লন্ডনে সিসিক ও সিসিক মেয়রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ

,
প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর, ২০২১     আপডেট : ৩ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

১৮/১০/২০২১ তারিখ লন্ডনে সংবাদ সম্মেলনে জনাব আনিসুল হক “মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশন কতৃক প্রবাসীর জায়গা দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন” করেন। যা গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মানহানীর সামিল এবং বর্হি বিশ্বের দেশের ও সরকারের বিরুদ্ধের গনমাধ্যম ও অনলাইন গনমাধ্যম ব্যবহার করে অপপ্রচার বলেই স্পষ্টত প্রতিয়মান হচ্ছে। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিচার বিভাগের আওতায় আদালত এবং জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের নিস্পত্তিকৃত ও চলমান মামলা বিষয়ে দেশের বাইরে লন্ডনে বসে এমন সংবাদ সম্মেলন করা দেশ দ্রোহিতার সামিল বলেই আমরা মনে করি।

লন্ডনের সংবাদ সম্মেলনকারী দাবি করেন তার “ঘরবাড়ি সহ সব স্থাপনা” ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং আদালতের রায়ের বা ডিক্রির কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি সিলেট সিটি কর্পোরেশন; কিন্তু ঐদিন সিসিকের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিট্রেটের কাছে কেউ বা কোন ব্যক্তি কাগজপত্র প্রদর্শনের জন্য আসেননি।

বর্ণিত আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে সরকারী জমির উন্নয়ন কাজ সাধনেকে লন্ডনে সংবাদ সম্মেলনকারী “গায়ের জোরে জমিদখল, নাগরিকের অদিকার হরণ, আদালত অবমানা” ইত্যাদি বলে অবিহিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনকারী সলেট সিটি কর্পোরেশনকে দখলদার ও সিসিকে মেয়র হিসেবে আমাকে জমি দখলকারী উল্লেখ্য করে শুধু আমার নয় বা সিসিকে নয় সিলেট মহানগরের আপামর জনসাধারণের মানহানি করেছেন।

সর্বাবস্থায় আদালতে সিদ্ধান্তক্রমেই বর্ণিত ভূমির উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখায় কাউকে নির্যাতন বা হয়রানি করার কোন প্রমান এখনো আমি পাইনি এতে কোন নাগরিককের মানহানী ঘটার কোন কারণ আমাদের কাছে স্পস্ট নয়।

সংবাদ সম্মেলনকারী বারবার তার বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী অথ্যাৎ আমাকে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে জেমি দখলকারী, জমি দখলে নেতৃত্বদানকারী, ফিল্মি স্টাইলে অভিযানকারী, নাগরিকদের অধিকার হরণকারী ইত্যাদি বলে আখ্যাযিত করে আমার মানহানী তথা সিলেট মতহানগরবাসির মানহানি ঘটিয়েছ্নে।

সম্মানীত সিলেট নগরবাসি ও প্রিয় প্রবাসী ভাই বোনেরা, জনগনের রায়ে নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর হিসেবে নাগরিকদের সেবা প্রদানই আমাদের দায়িত্ব এবং আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি। আপনাদের নিশ্চিত করতে চাই, শুধু প্রবাসি নয়, সিলেট মহানগরেরও কোন নাগরিকের কোন রকম ক্ষয়ক্ষতি হউক এমন কোন কাজ করবো না এবং করছিও না। সংবাদ সম্মেলনকারীর এমন কান্ডে আমি মেয়র ও আমার পরিষদের সকল কাউন্সিলরবৃন্দ সহ সিসিকের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কার্মচারীগন তাহার এরূপ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, মামলা চলাকালীন সময়ে সাবজুডিস বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন (লন্ডনে সংবাদ সম্মেল্ন) আইনের পরিপন্থি।

এ বিষয়ে মামলা সমুহের তথ্যাবলি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি।

মামলা-এক

লন্ডনে সংবাদ সম্মেলনকারী প্রবাসি আরিসুল হক গংদের দাবীকৃত সত্ত্ব মামলা নম্বর ৮৪/১৯৬৮ ইংরেজি, মাননীয় সদর মুনসেফ ১ম আদালত সিলেটে ডিক্রি প্রাপ্ত জমি আর সিলেট পৌরসভা/সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দখলিয় জমি একই তফসীলের নয়, বিধায় বাদী পক্ষের দাবি সত্য নয়। ফলে সিলেট পৌরসভা/সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দখলিয় ভূমি এই ডিক্রির আওতা ভূক্ত নয়।

তদুপুরি, সিলেট পৌরসভা/সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ সম্মন্ধে কতৃপক্ষ অবগত হওয়ার পর বর্ণিত ভূমি যেহেতু পৌরসভা/সিলেট সিটি কর্পোরেশনের রেকর্ডিয় ভূমি বর্হিত ফলে মাননীয় আদালতের ডিক্রির আদেশ মানতে বাধ্য নয় মর্মে আদেশ প্রার্থনায় মাননীয় যুগ্ম জজ ২য় আদালত সিলেটে লন্ডনে সংবাদ সম্মেলনকারী প্রবাসী আনিসুল হক গংদের বিরুদ্ধে সত্ত্ব মামলা নম্বর ২৯৯/২০১৮ দায়ের করা হয়। যাহা বিচারাধীন রয়েছে।

মামলা-দুই (এসএ)

১৯৫৬ সালের সেটেলমেন্ট জরিপী ৭৫৫৯/৭৫৯৬ দাগের মোট ২৫.৫০ শতক ভূমি তৎকালিক সিলেট পৌরসভার নামে এসএ রেকর্ড হয়। যার ডিপি খতিয়ান নম্বর ১৮৭৭/১ ও ছাপা খতিয়ান নম্বর ৩৭৪৮। উক্ত রেকর্ড অদ্যবদি পৌরসভা/সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নামে বহাল রয়েছে।

মামলা-তিন

জনাব আফতাব উদ্দিন গং বাদী হয়ে সিলেট পৌরসভা/সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে মাননীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালত সিলেটে স্বত্ত্ব মামলা নম্বর ১২৫/২০০৮ দায়ের করেন। উক্ত মামলায় তফসীল বর্ণিত দাগের ৯.৫৬ শতক ভূমির মালিকানা দাবী করেন বাদী পক্ষ। এই মামলাটি উভয় পক্ষের প্রতিদ্বন্ধিতা সুত্রে গত ২৮/১১/২০১৯ ইংরেজি তারিখে রায় ও ০৭/০১/২০২০ তারিখে ডিক্রি মূলে মাননীয় আদালত মামলাটি খাসরজ বা ডিমিস করে দেন। অথ্যাৎ উক্ত মামলায় বর্ণিত ভূমি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ডিক্রি প্রাপ্ত ভূমি হিসেবে গন্য হয়।

মামলা-চার (বিএস)

বর্তমান বিএস জরিপকালীন সময়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অজান্তে বাদী পক্ষ/লন্ডনে সংবাদ সম্মেলনকারী গংরা যোগাযোগি মূলে তাদের নামে মাঠ পর্চা গ্রহণ করে নেয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এই সংবাদ প্রাপ্তি ও অবহিত হওয়ার সময়কালের মধ্যেই জরিপী কার‌্য ধারা ৩০ ও ৩১ ধারার ধাপ অতিবাহিত হয়ে যাওয়ায় জরিপ আইনের ৪২(ক) ধারা মোতাবেক জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার সিলেট বরাবরে আবেদন করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদানক্রমে শুনানী সম্পন্ন হয়। যা এখন আদেশের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নগরীর মসজিদ-মন্দিরে অনুদান

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট সিটি...

বাদল রায়ের মৃত্যুতে লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের শোক

        জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক তারকা...

অসুস্থ ছাত্রদল নেতা মুজিবের শয্যাপাশে এমদাদ চৌধুরী

        জঠিল রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে...