লন্ডনে যাপিত জীবন – ১২ উৎসর্গিত প্রাণ ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন এমবিই

প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে

সাঈদ চৌধুরী :

ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন এমবিই জেপি প্রবাসিদের মধ্যে এক উৎসর্গিত প্রাণ সংগঠক। বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের (বিবিসিসি) অত্যন্ত সফল প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। ডাইরেক্টর জেনারেল হিসেবেও ছিলেন বিরল সাফল্যের অধিকারী। বর্তমানে ইউরোপিয়ান-বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (ইবিএফ) প্রেসিডেন্ট। দূর প্রবাস থেকে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষকে নিয়ে তার চিন্তার অন্ত নেই। স্বদেশপ্রেমী এই মানুষটি অবিরাম ও ক্লান্তহীন কর্মের মাধ্যমে তৈরি করেছেন সৃষ্টিশীল এক ইতিহাস।

ওয়ালী তসর উদ্দিন স্কটল্যান্ডে বসবাস করেন। তিনি স্কটল্যান্ডে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল জেনারেল ছিলেন। ১৯৯৩ সাল থেকে দীর্ঘদিন কূটনৈতিক সফলতা সাথে এদায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানকার ব্যবসা, সমাজসেবা ও শিক্ষামূলক কর্মকান্ডে সক্রিয় ভাবে জড়িত রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন এডিনবরার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, ভয়েস ফর জাস্টিস ইন স্কটল্যান্ডের কনভেনার, সিলেট ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা, এডিনবরা কেন্দ্রীয় মসজিদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, শাহজালাল মস্ক এন্ড ইসলামিক সেন্টারের ডাইরেক্টর, কমনওয়েলথ সোসাইটি অব এডিনবরা এবং বাংলা-স্কট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান।

ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বৃটেরে রাণী কর্তৃক ১৯৯৫ সালে এমবিই এওয়ার্ড লাভ করেন। তারও আগে ১৯৮৪ সালে বৃটেরে রাণী তাকে জাস্টিস অব পিস খেতাবে ভূষিত করেন। স্কটল্যান্ডে বাংলাদেশী হিসেবে তিনিই প্রথম এ খেতাব পেয়েছেন। এডিনবরা কুইন মার্গারেট ইউনিভার্সিটি কলেজ তাকে বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশনে অনারারি ডিবিএ ডক্টরেট ডিগ্রি, হারিয়ট ওয়াট ইউনিভার্সিটি অনারারী ডি-লিট ডিগ্রি এবং নেপিয়ার ইউনিভার্সিটি অনারারী গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি প্রদান করেছে।

স্কটল্যান্ড বৃটেনের একটি অংশ। গ্রেট বৃটেনের উত্তর তৃতীয়াংশ। এটা দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম, পূর্ব-উত্তর চ্যানেল এবং আইরিশ সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত। এডিনবরা ও গ্লাসগো সেখানকার অ্ন্য দুটি বৃহত্তম শহর। ১৮ শতকে ইউরোপে বাণিজ্যিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং নেতৃস্থানীয় শিল্প শহর ছিল। তেল সমৃদ্ধ এই অঞ্চলকে ইউরোপের তেলের রাজধানী বলা হয়। ১৬০৩ সালে স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের রাজবংশ রাজা প্রথম জ্যাকবের অধীনে একত্রিত হয়। ১৭০৭ সালে স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের আইনসভা একত্রিত হয়। তবে এখনো পর্যন্ত স্কটল্যান্ড নিজস্ব বিচার ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, এমনকি নিজস্ব টাকা (স্কটিশ পাউন্ড) ধরে রেখেছে। ১৯৯৯ সাল থেকে স্কটল্যান্ডের স্বতন্ত্র আইনসভা রয়েছে এবং তখন থেকে দেশটি স্বায়ত্ব শাসিত। স্কটল্যান্ডের মোট আয়তন ৭৮,০৮০ বর্গ কিলোমিটার। অভ্যন্তরীণ জলাশয়গুলির আয়তন প্রায় ১,৫০০ বর্গ কিলোমিটার।

২০০০ সালে আমি বিলেত আসার পর সাংবাদিকতার পাশাপাশি এখানকার কমিউনিটির বিকাশে সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য সবচেয়ে বেশী উৎসাহিত করেছেন ওয়ালী তসর উদ্দিন এমবিই। সুদূর স্কটল্যান্ড থেকে প্রায় প্রতি সপ্তাহে তিনি লন্ডন ছুটে আসতেন। বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সামগ্রিক কার্যক্রম সহ অন্যান্য শিক্ষা ও সেবামূলক কর্মকান্ডে নেতৃত্ব দিতেন। শুরু থেকেই আমার সাথে তার একটা সখ্যতা গড়ে ওঠে। ফলে লন্ডন এলে আমরা একসাথে কিছুটা হলেও সময় কাটাই এবং সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড নিয়ে গবেষণা করি।

