লবণ নিয়ে সিলেটজুড়ে গুজব

প্রকাশিত : 19 November, 2019     আপডেট : ২ সপ্তাহ আগে  
  

দেশের বাজারে লবণের কোন সংকট নেই। অথচ সিলেটে সন্ধ্যা রাতে এই লবণ নিয়ে ঘটে গেছে তুঘলকি কান্ড। সিলেট নয়, পুরো বিভাগজুড়েই একটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র অসৎ উদ্দেশ্যে গুজব ছড়িয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। সিলেটের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বলছে, সিলেটের সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে ফায়দা লুটছে একটি চক্র। তবে রাতেই এই চক্রকে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি পাড়া মহল্লায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা, সচেতনতামূলক মাইকিংসহ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানানো হয়েছে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী নেতারা জানিয়েছেন আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে লবণ পরিস্থিতি নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে। সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায়ও গুজব রোধে মাঠে কাজ করছে প্রশাসন।
ব্যবসায়ীরা জানান, গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে সোস্যাল মিডিয়ায় লবণের দাম বেড়ে যাচ্ছে-মর্মে খবর পেয়ে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন সিলেট নগরীর ভোগ্যপণ্যের দোকানগুলোতে। বাড়তি চাপে নিমিষেই ফুরিয়ে যায় নগরীর বিভিন্ন দোকানের লবণের মজুদ। আবার অনেক ব্যবসায়ী বেশি দামে বিক্রির জন্য লবণ মজুদ করে রাখেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে।
গতকাল সোমবার রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ মুদি দোকানেরই মজুদ ফুরিয়ে গেছে। দোকানে লবণ না পেয়ে অনেক ক্রেতাই উত্তেজিত হয়ে পড়েন। ক্রেতাদের দাবি, লবণের দাম বাড়তে যাচ্ছে-এমন খবর তারা শুনেছেন। তাই লবণ কিনতে এসেছেন তারা। তবে কেথায় এমন সংবাদ শুনেছেন-একথা কেউ বলতে পারেননি।
শাহী ঈদগাহের মতিন ট্রেডার্সের মামুনর রশীদ জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই ক্রেতারা লবণ কিনতে ভিড় করেন। একেক জন ৪/৫ কেজি করে লবণ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। রাত ৯টা পর্যন্ত দোকান খোলা ছিলো বলে জানান তিনি। ঐ সময়ে নির্ধারিত দামেই তারা লবণ বিক্রি করেন।
লামাবাজারের পানসি বাজারে সন্ধ্যার পর ২০ বস্তা লবণ বিক্রি হয়ে যায়। বন্দরবাজারের মনির ট্রেডার্সেও একই অবস্থা ছিলো।
নগরীর মদীনা মার্কেটের ব্যবসায়ী সেলিম আহমদ শিবলী জানান, সন্ধ্যার পর আচমকা লবণ কেনার জন্য ক্রেতারা এসে দোকানে ভিড় করতে থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আমার দোকানের সব লবণ শেষ হয়ে যায়। তিনি বলেন, পুরোটাই গুজব।
সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের সভাপতি মোঃ জিয়াউল হক জানান, লবণ সংকটের বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। লবণের যথেষ্ট সরবরাহ রয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের সাথে যোগাযোগ হয়েছে। কোথাও লবণের সংকটের সম্ভাবনা নেই। কোন অসাধুচক্র গুজব ছড়িয়েছে বলে এই অভিযোগ করেন তিনি। মোঃ জিয়াউল হক জানান, জেলা প্রশাসক লবণের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সভা আহবান করেছেন। তিনি জানান, এতে বাজার পরিস্থিতি বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। লবণের দাম দ্রুত বাড়ার শঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে সিলেট জুড়ে গুজব ছড়ানো হয় যে, বাজারে লবণের সংকট এবং দাম বাড়ছে। মূলত কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি মুনাফা লাভের জন্য এটা বাজারে ছড়িয়ে দেয়। এ বিষয়টি জানার পর রাত ৮টার দিকে একটি চক্র ভ্যানগাড়ি, রিকশা ও অটোরিকশা দিয়ে বাজার থেকে লবণ সরিয়ে নিতে উদ্যত হয়। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক ভ্যানগাড়ি জব্দও করে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা জানান, গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ তৎপর হয়। বেশ কয়েক জায়গায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সনাক্ত করে কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। তবে তাদের ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। তিনি সাধারণ ক্রেতাদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানান।
সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, লবণের দাম বৃদ্ধির খবর পুরোটাই গুজব। বাজারে নিত্য-প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কোন নিত্য-প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়তে পারে এমন গুজবে কান না দেয়ার জন্য সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান তিনি। সিলেটের বিভিন্ন থানা এলাকায় এমন গুজবে কান না দেয়ার জন্য পুলিশ প্রচরণা চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আসলাম উদ্দিন জানান, সিলেটবাসীকে বোকা বানিয়ে একটি চক্র লবণ মজুত করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন পুরোটাই গুজব। বাজারে পর্যাপ্ত লবণ স্টক আছে। তিনি জানান, সন্ধ্যার পর কালীঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে লবণের বস্তায় ২৬৭ টাকা বিক্রির অভিযোগে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আসলাম উদ্দিন বলেন, রাতের মধ্যেই এই চক্রকে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সারাদেশের অন্য কোথাও নেই, শুধুমাত্র সিলেটে গুজব ছড়িয়েছে এই চক্র।
অপরদিকে, অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রির দায়ে গতকাল সোমবার বিকেলে বড়লেখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে উপজেলার সাতটি দোকানের মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
বিয়ানীবাজার: বিয়ানীবাজারে লবণের দাম বাড়ার গুজব হঠাৎ চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ খবরে সন্ধ্যার পর থেকে পৌরশহর এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের দোকানগুলোতে লবণ বিক্রির ধুম পড়ে। এ সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত দামের চেয়ে দ্বিগুণ ও তিনগুণ বেশি অর্থাৎ ৮০-১২০ টাকা দামে লবণ বিক্রি করেন। খবর পেয়ে উপজেলা ও থানা প্রশাসন মাঠে নেমে জনগণকে লবন বিক্রির খবর গুজব বলে আশ^স্ত করেন। এ সময় বেশি দামে লবণ বিক্রি না করার জন্য তাঁরা ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন।
এদিকে, বৈরাগীবাজারে লবণের দাম বেশি রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত সিদ্দিক আহমদ নামের এক ব্যবসায়ীকে আটক করেন। এক ঘণ্টা পর ভবিষ্যতে চড়া দামে কোন পণ্য বিক্রি করবে না মর্মে লিখিত মুচলেকা দিলে প্রশাসন তাকে ছেড়ে দেয়। থানার অফিসার ইনচার্জ অবনী শংকর কর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সার্বিক বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী মাহবুব বলেন, গুজবে কান দিবেন না। লবণের দাম বাড়েনি; আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, উপজেলার কোথাও কোন ব্যবসায়ী বেশি দামে লবণ বিক্রি করছেন খবর পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জকিগঞ্জ ঃ জকিগঞ্জ(সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, লবণের দাম বেড়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়তে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রতি কেজি লবণের দাম বেড়ে ১শ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। বিকেল থেকে এমন গুজবে কতিপয় ব্যবসায়ী জকিগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন হাট বাজারে লবণ বিক্রি বন্ধ করে দেন। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। লবণের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন খবরে সাধারণ মানুষ মুদি দোকানগুলোতে লবণ ক্রয়ের জন্য ভীড় করতে থাকেন। এ নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে তারা জানায়, ‘শুনেছি লবণের দাম বেড়ে প্রতি কেজি ১শ থেকে ১২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এমন খবরে লবণ বিক্রি আপাতত বন্ধ রেখেছি। তবে এ নিয়ে জকিগঞ্জ শহর বণিক সমিতির সদস্য সচিব বেলাল আহমদ বলেন, এটা একটা নিছক গুজব হতে পারে। তিনি মনে করেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে কেউ এ ধরণের গুজব ছড়াতে পারে। এ নিয়ে জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর মো. আব্দুন নাসের জানিয়েছেন, একটি মহল সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলোকে সহ্য করতে না পেরে গুজব ছড়ানো শুরু করেছে। গুজব সৃষ্টিকারীদের ধরতে মাঠে নেমেছি। বিভিন্ন হাট বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি ‘লবণের দাম বাড়েনি, কেউ লবণের দাম নিয়ে কারসাজি যাতে না করেন। এরপরও কোন ব্যবসায়ী গুজবে কান দিয়ে কারসাজি করলে কঠোরহস্তে দমন করা হবে। জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন কুমার সিংহ’র সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লবণের দাম বৃদ্ধি এটা সম্পূর্ণ গুজব। এ ধরণের গুজব ছড়িয়ে কেউ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী লোকমান উদ্দিন চৌধুরী জানান, একটি মহল গুজব ছড়িয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। তিনি জনসাধারণকে গুজবে কান না দেয়ার আহবান জানান।
কোম্পানীগঞ্জ : কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে হঠাৎ লবণের দাম বাড়ার গুজবে প্রশাসন তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে। এ সময় ভোলাগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল মোতালিবকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে থানাবাজার, টুকেরবাজার, ভোলাগঞ্জ বাজার ও দয়ারবাজারসহ অন্যান্য বাজারের বিভিন্ন দোকানে লবণ কেনার জন্য লোকদের ভিড় করতে দেখা গেছে।
টুকেরবাজারের ব্যবসায়ী আল জাবের হোসেন ও সেলিম খন্দকার জানান, কতিপয় সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার লোভে ‘গুজব’ ছড়িয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ না বুঝে বিভিন্ন দোকানে ভিড় করছেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে হঠাৎ লবণের দাম বেড়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে বিভিন্ন দোকানে ৬০ থেকে ১০০ টাকা দরে লবণ বিক্রি করা হচ্ছে।
উপজেলার খায়েরগাঁও গ্রামের রেনু মিয়া, সাদ্দাম হোসেন, টুকেরগাঁও গ্রামের আখলিছ আলী ও আবু তাহেরসহ ভুক্তভোগী অনেকে জানান, লবণের দাম বাড়ছে শুনে তারা টুকেরবাজার থেকে ৮০ টাকা করে প্রতি কেজি লবণ কিনেছেন।
কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, শুনেছি লবণের দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ১০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এমন খবরে আমরা লবণ বিক্রি আপাতত বন্ধ রেখেছি। কোথা থেকে এমন খবর পেয়েছেন, এর জবাবে তারা ‘শুনেছেন’ বলে জানান।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য বলেন, বাড়তি দামে লবণ বিক্রি করা হচ্ছে জেনে থানাবাজার, টুকেরবাজার ও ভোলাগঞ্জ বাজারে অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি নিত্য-প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়তে পারে এমন গুজবে কান না দেয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানান।
বিশ্বনাথ : বিশ্বনাথ (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, বিশ্বনাথ উপজেলাজুড়ে লবণের দাম বেড়েছে এ গুজব ছড়িয়ে পড়ায় গতকাল সোমবার রাতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা সদর ও বিভিন্ন হাট বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এদিকে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে প্রতি কেজি লবণের দাম ১০০-১২০ টাকা হয়ে গেছে বলে একটি চক্র অপপ্রচার চালায়। এই গুজব ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বনাথ উপজেলাজুড়ে। লোকজন উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাট বাজারের দোকানগুলোতে ভিড় জমান লবণ ক্রয় করার জন্য। প্রত্যেকে কয়েক কেজি করে লবণ ক্রয় করতে থাকেন। অনেক বিক্রেতা দোকানের লবণ শেষ হয়ে গেলে লোকজনদের ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। ফলে তারা দোকান বন্ধ করে বাসা-বাড়িতে চলে যান। গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তাৎক্ষণিক উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের মাইকে ঘোষণা করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে রাত ৯টায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা-তুজ-জোহরার নেতৃত্বে উপজেলা সদরে অভিযান পরিচালনা করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ লোকজনকে গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানান। এছাড়া কেউ গুজব ছড়ালে, অতিরিক্ত মূল্যে বা এক কেজির অধিক লবণ ক্রয়-বিক্রয় করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম মুসা, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রমা প্রসাদ চক্রবর্তীসহ একদল পুলিশ।
এদিকে, দোকান থেকে অতিরিক্ত লবণ ক্রয় করে নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন ক্রেতাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১১টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বর্ণালী পাল বলেন, লবণের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। এ ধরণের গুজব ছড়িয়ে কেউ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। একটি সিন্ডিকেট মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে আমরা তৎপর রয়েছি। তাই গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহবান জানান তিনি।
জগন্নাথপুর : জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর বাজারের পেঁয়াজের ঝাঁজ কাটতে না কাটতে হঠাৎ করে লবণের দাম বৃদ্ধির খবর পেয়ে বাজারে লবণ নিয়ে লংকাকান্ড দেখা দেয়। রাতে হঠাৎ করে লবণের দাম বৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়ায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন ছুটে এসে ৫ থেকে ১০ কেজি করে লবণ ক্রয় করে নিয়ে যায় এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা ৩৫ টাকা কেজির লবণ ৪০ থেকে ৫০/৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেন। শুরু হয় তোলপাড়। অনেকেই বস্তাভর্তি লবণ নিয়ে বাড়িতে মজুদ করেন।
জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী রজত গোপ জানান, হঠাৎ করে রাতে দেখা যায় বাজারের ভূষিমালের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহ্ফুজুল আলম মাসুম বলেন, লবণ নিয়ে গুজবের খবর পেয়েছি। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে যারা গুজব রটাচ্ছে ও বেশী দামে লবণ বিক্রি করছেন তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
নবীগঞ্জ : নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, গতকাল সোমবার রাত ১০টা দিকে ইনাতগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে হঠাৎ লবণের দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। চারদিকে চাউর হয় লবন ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। শুরু হয় লবণ কেনার হিড়িক। লবণের স্বাভাবিক দাম ৩০ টাকা হলেও দাম বাড়ার সংবাদটি জানার পর বাজারের প্রতিটি দোকানে ৫০/৬০ টাকা কেজিতে লোকজনকে লাইন ধরে লবণ কিনতে দেখা যায়। একেকটা দোকানে ব্যবসায়ীরা ৫ থেকে ১০ মণ করে লবণ বিক্রি করেছেন। ছোটখাটো মুদি দোকানিরা ও যে যার মত করে লবণ বিক্রি করছেন। এক ঘন্টার মধ্য প্রায় দোকানই লবণ শুন্য হয়ে পড়ে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ বিন হাসান বলেন, যেসব ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় ব্যক্তিগত দাম বাড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন



কারুনের সম্পদ ধ্বংসের কাহিনী

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক: কারুন ছিল...

মনোয়ার হোসাইন বদরুদ্দোজার রোগমুক্তি কামনা

সাঈদ চৌধুরী: মানবাধিকার সংগঠক মনোয়ার...

কলেজছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা : সিএনজি থেকে লাফিয়ে রক্ষা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চলন্ত সিএনজি-অটোরিকশায় কলেজছাত্রীকে...

রোজা অবস্থায় খাবারের স্বাদ পরীক্ষা করা

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক: রমজানে রোজা...