লুনা’র বাড়ি-বাসা থাকলেও এহিয়ার স্থাবর সম্পদ নেই

প্রকাশিত : ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ১ বছর আগে  
  
কাউসার চৌধুরী: সিলেট জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া ৫১ প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র নারী বিএনপি প্রার্থী মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর লুনা। সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে লড়বেন তিনি। তাহসিনা রুশদীর লুনা এম.এস.এস পাশ। অতীতে এক মামলার আসামী থাকলেও পরে খালাস পান। তার নিকট নগদ ১৫ লাখ টাকা রয়েছে। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়ার নিকট নগদ টাকা রয়েছে সর্বোচ্চ। এই আসনের ৯ প্রার্থীর মধ্যে তার নিকট রয়েছে সর্বোচ্চ ১৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। পেশায় মৎস্য ও কৃষি ব্যবসায়ী এহিয়া ডিপ্লোমা ইন ল’ পাশ। খেলাফত মজলিস প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাছির আলী এম.বি.এ পাশ। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী-চাকুরিও করেন। তার ও তার স্ত্রীর মিলে নগদ রয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। বিএনপির অপর প্রার্থী আবরার ইলিয়াস এলএলবি পাশ। তিনি নির্ভরশীল-তাই তার কোনো আয় নেই। গণফোরাম প্রার্থী মোকাব্বির খান স্বশিক্ষিত। তবে তিনি বিদেশে ব্যবসা করেন। পেশায় নিকাহ রেজিস্ট্রার জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা কাজী আমিন উদ্দিন। বিএনএফ প্রার্থী মোশাহিদ খান নবীগঞ্জের মডেল বাজারে হোমিওপ্যাথী ব্যবসা করেন। তিনি এস.এস.সি পাশ। এনপিপি প্রার্থী মনোয়ার হোসাইন এইচ.এস.সি পাশ। তিনি ব্যবসায়ী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমির উদ্দিন স্বশিক্ষিত। তিনি বিশ্বনাথ পুরানবাজারে লাইব্রেরি ব্যবসা করেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামায় সিলেট-২ আসনের ৯ প্রার্থী অকপটে এ সকল তথ্য দিয়েছেন। হলফনামা পর্যালোচনা করে এ সকল তথ্য পাওয়া গেছে। ৯ প্রার্থীর মধ্যে আবরার ইলিয়াস প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপি প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা হলফনামায় উল্লেখ করেন, তিনি বিশ্বনাথের রামধানার বাসিন্দা। তার স্বামী এম ইলিয়াস আলী। এম.এস.এস পাশ লুনা পেশায় গৃহিণী। ৩ মামলার আসামী থাকলেও পরে সবকটি মামলায়ই খালাস পান। তিনি শেয়ার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৯৬ টাকা ও চাকুরি থেকে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ১৩৬ টাকা আয় করেন। অস্থাবর সম্পদ রয়েছে নিজ নামে নগদ ১৫ লাখ ১ হাজার ৬৬৭ টাকা, ১৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকার মোটর গাড়ি, বিবাহের সময় প্রাপ্ত ৫ ভরি স্বর্ণ, ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ১ কোটি ৪০ লাখ ৬১ হাজার ৪০২ টাকার অন্যান্য সম্পদ। এছাড়াও স্বামীর নামে ব্যাংকে জমা ২১ হাজার টাকা ও ৪৫ লাখ টাকার মোটরগাড়ি, নির্ভরশীলের নামে নগদ ২০ হাজার টাকা ও ব্যাংকে জমা রয়েছে ১৬ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদ রয়েছে নিজ নামে রামপাশা মৌজায় ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকার ৬ একর ২৭ দশমিক ৫ শতক জমি, নগরীর সাদিপুর মৌজায় ২৮ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ টাকার ০.০৩৩৬ একর ভূমি স্বামীর নামে রয়েছে। ঢাকার বনানীতে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার এপার্টমেন্ট, ১১ লাখ টাকার কৃষি জমি ও ৩ লাখ টাকার অকৃষি জমি, নির্ভরশীলদের নামে তারাপুর মৌজায় ১০ লাখ ২৬ হাজার টাকার ২০ দশমিক ২৫ শতক ভূমি ও যৌথ মালিকানায় তারাপুর মৌজায় ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার ৬ দশমিক ৪২ শতক ভূমি রয়েছে। আত্মীয়-স্বজনের নিকট তার ৪২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৩৫ টাকা ঋণ রয়েছে।