শবে মেরাজ ও মুসলমানের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ, ২০১৯     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মো:শামসুল ইসলাম সাদিক:
মানবজাতির অনুপম আদর্শ রাসুলে পাক (সা:)-এর অন্যতম মুজিজার মধ্যে মেরাজের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। পবিত্র রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর পিয়ারা হাবিব রাসুলে পাক (সা:)-এর সাথে সাক্ষাতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা করেন। ঐতিহাসিক সেই সফরকেই পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বলা হয়। মেরাজ শব্দটি আরবি। শাব্দিক অর্থ উর্ধ্বগমন, আকাশপথে ভ্রমণ করা ইত্যাদি। পবিত্র রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগতরাতে রাসুলে পাক (সা:)-উম্মে হানি (রা:)-এর ঘর থেকে পবিত্র নগরী মক্কা শরীফের মাসজিদুল হারাম থেকে জেরুজালেমের মসজিদুল আক্বসা হয়ে জাগ্রত অবস্থায় আরশে আজিমে পৌঁছে তামাম জাহানের মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দিদার লাভ করাই পবিত্র মেরাজ। এই মেরাজ রাসুলে পাক (সা:)-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজিজা। আল্লাহ তায়ালার রহস্যের অন্ত নেই। রাসুলে পাক (সা:)-এর মাধ্যমে কিঞ্চিৎ মাত্র উন্মেষ করে মানব জাতিকে দেখান। আল-কোরআনে সূরা বনী ই¯্র্্াঈলে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- তিনি পরম পবিত্র মহিমাময় সত্তা, তিনি স্বীয় বান্দাকে তার নিদর্শনগুলো দেখানোর জন্য রাত্রিকালে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আক্বসা পর্যন্ত। যার চারদিকে আমি বরকত দান করেছি, যাতে আমি তাকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয় তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।
ইসলামের দ্বিতীয় উৎস হাদিস শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী পবিত্র মেরাজের রাতে রাসুলে পাক (সা:) উম্মে হানি বিনতে আবু তালিব (রা:)-এর ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। হঠাৎ হযরত জিবরাইল (আ:)-আগমন করেন এবং রাসুল (সা:) কে মসজিদে হারামে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর পবিত্র বুক মোবারক বিদীর্ণ করে জমজম কুপের পানি দিয়ে, সিনা মোবারক ধুয়ে পরিস্কার ও শক্তিশালী করা হয়। রাসুলে পাক (সা:)-কে এর পূর্বে অন্তত তিনবার এমনটা করা হয়েছিল। অতপর সেখান থেকে তিনি ‘বোরাক’ নামক এক ঐশী বাহন চড়ে বায়তুল মোকাদ্দাসে উপস্থিত হয়ে সকল নবীদের নিয়ে তিনি ইমামতির মাধ্যমে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। তারপর বোরাকে চড়ে ৭ম আসমানের ‘ছিদরাতুল মুনতাহা’ পর্যন্ত উর্ধ্বগমন করতে থাকেন। এক এক আসমান অতিক্রম করে এক এক নবীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং সেখানে রাসুলে পাক (সা:)- কে বাস্তবে রাব্বে কারিম জান্নাত ও জাহান্নাম অবলোকন করান। বায়তুল মামুর পর্যন্ত হযরত জিবরাইল (আ:),রাসুলে পাক (সা:)-এর সাথে সফর সঙ্গি ছিলেন, তারপর রাসুলে পাক (সা:)-তাকে রেখে তিনি ‘রফরফ’ নামক আরেকটি আসমানি বাহনে চড়ে তামাম জাহানের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর দরবারে হাজির হন। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, পবিত্র মেরাজের রাতে রাসুলে পাক (সা:)-আল্লাহ তায়ালার এতোটা পাশাপাশি গিয়েছিলেন যে, দু’জনার মধ্যখানে মাত্র এক ধনুক পরিমাণ ব্যবধান ছিল। এখানে রাসুলে পাক (সা:)-এর উম্মতের ওপর আল্লাহ তায়ালা ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে দেন। পরবর্তীতে রাসুলে পাক (সা:)- বার বার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে দেন। আর এই নামাজ ইসলামের পাঁচটি রোকনের অন্যতম একটি রোকন। যেহেতু পবিত্র মেরাজের রাতে বান্দার জন্য নামাজের নির্দেশ রয়েছে, সেজন্য নামাজকে ‘মেরাজুল মুমিনিন’ বা মুমিনের জন্য মেরাজ বলা হয়। রাসুলে পাক (সা:)-এর মেরাজ সম্পর্কে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। তাই কোনো মুসলমানের পক্ষে তা অস্বীকার করা কিংবা এ ব্যাপারে সংশয় দেখানো উচিত নয়। কেননা এই বিষয় প্রত্যেক মুসলমানগণ মনেপ্রাণে বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানি দায়িত্ব ও কর্তব্য। যখন রাসুলে পাক (সা:)- মেরাজের কথা প্রকাশ করলেন, তখন কাফেররা মিথ্যারোপ করলো এবং হাসি-ঠাট্টা, বিদ্রুপ করলো। এমনকি অনেক নওমুসলিম এ সংবাদ শুনে ধর্মত্যাগী হয়ে যায়। লোকজন দৌড়ে গিয়ে হযরত আবু বকর (রা:) কে সংবাদটি দিয়ে এলো হযরত আবু বকর (রা:) তৎক্ষণাৎ ঘটনার সত্যতা এ বলে বিশ্বাস করলেন যে, যদি এই সংবাদ স্বয়ং রাসুলে পাক (সা:)-বর্ণনা করে থাকেন, তাহলে আমি বিশ্বাস করি। কারণ উনার কথায়ইতো এর চাইতে বড় বিষয় আসমানের ফিরিস্তা তাঁর কাছে ওহী নিয়ে আসেন, সে কথাও বিশ্বাস করেছি। অত:পর তিনি রাসুলে পাক (সা:)-এর দরবারে এসে ঘটনার সত্যতা জিজ্ঞাস করলেন, এবং বিশ্বাস স্থাপন করে ‘সিদ্দিক’ উপাধি লাভ করেন। আসুন আমরা পবিত্র শবে মেরাজের শিক্ষার বাস্তব প্রাতিফলেনর মাধ্যমে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির পথ অন্বেষণ করি। পাশা-পাশি রাব্বে কারিম আমাদের প্রত্যেক মুসলমানদেরকে পবিত্র শবে মেরাজের মহিমায় মহিমান্বিত করার প্রত্যাশা করি। আমিন।
লেখক:
শিক্ষার্থী
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
এম.সি কলেজ, সিলেট।
মোবাইল নং- ০১৭২৫-৭২৪৫০৮


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরবর্তী খবর পড়ুন : শান্তির বাসা

আরও পড়ুন

সোবহানীঘাটে মেয়র আরিফের অভিযান

         নগরীর সোবহানীঘাটে মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডে গড়ে...

প্রতিবন্ধী ও অভাব গ্রস্থ’র পাশে দাঁড়িয়েছে (এইচ আর এমও)

         মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রতিবন্ধী...

সুনামগঞ্জে দুই ছেলেসহ বাবার যাবজ্জীবন

         সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শিক্ষার্থীর রুবেল...

সৃজনশীলতা অর্জন-বিকাশে অধ্যয়ন-পর্যবেক্ষণ লেখকের বড়ো হাতিয়ার

         লেখকরা সৃজনশীল। তবে সৃজনশীলতা অর্জন-বিকাশের...