা হচ্ছে ?প্রশ্নটা আজ বিশ্বের কাছে।কি হৃদয় বিদারক ঘটনা? ৫০ জন মুসলিম‌কে খ্রিস্টান জঙ্গি গুলি করে মসজিদে শহীদ করেছে!
খ্রিস্টান উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের হামলায় জুম্মা নামাজরত অবস্থায় আমাদের মুসলিম ভাইদের হত্য করা হলো। আজ কোথায় সেই সব কাপুরুষ গুলো যারা ইসলাম ধর্মকে যারা সন্ত্রাসবাদী ধর্ম বলে আখ্যা দিয়েছিলো। মসজিদ লাইভ শুটিং হত্যা করা হলো। খুনীর নাম ব্রেন্টন ট্যারান্ট ফ্রম।সে একজন খ্রিস্টান। এবার এই খুনিকে একজন মানসিক রোগী আখ্যা দেওয়ার পালা। যেহেতু তার নামের সাথে মোহাম্মদ বা আহম্মদ কিছুই নাই! তাই এই মুহূর্তে তার সন্ত্রাসী হওয়ার কোন চান্স নাই! সে কখনো খ্রিস্টান সন্ত্রাসী হতে পারে না?ধিক্কার জানাই এরকম হলুদ মিডিয়ার সাংবদিকদের। বাস্তব অর্থে খ্রিস্টান, ইহুদি, বৌদ্ধ, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভেতর রয়েছে বিরাট বড় জঙ্গি গোষ্ঠী। তারা মুসলমান নাম দিয়ে জঙ্গি হামলার চালায়।মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষজনদের জঙ্গি হিসাবে বিবেচিত করে অত্যাচার করে। মুসলিম শান্তিপ্রিয় মানুষ জন তাদের অত্যাচারের শিকার। এই ঘটনা তাঁরই প্রমান।

বাংলাদেশে কোন বিদেশি ক্রিকেট টিম আসলে প্রধানমন্ত্রীর তুলনায় বেশি নিরাপত্তা পায়। কয়েকশত পুলিশ,র‍্যাব তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকে। তাদের নিরাপত্তার জন্য জনসাধারণকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়।এদিকে আজ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টাচার্চে বাংলাদেশ জাতীয় দল যে মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যায়- সেই মসজিদে উগ্র ধর্মান্ধ খ্রিস্টান সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রায় ৫০ জন নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ দলের সাথে একজন পুলিশও ছিলোনা। আল্লাহ বাঁচিয়ে এনেছেন সবাইকে। এই ঘটনা বাংলাদেশে ঘটলে আজীবনের জন্য সাদা চামড়ার শয়তানের দল বাংলাদেশে খেলতে চাইতো না। আইসিসি নগদ বাতিল করে দিত সারাবিশ্ব বাংলাদেশে আসা বন্ধ করে দিত। বিমানের সকল ফ্লাইট বাতিল করা হতো বিদেশী সকল নাগরিক দের নিরাপত্তা বেষ্টনিতে ঢাকা হতো! আরও কি কি যে হতো আল্লাহ’ই ভাল জানেন।

আমাদের ক্রিকেটাররা আমাদের জাতীয় সম্পদ।তাঁরা আবেগ আর ভালোবাসার সবচেয়ে বড় জায়গা । তাদের নিরাপত্তাহীনতা সহ্য করার মতো না।এখন দেখার বিষয় আইসিসি কি পদক্ষেপ নেয়!আজ খ্রিস্টান উগ্রপন্থী এই ঘটনা ঘটালো দেখে এখন পর্যন্ত বিশ্ববাসী নীরব। একবার চিন্তা করুন খ্রিস্টানের গীর্জায় যদি কোন মুসলিম এই হামলা করতো তাহলে কি হতো।

সাদা চামড়ার পশ্চিমারা মুখে বলে অসাম্প্রদায়িক, আসলে অন্তরে সর্বদাই সাম্প্রদায়িকতা পোষণ করে কট্টর ধর্মান্ধ।আমাদের ৫০ জন মুসলিম ভাইকে এক নিমিষেই হত্যা করে দিল!! নিউজিল্যান্ডের বা বিশ্বের কোনো মুসলমান যদি এর প্রতিবাদ করে সারা বিশ্বের হলুদ মিডিয়া তখন আমাদের বলবে মুসলমান‌রা জঙ্গি!! আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি এটা দেখে যে হামলাকারীকে কোথাও টেরোরিস্ট বা জঙ্গি বলা হচ্ছে না। অথচ সে লাইভে এসে প্রায় ৫০ জন মানুষ মেরে ফেললো। যদি কোনো মুসলিম এই কাজটি করতো তাহলে পুরো মুসলিম জাতিকেই অবমাননা করা হতো। হায়রে মিডিয়া, সব ইহুদি, খ্রিস্টানদের পা চাটা গোলাম।বাংলাদেশের টিভি চ্যানেনসহ সকল দৃষ্টি আকর্ষণ করছি,যেন এসব সাহসী ভাইদের কোন গণমাধ্যম খ্রিস্টান সন্ত্রাসী বা জঙ্গী বলে সংবাদ প্রচার না করে।”সন্ত্রাসী নয়, তারা হলো বন্দুকধারী বন্দুকধারী”।

