শতবর্ষীর সাথে সত্তর বছরি পাঠাগারে

প্রকাশিত : ১৪ জুন, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

সেলিম আউয়াল রেশমি, খাইরুন, নিসা, নার্গিস, বিজলী_মেয়েদের এইসব নামে ঝড়ের বাহারী নাম। বঙ্গোপসাগরের আশপাশের এলাকায় এমনি নামের কোন ঝড় হয়তো উড়ে বেড়াচ্ছে। আর এজন্যে নি¤œচাপ, অক্টোবর মাসের সকালবেলায় টিপ টিপ বৃষ্টি হচ্ছে। বাসার সামনে যখন মাইক্রোবাসে চেপেছিলাম তখন বৃষ্টি ছিলো না। তাই ছাতা আনিনি। কে একজন ছাতা এনেছেন, আমাদের আটজন মানুষের এটাই একমাত্র সম্বল। সেই একটি মাত্র ছাতা দেয়া হলো কবি শেফালীকে, ওই যে লেডিজ ফার্স্ট সেই সূত্রে। সাদেক ভাই কবি শেফালির মাথায় ছাতা ধরে তাকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। আমাদের ছাতা নেই, তাই পা চালিয়ে হাঁটি বাজারের ছোট গলিটায়। মেইন রাস্তা থেকে গলির শুরু। দুপাশে খোলা ছোট ছোট দোকান। দোকানগুলোতে যথেষ্ট মাল সামানা আছে মনে হচ্ছিলো। দু’পাশের দোকানের মধ্যখানটাই ফাকা গলি। দু’পাশের দোকানের চালের পানি গড়িয়ে গলির মধ্যিখানে পড়ছিলো। আমরা কোনভাবে জান বাঁচিয়ে হাঁটি। দোকানে বসা লোকজন খানিকটা উৎসুক হয়ে দেখছিলো আমাদেরকে। বুঝাই যাচ্ছিলো আমরা এখানে বাহিরাগত এবং কবি আবদুল ওয়াহিদের ডেরায় এসেছি। একজন শুনিয়ে শুনিয়ে বলছিলো-দেখো দেশ বিদেশো বেটার (কবি ওয়াহিদ) কতো নামডাক, আর আমরার দেশো এক পয়সার দাম নাই।
বাজারের গলিটার শেষ মাথায় কবি আবদুল ওয়াহিদের ‘জাউয়া সাহিত্যিকপাড়া পাঠাগার’। তার নিজের জায়গায় বানানো পাকা বিল্ডিং।
আমি যেমন ভেবেছিলাম, গাড়িতে আসতে আসতে সবাইকে বলেওছিলাম, ঠিক তেমনটি পেলাম পাঠাগারে ঢুকে। একটি চেয়ারে কবি সাব বসে আছেন, তার সামনে সার বাধা কট্কটে লাল রংয়ের অনেকগুলো প্লাস্টিক চেয়ার। খা খা করছে। লোকজন নেই। কিন্তু সাড়ে এগারোটা বেজে গেছে। হলটায় দুই তিনটা বাচ্চা ছেলে আর মেয়ে, এরা কবির নাতি আর নাতিন। আর একজন রিকসা ড্রাইভার। আমাদেরকে দেখে পুরুষ্ট দাঁতগুলো বের করে কবি প্রাণখোলা একটি হাসি দিলেন। তার কোমরে হাঁটুতে অসুখ, দাঁড়াতে কষ্ট হয়। তবুও তিনি দাঁড়ালেন। জড়িয়ে ধরলেন। বার্ধক্যের জন্যে অনেকটা নুয়ে গেলেও এখনো উচ্চতায় আমাদের মাথার অনেক উপরে।
কবি আমাদেরকে পেয়ে তো মহাখুশী-আমার আর মানুষ লাগতো নায়। অউতো আমার সেলিম আউয়াল সাব আইছন্, আমার রতœ (কবি শেফালী) আই্ছন আর মানুষ লাগতো নায়।
হল রুমটায় শ’দুশ মানুষ বসতে পারে। সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলন তৈরি করে দিয়েছেন। হলের পাশে ছোট্ট একটি রুমে গাঁট বাধা জীর্ণ বইয়ের স্তুপ। সেইসব গাঁট খুলে বাঁশ দিয়ে বানানো তাকে বই রাখছিলো তার নাতি আর নাতিনরা।