আমি একজন পরিশ্রমী সাংবাদিক। মৌলিক সাংবাদিকতার জন্য প্রয়োজন সময়, মনোযোগ, পরিশ্রম এবং জানার আগ্রহ। সাংবাদিকতা মানেই হচ্ছে মানুষকে নতুন কিছু দেয়া। এজন্য যে নৈপুণ্য দরকার সে বিষয়ে বিভিন্ন কর্মশালায় অংশ নেয়া, গণমানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে খোঁজ খবর রাখা , অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করা আমার প্রাত্যহিক কাজ। এর পাশাপশি সাহিত্য চর্চা বিশেষ করে কবিতা লেখায় বেশ সময় দিতে হয়। কারণ আমি জন্মেছি একজন কবি হয়ে, মহান আল্লাহ প্রদত্ব এই নিয়ামতকে অবহেলা করতে পারিনা।

আমার ধারণা ছিল আমি বেশ প্ররিশ্রমী। সময় নষ্ট হবার মত আ্ড্ডা বা অনাহুত কর্মকান্ডে সেই ছেলেবেলা খেকেই কখনো জড়াইনি। বিলেত এসে দেখলাম আমার চেয়ে আরো প্ররিশ্রমী লোকের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এর মধ্যে ওয়ালী তসর উদ্দিন অন্যতম। তার ক্লান্তহীন পদচারণা আমাকে মুগ্ধ করে।

বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (বিবিসিসি) প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের অন্যতম প্রধান বিষয় এবং চেম্বারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও সফল অনুষ্ঠান ছিল এক্সপো বাংলাদেশ ২০০৫। লন্ডনের অভিজাত ভেন্যু বার্বিকান সেন্টারে ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর তিনদিন ব্যাপী এই বানিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়। তখন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুকিম আহমদ ও ডিজি ছিলেন স্বদেশপ্রেমী ওয়ালী তসর উদ্দিন এমবিই।

কর্মবীর ওয়ালী তসর উদ্দিন এমবিই’র বিশেষ উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় আমি সক্রিয় ভাবে এতে সম্পৃক্ত হই। বিবিসিসির উদ্যোগে এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডনের সহায়তায় মেলার চূড়ান্ত কর্মসূচি নির্ধারিত হয়। মেলাকে সাফল্য মন্ডিত করার জন্য তখন বাংলাদেশ সফর এবং বিলেতে ও বাংলাদেশে ব্যাপক প্রচার তৎপরতা পরিচালনা করা হয়।

বিবিসিসির ডাইরেক্টর জেনারেল ও এক্সপো বাংলাদেশ ২০০৫ এর নির্বাহী প্রধান ডঃ ওয়ালী তছর উদ্দিন এমবিই জেপি’র নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলাম আমি (সাঈদ চৌধুরী, সম্পাদক মাসিক সময় ও ইউকে বাংলা ডাইরেক্টরি), মেলান নেটওয়ার্কের এলান টুইডি ও বিবিসিসি স্কটিশ রিজিওনাল প্রেসিডেন্ট এম এ রউফ।

প্রতিনিধি দলের কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ ও বাংলাদেশ সফর বাস্তবায়নে সহায়তা করেন বিবিসিসি বাংলাদেশ রিজিওনাল প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী এসএম আনোয়ার হোসাইন, বিবিসিসি বাংলাদেশ রিজিওনাল ডিরেক্টর হিসকিল গুলজার, শাফকাত হায়দার ও গাজী মামুন হাসান।

ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাব এবং সিলেট প্রেসক্লাবে বিবিসিসির পক্ষ থেকে এক্সপো সম্পর্কিত মূল প্রবন্ধ আমি উপস্থাপন করি। এছাড়া আমরা (প্রতিনিধি দল) এক্সপো বাংলাদেশ ২০০৫ কে সফল করতে এফবিসিসিআই সহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হই।

২মে সোমবার দুপুরে গুলশানে অবস্থিত বিবিসিসি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এক্সপোর বিস্তারিত কার্যক্রমের পর্যালোচনা ও প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের কর্মসূচি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

৩মে মঙ্গলবার সকালে বৃটিশ হাই কমিশনের কমার্শিয়াল উইংয়ের সাথে প্রতিনিধি দলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডেপুটি হাইকমিশনার ষ্টিবেন ব্রিজেস, ট্রেড ও ইনভেস্টমেন্ট বিভাগের প্রধান ক্লিফুড বেব সহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা এক্সপো বাংলাদেশ ২০০৫ এ উপস্থিত থাকা ও সামগ্রীক সহযোগিতা প্রদান ছাড়াও বৃটিশ ব্যবসায়িদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়তা দান করবেন বলে আশ্বাস দেন।

৩মে দুপুরে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমানের সাথে প্রতিনিধি দলের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এক্সপো বাংলাদেশ ২০০৫ এর বিস্তারিত কার্যক্রমের ব্যাপারে তিনি অবহিত হন এবং সুচিন্তিত অভিমত প্রদান করেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে এক্সপো সহায়ক হবে বলে সভায় অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

৩মে বিকেলে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) সম্মেলন কক্ষে সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে প্রতিনিধি দলের এক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এফবিসিসিআই নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন চেম্বার ও এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

সভায় এক্সপোতে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবসায়িদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ পরিলক্ষিত হয়। সঠিক প্রতিনিধিত্বশীল ব্যবসায়িদের অংশগ্রহণ ও বৃটিশ ব্যবসায়িদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও সহ-সভাপতি আবুল কাশেম হায়দার বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ও প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণ করার আহবান জানান।

৪মে দুপুরে প্রতিনিধি দলের সাথে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বিশিষ্ট ব্যবসায়িদের এক পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মীর শাহাবুদ্দিন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এক্সপো বাংলাদেশ ২০০৫ বাস্তবায়নে গত এক বছরের তৎপরতার মূল্যায়ন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইতিপূর্বেকার ২টি সভার আলোকে অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

সভায় বিভিন্ন সেক্টরের শত শত ব্যবসায়ির অভূতপূর্ব অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি নতুন মাত্রার সৃষ্টি করে। এ পর্যন্ত যে সব প্রতিষ্ঠান তাদের ফি দিয়ে এক্সপোতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন তাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। নতুম আরো যারা নাম দিয়েছেন তাদেরকে ১৫মের মধ্যে ফি প্রদানের তাগিদ দেয়া হয়। সভায় লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য এক্সপো বাংলাদেশ ২০০৫ এর পূর্নাঙ্গ কর্মসূচি, কর্মপ্রক্রিয়া সহ প্রদর্শনী, সেমিনার, ফ্যাশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের একক ও গ্রুপভিত্তিক সাক্ষাতের ব্যবস্থার কথা তুলে ধরা হয়।

৫মে দুপুর জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রতিনিধি দলের এক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক, সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

৫মে বিকেলে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি (বেপজা) এর সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে বেপজার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান ও জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান সহ উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও সর্বস্তরের ব্যবসায়িরা অংশগ্রহণ করেন।

৬মে শুক্রবার প্রতিনিধি দল সিলেটে গিয়ে পৌছলে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দ বিমাম বন্দরে স্বাগত জানান। এই দিন বিকেলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়।

৭মে শনিবার দুপুরে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে চেম্বার নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সিলেটের উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় প্রবাসীবহুল সিলেটের সাথে বৃটেনের ব্যবসা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সংযোগ স্থাপনে এক্সপো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

৮মে রোববার দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে এক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রেসক্লাব সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক মুক্তাবিস-উন-নূর, সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সিলেটের ডাকের নির্বাহী সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক প্রথম আলোর ব্যুরো প্রধান আহমদ নূর সহ জাতীয় সংবাদপত্রের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় দৈনিক সমূহের সম্পাদক ও সাংবাদিক সহ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

লক্ষনীয় ব্যাপার ছিল, বাংলাদেশে পৌছার পর কোন রকম বিরতি ছাড়াই ওয়ালী তসর উদ্দিন আামাদেরে নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রিতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিবর্গের সাথে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় শুরু করেন। তার ক্লান্তহীন কর্মকান্ডে সবাই হতবাক হয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে ফিরে এসে আমরা বৃটিশ ও ইউরোপিয়ান বায়ারদের সাথে যোগাযোগ শুরু করি। বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের বাজার সৃষ্টিতে প্রানান্ত প্রয়াস চালিয়েছি।

সকলের সামগ্রীক প্রচেষ্টায় মেলায় বাংলাদেশের প্রথম সারির উল্লেখযোগ্য কোম্পানী সহ ৬০টি এবং বিলেতের ১৫টি প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহন করে। এতে ক্রেতা ও দর্শনার্থিদের সমাগম ঘটে উল্লেখযোগ্য হারে। প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষ বানিজ্য মেলায় অংশ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি মোতাবেক প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা লাভ করে। সার্বিক বিচারে বলা চলে, উন্নত বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ম্যানুফ্যাকচারিং ক্যাপাসিটি ও পটেনশিয়াল তুলে ধরার ক্ষেত্রে এক্সপো ২০০৫ সফল হয়েছে।

এক্সপোর কর্মসূচির মধ্যে সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক ছিল প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেমিনারের আয়োজন। এগুলি তত্ত্বের কচকচানিপূর্ন গতানুগতিক সেমিনার ছিল না। বিষয়বস্তু ও অতিথি নির্বাচন এবং প্রেজেন্টারের উপস্থাপন সকল ক্ষেত্রেই সেমিনারের উপযোগিতা অর্জিত হয়েছে।

প্রথমদিন সেমিনারের বিষয়বস্তু ছিল Bangladesh: The new IT outsourcing destination of South Asia. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল মঈন খাঁনের অনুপস্থিতিতে সেমিনারে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন বাণিজ্য মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী। অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় এবং তারুণ্যদীপ্ত উপস্থাপনায় বাংলাদেশে আইসিটির সাফল্য এবং সম্ভাবনা নিয়ে এই সেমিনারে মূল বক্তব্য রাখেন Bangladesh Association of software & Information Service এর সভাপতি সরওয়ার আলম। হাই-টেক ব্যবসার জটিল ব্যাপারগুলোও কী-নোট স্পিকারের সুন্দর এবং সহজ উপস্থাপনার কারণে দর্শক শ্রোতাদের কাছে সহজবোধ্য হয়ে ওঠে।

এই সেমিনারে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল UK Outsourcing Group এর Dr Richard Sykes এর বক্তব্য। তার কোম্পানি বাংলাদেশে বেশ কিছু আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে থাকে। সেমিনারে ডঃ সাইকাস বাংলাদেশে কাজ করানোর ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ইউরোপ এবং আমেরিকার মাঝারি এবং ছোট প্রতিষ্ঠানের আউটসোর্সিংয়ের কাজের জন্য বাংলাদেশ একটি আদর্শ গন্তব্য হতে পারে। ভারতের সিলিকন ভ্যালিতে পশ্চিমা বিশ্বের বড় বড় কোম্পানী গুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ায় সেখানে কাজ করানো খুবই ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। পক্ষান্তরে ভারতের মতো একই টাইম জোনে অবস্থিত বাংলাদেশের সস্তা শ্রম এসব কাজের জন্য খুবই উপযোগী। তিনি বাংলাদেশের মানুষের ইংরেজি জ্ঞানেরও প্রশংসা করেন।

দ্বিতীয় দিনের সেমিনারে বিষয়বস্তু ছিল Potential of Agro based industries in Bangladesh. কী-নোট স্পিকার ছিলেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মীর শাহাবুদ্দিন মোহাম্মদ। তার বক্তব্যে উপস্থিত সকলেই মুগ্ধ হন। অনুষ্ঠানে ইউরো ফুডসের চেয়ারম্যান সেলিম হোসেনের বক্তব্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা দেশের কৃষিজ শিল্পখাতে বিনিয়োগে বিদেশীদের উৎসাহিত করেছে।

মেলার শেষ দিনে সেমিনারের বিষয় ছিল Bangladesh: a safe haven for investment. মূল বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান। বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ সুবিধার অনুপম দিকগুলি তিনি অত্যন্ত চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছেন।

এক্সপোর কর্মকান্ড শুধুমাত্র সেমিনার আয়োজন বা ব্যবসা বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলনা। এক্সপো উদ্বোধনের আগের রাত ছিল জমজমাট গালা ডিনার। ৭০০ অতিথির উপস্থিতিতে এ গালাডিনার হয়ে উঠেছিল সত্যিকার অর্থেই গ্রান্ড-শো-ডাউন। বাণিজ্য মেলাকে বর্ণিল করে তুলতে আয়োজন করা হয়েছিল ফ্যাশন-শো। ফ্যাশন প্যারেডে ঝলমল আলোয় বিভিন্ন বয়সী মডেলরা তুলে ধরেছেন গার্মেন্টস প্র্রোডাক্ট সমূহ। এতে বাংলাদেশের প্র্রোডাক্টের মান যোগ করেছিল আলাদা মাত্রা, জৌলুস।

মেলার শেষ দিন ছিল সেলিবৃটি শেফ কম্পিটিশন। ষ্টার শেফ টমি মিয়ার উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতায় আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুন। এক্সপোতে অংশ গ্রহনকারী ব্যবসায়ীরা বেশির ভাগই তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তারা যে উদ্দেশ্যে মেলায় এসেছিলেন্ তা অর্জিত হয়েছে।

মেলায় সবচেয়ে বড় অংকের ব্যবসা করেছে পাটয়ারী পটেটো ফ্ল্যাক্স। এছাড়া রিচি গ্রুপ, শাইন পুকুর, সাতরং, এবিএস, বেক্সিমকো, হামদর্দ, মৌসুমী ফ্যাশন, অপরুপা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য অংকের ব্যবসায়িক চুক্তি করেছে। মেলা চলাকালীন তিন দিন বার্বিকান সেন্টার হয়ে ওঠেছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনকেন্দ্র। বৃটিশ সাম্রাজ্যের নার্ভসেন্টার লন্ডনে একখন্ড বাংলাদেশ।

বাণিজ্য মেলার সূচনা দিবস ১৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সংস্থা মিডিয়া মহলের স্টল উদ্বোধন করেন যৌথভাবে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও লন্ডন মেয়র কেন লিভিংস্টোন। তিন দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত এ মেলার ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন পেশার প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরা স্টলে এসে মেতে ওঠেন প্রাণবন্ত আড্ডায়।

বিবিসিসি ও বিলেত প্রবাসিদের জন্য এত বড় একটি অনুষ্ঠান সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করতে প্রেসিডেন্ট সহ নির্বাহী কমিটি ও সাব কমিটির সকলেই প্রাণপন চেষ্টা করেছেন। তবে ওয়ালী তসর উদ্দিন এক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অনুষ্ঠান সফল করতে লন্ডন বাংলাদেশ হাই কমিশনও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। কর্মবীর হাই কমিশনার সাবেক সচিব কবি এ এইচ মোফাজ্জল করিম, কমার্শিয়াল কাউন্সিলর শাহাব উদ্দিন পাটোয়ারী, প্রেস মিনিস্টার ফজল এম কামাল প্রমুখের ভূমিকাও অভিস্মরণীয়।

ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন একজন শিল্প উদ্যোক্তা এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক। তিনি সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হসপিটালের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে চীফ কো-অর্ডিনেটর হিসেব দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমির ট্রাস্টি, অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সাইন্সেস এন্ড টেকনোলজির উপদেষ্টা। সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল কলেজ হসপিটাল, সিলেট প্রেসিডেন্সী ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ব্লেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ইনস্টিটিউট অব চার্টাড ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদির সাথে জড়িত।

ওয়ালী তসর উদ্দিন ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায় সাইক্লোন প্রজেক্টের অংশ হিসেবে স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠার সাথেও সক্রিয় ভাবে সম্পৃক্ত। কর্মময় জীবনে উদ্যোক্তা ও দাতার স্বীকৃতি হিসেবে লাইফ টাইম এচিভমেন্ট এ্ওয়ার্ড অর্জন করেছেন তিনি।

ওয়ালী তসর উদ্দিন ১৯৫২ সালের ১৭ এপ্রিল মৌলভীবাজার সদর থানার নালিহুরী গ্রামে (বড় বাড়িত) জন্মগ্রহণ করেন। ৩ ভাই ও ৬ বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তার বাবা আলহাজ্ব মকসুদুর রহমান এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। এক সময় পোস্ট মাস্টার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মহিয়সী মায়ের নাম তৈয়বুন্নেসা খানম। বড় ভাই ফখরুল ইসলাম নিউইয়র্ক প্রবাসী স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। ছোট ভাই শরফ উদ্দিন এডিনবরায় ব্যবসা করছেন।

ওয়ালী তসর উদ্দিন মৌলভীবাজারে স্থানীয় বারন্তী প্রাইমারী স্কুল এবং মৌলভীবাজার সরকারি হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে ১৪ বছর বয়সে লন্ডন চলে আসেন। পরে দেশে গিয়ে ১৯৭১ সালে এসএসসি পাস করেন। বিলেতে ফিরে এসে সাউথ ওয়েস্ট লন্ডনের পাটনী কলেজ থেকে মটর ভেহিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এইচএনসি কোর্সে ডিগ্রি করেন। তারপর লুটন থেকে সেলস এন্ড মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ফেলোশিপ লাভ করেন।

ওয়ালী তসর উদ্দিন ১৯৭৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানাধীন বারোহালা ইউনিয়নের খিলো গ্রামে বিয়ে করেন। স্ত্রী সাইদা আক্তার চৌধুরী (হুসনা) একজন নিবেদিত সমাজকর্মি। তাঁদের ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে। প্রথম ছেলে শাহান মোঃ এহতেশাম উদ্দিন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, দ্বিতীয় ছেলে আহসান মোঃ সুহান উদ্দিন ব্যবসায়ী। প্রথম মেয়ে হাফিজা আক্তার (জলি) বিবাহিতা। স্বামী ইঞ্জিনিয়ার তাওহীদ খান। দ্বিতীয় মেয়ে সুহেলী আক্তারও বিবাহিতা। স্বামী নোমান রাজ্জাক একজন ব্যাংকার। কনিষ্ঠা কন্যা রুহেলী আক্তার এইচএসবিসি ব্যাংকের হেড অব দ্যা গ্লোবাল ইন্সুরেন্স।

ড. ওয়ালীর কর্মজীবন শুরু হয় রেস্টুরেন্টে শিক্ষানবিশ ওয়েটার হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি কারী হাউসে বিভিন্ন স্তরে কাজ করেছেন। ১৯৮১ সাল থেকে নিজেই রেস্তোরা চালু করেন। একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তার রয়েছে বেশ সুখ্যাতি। প্রচন্ড পরিশ্রম, সততা আর নিষ্ঠার সাথে কাজ করে তিনি গড়ে তুলেছেন স্কটল্যান্ডের সেরা রেস্তোরা। তার বৃটানিয়া স্পাইস বার বার সেরা রেস্তোরার স্বীকৃতি পেয়েছে।

এক প্রশ্নে জবাবে ওয়ালী তসর উদ্দিন এমবিই বলেন, ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ইবিএফ ) ছাড়াও ইউকে ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম, ট্রেড ফোরাম ইত্যাদির সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত আছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে একটি প্রকৌশলী প্রতিনিধি দল নিয়ে বাংলাদেশে গিয়েছি। ইন্ডাষ্ট্রি খাতে এনআরবি বিনিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসু হয়েছে। বৃটেন-বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরো জোরদার করা, শিল্পখাতে বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের দক্ষতা বাড়াতে বিলেতের সাথে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা ও সংযোগ বৃদ্ধি করেছি।

বাংলাদেশ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও আর্থিক উন্নয়নে দৃঢ়ভাবে কাজ করার লক্ষ্যে ইবিএফ এর জন্ম। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ইউরোপিয়ান কমিশন ও ইউরোপিয়ান মেম্বার্স অব পার্লামেন্টের সাথে সংলাপের মাধ্যমে আমাদের ব্যবসার উন্নয়ন, ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা পরিবর্তনে ভূমিকা পালন, কনফারেন্স, সেমিনার ইত্যাদির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনকে অর্গানাইজ করা, অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্ট আছে কিংন্তু মার্কেটিং বা বিজনেস প্রমোশনের ব্যবস্থা নেই, তাদের সহযোগিতা করা আমাদের কাজ। বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান থাকাকালীনই আমি এরকম একটি ফেডারেশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা ও যথার্থতা উপলব্ধি করি। সে উপলব্ধির সফল বাস্তবায়নই আজকের ইবিএফ।

আরেক প্রশ্নে জবাবে ওয়ালী বলেন, আমি আসলে একজন সেলফ মেইড ম্যান। আমি নিজের ভেতর থেকেই দেশের জন্য কিছু করার জন্য অনুপ্রাণিত হই। জন্মসুত্রে যে টানটা অনুভব করি দেশের জন্য, সেই টান থেকেই দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমি কখনোই কোনো কাজকে ছোট করে দেখি না। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজের সমষ্টিই বড় কাজে রুপ নেয়।
অগণিত মানুষকে মুগ্ধ করে। যে কোন কঠিন বিষয়ে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিক সাহস আমার রয়েছে। ভাল কাজে আমি বন্ধুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করি। সবচেয়ে বড় কথা স্বদেশের সাথে প্রবাসীদের সেতু বন্ধনই আমার কাজ। এই কাজটি আমি করে যাচ্ছি অবিরাম, ক্লান্তহীন।

পরবর্তী খবর পড়ুন : অনুভূতি

আরও পড়ুন