লন্ডনে যাপিত জীবন – ২১ এম এ মুনিম প্রতিশ্রুতিশীল বিসিএ নেতা

প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে

সাঈদ চৌধুরী :

বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিসিএ) ইউকের প্রেসিডেন্ট এম এ মুনিম একজন প্রতিশ্রুতিশীল বিসিএ নেতা। গোটা ইউকে জুড়ে সংগঠনের ব্যাপ্তি ঘটানোর জন্য অবিরাম পরিশ্রম করে চলেছেন। এই কঠিন করুণাকালেও কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছার জন্য তার নেতৃত্বে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে বিসিএ’র বিভিন্ন রিজিওনে।

এম এ মুনিম সেক্রেটারি জেনারেল থাকাবস্থায় মাত্র কটি রিজিওন থেকে একে একে ১৫টি নতুন রিজিওন করা হয় এবং তিনি প্রত্যেকটি অঞ্চল সফর করেন। সংগঠনের বিস্তৃতি ঘটে বৃটেনের সকল প্রান্তে। তখনকার নির্বাচনের সময় বিসিএ’র নিবন্ধিত সদস্য সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। সংগঠনের ইতিহাসে এটা বিরল ঘটনা।

সাম্প্রতিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সহায়তায় এনএইচএস ফ্রন্ট লাইন কর্মি যারা জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন, তাদের মধ্যে বিসিএ’র পক্ষ থেকে ২০ হাজার মিল ফ্রি খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এনএইচএস স্টাফদের বিশেষ ইকিউপমেন্ট ক্রয়ের জন্য বিসিএ’র পক্ষ থেকে ৫ হাজার পাউন্ড প্রদান করা হয়েছে। এটা মানবিক সহায়তার পাশাপাশি জাতীয় ভাবে কারি ইন্ডাস্ট্রির সুনাম বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

এছাড়া দেশের দুর্যোগকালীন সময়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের অনুরোধে বিসিএ’র পক্ষ থেকে মেয়র ফান্ডের ফুড ব্যাংকে ৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে।

একান্ত আলাপচারিতায় বিসিএ প্রেসিডেন্ট বললেন, বৃটেনের বাণিজ্যিক খাতে কারি ইন্ড্রাষ্টির অবস্থান ষষ্ঠ। জাতীয় অর্থনীতিতে রাজস্ব খাতে কারি শিল্প বাৎসরিক প্রায় ৪.২ বিলিয়নের বেশি অবদান রাখছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ রেষ্টুরেন্ট খোলা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রেষ্টুরেন্ট মালিক ও স্টাফ সহ এই শিল্প সংশ্লিষ্টরা মারাত্নক অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জড়িত। ইন্ডাস্ট্রির সাথে লক্ষাধিক মানুষ প্রত্যক্ষ ভাবে সম্পৃক্ত। এদের জীবিকা বন্ধ হলে এক লাখ পরিবারের কয়েক লাখ মানুষ গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে।

আপদকালীন সময়ে ইমার্জেন্সি সাপোর্ট সহ সরকারি অনুদান প্রাপ্তির সুবিধা ও সংযোগ স্থাপনে সহায়তা প্রদান এবং আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ সহ ব্যবসা সংক্রান্ত পরিবর্তিত বিধিমালা সকল সদস্য তথা কারি শিল্পে সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করার পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে সেবা প্রদানের জন্য এম এ মুনিম সার্বক্ষনিক ভাবে তা তদারকি করছেন।

এই করুণ পরিস্থিতিতে বিসিএ’র পক্ষ থেকে বৃটেনে কারি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে মূল্য সংযোজন কর ২০% এর স্থলে ৫% করার দাবি জানানো হয়েছে। চ্যান্সেলর রিশি সোনাক এমপিকে কারি ইন্ডাস্ট্রির অস্থিত্ব সংকটের কথা তুলে ধরে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। লিখিত আবেদনে সরকারের জরুরি ব্যবস্থাপনার বিশেষ প্যাকেজের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছেন বিসিএ নেতৃবৃন্দ।

