লন্ডনে যাপিত জীবন – ১৮ বশির আহমদ একজন কৌশলী সংগঠক

প্রকাশিত : ১৪ জুন, ২০২০     আপডেট : ৩ মাস আগে
  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    20
    Shares

সাঈদ চৌধুরী :

বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির (বিবিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট বশির আহমদ একজন দক্ষ ও কৌশলী সংগঠক। অর্থনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবেও তার সুখ্যাতি রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে বেশ আধুনিক এবং গতিশীল। ব্যক্তিগত জীবনে বন্ধুবৎসর ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব।

বিবিসিসিআই ও বাংলাদেশকে বৃটিশ মূলধারায় ইতিবাচক ভাবে তুলে ধরার এক গনমুখি প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ইতোমধ্যে বৃটিশ চেম্বার, লন্ডন চেম্বার, আরব চেম্বার, তার্কিশ চেম্বার সহ বিলেতের বিভিন্ন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ সমূহের সাথে শুরু করেছেন সংযোগ স্থাপন। এটা আমাদের ব্যবসায়িদেরকে বহুমাত্রিক ও বহু জাতির ব্যবসায় সম্পৃক্ত করার একটি সোপান হতে পারে।

আমি ২০০০ সালে বিলেত আসার পর থেকেই তিনি আমার খুব কাছের মানুষ। ২০০১ সালে যখন ইউরো বাংলা নামে বাইলিঙ্গুয়াল (বাংলা-ইংলিশ) সাপ্তাহিক কাগজ করি তখন তিনি আরো ঘনিষ্ট হন। এসময় তিনি নেদারল্যান্ড থেকে এসে লন্ডনের অলগেইট ষ্টেশনের ঠিক বিপরীতে কস্তুরি নামে একটি অভিজাত রেষ্টুরেন্ট চালু করেন। জাতীয়ভাবে এওয়ার্ড বিজয়ী এই রেষ্টুরেন্ট বিলেতে আসা এশিয়ান পর্যটকদের প্রাথমিক ঠিকানা ছিল। আমরাও মাঝে মধ্যে বৈকালিক আড্ডায় মিলিত হতাম।

বশির আহমদ নেদারল্যান্ডেও বেশ ভাল অবস্থানে ছিলেন। ১৯৮১ সাল থেকে সেখানে কুহিনুর অব ইন্ডিয়া নামে চেইন রেষ্টুরেন্ট ছিল। এছাড়া হোটেল ম্যানেজমেন্টে তার ভাল দক্ষতা রয়েছে। নিজস্ব ব্যবসা চালুর আগে নেদারল্যান্ডে হোটেল ব্যবস্থাপনায় সংযুক্ত ছিলেন। বিলেত এসে তিনি রক এসেট ম্যানেজমেন্ট নামে বাংলাদেশ ভিত্তিক একটি কোম্পানী চালু করেন। রকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তিনি। ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউট হিসেবে রক বাংলাদেশের ব্যবসায়ী মহলে বেশ সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। এতে আমিও তাকে সাধ্যমত সহায়তা করেছি।

প্রবাসিদের উদ্যোগে ক্যাপ্টেন তাছবিরুল আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ প্রতিষ্ঠার সময় তিনি আমাদের সাথে বিনিয়োগ সহ সার্বিক সহায়তা করেছেন। ইউরোপ এবং বাংলাদেশে এয়ারলাইন, ট্রাভেল এজেন্সি, প্রপার্টি ও ফুড প্রসেসিং ব্যবসায় বিনিয়োগ করে তিনি বেশ সাফল্য অর্জন করেছেন। মাল্টিন্যাশনাল ব্রান্ড’কুয়িজনজ সাব’ সহ আরো কিছু ব্যবসা করেছেন তিনি। বর্তমানে প্যান ইউরোপ ভেঞ্চার লিমিটেড ও প্রস্পেক্ট গেইজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান।