ইতিহাসের সর্বোচ্চ মানব হত্যাকারি সবাই অমুসলিম।

✔ হিটলার, একজন অমুসলিম । ৬০ লক্ষ ইহুদি হত্যা করেছিলো। মিডিয়া একবারও তাকে জঙ্গি বলেনি সে খ্রিস্টান টেররিস্ট !

✔ জোসেফ স্ট্যালিন, একজন অমুসলিম । সে ২০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে, এবং ১৪. ৫ মিলিয়ন মানুষ অসুস্থ হয়ে ধুকে ধুকে মারা গেছে। মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে খ্রিস্টান টেররিস্ট !

✔ মাও সেতুং একজন অমুসলিম। ১৪ থেকে ২০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে ! মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে বৌদ্ধ টেররিস্ট !

✔ মুসলিনী (ইটালী) ৪ লাখ মানুষ হত্যা করেছে ! সে কি মুসলিম ছিল ? অন্ধ মিডিয়া একবারো বলে নাই খ্রিস্টান টেররিস্ট !

✔ অশোকা (কালিঙ্গা বেটল) ১ লাখ মানুষ হত্যা করেছে ! মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে হিন্দু টেররিস্ট !

✔ আর জজ বুশ ইরাকে, আফগানিস্থানে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে ! মিডিয়া তো বলে নাই, খ্রিস্টান টেররিস্ট !

✔ এখনো মায়ানমারে প্রতিদিন মুসলিম রোহিঙ্গাদের খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, উচ্ছেদ করছে ! তবুও কোনো মিডিয়া বলে না বৌদ্ধরা টেরোরিস্ট !!!

✒ ইতিহাস সাক্ষী পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বড় বড় গনহত্যা করেছে নন মুসলিমরা আর এরাই দিন রাত গণতন্ত্র জপে মুখে ফেনা তুলে ! অথচ এদের দ্বারাই মানবতা লুন্ঠিত ! বুদ্ধিজীবীদের কাছে আমার প্রশ্নঃ…।

☞ যারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল ?

☞ যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল?

☞ যারা হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল ?

☞ যারা অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কারের পর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য ২০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীকে হত্যা করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল?

☞ যারা আমেরিকা আবিষ্কারের পর নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য উত্তর আমেরিকাতে ১০০ মিলিয়ন এবং দক্ষিন আমেরিকাতে ৫০ মিলিয়ন রেড-ইন্ডিয়ানকে হত্যা করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল ?

☞ যারা ১৮০ মিলিয়ন আফ্রিকান কালো মানুষকে কৃতদাস বানিয়ে আমেরিকা নিয়ে গিয়েছিল। যাদের ৮৮ ভাগ সমুদ্রেই মারা গিয়েছিল এবং তাদের মৃতদেহকে আটলান্টিক মহাসাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তারা কি মুসলিম ?
✒এসব মহাসন্ত্রাসী ও অমানবিক কার্যকলাপের সাথে মুসলমানরা কখনো জড়িত ছিলনা। যখন কোন অমুসলিম কোন খারাপ কাজ করে, নির্যাতন করে, খুন করে তখন এটাকে বলা হয় অপরাধ ! আর যখন কোন মুসলিম হাজার নির্জাতনের শিকার হয়ে একবার প্রতিবাদ করে তখন এটাকে বলা হয় মৌলবাদ ! জঙ্গীবাদ !!! বুদ্ধিজীবীদের বলতে চাই সন্ত্রাসের সংজ্ঞা, মৌলবাদ, জঙ্গীবাদ এর সংজ্ঞা মায়ের পেট থেকে আরেকবার জন্ম নিয়ে নতুন করে শিখে নিয়েন!

বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের সংখ্যা প্রায় ১৫০ কোটি। এটা মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ। মুসলিম জগৎ আজ পৃথিবীর এক বিরাট শক্তি হওয়া সত্ত্বেও তাদের সমস্যার অন্ত নেই। বিশ্বের বিভিন্ন জনপদে তারা আজ লাঞ্ছিত, নির্যাতিত ও অপমানিত হচ্ছে। এর থেকে মুক্তির উপায় কী-তা আজ বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। যে মুসলমানরা অর্ধ পৃথিবী শাসন করেছিল, যাদের শৌর্যবীর্যের সামনে রোম ও পারস্য সাম্রাজ্যের বিশাল শক্তির নির্মম পরাজয় হয়েছিল, সে মুসলিম জাতি আজ বেদম মার খাচ্ছে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের হাতে। স্পেনে শত শত বছর মুসলমানরা ক্ষমতাসীন ছিল। সে স্পেনের পাশের দেশ বসনিয়া হার্জেগোভিনার ইতিহাস আমরা জানি। হাজার হাজার মুসলিম নর-নারীকে সেখানে নির্মমভাবে হত্যা ও অগণিত মুসলিম নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। মুসলিমদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে।

বর্তমানে মিয়ানমারে যেভাবে গণহত্যা চলছে । এ গণহত্যা বন্ধের কিছু মৌখিক দাবি উচ্চারিত হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গৃহীত হচ্ছে না। প্রতিবেশী কাশ্মীর, আফগানিস্তান, ইয়েমেন ও সিরিয়ায় হাজার হাজার স্বাধীনতাকামী মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে এবং হচ্ছে। মসজিদ ও মাদ্রাসা ধ্বংস করা হয়েছে। যে ভারতবর্ষে মুসলিম শাসন ছিল সাত-আট শ বছর, সে ভারতে মুসলিম শাসনের পতনের পর রাজত্বকারী দুইশত বছরের ইংরেজ শাসনেরও পতন ঘটল। কিন্তু মুসলমানদের অবস্থার কি পরিবর্তন হয়েছে? সবকিছুরই আজ হিসাব মেলানো প্রয়োজন? মধ্য এশিয়ায় একসময় মুসলিম শাসন ছিল, আজ সেখানে নাস্তিক্যবাদীরা ক্ষমতায়।

দেড় হাজার বছর আগে অমুসলিমদের হাতে যে অস্ত্র ছিল মুসলমানদের হাতেও একই অস্ত্র ছিল। ফলে সমশক্তির সমরাস্ত্রের সঙ্গে শক্তি পরীক্ষায় মুসলিম জাতি প্রায় গোটা পৃথিবীতেই আধিপত্য বিস্তার লাভ করে। মধ্য এশিয়াসহ ইউরোপে ও আফ্রিকার মিলনস্থলের সবকয়টি দেশই মুসলিম শাসনাধীন ছিল। তখনকার নব্য সমরাস্ত্রে প্রশিক্ষিত মুসলমানরা অতীত সমর কৌশলীদের পরাজিত করে পৃথিবীর বুকে নবতর ইতিহাস সৃষ্টি করে। কালক্রমে মুসলমানদের মাঝে ইসলামী আদর্শ, ইসলামী ভ্রাতৃত্ব, ইসলামী ঐক্য, ইমানি শক্তি, আধ্যাত্মিক শক্তিমান যোগ্য নেতা ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাব দেখা দেয়, ফলে তারা আত্মকলহ ও স্বজাতীয় ভ্রাতৃঘাতীতে নিমগ্ন হয়ে পড়ে। ইসলামী আদর্শ, ইমান আকিদা তাদের মধ্য থেকে লোপ পেতে থাকে। তারা তাদের সমরশক্তি বৃদ্ধির পরিবর্তে দুর্বল হতে থাকে। এমনি করে রিসালাতের সূর্য যাদের আলো বিকিরণ করেছিল তারাই পুনরায় অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। আজ গোটা পৃথিবী অমুসলিমদের জ্ঞান-বিজ্ঞান, মানবসেবা ও সমর শক্তির নিচে মাথানত করে দিয়েছে।

কোরআনের প্রথম বাণী ছিল জ্ঞান অর্জনের। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী ছিল- জ্ঞান হিকমত (বিজ্ঞান) অর্জনের। মুসলমানরা তা বর্জন করেছে। অমুসলিমরা তা গ্রহণ করেছে। ফলে জ্ঞান বিজ্ঞানে আজকে অমুসলিমরা এগিয়ে। আজ মুসলমান তাদের নিকট থেকে জ্ঞান আহরণ করছে এবং তাদের কাছেই জ্ঞান-বিজ্ঞান ভিক্ষা করছে। আজ মুসলমানরা ভ্রাতৃঘাতী কলহে লিপ্ত হয়ে নিজেরাই নিজেদের কোরবানি দিচ্ছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান আহরণের পরিবর্তে মূর্খতা ও অন্ধত্বকেই আঁকড়ে ধরছে। নিজের দেশ রক্ষার জন্য ভাড়াটিয়া অমুসলিম ইসলাম বিধ্বংসী বাহিনী রাখছে। আর সামান্য বজ্রপাতের আওয়াজে দেশ থেকে পলায়নের রাস্তা খুঁজে বেদিশা হয়ে পড়ছে। দেশপ্রেমের পরিবর্তে জানপ্রেমই গুরুত্ব হয়ে পড়ছে। আর সোনালি যুগের মুসলমানদের মাঝে যোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতার নেতৃত্ব ছিল। নেতার প্রতি আনুগত্যও ছিল। কালে কালে যোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতার অপমৃত্যু ঘটে।

আজ ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার মুসলিম দেশগুলো অমুসলিমদের সেবাধর্মী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। অমুসলিমরা মুসলিমদের আত্মকলহ মীমাংসার সালিশ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। মুসলমানরা ইসলামী আদর্শ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণের পরিবর্তে ইসলাম ও রাসূলের আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে নিজেদের খুশিমতো জীবন তরী চালাচ্ছে। আজো মুসলমান জাতি ইমানি বলে বলিয়ান হয়ে রাসুল (সা.)-এর আদর্শে উজ্জীবিত হলে এবং মদিনার আনসারদের ভ্রাতৃত্বে আবদ্ধ হয়ে অধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হলে গোটা পৃথিবী তাদের কাছে মাথানত করবে। মুসলমানদের নেতৃত্বের বড় গুণ আধ্যাত্মিক শক্তি। আধ্যাত্মিক শক্তিমান নেতার নেতৃত্বেই পুনরায় গোটা পৃথিবী জয় করা সম্ভব। শুধু সমরশক্তিই মুসলিম শক্তি নয়, অমুসলিমরা মুসলমানের আধ্যাত্মিক শক্তির কাছেই মাথানত করে। নবী-রাসূলসহ আউলিয়ায়ে কেরাম ও বিগত মুসলিম মুজাহিদদের মাঝে আধ্যাত্মিক শক্তি ছিল বলেই বিনা যুদ্ধেই অমুসলিমরা মুসলমানদের কাছে মাথানত করেছে। ইসলামী আদর্শ, সমর শক্তি, ঈমানি শক্তি ও আধ্যাত্মিক শক্তি মিলেই মুসলমানদের সামগ্রিক শক্তি।
খ্রিস্টান সন্ত্রাসীটি নিরীহ মুসলিমদের হত্যা করার জন্যে যেসব অস্ত্র ব্যবহার করেছিলো, সে অস্ত্রগুলোর উপর যাদের নাম লেখা, তারা ঐতিহাসিকভাবে মুসলিমদের শত্রু ও হত্যাকারী ছিলো!

অর্থাৎ, আজকের খ্রিস্টান সন্ত্রাসীটি নিজেকে ঐতিহাসিক খ্রিস্টান সন্ত্রাসীদের উত্তরাধিকারী হিসেবে জানান দিয়েছে।

এখানে ছবির মাঝে যে নামগুলো রয়েছে, তার একটি নাম হলো – মিলস অভিলিচ। কসোভা যুদ্ধে মিলস অভিলিচ উসমানী খেলাফতের সুলতান মুরাদকে হত্যা করেছিলো।অন্য জায়গায় লিখা, “ভিয়েনা ১৬৮৩”। এটাও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ছিলো।সুস্পষ্ট ভাবেই বুঝা যাচ্ছে, নিউজিল্যান্ডের আজকের হামলাটি নিরীহ মুসলিমদের বিরুদ্ধে একটি ‘জেনোসাইড’ বা গণহত্যার ছিলো। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন হামলা ছিলো না, বরং ঐতিহাসিক ভাবে মুসলিমদের উপর হামলার একটি ধারাবাহিকতার অংশ হিসাবে আজকের হামলাটি হয়েছে।আজ নিউজিল্যান্ডে মুসলিমদের ওপর বর্বরোচিত যে আক্রমণ করা হলো, এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এটাকে পাল ও উন্মাদের কাজ বলে চালিয়ে দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। এটা ইহুদিদের সুদূরপ্রসারী এক ষড়যন্ত্রের ছোট্ট একটি অংশ। এ ঘটনা আজকেই প্রথম নয়। এর আগেও এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। বর্তমানে চলমান আছে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি হবে। প্রতিবারই আমরা যে চিত্র দেখতে পাই, তা হলো, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা একটু দুঃখ প্রকাশ করবে, একটু ‍নিন্দা জানাবে, আক্রমণকারীকে উন্মাদ বা মানসিক রোগী সাব্যস্ত করবে এবং মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানেরা তাদের প্রভুদের দিকে চেয়ে থাকবে। তারা যখন নিন্দা জানাবে, তখন এরাও তাদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সুরা মিলাবে। এভাবেই একটি ট্রাজেডির পরিসমাপ্তি ঘটবে।মহান রাব্বুল আলামিন নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশত মুসলিমকে শহীদ হিসেবে কবুল করে নিন।

আরও পড়ুন

সোনারবাংলা ব্লক ছাত্রলীগের শোক প্রকাশ

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট মহানগর...

কাকে বিশ্বাস করব

সাদিক শামসুল: আল্লাহ ও রাসুল...