প্রদত্ব স্বারক লিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনা মহামারি সময়ে সার্বিক বিবেচেনায় ইতিমধ্যে জার্মানী তাদের কারি ইন্ডাস্ট্রির কর ১৯% থেকে কমিয়ে ৭% করেছে। বিসিএ মনে করে বৃটেনের ব্যবসা বাণিজ্যের মধ্যে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে রেষ্টুরেন্ট খাত। এই সংকট সময়ে কারি শিল্পের মূল্য সংযোজন কর বর্তমান ২০% এর স্থলে ৫% করলে কারি ইন্ড্রাষ্টি মন্দা কাটিয়ে উঠা সহজ হবে। পাশাপাশি মহামারি সময়ে রেষ্টুরেন্ট ব্যবসা চালু রাখতে সংশ্লিষ্টরা অনুপ্রাণিত হবেন। যা সার্বিক ভাবে বৃটেনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতেও সহায়তা করবে বলে বিসিএ মনে করে।

কারি ইন্ডাস্ট্রির বহুবিধ সমস্যা তুলে ধরে বিসিএ প্রেসিডেন্ট এম এ মুনিম আরো বলেন, বাংলাদেশি শেফদের বৃটেনে আনার সুযোগ আবারও উন্মুক্ত হচ্ছে। কারি শিল্পের স্টাফ সংকট নিরসনে নতুন ভিসা চালুর ঘোষনা দিয়েছেন বৃটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি প্রীতি প্যাটেল। প্রস্তাবিত পয়েন্ট বেইজ সিস্টেমে ওয়ার্ক পারমিট ভিসাতে বর্তমানে চালু থাকা বহু শর্ত সহজ ও শিথিলের প্রস্তাব এনেছে বৃটিশ সরকার। এতে আরো কিছু শিথিলতার দাবি করেছে বিসিএ।

গত ২৪ মার্চ বৃটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি প্রীতি প্যাটেলকে আন-ডকুমেন্টেড অভিবাসিদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় নিয়ে বৈধভাবে বসবাসের স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বিসিএ নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, এই সকল অসহায় মানুষ বৈধ ভাবে কাজ করার সুযোগ পেলে কারি ইন্ডাস্ট্রি উপকৃত হবে। একই সাথে সরকার বিপুল পরিমান অয়কর আদায়েও সক্ষম হবে।

লন্ডনে কনজেশন চার্জে পরিবর্তন সম্পর্কেও বিশেষ বিবেচনার প্রস্তাব করেছে বিসিএ। লণ্ডন মেয়রের কাছে প্রেরিত পত্রে বলা হয়, সেন্ট্রাল লন্ডন হাজার হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা রয়েছে। এদের বাঁচাতে হলে সপ্তাহান্তে (শনি-রবি) সারাদিন এবং সপ্তাহ-দিনে সন্ধ্যা ৬টার পর কনজেশন চার্জ বৃদ্ধি সমীচিন হবেনা।

এম এ মুনিম বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসা লন্ডনের অর্থনীতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত। লকডাউন চলাকালীন সময়ে এমনিতেই বিশাল বাণিজ্য হ্রাস হয়েছে। এই ব্যবসা সমূহকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এখন কনজেশন চার্জের বুঝা না বাড়িয়ে পর্যটক সহ সাধারণ মানুষকে নগরে আসার বহুমুখি সুযোগ করে দিতে হবে।

বিসিএ নেতা মরহুম এম এ রহিম থেকে শুরু করে সকল সভাপতি ও তাদের টিমের অবদান তুলে ধরে এম এ মুনিম বলেন, অতীতের ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে আগামী দিনের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

২০০৮ সালের ২০ এপ্রিল ট্রাফালগার স্কোয়ারে বিশাল গণসমাবেশের উদাহরণ তুলে ধরে বিসিএ নেতা বলেন, তখন আমি সংগঠনের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ছিলাম। তখনকার সভাপতি বজলুর রশিদ ও সেক্রেটারি পাশা খন্দকার সহ আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি।

আমরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সমূহে কারি শিল্পের স্টাফ সংকট নিরসনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ভাবে লবিং করেছি। কারি ইন্ডাস্ট্রির বিবদমান সমস্যা কাটিয়ে উঠা ও বৃটেনের ‘কারি লাভারস‘দের কাছে এর স্বাদ পৌছে দেয়া ছিল আমাদের কাজ। আমাদের একটাই বক্তব্য ছিল, আমরা কারি ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে আরও জোরালো অবদান রাখতে চাই।

সেদিন ট্রাফালগার স্কোয়ারে বহু জাতির হাজার হাজার মানুষ অংশ গ্রহন করেছেন। বৃটিশ পার্লামেন্ট মেম্বার ও পলিটিকেল লিডার সহ অসংখ্য রেস্তোরা শ্রমিক জড়ো হয়েছিলেন সেখানে। বাংলাদেশি ছাড়াও ছিলেন ভারতীয়, পাকিস্তানি, চীনা, তুর্কি ও থাই ক্যাটারিং ব্যবসার মালিক-শ্রমিক সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। বিসিএ’র ইতিহাসে এটা ছিল সবচেয়ে আলোচিত গণসমাবেশ।

এম এ মুনিম বলেন, ২০১২ সালে বিসিএ’র সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হবার পর অনেক কাজ করেছি। অবৈধ শ্রমিক সন্ধানের নামে রেস্তোরা গুলিতে বর্ডার এন্ড ইমিগ্রেশন এজেন্সির পুলিশী অভিযান এক ভয়ংকর সমস্যায় রূপ নিয়েছিল। বিশেষ করে শুক্র ও শনি বার দিন। এটা ব্যবসাকে মারাত্বক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। আমরা কেন্দ্র থেকে এবং বিভিন্ন রিজিওনের মাধ্যমে তখন হোম অফিস ও বর্ডার এজেন্সির বিভিন্ন শাখায় পৃথক পৃথক সভা ও মতবিনিময় করেছি। ফলে এই বাড়াবাড়ি বন্ধ হয়েছে।

এম এ মুনিম প্রেসিডেন্ট হবার পর বিসিএ’র ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহন অনুষ্ঠানই ছিল ইউকে জুড়ে সংগঠনের ব্যাপ্তি ঘটানোর সাড়া জাগানো প্রয়াস। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।

২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সোমবার লন্ডনের অভিজাত মে ফেয়ার ভ্যানুতে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে কারি ইন্ডাস্ট্রি সহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজন, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এক মিলন মেলায় পরিণত হয়। বিকাল ৬টা থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত প্রাণবন্ত আয়োজনের মধ্যে ছিল অতিথিদের সাথে বিসিএ নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বিনিময়, সংগঠনের নানাবিদ কার্যক্রমের উপর নির্মিত ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, আলোচনা, সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বৈচিত্রময় মজাদার খাবার।

অনুষ্ঠানে বিসিএ‘র প্রেসিডেন্ট এম এ মুনিম, সেক্রেটারি জেনারেল মিটু চৌধুরী, চিফ ট্রেজারার সাইদুর রহমান বিপুল, সাবেক সভাপতি এম কামাল ইয়াকুব, বজলুর রশীদ এমবিই, পাশা খন্দকার এমবিই, সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ওলি খান, বিসিএ প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহমুদ হাসান এমবিই, বাংলাদেশ হাই কমিশনের কমার্শিয়াল কনস্যুলার এস এম জাকারিয়া হক, কোবরা’র সেলস ডাইরেক্টর সামসন সোহেইল, কিংফিশারের হেড অফ সেলস এডরিন ডেবলিন, লোলো ইটের সিইও লেন জোনস, সেফ অনলাইনের আক্তার হোসাইন, স্কয়ার মাইল ইন্সুরেন্সের ডেভিড সটন, কানসারা চকলেটের নীল কানসারা, ঢাকা রিজেন্সির মুসলেহ আহমদ, এনটিভি ইউরোপের সাবরিনা হোসেইন সহ সংগঠনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বৃটেনে বাংলাদেশি কারি শিল্পের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের ধারাবাহিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রসংশা করে বলেন, মেধা ও একাগ্রতার সাথে দায়িত্বের প্রতি সম্মান রেখে ধারাবাহিক ভাবে কাজ করলে সাফল্য অনিবার্য, বিসিএ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। বক্তারা আরো বলেন, বিসিএ প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বৃটেনে কারি শিল্পের মাধ্যমে বাঙালি কমিউনিটির অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অগ্রগতিতে অনন্য ভূমিকা রেখে আসছে। কারি শিল্পের বর্তমান স্টাফ সংকট সহ নানা সমস্যায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে লর্বিং সহ সংকট উত্তোরণে বিসিএ’র প্রয়াস প্রশংসনীয়।

জনপ্রিয় উপস্থাপিকা নাদিয়া আলীর প্রাণজ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে নব নির্বাচিত কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সভাপতি এম এ মুনিম। তিনি বিসিএ‘র প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ক্যাটারার্সদের বৃহৎ সংগঠনের সুনাম, সাফল্য ও সমৃদ্ধিতে সকলের অবদান রয়েছে। সভাপতি তার নব নির্বাচিত ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে নতুন সভাপতিকে ফুল দিয়ে বরণ করেন বিদায়ী সভাপতি মোস্তফা কামাল ইয়াকুব, সেক্রেটারি জেনারেল ওলি খান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জামাল মকদ্দস ও মো. ফজল উদ্দিন । বিদায়ী সেক্রেটারি জেনারেলকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন সিনিয়র ভাইসস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক চৌধুরী ও প্রেস এন্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি ফরহাদ হোসনে টিপু। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কালচারাল সেক্রেটারি মো. নাসির উদ্দিনের পরিচালনায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী লাবনি বড়ুয়া ও শিবলু রহমান।

এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা ও বর্তমান বিসিএ সভাপতি এম এ মুনিম ১৯৫৮ সালে মৌলভী বাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কামার কান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আলহাজ্ব মো: আবদুল বারী একজন প্রখ্যাত ঠিকাদার ও সফল ব্যবসায়ী। ৬ ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই মো: আব্দুস শহীদ ব্যবসায়ী, মাওলানা মো: আব্দুল ওয়াহিদ প্রাক্তন শিক্ষক ও ব্যবসায়ী, মো: আব্দুল হক ঢাকায় ব্যবসায়ী, ছোট ভাই প্রিন্সিপাল মো: আব্দুর রউফ মরহুম ও হাফিজ মো: আব্দুল ওয়াদুদ বৃটেনে সিডকাপ মসজিদের ইমাম ও খতিব। কুলাউড়া বাজারে বারি প্লাজা নামে তাদের পারিবারিক মার্কেট রয়েছে।

শিক্ষা জীবনে এম এ মুনিম কুলাউড়া এনসি হাই স্কুল থেকে ১৯৭৩ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করেন। ৭৪ সালে সিলেট এমসি কলেজে ভর্তি হন এবং সেখানেই উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগে (অনার্স) অধ্যয়ন করেন।

এম এ মুনিম সিলেট সরকারি কলেজে (এমসি) দু’বার ছাত্রলীগের সভাপতি এবং দু’বার বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ছাত্রনেতা হিসেবে অবৈধ প্রতিপত্তির ছেয়ে সমতা ও মমতা দিয়ে তিনি ছাত্র জনতার মন জয় করেছিলেন। তিনি তখন শিক্ষা আন্দোলন বিশেষ করে সিলেটে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাযর দাবিতে প্রচার কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। সিলেট বিভাগ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

এম এ মুনিম ১৯৮২ সালের শুরুর দিকে সৌদি আরব চলে যান। সেখানে তার আরো দুই ভাইকে নিয়ে জেদ্দা ও মক্কায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি বিলেত চলে আসেন। একই সালের ৬ আগষ্ট বৃটেনের ব্ল্যাকহিত নিবাসী সিলেটের বালাগঞ্জ গহরপুর কলুমা গ্রামের আলহাজ্জ মো: আব্দুল বারীর কন্যা মোসাম্মাৎ আনোয়ারা বেগম জেসি’র সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ১ ছেলে ও ৩ মেয়ের মধ্যে রাহাত মো: মুনিম সলিসিটর, তাসনিম আক্তার অপটোমেট্রিস্ট, ফাবিহা আক্তার উচ্চতর ডিগ্রিতে ও জান্নাহ আক্তার সেকেন্ডারিতে অধ্যয়নরত।

বিলেতের কর্ম জীবনে এম এ মুনিম অল্পদিন কাজ করার পর নিজস্ব ব্যবসা চালু করেন। কয়েকজন বন্ধু মিলে ইস্ট লন্ডনের বৃকলেনে একটি রেষ্টুরেন্ট করে ছিলেন। কিন্তু রাজনীতি সংলিষ্ট ফ্রি পার্টির কবলে পড়ে ব্যবসাটি লাভজনক হয়নি। ১৯৯১ সালে সাউথ ইস্ট লন্ডনের গ্রোভ পার্কে সোনালী তন্দুরি নামে হালাল টেকওয়ে চালু করেন। এখনো পর্যন্ত এটি তার ব্যবসার চালিকা শক্তি। যদিও ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি প্রপার্টিতে উল্লেথযোগ্য বিনিয়োগ করেছেন।

১৯৯৯ সালে এম এ মুনিম বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের সাউথ ইস্ট রিজিওনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিসিএ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত অর্গানাইজিং সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এম এ মুনিম ২০১২ সালে বিসিএর সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত যোগ্যতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত নির্বাহী সদস্য এবং ২০১৯ থেকে সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

এম এ মুনিম কেন্টের ড্রাটফুটে বসবাস করেন। তিনি স্থানীয় কমিউনিটিতে অনেক সামাজিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত। ক্রেফোর্ডে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে নর্থ ওয়েস্ট কেন্ট মুসলিম এসোসিয়েশনের (ক্রেফোর্ড মসজিদ) সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গ্রিনিচ বাংলা সাপ্লিমেন্টারি স্কুল ও গ্রিনিচ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য, জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইউকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সহ বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত।

এম এ মুনিম ২০০০ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত কনসোর্টিয়াম অব বেঙ্গলি এসোসিয়েশনের (সিবিএ) পরিচালক হিসেবে কমিউনিটির উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। কমিউনিটি সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৬ সালে সিএলএফ কর্তৃক কমিউনিটি লিডারশীপ এওয়ার্ড, ২০১৯ সালে হুজহু এওয়ার্ড সহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

সেবাকর্মে সদা তৎপর এম এ মুনিম নিজ এলাকা কুলাউড়ায় ব্যাপক সহায়তা করেন। কুলাউড়া ইয়াকুব-তাজুল মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠায় অগ্রনি ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের একজন ট্রাস্ট্রি এবং তার ছোট ভাই এম এ রউফ আজীবন প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১৫ মার্চ তিনি ইন্তেকাল করেছেন।

এম এ মুনিম বিভিন্ন মাদ্রাসা, মসজিদ ও এতিম খানায় নিয়মিত দান করে থাকেন। তিনি প্রতি বছর গরিবদের জন্য ঘর তৈরী করে দেন। গরীব ও মেধাবী অনেক শিক্ষার্থির সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন। অসহায় ভাল মানুষ যারা কারো কাছে চাইতে পারেনা তাদেরকে নিরবে সহায়তা করেন তিনি। বিশেষ করে উপজেলার ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য তার নিরব অনুদান প্রশংসার দাবি রাখে।

আরও পড়ুন

ঈদ জামাতের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন

সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে...

লিবিয়ায় হবিগঞ্জের যুবককে হত্যার দায়ে ফরিদপুরের যুবক গ্রেফতার

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক হবিগঞ্জের যুবককে...

হালাল ব্যবসায়ের মাধ্যমে সাফলতা অর্জন...

ফুড ব্যাংকিং টিমের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

হতদরিদ্রদের মধ্যে খাবার পৌছে দেওয়ার...