২০০২ সালে আমি যখন সংবাদ সংস্থা মিডিয়া মহল প্রতিষ্ঠা করি তখন তিনি আমাকে বহুভাবে উৎসাহিত করেছেন। ২০০৩ সালে আমার সম্পাদনায় মিডিয়া মহল থেকে প্রকাশিত হয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তত্ব ও তথ্য সমৃদ্ধ বৃটেনে বাংলাদেশী ব্যবসা বিষয়ক গাইড ’ইউকে বাংলা ডাইরেক্টরি’। বাংলাদেশী সকল ব্যবসা-বাণিজ্যের নাম ঠিকান সংগ্রহে তিনি আমাকে বেশ সহায়তা করেছেন।

২০০৮ সালে বৃটেনের সকল এশিয়ান রেষ্টুরেন্ট নিয়ে আমার সম্পাদিত ইউকে এশিয়ান রেষ্টুরেন্ট ডাইরেক্টরিতে তিনি অন্যতম উপদেষ্টা ছিলেন। আমরাই প্রথম এশিয়ান ১৮ হাজার রেষ্টুরেন্টের ঠিকানা সহ তালিকা প্রকাশ করি। এর মধ্যে সাড়ে নয় হাজার অর্থাৎ অর্ধেকের বেশী বাংলাদেশী মালিকানা প্রমান করেছি। বৃটিশ লাইব্রেরী এবং অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি সহ বৃটেনের মূল ধারায় ডকুমেন্ট হিসেবে এখন তা প্রযোজ্য। এই ডাইরেক্টরি সমূহ ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এক অপরিহার্য অনুসঙ্গ।

২০১০ সালে আমার সবচেয়ে ফ্লাগশিপ প্রকাশনা ইসলাসিক সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) ৫৭টি দেশের তত্ত্ব ও তথ্য সমৃদ্ধ মুসলিম ইন্ডেক্স সম্পাদনা কালেও তিনি অন্যান্য পার্টনারদের মত সামগ্রীক সহায়তা করেছেন। তার এই ভূমিকা এবং আজকে চেম্বার অব কমার্সের সদস্যদের ব্যবসা বৃদ্ধির প্রয়াস একই ধারায় আমার কাছে প্রতিয়মান হয়।

বিবিসিসিআই’র সাথে সংযুক্ত হবার পর থেকে আমরা এক সাথে অনেক কাজ করেছি। চেম্বার প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের অন্যতম প্রধান বিষয় এবং চেম্বারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও সফল অনুষ্ঠান ছিল এক্সপো বাংলাদেশ ২০০৫। লন্ডনের অভিজাত ভেন্যু বার্বিকান সেন্টারে ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর তিনদিন ব্যাপী এই বানিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়। তখন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুকিম আহমদ ও ডিজি ছিলেন স্বদেশপ্রেমী ওয়ালী তসর উদ্দিন এমবিই। বিবিসিসিআই’র উদ্যোগে এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডনের সহায়তায় মেলার চূড়ান্ত কর্মসূচি নির্ধারিত হয়। মেলাকে সাফল্য মন্ডিত করার জন্য তখন বাংলাদেশ সফর এবং বিলেতে ও বাংলাদেশে ব্যাপক প্রচার তৎপরতা পরিচালনা করা হয়।

বিবিসিসিআই’র ডাইরেক্টর জেনারেল ও এক্সপো বাংলাদেশ ২০০৫ এর নির্বাহী প্রধান ওয়ালী তছর উদ্দিন এমবিই জেপি’র নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলাম আমি (সাঈদ চৌধুরী, সম্পাদক মাসিক সময় ও ইউকে বাংলা ডাইরেক্টরি), মেলান নেটওয়ার্কের এলান টুইডি ও বিবিসিসি স্কটিশ রিজিওনাল প্রেসিডেন্ট এম এ রউফ। প্রতিনিধি দলের কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ ও বাংলাদেশ সফর বাস্তবায়নে সহায়তা করেন বিবিসিসি বাংলাদেশ রিজিওনাল প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী এসএম আনোয়ার হোসাইন, বিবিসিসি বাংলাদেশ রিজিওনাল ডিরেক্টর হিসকিল গুলজার, শাফকাত হায়দার ও গাজী মামুন হাসান।

ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাব এবং সিলেট প্রেসক্লাবে বিবিসিসি’র পক্ষ থেকে এক্সপো সম্পর্কিত মূল প্রবন্ধ আমি উপস্থাপন করি। এছাড়া আমরা (প্রতিনিধি দল) এক্সপো বাংলাদেশ ২০০৫ কে সফল করতে ঢাকাস্থ বৃটিশ হাই কমিশন এবং এফবিসিসিআই সহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হই। বাংলাদেশ থেকে ফিরে এসে বৃটিশ ও ইউরোপিয়ান বায়ারদের সাথে যোগাযোগ শুরু করি। বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের বাজার সৃষ্টিতে আমরা প্রানান্ত প্রয়াস চালিয়েছি। এক্ষেত্রেও ব্যবসায়ী নেটওয়ার্ক সৃষ্টিতে বশির আহমদ বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।

সকলের সামগ্রীক প্রচেষ্টায় মেলায় বাংলাদেশের প্রথম সারির উল্লেখযোগ্য কোম্পানী সহ ৬০টি এবং বিলেতের ১৫টি প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহন করে। এতে ক্রেতা ও দর্শনার্থিদের সমাগম ঘটে উল্লেখযোগ্য হারে। প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষ বানিজ্য মেলায় অংশ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি মোতাবেক প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা লাভ করে। সার্বিক বিচারে বলা চলে, উন্নত বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ম্যানুফ্যাকচারিং ক্যাপাসিটি ও পটেনশিয়াল তুলে ধরার ক্ষেত্রে এক্সপো ২০০৫ সফল হয়েছে।

এক্সপোর কর্মসূচির মধ্যে সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক ছিল প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেমিনারের আয়োজন। এগুলি তত্ত্বের কচকচানিপূর্ন গতানুগতিক সেমিনার ছিল না। বিষয়বস্তু ও অতিথি নির্বাচন এবং প্রেজেন্টারের উপস্থাপন সকল ক্ষেত্রেই সেমিনারের উপযোগিতা অর্জিত হয়েছে।

প্রথমদিন সেমিনারের বিষয়বস্তু ছিল Bangladesh: The new IT outsourcing destination of South Asia. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল মঈন খাঁনের অনুপস্থিতিতে সেমিনারে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন বাণিজ্য মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী। অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় এবং তারুণ্যদীপ্ত উপস্থাপনায় বাংলাদেশে আইসিটির সাফল্য এবং সম্ভাবনা নিয়ে এই সেমিনারে মূল বক্তব্য রাখেন Bangladesh Association of software & Information Service এর সভাপতি সরওয়ার আলম। হাই-টেক ব্যবসার জটিল ব্যাপারগুলোও কী-নোট স্পিকারের সুন্দর এবং সহজ উপস্থাপনার কারণে দর্শক শ্রোতাদের কাছে সহজবোধ্য হয়ে ওঠে।

এই সেমিনারে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল UK Outsourcing Group এর Dr Richard Sykes এর বক্তব্য। তার কোম্পানি বাংলাদেশে বেশ কিছু আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে থাকে। সেমিনারে ডঃ সাইকাস বাংলাদেশে কাজ করানোর ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ইউরোপ এবং আমেরিকার মাঝারি এবং ছোট প্রতিষ্ঠানের আউটসোর্সিংয়ের কাজের জন্য বাংলাদেশ একটি আদর্শ গন্তব্য হতে পারে। ভারতের সিলিকন ভ্যালিতে পশ্চিমা বিশ্বের বড় বড় কোম্পানী গুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ায় সেখানে কাজ করানো খুবই ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। পক্ষান্তরে ভারতের মতো একই টাইম জোনে অবস্থিত বাংলাদেশের সস্তা শ্রম এসব কাজের জন্য খুবই উপযোগী। তিনি বাংলাদেশের মানুষের ইংরেজি জ্ঞানেরও প্রশংসা করেন।

দ্বিতীয় দিনের সেমিনারে বিষয়বস্তু ছিল Potential of Agro based industries in Bangladesh. কী-নোট স্পিকার ছিলেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মীর শাহাবুদ্দিন মোহাম্মদ। তার বক্তব্যে উপস্থিত সকলেই মুগ্ধ হন। অনুষ্ঠানে ইউরো ফুডসের চেয়ারম্যান সেলিম হোসেনের বক্তব্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা দেশের কৃষিজ শিল্পখাতে বিনিয়োগে বিদেশীদের উৎসাহিত করেছে।

মেলার শেষ দিনে সেমিনারের বিষয় ছিল Bangladesh: a safe haven for investment. মূল বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান। বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ সুবিধার অনুপম দিকগুলি তিনি অত্যন্ত চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছেন।

এক্সপোর কর্মকান্ড শুধুমাত্র সেমিনার আয়োজন বা ব্যবসা বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলনা। এক্সপো উদ্বোধনের আগের রাত ছিল জমজমাট গালা ডিনার। ৭০০ অতিথির উপস্থিতিতে এ গালাডিনার হয়ে উঠেছিল সত্যিকার অর্থেই গ্রান্ড-শো-ডাউন। বাণিজ্য মেলাকে বর্ণিল করে তুলতে আয়োজন করা হয়েছিল ফ্যাশন-শো। ফ্যাশন প্যারেডে ঝলমল আলোয় বিভিন্ন বয়সী মডেলরা তুলে ধরেছেন গার্মেন্টস প্র্রোডাক্ট সমূহ। এতে বাংলাদেশের প্র্রোডাক্টের মান যোগ করেছিল আলাদা মাত্রা, জৌলুস।

মেলার শেষ দিন ছিল সেলিবৃটি শেফ কম্পিটিশন। ষ্টার শেফ টমি মিয়ার উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতায় আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুন। এক্সপোতে অংশ গ্রহনকারী ব্যবসায়ীরা বেশির ভাগই তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তারা যে উদ্দেশ্যে মেলায় এসেছিলেন তা অর্জিত হয়েছে।

মেলায় সবচেয়ে বড় অংকের ব্যবসা করেছে পাটয়ারী পটেটো ফ্ল্যাক্স। এছাড়া রিচি গ্রুপ, শাইন পুকুর, সাতরং, এবিএস, বেক্সিমকো, হামদর্দ, মৌসুমী ফ্যাশন, অপরুপা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য অংকের ব্যবসায়িক চুক্তি করেছে। মেলা চলাকালীন তিন দিন বার্বিকান সেন্টার হয়ে ওঠেছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনকেন্দ্র। বৃটিশ সাম্রাজ্যের নার্ভসেন্টার লন্ডনে একখন্ড বাংলাদেশ।

বাণিজ্য মেলার সূচনা দিবস ১৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সংস্থা মিডিয়া মহলের স্টল উদ্বোধন করেন যৌথভাবে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও লন্ডন মেয়র কেন লিভিংস্টোন। তিন দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত এ মেলার ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন পেশার প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরা স্টলে এসে মেতে ওঠেন প্রাণবন্ত আড্ডায়।

বিবিসিসি ও বিলেত প্রবাসিদের জন্য এত বড় একটি অনুষ্ঠান সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করতে প্রেসিডেন্ট ও ডিজি সহ নির্বাহী কমিটি ও সাব কমিটির সকলেই প্রাণপন চেষ্টা করেছেন। অনুষ্ঠান সফল করতে লন্ডন বাংলাদেশ হাই কমিশনও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। কর্মবীর হাই কমিশনার সাবেক সচিব কবি এ এইচ মোফাজ্জল করিম, কমার্শিয়াল কাউন্সিলর শাহাব উদ্দিন পাটোয়ারী, প্রেস মিনিস্টার ফজল এম কামাল প্রমুখের ভূমিকাও অবিস্মরণীয়।

২০১০ সালে ইকবাল আহমদ ওবিই প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সেবছর একটি আন্তর্জাতিক মানের গালা ডিনার ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান হয়।৩১ অক্টোবর রোববার লন্ডনের রয়েল ল্যাংকাস্টার হোটেলে বিবিসিসিআই’র গালা ডিনার ও বিজনেস এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেবিনেট মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারোনেস সাঈদা ওয়ার্সি। অনুষ্ঠানে গ্রেট বৃটেনের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দসহ প্রায় ৮শতাধিক ব্যক্তিবর্গ অংশ গ্রহণ করেন।

অ্যাওয়ার্ড নির্বাচনে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন লেবার দলের শ্যাডো মিনিস্টার রুশনারা আলী এমপি, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউটের ডাইরেক্টর ও সাবেক বৃটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী এবং ব্যারোনেস পলা মঞ্জিলা উদ্দিন। অনুষ্ঠান সফল ভাবে বাস্তবায়ন নিয়ে আশংখা দেখা দিয়েছিল। আমি ও বশির আহমদ একান্ত আলোচনায় ঠিক করেছিলাম, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ সংঘাত যাই হোক অনুষ্ঠান সফল হতে হবে। অর্থনৈতিক সংকট আমরা মোকাবেলা করব। অনুষ্ঠানে মিডিয়া পার্টনার ছিল সংবাদ সংস্থা মিডিয়া মহল, চ্যানেল আই ও কালের কক্ত। অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য আমি টিকেট ও স্পন্সর থেকে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করে দিয়েছিলাম। বশির আহমদ তখন খুবই ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছেন।

বিবিসিসি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট এনাম আলী এমবিই বাংলাদেশের সাথে বৃটেনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি সহ সম্পর্ক উন্নয়নে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের শিকড়ের সাথে সম্পৃক্ত রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বিবিসিসি’র প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন বাংলাদেশে ঝাকজমক পূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এনআরবি দিবস উদযাপন করেছেন। সিলেটে অনুষ্ঠিত ’এনআরবি গ্লোবাল বিজনেস কনভেনশন ২০১৭ ’ ছিল প্রবাসিদের জন্য একটি মাইল ফলক। ৪৯টি দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশ গ্রহন করেন। সেখানে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। দেশের মন্ত্রী, এমপি, পুলিশ প্রধান, রাজনীতিক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী সহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ গ্রহন করেন। আগত অতিথিরা প্রবাসিদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এই অনুষ্ঠান আয়োজনে আমি ও বশির আহমদ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছি।

সম্প্রতি একান্ত আলাপচারিতায় বিবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট বশির আহমদ বৃটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটির উন্নয়নে অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনে আরও বলিষ্ঠ ভৃমিকা রাখবেন বলে আাশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশী ব্যবসায়িদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগের কথা অবহিত করেন। মেইনস্ট্রিমে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য কি কি সুযোগ সুবিধা রয়েছে তাও খতিয়ে দেখতে একটি রিসার্চ সেল তৈরী করছেন।

নিজের টিমের প্রশংসা করে বশির আহমদ বলেন, নবীন-প্রবীনের মিশেলে আমার কমিটির প্রায় সবাই উদ্যমী ও মেধাবী ব্যবসায়ী। আশা করছি সকলে মিলে আমাদের ব্যবসায়ী তথা সমাজের স্বার্থ রক্ষা ও অগ্রগতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারবো। বাংলাদেশ ও বৃটেনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সমন্বয় সাধনে বিবিসিসিআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তিনি আশাবাদী।

বিবিসিসিআই বর্তমান কমিটিতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট বশির আহমদ. ভাইস প্রেসিডেন্ট মহিব উদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ মোহাইমিন মিয়া, ড. সানাওয়ার চৌধুরী ও এম এ কায়্যুম, ডাইরেক্টর জেনারেল সাইদুর রহমান রেনু. ডেপুটি ডাইরেক্টর হেলাল খান, ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর মনির আহমদ, লন্ডন রিজিয়নের প্রেসিডেন্ট আবুল হায়াত নুরুজ্জামান. মেম্বারশীপ ডাইরেক্টর গোলাম কিবরিয়া ওয়েস, প্রেস এন্ড পাবলিক রিলেশন্স ডাইরেক্টর এমদাদ আহমদ ও ইন্টান্যাশনাল রিলেশনশীপ ডাইরেক্টর আব্দুল মোমেন।

বৃটেনে বাঙ্গালির শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সমূহের প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ সংগঠন বৃটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ (বিবিসিসিআই) অনেক দিন পর আবার গতিশীল হয়েছে। আশার আলো দেখাচ্ছেন নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সুসংগঠক বশির আহমদ। নতুন প্রেসিডেন্ট বৃটিশ-বাংলাদেশী ব্যবসায়িদের সহায়তার জন্য গ্রহন করেছেনে বেশ কিছু ইনোভেটিভ উদ্যোগ। সদস্য সংগ্রহে যেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন, তেমনি সদস্যদের বহুমুখী সুবিধা প্রদানে শুরু করেছেন নানামুখী দৌড়ঝাপ। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড বাংলাদেশী চেম্বার অব কমার্স সমূহের সাথে সমন্বয় সাধন করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা পালনে তার প্রয়াস লক্ষণীয়।

গত অক্টোবরে লন্ডন চেম্বার অব কমার্সের সাথে বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিবিসিসিআই) মতবিনিময় ছিল খুবই অর্থবহ। বিবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট বশির আহমদ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মহিব চৌধুরী, লন্ডন রিজিওনাল প্রেসিডেন্ট আবুল হায়াত নুরুজ্জামান এতে অংশ নেন। লন্ডন চেম্বারের নিজস্ব কার্যালয় সেন্টার লন্ডনের ৩৩ কুয়িন স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তাদের স্বাগত জানান লন্ডন চেম্বারের নির্বাহী প্রধান পিটার বিশপ। সেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ সুবিধা তুলে ধরা হয়।

পিপিপি সহ অন্যন্য সুবিধা সমূহ অবহিত হয়ে পিটার বিশপ এব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। একই সাথে বালাদেশের সম্ভাবনা বৃটিশ ব্যবসায়িদর কাছে তুলে ধরতে সম্মতি প্রকাশ করেন। পরের মাসে লন্ডন চেম্বার অব কমার্সের নিজস্ব ম্যগাজিন নভেম্বর ২০১৯ সংখ্যায় Bangladesh Remarkable Story শীরোনামে বাংলাদেশ সম্পর্কে চমৎকার প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বিবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট হিসেবে বশির আহমদ একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। এতে সদস্যদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছেন।

এরপর লন্ডন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে বিভিন্ন সেক্টরের প্রায় ৫০টি প্রতিনিধি দল অংশ গ্রহন করে। এরমধ্যে একমাত্র বাংলাদেশী সংগঠন হিসেবে বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিবিসিসিআই) ছিল। বিবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট বশির আহমদ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মহিব চৌধুরী, লন্ডন রিজওনাল প্রেসিডেন্ট আবুল হায়াত নুরুজ্জামান এতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহনকারী প্রায় সকলেই বাংলাদেশ এবং বিবিসিসিআই’র ব্যাপারে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছেন। এতে বৃটেনের মেইনস্ট্রিম ব্যবসায়ি ও প্রফেশনালদের কাছে বাংলাদেশকে সুন্দর ও আনুষ্ঠানিক ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানে লন্ডন চেম্বারের মি. নিক চার্লস এবং জো ওয়ালিসকে বিবিসিসিরি পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য সমৃদ্ধ ‘লিডিং এজ’ ম্যাগাজিন প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, বৃটেনে আন্তর্জাতিক মানের বিজনেস ম্যাগাজিন ’লিডিং এজ’ দুনিয়ার বিভিন্ন দেশকে প্রমোট করে।বিবিসিসিআই’র সার্কিক সহায়তায় ম্যগাজিনটি বাংলাদেশকে সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছে।

এদিকে বিবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট বশির আহমদের নেতৃত্বে প্রথম বারের মত বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিবিসিসিআই) ও তার্কিস বৃটিশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (টিবিসিসিআই) নেতৃবৃন্দ এক যৌথ সভায় মিলিত হন। টিবিসিসিআই চেয়ারম্যন আলদারমেন ইমা ইদেম তাদের প্রধান কার্যালয়ে বিবিসিসিআই প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান। তার সাথে ছিলেন টিবিসিসিআই প্রধান নির্বাহী ইয়াভোজ সকমেন।

বিবিসিসিআই দলে ছিলেন উপদেষ্টা বোর্ডের প্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট শাহিগির বক্ত ফারুক ও লন্ডন রিজিওনাল প্রেসিডেন্ট আবুল হায়াত নুরুজ্জামান। ২০১৯ সালর ৭ অক্টোবর গিল্ডহলে অনুষ্ঠিত এই সভায় উভয় সংগঠন একত্রে কাজ করার ব্যাপরে ঐক্যমত পোষন করেন। নিজেদের মধ্যে সংযোগ সাধন, পরস্পরের কার্যক্রম অনুধাবন এবং যৌথ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একত্রে কাজ করার ব্যাপারে তারা দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষনা করেন। সভায় বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি ও বিনিয়োগ ক্ষেত্র বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ে উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়াস চালাতে উভয় পক্ষে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

২০২০ সালের ৩ ফেরুয়ারি বৃটেনের মূলধারার ব্যবসায়িদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন বৃটিশ চেম্বার অব কমার্স (বিসিসিআই) নেতৃবৃন্দের সাথে বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিবিসিসিআই) নেতৃবৃন্দ এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। বিবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট বশির আহমদের সাথে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডাইরেক্টর মোঃ আবদুল মুমিন। বিসিসিআই সদর দপ্তর লন্ডনের পেটি ফান্সে অনুষ্ঠিত সভায় বিসিসিআই গ্লোবাল বিজনেস নেটওয়ার্ক ডাইরেক্টর অ্যান মেরি মার্টিন তাদের স্বাগত জানান।

প্রথম বারের মতো উভয় সংগঠনের যৌথ আলোচনাকে ইতিবাচক ও অর্থবহ হিসেবে উল্লেখ করেন অ্যান মেরি মার্টিন। ফলপ্রসূ আলোচনায় মূল এজেন্ডা ছিল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের অগ্রগতি, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য পারস্পরিক বিনিয়োগ ও সমঝোতা প্রসারিত করা সহ দুই দেশের মধ্যে সহায়ক কার্যক্রম সম্প্রসারণ। অ্যান মেরি বাংলাদেশে অধিকতর ব্যবসার সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখার ব্যাপারে সহায়তার আশ্বাস দেন।

এলক্ষ্যে তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ভ্রমণের আগ্রহ ব্যক্ত করেন। অ্যান মেরি বাংলাদেশ ও বৃটিশ বাংলাদেশিদের ব্যাপারে বৃটেনের মূলধারাকে আকর্ষণ করার জন্য তাদের বিজনেস ম্যাগাজিন, নিউজলেটার এবং সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলিতে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, বৃটিশ চেম্বারের সাথে আরো ৫৫টা চেম্বার যৌথ ভাবে কাজ করে। তাদের ৫ মিলিয়ন সদস্য রয়েছেন।

লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম ৩মে রোববার বৃটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির (বিবিসিসিআই) সাথে এক বিশেষ ভার্চুয়াল কনফারেন্সে অংশ নেন। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে বৃটিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীগণ যেসব ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছেন, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী এবং তৈরি পোষাক বৃটেনে আমদানীর ক্ষেত্রে যেসব সমস্যার মোকাবেলা করছেন তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এতে হাইকমিশনার ছাড়াও লন্ডন চেম্বার অব কমার্সের সিইও রিচার্ড বার্গ অতিথি আলোচক ছিলেন। দেওয়ান মাহদি চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট বশির আহমদ। আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন উপদেষ্টা বোর্ডের প্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট শাহগির বক্ত ফারুক, ডাইরেক্টর ও চ্যানেল এস’র চেয়ারম্যান আহমদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, ডাইরেক্টর সাদ গাজি, ডাইরেক্টর মাহতাব মিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. সানাওয়ার চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট এমএ কায়্যুম, সাবেক প্রেস এন্ড পাবলিসিটি ডাইরেক্টর (আমি) সাঈদ চৌধুরী ও অন্যান্য ব্যবসায়ীবৃন্দ।

হাইকমিশনার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা ও বিনিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং করোনা বিশ্ব-মহামারীর ফলে বাংলাদেশ বৃটেনের দ্বিপাক্ষিক ব্যবসার ক্ষতি কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হাইকমিশন যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেগুলি অবহিত করেন। তিনি বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই প্রণোদনা প্যাকেজ প্রধানত: রপ্তানী শিল্পকারখানা ও তাদের শ্রমিকদের মজুরী সুরক্ষার জন্যই ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ব্রিটিশ বাংলাদেশি পোষাক রপ্তানীকারকদের প্রধানমন্ত্রীর এই আর্থিক প্রণোদনায় প্রদত্ত সুবিধা গ্রহণের আহবান জানান।

সাইদা মুনা তাসনীম বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডন ইউকে ফরেন এন্ড কমনওয়েলথ অফিস (এফসিও), ডিপার্টমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড, বিজিএমইএ এবং যুক্তরাজ্যের কনফেডারেশন অব বৃটিশ ইন্ডাস্ট্রি (সিবিআই) সহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে কাজ করছে, যাতে বৃটিশ রিটেইলাররা বাংলাদেশে তৈরী পোষাকের জন্য আমদানী মূল্য পরিশোধ করেন এবং যে আমদানী আদেশ দিয়েছিলেন তা কার্যকর করেন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে মালামাল পরিবহন এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল লকডাউনের সময়ও যাতে অব্যাহত থাকে সে লক্ষ্যে হাই কমিশন অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন যে, বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডন ইতিমধ্যেই একটি ২৪/৭ কনস্যুলার হেলফ লাইন ও বাংলাদেশি বৃটিশ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি প্যানেল গঠন করে একটি নতুন ২৪/৭ করোনা ভাইরাস হেল্প লাইন চালু করেছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির যারা এদেশের ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিসের আওতাভূক্ত নন, যুক্তরাজ্যে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী অথবা বয়োবৃদ্ধ ও বাংলা ভাষায় ডাক্তারের পরামর্শ নিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন, তারা কভিড-১৯ সংক্রান্ত যে কোন ধরনের পরামশে পেতে পারেন।


  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    20
    Shares

আরও পড়ুন

সিলেটীরা আসামে থেকেও অহমিয়ার সাথে একাত্ম হয়নি

         সেলিম আউয়াল: মোগল আমলে সিলেট...

মৌলভীবাজারে জুতার দুকানে ভয়াভহ আগুন,নিহত ৫

         মৌলভীবাজার প্রতিনিধি মৌলভীবাজার শহরের সাইফুর...

লিডিং ইউনিভার্সিটিতে পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস কর্মসূচী অনুষ্ঠিত

         মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ি,...

উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে– আল আমিন চৌধুরীঃ

         হাবিবুর রহমান হাবিব শাল্লা (সুনামগঞ্জ)...