শতবর্ষীর সাথে সত্তরবর্ষী পাঠাগারে

প্রকাশিত : ০১ আগস্ট, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেলিম আউয়াল: রেশমি, খাইরুন, নিসা, নার্গিস, বিজলী-মেয়েদের এইসব নামে ভয়াল সব ঝড়ের বাহারী নাম। বঙ্গোপসাগরের আশপাশ এলাকায় এইসব নামের কোন একটা ঝড় হয়তো উড়ে বেড়াচ্ছে। আর এজন্যে নি¤œচাপ, অক্টোবর মাসের সকালবেলায় টিপ টিপ বৃষ্টি। বাসার সামনে যখন মাইক্রোবাসে চেপেছিলাম তখন বৃষ্টি ছিলো না। তাই ছাতা আনিনি। কে একজন ছাতা এনেছেন। টিপ টিপ বৃষ্টিতে আমাদের আট জন মানুষের এই একটি এক মাত্র সম্বল। সেই একটি মাত্র ছাতা দেয়া হলো কবি শেফালীকে, ওই যে লেডিজ ফার্স্ট, সেই সূত্রে। সাদেক ভাই কবি শেফালীর মাথায় ছাতা ধরে ধরে তাকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। ছাতাবিহীন আমরা যারা, বাজারের ছোট গলিতে পা চালাই জোর কদমে। গলিটা মেইনরাস্তা থেকে নেমে গেছে অনেক দূর। দু’পাশে খোলা দোকান। যথেষ্ট মাল সামানা আছে মনে হচ্ছিলো। দু’পাশের দোকানের মধ্যখান ফাকা। দু’পাশের দোকানের চালের পানি গলির মধ্যিখানে পড়ছিলো। আমরা কোন ভাবে জান বাঁচিয়ে হাঁটি। দোকানে বসা লোকজন খানিকটা উৎসুক হয়ে তাকাচ্ছিলো। তারা বুঝতে পারছিলো বাহিরাগত আমরা এসেছি কবি আবদুল ওয়াহিদের ডেরায়। একজন নিজেকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলছিলো- দেখো দেশ বিদেশো বেটার (কবি ওয়াহিদ) কতো নাম, আর আমরার দেশে এক পয়সার দাম নাই। দীর্ঘ গলি শেষে কবি আবদুল ওয়াহিদের জাউয়া সাহিত্যিকপাড়া পাঠাগার। তার নিজের জায়গায় বানানো পাকা বিল্ডিং।
আমি যেমন ভেবেছিলাম, গাড়িতে আসতে আসতে সবাইকে বলেছিলামÑঠিক তেমনটি পেলাম। হলের মতো রুমের ভেতর একটি চেয়ারে কবি আবদুল ওয়াহিদ বসে আছেন, সামনে সার বাধা লাল রংয়ের অনেকগুলো চেয়ার। হলরুমটায় শ’দুশ মানুষ বসতে পারে। সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলন তৈরী করে দিয়েছেন। রুমটা খা খা করছে। লোকজন নেই। কিন্তু সাড়ে এগারোটা বেজে গেছে। দুই তিনটা বাচ্চা ছেলেমেয়ে, এরা কবির নাতি আর নাতিন। আর একজন রিকসা ড্রাইভার। কবি আমাদেরকে দেখে তার পুরুষ্ট দাঁতগুলো বের করে প্রাণখোলা একটি হাসি দিলেন। তার কোমরে-হাঁটুতে অসুখ, তাই দাঁড়াতে কষ্ট হয়। তবুও তিনি দাঁড়ালেন। জড়িয়ে ধরলেন। বার্ধক্যের জন্যে অনেকটা নুয়ে গেলেও এখনো আমাদের চেয়ে অনেক উচু।
কবি আমাদেরকে পেয়ে তো মহাখুশী আমার আর মানুষ লাগতো নায়, অউতো আমার সেলিম আউয়াল সাব আইছন, আমার রতœ (কবি শেফালী) আইছ্ছন আর মানুষ লাগতো নায়।’
হলের পাশে ছোট্ট একটি রুমে গাঁট বাধা জীর্ণ বইয়ের স্তুপ। বাঁশ দিয়ে বানানো তাকে গাঁট খুলে বই রাখছিলো কবির নাতি আর নাতিনরা।
আমরা এসেছি ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজারে, জাউয়া সাহিত্যিক পাড়া পাঠাগারের সত্তর বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে। পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেছেন জাউয়ার কবি আবদুল ওয়াহিদ। পঁচাত্তর-আশি বছর আগে হাটবারে টুকরীতে করে তিনি বই নিয়ে যেতেন জাউয়ার বাজারে। লোকজনকে বই দিতেন। পরের হাটবারে আবার ফেরত নিয়ে আসতেন। তার শখ সবাই বই পড়বে, আলোকিত মানুষ হবে।
কবি আবদুল ওয়াহিদ। বয়স এখন একশত ছয় অথবা আরো বেশি। নাম জিগ্যেস করলে নিজেই বলেন ‘কবি আবদুল ওয়াহিদ’। তার বাড়ি ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার এলাকায়। নিজের গ্রামের নাম রেখেছেন ‘সাহিত্যিক পাড়া’।
নিজেও কবিতা লেখতেন। গান লেখতেন। সাংবাদিকতা করতেন। সেই সময় জাউয়ার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে নিউজ পাঠাতেন সেই সময়ের সাপ্তাহিক যুগভেরী পত্রিকায়। এখন আর শারিরীক সেই শক্তি নেই, ঝটপট রাগ করে ফেলেন এবং মোট কথা তার কর্মীবাহিনীর সংকট। কাজেই অনুষ্ঠান আদৌ হবে কিনা সন্দেহ এবং এই কথাটি আমি গাড়িতে বসে বলেছিলাম। এইসব সাতপাঁচ ভেবে আমার আসার কোন ইচ্ছে ছিলো না। কিন্তু কবি আবদুল ওয়াহিদের বয়স এবং মোবাইল ফোনে তার আকুতিই আমাকে টেনে এনেছে জাউয়ায়। আমি ভাবি আশি বছর আগে যখন সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের বলা যায় অস্তিত্ব ছিলো না, সেই সময়ে একটি লোক টুকরীতে করে বই নিয়ে এসেছে বাজারেÑমানুষজনকে বিনে পয়সায় বই পড়ানোর জন্যে। জাউয়াবাজারে নিজের প্রচুর জায়গা ছিলো, যার দাম আজ কোটি কোটি টাকা, কিন্তু আজ প্রায় সবই তার হাতছাড়া। কারন তিনি ছিলেন বইয়ের পেছনে। কিভাবে বই আনা যায় আর কিভাবে এলাকার উন্নতি করা যায়। নিজের গ্রামের নাম বদলে রাখলেন ‘সাহিত্যিক পাড়া’, নামের তাছির পড়বে গ্রামের মানুষের উপরÑসবাই হয়ে যাবে কবি-সাহিত্যিক, জ্ঞানীগুণী। কবি ওয়াহিদ হয়তো বিশাল পাঠাগার তৈরি করে যেতে পারেননি। কিন্তু আলোকিত সমাজ গঠনের জন্যে বইয়ের টুকরী মাথায় ছুটেছেন গ্রামে গ্রামে, এমন মানুষের ডাক তো অবজ্ঞা করা যায় না। আর তো ছিলো কবি শেফালির তাগিদ, তাই বন্ধের দিন জাউয়াবাজারে আসা।
একটি পাঠাগারের সত্তর বছর পূর্তি অনুষ্ঠান হচ্ছে কিন্তু কোন ব্যানার নেই। যদি তার ছেলে গনি তার কাছে থাকতো তাহলে এমনটি হতো না। সে ছড়া লেখে এইসব কাজ মোটামোটি বুঝে। কিন্তু আবুল গনি নেই, তার ভাই আবুল কালাম নেই। তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা একটি মার্ডার কেইসের আসামী। কবি ওয়াহিদও আসামী। তিনি নয়দিন জেল খেটে জামিনে বেরিয়েছেন। কবি ওয়াহিদ যখনই আমার সাথে কথা বলেন, তার সবগুলো দাঁত বের করে মুখে হাসি ঝুলিয়ে কথা বলেন। কিন্তু আজ হালকা একটা ধমকের সুরে বললেনÑআপনার লাখান গিয়ানী মাইনসে ই কিথা কইন। আপোস করতাম কেনে, আমি কিথা অন্যায় করছি নি। একশো বছরর উপরে আমার বয়স, কয় আমি বুলে খাড়াইয়া র্মাডার্র হুকুম দিছি।
আমি বলেছিলাম কেইসটা নিয়ে আপোস করে ফেলতে, আর তাতেই তিনি ক্ষেপে যান। বুঝলাম এই পথে আর না হাঁটাই ভালো।
কবি সাব আমাদের জন্যে ভাতের ব্যবস্থা করেছেন, সাদা ভাত, মাছ, মাংস, মাছের ভর্তা ইত্যাদি। একশ জন মানুষের খাবার অর্ডার দিয়েছেন হোটেলে। খাবার প্যাকেট আসার পর ঝটপট খেয়ে নিই। এখন তো এমনি এমনি সিলেট ফিরে যাওয়া যায় না। বুঝলাম নিজের বাসর নিজেই সাজাতে হবে। একটি মাইক আছে। আমিই মঞ্চের মতো করে চেয়ার সাজালাম। কবিকে বসালাম সভাপতির আসনে। নিজে দায়িত্ব নিলাম মূখ্য আলোচকের। রুমটায় তখন দশ বারোজন লোক। এরমধ্যে আটজন আমরা সিলেট থেকে গিয়েছি। বাকী চারটি শিশু কবির নাতি নাতনী (প্রাপ্ত বয়স্ক হলে মার্ডার কেসের আসামী থাকতো) এবং কবি।
প্রথমে একটু আড্ডা স্টাইলে শুরু করি। কবিকে নিয়ে আমি আল ইসলাহে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলাম সেই প্রবন্ধের আলোকে তাকে কিছু প্রশ্ন করি, তিনি সেইসব প্রশ্নের উত্তর দেন। তথ্যগুলো হচ্ছে কবির দুই স্ত্রী, দুই পুত্র আব্দুল কালাম ও আবদুল গনি। আবুল কালামের সন্তানের হচ্ছে-প্রথম সন্তান আব্দুল কাইয়ুম (দশম শ্রেণী), দ্বিতীয় শাকিল আহমদ (নবম), তৃতীয় শারমিন বেগম (ষষ্ঠ) চতূর্থ ফাইজা বেগম, আবদুল গনির প্রথম সন্তান সুমাইয়া বেগম (চতূর্থ), দ্বিতীয় আনিসা বেগম (দ্বিতীয় শ্রেণী), তৃতীয় আহমদ আলী।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর উনিশ’ একাশির দিকে কবি আবদুল ওয়াহিদ ইমাম খোমেনি ও ইসলামি বিপ্লব নিয়ে কিছু গান লিখেছিলেন। সেই গানকে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করে ঢাকার ইরানি দূতাবাস শিল্পীদের দিয়ে গাইয়ে অডিও ক্যাসেট বের করেছিলো। ক্যাসেটের এক সাইডে ছিলো বাংলায় গান আর অপর পাশে ফারসিতে। সেই ক্যাসেটের প্রসঙ্গ তুলি। বললেন, ক্যাসেট বের করার আগে আমি ইরানি এম্বেসিকে তিনটি শর্ত দিয়েছিলাম। শর্তগুলো ছিলো আমি সুন্নি মুসলমান এর কোন পরিবর্তন হবে না। দ্বিতীয় শর্ত আমার গানের কোন কথা পরিবর্তন করা যাবে না এবং তৃতীয় শর্ত ছিলো ইরানের পক্ষে গান লেখায় যদি বাংলাদেশ আমাকে দেশ থেকে বের করে দেয় তবে ইরান আমাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে হবে।
ইরান দূতাবাস তার তিন শর্ত তো মেনেছিলো এবং প্রচুর টাকা দিতে চেয়েছিলো। তিনি যখন এম্বেসিতে যেতেন তারা বলতো আপনি প্লেনের বিল দেন। তিনি বলতেন, আমি আসা যাওয়া করলাম বাসে, তাহলে প্লেনের বিল নেবো কেন?
অন্য সবাইকে বললাম কবিকে প্রশ্ন করার জন্যে। নানানজন নানা বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করতে লাগলেন। কথা উঠলো পাঠাগারের বয়স নিয়ে। কবি পাঠাগারের বয়স নিয়ে নানান কথা বলছিলেন। একবার বলছিলেন ৮০ বছর, একবার সত্তর বছর, একবার পঁচাত্তর বছর। ভাবলাম সবার উপস্থিতিতে আগে পাঠাগারের বয়সের বিষয়টির সমাধান হোক। কবিকে এব্যাপারে প্রশ্ন করলাম। কবি যা বললেন, তিনি প্রথমে বেতের টুকরীতে করে গ্রামের বাজারে বই নিয়ে যেতেন্। তখন সিলেট শহরের শাহজালাল লাইব্রেরির স্বত্ত্বাধিকারী ফজলুল হক (গোলাপগঞ্জের প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান)সহ আরো কিছু মানুষ (বয়সের কারনে উপস্থিত সময়ে নাম বলতে পারছিলেন না, বললেন পরে মনে পড়বে) পরামর্শ দিলেন এইভাবে টুকরীতে করে বই নিয়ে না ঘুরে বাজারে একটি ঘরে লাইব্রেরি করে ফেলেন। প্রস্তাবটি খুব ভালো লাগলো। জাউয়া বাজারে তার প্রচুর জায়গা আছে। তখন সদ্য পাকিস্তান হয়েছে, খুব জোস্, সেই পাকিস্তান হবার বছরই (১৯৪৭) তিনি জাউয়ায় পাঠাগার গড়ে তুললেন। সেই হিসেবে পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৪৭ সন। আমার মনে হলো কবির উপস্থিতিতে এই বিষয়ে একটি স্মরণলিপি থাকা দরকার। না হয় প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে একটি ধুম্রজাল থেকে যাবে। আমি একটি স্মরণলিপি লিখে সবাই স্বাক্ষর করলাম। কবিও স্বাক্ষর করলেন। তার নাতি শাকিল আহমদ স্বাক্ষর করলো। তারপর কবি সেই কাগজটি ফটোস্ট্যাট করে সবাইকে একটি করে কপি দিয়ে মুল কপিটা তার নাতির কাছে দিয়ে দিলেন।
কবি অর্থ প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, সিলেটের কবি রাগিব হোসেন চৌধুরী, সাংবাদিক আফতাব চৌধুরীকে দাওয়াত করেছেন। তার বিশ্বাস তারা আসবেন। তিনি তাদের জন্যে অপেক্ষা করতে চাইলেন। আমি বললাম, আমরা অনুষ্ঠান শুরু করে দিই। তারা আসলে তারা মঞ্চে বসবেন। কাগজে স্বাক্ষরকারী আটজন আর চার বাচ্চাসহ একডজন মানুষ নিয়ে আমরা অনুষ্ঠান শুরু করি।
সবাই সবার অনুভূতি বললেন, কবির দীর্ঘায়ু কামনা করলেন। এর মধ্যে আরো কিছু লোক হাজির হলেন। অনুষ্ঠান যখন শেষ হলো তখন রুমে তিরিশ-চল্লিশজন বসে। অনুষ্ঠানের সারসংক্ষেপ হচ্ছে: সভাপতি-কবি আবদুল ওয়াহিদ, প্রধান আলোচক-কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহ সভাপতি সেলিম আউয়াল, বিশেষ অতিথি গীতিকবি ও গবেষক কামরুন নাহার চৌধুরী শেফালী, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিছবাহ উদ্দিন, লেখক ও কলামিস্ট সাদেক আহমদ, গীতিকবি ও লেখক শাহ সৈয়দ আতিকুল ইসলাম চিশতি। সভার শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন জামালগঞ্জের এমরুল কায়েস লোক উৎসবের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি গীতিকবি মো. এমরুল কায়েস, পুঁথি পাঠ করেন গীতিকার শাহ মোঃ আবদুল খালিক চিশতি, কবিতা পাঠ করেন খালেদ আহমদ এবং অনুষ্ঠানের দিনটি ছিলো ২০ অক্টোবর ২০১৭ শুক্রবার।
হলের বাইরে একটি লাল কাপড়ে কবি আবদুল ওয়াহিদকে নিয়ে, তার পাঠাগার নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা প্রকাশিত লেখা ঝুলানো। লেমিনেটিং করা সবগুলো কাগজ বড়ো বড়ো সেফটি পিন দিয়ে ঝুলানো হয়েছে। অবাক হবার মতো বিষয় প্রায় একশটির মতো ক্লিপিংস টানানো। কাপড়টায় এইসব গেঁথেছে কবির নাতনি শারমিন আর সুমাইয়া।
কবি আড্ডায় বলছিলেন তিনি মরে গেলে তার ছেলে আবদুল গণি পাঠাগার চালাবে, এ জন্যে তিনি তার ছেলেকে আলাদাভাবে আরো কিছু জমিও দেবেন। আমরা যখন বের হচ্ছিলাম তখন হলের ভেতর ত্রিশ চল্লিশজন মানুষ, কিন্তু শুরু হয়েছিলো দশ বারোজন নিয়ে। হলের ভেতর বসে বসে লাল কাপড়ে শারমিন আর সুমাইয়ার লেমিনেটেড ক্লিপিংস ঝুলানো দেখছিলামÑআমি ভাবছিলাম এরা কি পারবে এতোগুলো ক্লিপিংস ঝুলাতে, কিন্তু সবগুলো ঝুলিয়েছিলো। দেখতেও বেশ ভালো লাগছিলো। লাইব্রেরির জীর্ণ তাকে জীর্ণ বই সাজানো শুরু করেছিলো কাইয়ুম আর শাকিল, ততোক্ষণে মোটামুটি গুছিয়ে ফেলেছে। আমার বিশ্বাস আরো বছর কয়েক পর জাউয়া সাহিত্যিক পাঠাগারে গেলে দেখবো দেয়ালে ঝুলানো কবি আবদুল ওয়াহিদের ছবি। কেউ মোটা বই পড়ছে, কেউ চিকন বই পড়ছে। কেউ নতুন বই পড়ছে, কেউ পুরনো বই পড়ছে । কেউ পত্রিকা পড়ছে, কেউ ম্যাগাজিন পড়ছে এবং সবার চেহারা থেকে বেরুচ্ছে এক ধরনের দ্যুতি। এই ধরনের দ্যুতি সম্পন্ন আলোকিত মানুষের স্বপ্ন দেখতেন কবি আবদুল ওয়াহিদ।
রচনা:১৮-১১-২০১৭


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

কবির উদ্দিনের মাতৃবিয়োগে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের শোক

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট জেলা...

তাহিরপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

          সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে ভারতের...

মুসা আল হাফিজের মননবিশ্ব : মৃন্ময়ে চিন্ময়

         এম এ আসাদ চৌধুরী: এক...