আমরা ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজারে জাউয়া সাহিত্যিক পাড়া পাঠাগারের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে এসেছি। পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেছেন জাউয়ার কবি আবদুল ওয়াহিদ। পঁচাত্তর আশি বছর আগে টুকরিতে করে তিনি বই নিয়ে যেতেন জাউয়ার বাজারে। তার শখ সবাই বই পড়বে, আলোকিত মানুষ হবে।
কবি আবদুল ওয়াহিদ। বয়স একটি একশত ছয় অথবা আরো বেশি। নাম জিগ্যেস করলে নিজেই বলেন ‘কবি আবদুল ওয়াহিদ’। তার বাড়ি ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার এলাকায়। নিজের গ্রামের নাম রেখেছেন ‘সাহিত্যিক পাড়া’। নিজেও কবিতা লেখতেন। গান লেখতেন। সাংবাদিকতা করতেন। সেই সময় জাউয়ার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে নিউজ পাঠাতেন সাপ্তাহিক যুগভেরী পত্রিকায়। এখন আর শারিরীক সেই শক্তি নেই, চট করে রাগ করে ফেলেন এবং মোট কথা তার কর্মীবাহিনীর সংকট। কাজেই অনুষ্ঠান আদৌ হবে কিনা সন্দেহ এবং এই কথাটি আমি গাড়িতে বসে সবাইকে বলেছিলাম। এইসব সাতপাঁচ ভেবে আমার আসার কোন ইচ্ছে ছিলো না। কিন্তু কবি আবদুল ওয়াহিদের বয়স এবং আমন্ত্রণ জানিয়ে আমাকে বার বার ফোন করেছেন, তার আকুতিই আমাকে টেনে এনেছে জাউয়ায়। ভাবি আশি বছর আগে যখন সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের বলা যায় অস্তিত্ব ছিলো না, সেই সময়ে একটি লোক টুকরিতে করে বই নিয়ে এসেছে গায়ের হাটে-মানুষকে বিনে পয়সায় বই পড়াবে। জাউয়াবাজারে নিজের প্রচুর জমি ছিলো, যার দাম আজ কোটি কোটি টাকা। কিন্তু আজ প্রায় সবই তার হাতছাড়া। কারন তিনি ছিলেন বইয়ের পেছনে। কিভাবে বই আনা যায় আর কিভাবে এলাকার উন্নতি করা যায়-সারাক্ষণ এইসব ছিলো তার মাথায়। কবি ওয়াহিদ হয়তো বিশাল পাঠাগার তৈরি করতে পারেননি অথবা বিপুল পরিমান পাঠক তৈরি করে যেতে পারেননি। কিন্তু আলোকিত সমাজ গঠনের জন্যে বইয়ের টুকরি মাথায় ছুটেছেন গ্রামে গ্রামে, এমন মানুষের ডাক তো অবজ্ঞা করা যায় না। এইসব ভেবে ছুটির দিনে জাউয়াবাজারে ছুটে আসা।
ষাট সত্তর বছর বয়েসী একটি পাঠাগারের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান, কিন্তু কোন ব্যানার নেই। এসব মোটামুটি থাকতো, যদি তার ছেলে গনি তার কাছে থাকতো। সে ছড়া লেখে, এইসব কাজ মোটামুটি বুঝে। কিন্তু আবদুল গনি নেই, তার ভাই আবুল কালামও নেই, ওরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ওরা একটি মার্ডার কেইসের আসামী। কবি ওয়াহিদও আসামী। তিনি নয়দিন জেল খেটে জামিনে বেরিয়েছেন।
কবি ওয়াহিদ যখনই আমার সাথে কথা বলেন, তার সবগুলো দাঁত বের মুখে হাসি ঝুলিয়ে কথা বলেন। কিন্তু আজ হালকা একটা ধমকের সুরে বললেন-আপনার লাখান জ্ঞানী মাইন্সে ই কিথা কইন! আপোস করতাম কেনে, আমি কিথা অন্যায় করছি নি। একশ বছরর উপরে আমার বয়স, কয় আমি বুলে মার্ডারর হুকুম দিছি।
আমি তাকে বলেছিলাম কেইসটা নিয়ে আপোস করে ফেলতে, আর তাতেই তিনি ক্ষেপে যান। বুঝলাম এই পথে আর না হাঁটাই ভালো।
কবিসাব আমাদের জন্যে ভাতের ব্যবস্থা করেছেন, সাদা ভাত, মাছ, মাংস, মাছের ভর্তা ইত্যাদি। বললেন, একশ জন মানুষের খাবার অর্ডার দিয়েছেন হোটেলে। খাবার প্যাকেট হাতে ধরাতেই ঝটপট খেয়ে নিই।
খাওয়া সাঙ্গ হলে ভাবি এইভাবে তো এমনি এমনি সিলেট ফিরে যাওয়া যায় না। জাউয়ায় এই যে আসা, তাকে কাজে লাগানো দরকার। বুঝলাম নিজের বাসর নিজেই সাজাতে হবে। একটি মাইক আছে। আমিই মঞ্চের মতো করে চেয়ার সাজালাম। কবিকে বসালাম সভাপতির আসনে। আমাকে সবাই দায়িত্ব দিলেন মূখ্য আলোচকের। রুমটায় তখন দশ পনেরোজন লোক। এর মধ্যে বেশীরভাগ আমরা যারা সিলেট থেকে গিয়েছি। বাকী চারটি শিশু কবির নাতি নাতনি (ওরা প্রাপ্ত বয়স্ক হলে মার্ডার কেসের আসামী থাকতো) এবং কবি।
আড্ডা স্টাইলেই অনুষ্ঠান শুরু করি। কবিকে নিয়ে আমি আল ইসলাহে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলাম, সেই প্রবন্ধের আলোকে তাকে কিছু প্রশ্ন করি, তিনি সেই সব প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রাপ্ত তথ্যগুলো হচ্ছে-কবির দুই স্ত্রী। তার দুই পুত্র আবুল কালাম ও আবদুল গনি। আবুল কালামের সন্তানেরা হচ্ছে-প্রথম সন্তান আবদুল কাইয়ুম (দশম শ্রেণী), দ্বিতীয় শাকিল আহমদ (নবম), তৃতীয় শারমিন বেগম (ষষ্ঠ), চতূর্থ ফাইজা বেগম। আবদুল গনির প্রথম সন্তান সুমাইয়া বেগম (চতূর্থ), দ্বিতীয় আনিসা বেগম (দ্বিতীয় শ্রেণী), তৃতীয় আহমদ আলী।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর উনিশ শত একাশির দিকে কবি আবদুল ওয়াহিদ বিপ্লবের নেতা ইমাম খোমেনি ও ইসলামি বিপ্লব নিয়ে কিছু গান লিখেছিলেন। সেই গানগুলো ফারসি ভাষায় অনুবাদ করে ঢাকার ইরানি দূতাবাস শিল্পীদের গাইয়ে অডিও ক্যাসেট বের করেছিলো। ক্যাসেটের এক সাইডে ছিলো বাংলায় গান আর অপর পাশে ফারসি ভাষায়। সেই ক্যাসেটের প্রসঙ্গ তুলি। বললেন, ক্যাসেট বের করার আগে আমি ইরানি এম্বেসিকে তিনটি শর্ত দিয়েছিলাম। শর্তগুলো ছিলো-আমি সুন্নি মুসলান, আমার বিশ্বাসের কোন পরিবর্তন হবে না। দ্বিতীয় শর্ত, আমার গানের কোন কথা পরিবর্তন করা যাবে না এবং তৃতীয় শর্ত ছিলো ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পক্ষে গান লেখায় যদি বাংলাদেশ আমাকে দেশ থেকে বের করে দেয় তবে ইরান আমাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে হবে।