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোঃ ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া বিশ্বনাথের দেওকলসের বাসিন্দা। তার পিতা এম.এ হাই চৌধুরী। ডিপ্লোমা-ইন-ল’ পাশ এহিয়া মৎস্য ও কৃষি (দেশ ফিসারিজ এন্ড এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ) ব্যবসায়ী। ব্যবসা থেকে ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ও সংসদ সদস্যের সম্মানী থেকে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় করেন। অস্থাবর সম্পদ রয়েছে নিজ নামে নগদ ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬৪ টাকা, ব্যাংকে জমা ৪ হাজার ২৮২ টাকা, ৬৩ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৮ টাকার মোটরগাড়ি, ১ লাখ টাকার স্বর্ণ, ১ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। তার কোনো স্থাবর সম্পদ ও দায়-দেনা নেই।
খেলাফত মজলিস প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাছির আলী বিশ্বনাথের জাহারগাঁওয়ের বাসিন্দা। তার পিতা মোঃ সমুজ আলী। তিনি এমবিএ পাশ। তিনি এক মামলার আসামী হলেও পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পান। তিনি আর্ক রিয়েল এস্টেট (প্রাঃ) লিমিটেড’র পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, হলি আরবান প্রপার্টিজ (প্রাঃ) লিমিটেড’র পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান, প্রিজম বিজনেস এসোসিয়েট লিমিটেড’র পরিচালক ও ঢাকার ২৪ পুরানা পল্টনের সুরমা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন্স’র স্বত্বাধিকারী। তিনি ব্যবসা থেকে ৭ লাখ ১ হাজার ২৭৫ টাকা, চাকুরি থেকে ৯ লাখ ২ হাজার ৬০০ টাকা ও ভাই-বোনের পাঠানো রেমিটেন্স থেকে ১৩ লাখ ২ হাজার ৬০০ টাকা আয় করেন। অস্থাবর সম্পদ রয়েছে, নিজ নামে নগদ ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ৫ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৪ টাকা, ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার, ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার ৫০ ভরি স্বর্ণ, ২ লাখ ৯০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ৩ লাখ টাকার বীমা, স্ত্রীর নামে নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ১০ ভরি স্বর্ণ (বিবাহের উপহার) রয়েছে। স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকার এপার্টমেন্ট। তিনি তার যুক্তরাজ্য প্রবাসী বোন সাহানারা বেগমের কাছ থেকে ১৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন।
বিএনপির অপর প্রার্থী মোঃ আবরার ইলিয়াস বিশ্বনাথের রামধানার বাসিন্দা। তার পিতা এম ইলিয়াস আলী। এলএলবি (অনার্স) পাশ আবরার কখনো মামলার আসামী হননি। তিনি পেশা হিসেবে লিখেন, ‘ডিপেনডেন্ট’, তার কোনো আয় নেই। অস্থাবর সম্পদ রয়েছে নিজ নামে নগদ ২০ হাজার টাকা ও ব্যাংকে জমা রয়েছে ১৬ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদ রয়েছে যৌথ মালিকানায় তারাপুর মৌজায় ২৭ শতক অকৃষি জমি ও একই মৌজায় ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার যৌথ মালিকানার অকৃষি জমি। তার কোনো দায়-দেনা নেই।
গণফোরাম প্রার্থী মোকাব্বির খান বালাগঞ্জের চান্দাইরপাড়ার বাসিন্দা। তার পিতা মোঃ ফিরোজ খান। তিনি স্বশিক্ষিত। তিনি ২ মামলার আসামী থাকলেও মামলা দুটি নিষ্পত্তি হয়েছে। তিনি বিদেশে ব্যবসা করেন তবে কোনো আয় নেই। অস্থাবর সম্পদ রয়েছে নিজ নামে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ৫০ হাজার টাকা ও ২ লাখ টাকার আসবাবপত্র। স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৪ বিঘা কৃষি জমি ও ১টি বাড়ি। তার কোন দায়-দেনা নেই।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা কাজী আমিন ওসমানীনগর উপজেলার ঈশাগ্রাই গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মোঃ রফিক উদ্দিন। তিনি তাকমিল পাশ। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। পেশায় নিকাহ রেজিস্ট্রার এই প্রার্থী বাড়ি ভাড়া থেকে ১০ হাজার টাকা, শেয়ার থেকে ২ হাজার টাকা ও নিকাহ রেজিস্ট্রার থেকে ৯০ হাজার টাকা আয় করেন। অস্থাবর সম্পদ রয়েছে নিজ নামে নগদ ৩০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ২ হাজার টাকা, ৪০ হাজার টাকার মোটর সাইকেল, ৫৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ৮৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও তার স্ত্রীর নামে ১ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩০ হাজার টাকার অকৃষি জমি। তার কোনো দায়-দেনা নেই।
বিএনএফ প্রার্থী মোঃ মোশাহিদ খান ওসমানীনগরের মশাখলার বাসিন্দা। তার পিতা মোঃ সিকন্দর খান। এস.এস.সি পাশ এই প্রার্থী ১ মামলার আসামী থাকলেও পরে মামলাটি খারিজ হয়। তিনি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মডেল বাজারে হোমিও ফার্মেসি ব্যবসা করেন। ব্যবসা থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকে ৫৩ হাজার টাকা আয় করেন। অস্থাবর সম্পদ রয়েছে নগদ ১০ হাজার টাকা, ৫০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ২০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও তার স্ত্রীর নামে ২ ভরি স্বর্ণ। স্থাবর সম্পদ রয়েছে শূন্য দশমিক ১২ একর কৃষি জমি। পিতা জীবিত থাকায় পিতার বাড়িতেই তিনি বসবাস করেন। তার কোন দায়-দেনা নেই।
এনপিপি প্রার্থী মোঃ মনোয়ার হোসাইন ওসমানীনগরের থানাগাঁও (কোনাবন্দ) এর বাসিন্দা। তার পিতা মোঃ তবারক আলী। তিনি এইচ.এস.সি পাশ। পেশায় ব্যবসায়ী। এ প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। ব্যবসা থেকে আয় করেন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ রয়েছে নিজ নামে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ২০ হাজার টাকা, ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মোটরসাইকেল, ১৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ৮০ হাজার টাকার আসবাবপত্র। তার কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। দায়-দেনাও নেই।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোঃ আমির উদ্দিন বিশ্বনাথের সরুয়ালা গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মোঃ সোনা মিয়া। তিনি স্বশিক্ষিত। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তিনি বিশ্বনাথ পুরানবাজারের আল-হাফিজ লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী। ব্যবসা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করেন। অস্থাবর সম্পদ রয়েছে নিজ নামে নগদ ২০ হাজার টাকা, ৮৬ হাজার টাকার মোটরসাইকেল, ১০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ২০ হাজার টাকার আসবাবপত্র, তার স্ত্রীর নামে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার ৪ ভরি স্বর্ণ। তবে তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। নেই কোনো দায়-দেনা। মনোনয়নপত্র বাছাইকালে এই ৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন



স্কলার্সহোম টিলাগড় ক্যাম্পাসে বই বিতরণ

সিলেটের অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোম...

বড়দিনে নিরাপত্তা দেবে এসএমপি

খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব...