লোককবি উদাসীকে আহবাব স্বর্ণপদক দেয়া হবে আজ

,
প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারি, ২০২১     আপডেট : ১ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আজ প্রখ্যাত লোককবি মকদ্দস আলম উদাসীকে কেমুসাস দেওয়ান আহবাব স্বর্ণপদক দেয়া হবে। কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের কার্যকরী পরিষদের সাবেক সদস্য (১৯৩৮ ও ১৯৩৯), প্রখ্যাত লেখক, রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক, ভাষাসৈনিক দেওয়ান আহবাব চৌধুরী বিদ্যাবিনোদ (এমএলএ)’র নামে কেমুসাস এই পুরস্কার প্রবর্তন করেছে।
আজ ২৮ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিতব্য কেমুসাস’র ৮৪ বর্ষের বার্ষিক সাধারণ সভায় লোককবি মকদ্দস আলম উদাসীর হাতে স্বর্ণপদকটি তুলে দেয়া হবে।
কেমুসাস দেওয়ান আহবাব স্বর্ণ পদক-২০২১-এর জন্য মনোনীত লোককবি মকদ্দস আলম উদাসীর জন্ম ১৩৫৪ বাংলায় সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চরবাড়া গ্রামে। তার পিতা মুজেফর আলী কবিরাজ, মাতা সুখিরমা খাতুন। তিনি বারো বছর বয়সে গান লেখা শুরু করেন। প্রকাশিত গ্রন্থ-পরার জমিন (গানের বই, মার্চ ১৯৯৯), বিরহ লহরী (গানের বই, অক্টোবর ২০০২), উদাসী সংগীত (গানের বই, মে ২০১৭), নির্বাচিত গান ( মে ২০১৭)। তিনি প্রায় দেড় হাজার গান রচনা করেছেন। সেই সকল গান দিয়ে বন্যা, ট্রলার, কোলাকানীর বাঁক, বিরহ লহরী ১ম থেকে ৫ম খন্ড, উদাসীসংগীত ১ম থেকে ৭ম খন্ড নামের পান্ডুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায়। তিনি নাগরী লিপ্যান্তরে অত্যন্ত দক্ষ। বেশ কিছু নাগরী বইয়ের তিনি লিপ্যান্তর করেছেন।
মকদ্দস আলম উদাসী চরবারা মতিনিয়া লুৎফুল উলুম মাদরাসায় সাফেলা পাঞ্জম পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর এক বছর জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর মাদরাসায় পড়ার পর পড়াশোনা ছেড়ে দেন। তারপর চলে আসেন ছাতকের দুরবিন টিলায়। তিনি সংগীতে দুরবিন শাহর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। এখানে তিনি দোতারা-বেহালা বাজানো শেখেন, মালজোড়া গানের প্রশিক্ষণ নেন। তিনি জালাল উদ্দিন, দুরবিন শাহ’র গান গাইতেন। মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরে উদাসী সিলামের আবদুল খালিক, অন্নদা, শাবুল মিয়া, ফকির শামসুল, কফিল উদ্দিনের সাথে মালজোড়া গাইতেন। তিনি বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রে শিল্পী হিসেবে যোগ দেন ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে এবং ১৯৯৬ থেকে বেতারে আর গান গাইছেন না।
মকদ্দস আলম নিজে গান লেখার পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া লোককবিদের গানও সংগ্রহ করেন। এ পর্যন্ত তিনি জগন্নাথপুরের রানিগঞ্জের রহমতুল্লাহ শাহ’র ১১৫ টি, ছাবাল আলীর ৪৭ টি গান সংগ্রহ করেছেন। তার আধ্যাত্মিক গুরু ছাতক উপজেলার কামারগাঁও-এর শুকুর আলী চিশতি।
মকদ্দস আলম দিরাই উপজেলায় বিয়ে করেন আসমা বেগমকে। তাদের সন্তানেরা হচ্ছেÑপ্রথম পুত্র নূরুল আলম, দ্বিতীয় পুত্র ফয়জুল আলম, তৃতীয় পুত্র মইনুল আলম, প্রথমা কন্যা সায়রা বেগম, কনিষ্ঠা কন্যা তাহেরা বেগম এবং কনিষ্ঠ পুত্র বুলবুল আহমদ। কবির স্ত্রী, পুত্রকন্যাদের মধ্যে বুলবুল আহমদ ছাড়া সবাই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তিন বছর বয়সে মা হারা একমাত্র পুত্র বুলবুল আহমদকে নিয়ে মকদ্দস আলম উদাসী তার জনম মাটি ছেড়ে জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুরে একটি ভাড়া ঘরে বাস করেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

লন্ডন ফুড ব্যাংকে যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের খাবার বিতরণ

           বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল...

যুক্তরাজ্যে বর্ষসেরা চিকিৎসক নির্বাচিত হলেন সিলেটের ফারহানা হোসেন

          যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পিকাডিলি সার্কাসের...

পোলিও ডে উপলক্ষে রোটারি সুরমা জোনের র‌্যালি ও সভা

         বিশ্ব পোলিও দিবসকে সামনে রেখে...