ইরান দূতাবাস তার তিনটি শর্ত তো মেনেছিলো এবং প্রচুর টাকা দিতে চেয়েছিলো। তিনি যখন এম্বেসিতে যেতেন তারা বলতো আপনি প্লেনের বিল দেন। তিনি বলতেন আমি আসা যাওয়া করলাম বাসে, তাহলে প্লেনের বিল দেবো কেমন করে।
আমার প্রশ্ন শেষ হলে অন্য সবাইকে বললাম কবিকে প্রশ্ন করার জন্যে। নানানজন নানা বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করতে লাগলেন। কবি বললেন, তিনি মরে গেলে তার ছেলে আবদুল গণি পাঠাগার চালাবে, এ জন্যে তিনি তার ছেলেকে আলাদাভাবে আরো কিছু জমিও দেবেন।
কথা উঠলো পাঠাগারের বয়স নিয়ে। কবি পাঠাগারের বয়স নিয়ে নানান কথা বলছিলেন। একবার বলছিলেন ৮০ বছর, একবার সত্তর বছর, একবার পঁচাত্তর বছর। ভাবলাম সবার উপস্থিতিতে আগে পাঠাগারের বয়সের বিষয়টির সমাধান হোক। কবিকে এ ব্যাপারে অনেক ধরনের প্রশ্ন করলাম। কবি যা বললেন, তিনি প্রথমে বেতের টুকরিতে করে গ্রামের বাজারে বই নিয়ে যেতেন্। তখন সিলেট শহরের ফজলুল হক মাস্টারসহ (শাহজালাল লাইব্রেরির স্বত্ত্বাধিকারী, গোলাপগঞ্জের প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান) আরো কিছু মানুষ পরামর্শ দিলেন এইভাবে টুকরিতে করে বই নিয়ে না ঘুরে বাজারে একটি রুমে পাঠাগার করে ফেলেন। জাউয়া বাজারে তার প্রচুর জায়গা, পাঠাগার করার প্রস্তাবটি তার খুব ভালো লাগলো। তখন সদ্য পাকিস্তান হয়েছে, খুব জোশ, সেই পাকিস্তান হবার বছরই (১৯৪৭) তিনি জাউয়ায় পাঠাগার গড়ে তুললেন। সেই হিসেবে পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৪৭ সন। আমার মনে হলো কবির উপস্থিতিতে এই বিষয়ে একটি স্মরণলিপি থাকা দরকার। না হয় প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে একটি ধুম্রজাল থেকে যাবে। আমি একটি স্মরণলিপি লেখি। সবাই স্বাক্ষর করলাম। কবিও স্বাক্ষর করলেন। তার নাতি শাকিল আহমদ স্বাক্ষর করলো। তারপর কবি সেই কাগজটি ফটোস্ট্যাট করে সবাইকে একটি করে কপি দিয়ে মুল কপিটা তার নাতির কাছে দিয়ে দিলেন।
কবি অর্থ প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, সিলেটের কবি রাগিব হোসেন চৌধুরী , লেখক আফতাব চৌধুরীকে দাওয়াত করেছেন। তার বিশ্বাস তারা আসবেন। ফরমালি অনুষ্ঠান শুরু করতে চাইলে কবিসাব তাদের জন্যে অপেক্ষা করতে চাইলেন। আমি বললাম, তিনটে বেজে গেছে। তারা আর আসার সম্ভাবনা নেই, আমরা অনুষ্ঠান শুরু করে দিই। তারা আসলে মঞ্চে বসবেন। কাগজে স্বাক্ষরকারী আটজন, চারটা বাচ্চা আর ডজনখানেক মানুষ নিয়ে আমরা অনুষ্ঠান শুরু করে দিই। সবাই সবার অনুভূতি বললেন, কবির দীর্ঘায়ু কামনা করলেন। এর মধ্যে আরো কিছু লোক হাজির হলেন।
অনুষ্ঠান যখন শেষ হলো তখন রুমে তিরিশ-চল্লিশজন বসে। অনুষ্ঠানের সার সংক্ষেপ হচ্ছে-সভাপতি কবি আবদুল ওয়াহিদ, প্রধান আলোচক-কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহ সভাপতি সেলিম আউয়াল, বিশেষ অতিথি গীতি কবি ও গবেষক কামরুন নাহার চৌধুরী শেফালী, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিছবাহ উদ্দিন, লেখক ও কলামিস্ট সাদেক আহমদ, গীতিকবি ও লেখক শাহ সৈয়দ আতিকুল ইসলাম চিশতি। সভার শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন জামালগঞ্জের ‘এমরুল কায়েস লোক উৎসবে’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি গীতিকবি মো. এমরুল কায়েস, পুথি পাঠ করেন গীতিকার শাহ মো. আবদুল খালিক চিশতি, কবিতা পাঠ করেন খালেদ আহমদ।
হলের বাইরে একটি লাল কাপড়ে কবি আবদুল ওয়াহিদকে নিয়ে, পাঠাগার নিয়ে লেখা বিভিন্ন পত্রিকার ক্লিপিংস ঝুলানো। সবগুলো কাগজ লেমিনেটিং করা। কাগজগুলো বড়ো বড়ো সেফটি পিন দিয়ে ঝুলানো হয়েছে। অবাক হবার মতো বিষয়-টানানো কাপড়টায় প্রায় একশটির মতো ক্লিপিংস গেঁথেছে কবির নাতনি শারমিন আর সুমাইয়া। হলের ভেতর বসে বসে দেখছিলাম, লাল কাপড়ে ওরা লেমিনেটেড ক্লিপিংস ঝুলাচ্ছে। ভাবছিলাম এরা কি পারবে এতোগুলো ক্লিপিংস ঝুলাতে, কিন্তু সবগুলো ঝুলিয়ে ফেলেছে। ক্লিপিংসগুলো দেখতেও বেশ ভালো লাগছিলো। লাইব্রেরির জীর্ণ তাকে জীর্ণ বই সাজানো শুরু করেছিলো কাইয়ুম আর শাকিল। এতোক্ষণে মোটামুটি গুছিয়ে ফেলেছে।
আমরা যখন হল ছেড়ে বের হচ্ছিলাম, তখন হলের ভেতর ত্রিশ চল্লিশজন মানুষ। কিন্তু শুরু হয়েছিলো পনেরো বিশজন নিয়ে। আমার বিশ্বাস আরো বছর কয়েক পর জাউয়া সাহিত্যিকপাড়া পাঠাগারে গেলে-দেখবো দেয়ালে ঝুলানো কবি আবদুল ওয়াহিদের একটি ছবি। লোকজন কেউ মোটা বই পড়ছে, কেউ চিকন বই পড়ছে। কেউ নতুন বই পড়ছে, কেউ পুরনো বই। কেউ পত্রিকা পড়ছে, কেউ ম্যাগাজিন পড়ছে এবং সবার চেহারা থেকে বেরুচ্ছে এক ধরনের দ্যুতি। এই ধরনের দ্যুতি সম্পন্ন আলোকিত মানুষের স্বপ্ন দেখতেন কবি আবদুল ওয়াহিদ।
১৮ নভেম্বর ২০১৭

আরও পড়ুন



জেলা বিএনপির ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেটসহ দেশবাসীকে...

রেগে গেলেন হেরে গেলেন

ইছমত হানিফা চৌধুরী :প্রচলিত একটা...

কেমুসাস বইমেলার নবম দিন

বিশিষ্ট্য সাংবাদিক সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি...