লন্ডনে যাপিত জীবন : হাইড পার্ক স্পিকার কর্ণার

প্রকাশিত : ০৭ মে, ২০২০     আপডেট : ৩ সপ্তাহ আগে  
  

সাঈদ চৌধুরী :

ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর দ্যা ট্রেইনিং অব জার্ণালিজম (এনসিটিজে) কর্তৃক তিন মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ চলাকালে প্রতিমাসে আমরা একাধিক সরেজমিন প্রতিবেদন করেছি। এরমধ্যে ছিল কিছু অনুষ্ঠান আর বিনোদনের স্থান ও পর্যটক আকর্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শণ। ২৩ এপ্রিল ২০০০ তারিখে আমাদের হাইড পার্ক স্পিকার কর্ণারে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাইড পার্ক লন্ডনের গ্রেড আই তালিকাভুক্ত বৃহত্তম রয়্যাল পার্ক। উত্তরে বেইসওয়াটার রোড। পূর্বদিকে পার্ক লেন। দক্ষিণে নাইট্সব্রিজ। দক্ষিণ-পূর্ব দিকে হাইড পার্ক কর্নার। এর বাইরে গ্রিন পার্ক, সেন্ট জেমস পার্ক এবং বাকিংহাম প্যালেস গার্ডেন। ১৫৩৬ সালে হেনরি অষ্টম পার্কটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুধু হাইড পার্কের আয়তন ১৪২ হেক্টর (৩৫০ একর)।

বক্তৃতার জন্য এই পার্কের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। গত একশ বছরে বিলেতে যত বড় বড় বিক্ষোভ হয়েছে তার প্রায় সব কটি হাইড পার্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৮৭২ সাল থেকে হাইড পার্কের স্পিকার কর্ণার মুক্ত বক্তব্য ও বিতর্কের স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আমাদের সময়ে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ করেছে স্টপ ওয়ার কোয়ালিশন। এ বিষয়ে আলাদা পর্বে আলোচনা হবে বলে আশা রাখি।

হাইড পার্ক কর্ণারে সেদিন ২ জন শিক্ষক, ১ জন অতিথি ও আমরা ১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহন করি। অতিথি হলেন বৃটিশ অ্যাসোসিয়েশন অফ জার্নালিস্টস (বিএজে)’র জেনারেল সেক্রেটারি স্টিভ টার্ণার। দিনটি ছিল রোববার। দুপুর বেলায় আমি আর স্টিভ একসাথে ছিলাম। আমরা ক্যানসিংটন প্যালেসের প্রবেশ পথ থেকে বাকিংহাম প্রাসাদের প্রধান প্রবেশ পথ পেরিয়ে গ্রিন পার্ক হয়ে হাইড পার্ক কর্ণারে গিয়ে পৌছি। পার্কটি দীর্ঘ পানির হ্রদ দ্বারা বিভক্ত। নান্দনিকতার অপূর্ব একটি স্থান।

আমাদের অুনষ্ঠান বক্তৃতা বিষয়ক। আমরা নিজেরাই বক্তা, স্রোতা ও প্রতিবেদক। সবাইকে ২ মিনিট করে বক্তব্য রাখতে হবে। ঘড়ির কাটায় হিসেব কষে মার্ক দেয়া হবে। একই বিষয়ে বক্তব্য হলেও কেউ তার পূর্বের বক্তাদের কথামালা রিপিট বা পুনরাবৃত্তি করতে পারবে না। তাকে নতুন করে দুটি কারণ বা সুবিধা উল্লেখ করতে হবে।

এই অনুষ্ঠানের বিষয় বস্তুই ছিল এদিনের সরেজমিন প্রতিবেদন। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, শিক্ষার্থিদের সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ করা, পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য রিপোর্ট তৈরির কলাকৌশল হাতে কলমে শেখানো, হ্যান্ডনোট ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলা, কখনো ব্যাখ্যা ভুলে গেলে হ্যান্ডনোটের কি-ওয়ার্ড দেখে তা মনে করার জন্য নোট নেয়ার প্রশিক্ষণ।

সূচনায় বিএজে’র জেনারেল সেক্রেটারি স্টিভ টার্ণার বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পাবলিক স্পিকারদের উদাহরণ টেনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। জন এফ কেনেডি, মারটিন লুথার কিং, স্টিভ জবস প্রমুখের বক্তব্যে প্রভাবিত করতে পারার যে ক্ষমতা বা দক্ষতা রয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। এদের শব্দচয়ন, বাচনভঙ্গি, শরীরী ভাষা, স্বরের ওঠানামা সবই চমৎকার ভাবে বিধৃত হয়েছে তার কথা মালায়।

তারপর শুরু হল আমাদের পালা। বিষয় নির্ধারিত ছিল ‘আমরা কেন বই পড়ি’। ১৫ জনে ২টা করে মোট ত্রিশটা কারণ বা সুবিধা উল্লেখ করেছেল। সাহিত্যের মানুষ হিসেবে এটা আমার কাছে খুবই ইন্টারেস্টিং ছিল।

১ম বক্তা:
(১) বই আমাদের জ্ঞান দেয়: বই পড়ার সবচেয়ে বড় কারণ হল জ্ঞান অর্জন করা। বই তথ্যের একটি সমৃদ্ধ উৎস। বিবিধ বিষয়ে বই আমাদেরে তথ্য দেয় এবং বিষয়টির গভীরে নিয়ে যায়। আপনি যখনই কোন বই পড়েন, আপনি একটি নতুন তথ্য শিখেন যা হয়ত পূর্বে আপনার জানা ছিল না।
(২) বই মস্তিষ্ককে উন্নত করে: গবেষণায় দেখা গেছে যে, বই পড়ার ফলে মস্তিস্কে শক্তিশালী ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। পাঠক মানসিক ভাবে উদ্দীপিত হয়। এতে ডিমেনশিয়া এবং আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধ হয়। কারণ, বই আপনার মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখার কাজটি করে। মস্তিষ্ক একটি পেশী এবং শরীরের অন্যান্য পেশীগুলির মতো অনুশীলন এটিকে দৃঢ় এবং স্বাস্থ্যকর রাখে। ধাঁধা সমাধানের অনুরূপ, বই পড়া আপনার মস্তিষ্কের অনুশীলন এবং স্বাস্থ্যকর রাখার বিশেষ উপায়।

২য় বক্তা:
(১) মানসিক চাপ হ্রাস করে: বই পড়া শরীরের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একটি বই পড়া মানসিক চাপ থেকে হাঁটা বা গান শোনার চেয়েও বেশী মুক্তি দিতে পারে। গবেষণা অনুসারে যারা বেশি বই পড়েন তাদের স্ট্রেসের মাত্রা কম থাকে।
(২) স্মৃতিশক্তি উন্নত করে: প্রতিবার আপনি যখন কোনও বই পড়েন তখন আপনাকে বইয়ের সেটিং, চরিত্র সমূহ, তাদের পটভূমি, ইতিহাস ও ব্যক্তিত্ব, উপ-প্লট এবং আরও অনেক কিছু মনে রাখতে হয়। মস্তিষ্ক এই সমস্ত মনে রাখতে শিখলে স্মৃতিশক্তি আরও ভাল হয়।

৩য় বক্তা:
(১) কল্পনা শক্তি উন্নত করে: আপনি যত বেশি বই পড়বেন, তত কল্পনা শক্তি সমৃদ্ধ হবে। আপনি যখনই কোনও কল্প কাহিনী পড়েন, এটি আপনাকে অন্য একটি জগতের দিকে নিয়ে যায়। নতুন বিশ্বে আপনি নিজের মনের জিনিস দেখার চেষ্টা করেন। এতে আপনার কল্পনাটি সর্বোত্তমভাবে কাজ করে।
(২) সমালোচনা মূলক চিন্তা ও দক্ষতার বিকাশ হয়: বই পড়ার অন্যতম প্রধান সুবিধা হল সমালোচনা করার দক্ষতা বিকশিত হয়। একটি কবিতা কিংবা রহস্য উপন্যাস আপনার মনকে তীক্ষ্ণ করে তোলে। প্রতিদিনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সহায়তা করে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করার দক্ষতা বাড়িয়ে দেয়। আপনি যত বেশি পড়বেন, বিভিন্ বিষয় সম্পর্কে আপনার বোধগম্যতা তত গভীর হয়।

৪র্থ বক্তা:
(১) শব্দ ভাণ্ডার তৈরি করে: বই আপনার ভাষার শব্দ ভাণ্ডার এবং ভাষার উপর কমান্ড উন্নত করে। বই পড়তে পড়তে নতুন শব্দ, উপমা, উদাহরণ জানা হয়ে যায় এবং নিজে লেখার শৈলী দখলে আসে।
(২) লেখার দক্ষতা উন্নত করে: একটি ভাল বই পড়া আপনার আরও ভাল লেখক হওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শিল্পীরা যেমন অন্যকে প্রভাবিত করেন তেমনি লেখকেরাও। অনেক সফল লেখক অন্যের কাজগুলি পড়ে তাদের দক্ষতা অর্জন করেন। সুতরাং আপনি যদি আরও ভাল লেখক হতে চান তবে পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে হবে।

৫ম বক্তা:
(১) যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করে: বই পড়ে আপনার শব্দ ভাণ্ডার এবং লেখার দক্ষতা উন্নত হওয়ায় আপনার যোগাযোগ দক্ষতা বিকশিত হয়। আপনি যত বেশি পড়বেন এবং লিখবেন, ততই আপনি ভাল সংযোগ সাধন করতে পারবেন। যোগাযোগের ক্ষমতা বৃদ্ধি সম্পর্কের উন্নতি করে এমনকি ব্যক্তিকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।
(২) ফোকাস এবং ঘনত্ব উন্নত করে: আমাদের ব্যস্ত জীবন ধারায় আমরা প্রতিদিন বহু কাজ করার ফলে আমাদের মনোযোগ বিভিন্ন দিকে প্রলুব্ধ হয়। কোনও টাস্কে কাজ করা, স্কাইপের মাধ্যমে মানুষের সাথে চ্যাট করা, ইমেল চেক করা, ফেসবুকে নজর রাখা এবং সহকর্মিদের সাথে আলাপচারিতার মধ্যে নিজের সময় ভাগ করে নিতে হয়। এই সমস্ত মাল্টি টাস্ক উচ্চ রক্ত চাপের কারণ হতে পারে। যখন কোন বই পড়েন, আপনার সমস্ত মনোযোগ আপনি যা পড়ছেন তার দিকে নিবদ্ধ থাকে। আপনার চোখ এবং চিন্তা লেখার বিবরণে ডুবে যায়। এটি আপনার ঘনত্ব এবং ফোকাস উন্নত করে। দিনে কমপক্ষে ২০ মিনিট বই পড়ুন, আপনি আরও বেশি কেন্দ্রীভূত হবেন যা দেখে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।

৬ষ্ঠ বক্তা:
(১) সময়ের সদর্থক ব্যবহার: বই পড়া আমাদের মনোজগতকে দখলে রাখে। এটি সময়ের সদর্থক ব্যবহারের দিকে পরিচালিত করে। কেবল আমাদের উদ্বেগ থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করে না, আমাদের মনকে একঘেয়েমি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। বই বিনোদনের উৎস। যে পড়তে পছন্দ করে সে কখনই বিরক্ত হতে পারে না। কারণ এটি বিষণ্ণতা থেকে মুক্তির সঠিক উপায়। বইগুলি আপনাকে অন্যরকম বিশ্বে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আপনি শিথিল ও পুনর্জীবিত হন।
(২) সস্তা বিনোদন: বিনোদনের অন্যান্য ফর্মের তুলনায় বই বেশ সস্তা। আপনি কখনই ১পাউন্ডে কোন মুভির টিকেট পাবেন না। তবে এই অর্থে আপনি একটি বই কিনতে পারেন এবং বেশ কয়েক ঘন্টা বিনোদন পাবেন।

৭ম বক্তা:
(১) প্রেরণা সঞ্চার করে: জীবন চ্যালেঞ্জ পূর্ণ। আমরা যখন জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করি, তখন একটু অনুপ্রেরণাও এতে বড় রকম সহায়তা করতে পারে। জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অনুপ্রেরণা মূলক বই আমাদের জীবনকে পরিবর্তন করতে পারে। একটি ভাল বই, এক ধরনের আত্মজীবনী মানুষকে উৎসাহিত করে এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করার টিপসও শিখিয়ে দেয়। আপনি আরও ভাল স্বামী, স্ত্রী, কন্যা, পুত্র, মা, বাবা এমনকি কর্মকর্তা হয়ে উঠতে অনুপ্রাণিত হন।
(২) স্বাস্থ্য উন্নত করে: অনেক স্বাস্থ্য সহায়ক বই আছে। এই বইগুলি আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য সহায়তা করতে পারে। ক্লান্তি ও হতাশার মাত্রা হ্রাস করে। বই অনুশীলন, ডায়েটিং এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর জীবনধারা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ টিপস সরবরাহ করে। এইসব বই আপনাকে মানসিক এবং শারীরিক উন্নতির দিকে পরিচালিত করে।

৮ম বক্তা:
(১) সহানুভূতিশীল করে: ভাল বই নিজেকে দয়ালু হতে শিক্ষা দেয়। বিশেষত কবিতা বা কথাসাহিত্যে আপনার সহানুভূতি বাড়তে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সাহিত্যের রচনায় “আবেগের সাথে পরিবহণ” করা লোকেরা সহানুভূতির বিকাশ লাভ করেছেন। একটি বই পড়ে আপনি গল্পের অংশ হয়ে উঠেন এবং চরিত্রগুলির ব্যথা এবং অন্যান্য আবেগ অনুভব করেন। এটি আপনার মনকে আরও সচেতন হতে দেয়। অন্য ব্যক্তির সাথে সহানুভূতিশীল হবার প্রয়োজন ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
(২) আত্মমর্যাদা বোধ সৃষ্টি হয়: অনেকগুলি বই পড়ে আপনি আরও ভালভাবে নিজেকে সাজাতে পারেন। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও অবহিত হন। যা আপনাকে উচ্চতর আত্মমর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে। যেহেতু নিজের প্রতি আপনার আত্মবিশ্বাস রয়েছে, তাই আপনি আর উৎপাদনশীল এবং সামগ্রিকভাবে আরও ভাল একজন ব্যক্তি হয়ে উঠবেন।

৯ম বক্তা:
(১) পোর্টেবল বিনোদন: বই বহনযোগ্য এবং ওজনে হালকা। ভারী কম্পিউটার এবং গেমগুলির মতো নয় যা খুব বেশি জায়গা নেয়। একটি বই আপনি হ্যান্ডব্যাগে প্যাক করতে পারেন এবং সহজেই এটিকে সর্বত্র নিয়ে যেতে পারেন। আপনি ঘুমানোর আগে আপনার বিছানায়, কোনও আরামের ছায়ার নীচে, এমনকি ছুটির দিনেও আপনি যে কোনও জায়গায়, বিমান ভ্রমণেও সাথে নিতে পারেন।
(২) ভাল ঘুমাতে সহায়তা করে: খারাপ ঘুম মানুষকে কম উৎপাদনশীলতার দিকে নিয়ে যায়। এ কারণেই অনেক বিশেষজ্ঞরা মনকে শান্ত করার জন্য ঘুমানোর আগে নিয়মিত ডি-স্ট্রেসিং রুটিন স্থাপনের পরামর্শ দেন। এতে ভাল ঘুম হয়। ঘুমোতে যাওয়ার আগে নিজেকে শান্ত করার একটি সেরা উপায় বই পড়া। শোবার সময় আপনার স্মার্টফোনে টেলিভিশন দেখার বা অত্যধিক সময় ব্যয় করার পরিবর্তে কিছুটা সময় বই পড়ুন। বৈদ্যুতিক ডিভাইসগুলি ঘুমকে প্রভাবিত করে। অন্যদিকে বই আপনাকে আরও ভাল ঘুমাতে সহায়তা করবে।

১০ম বক্তা:
(১) দিগন্ত প্রসারিত করে: কবিতা বা কথাসাহিত্যের জগতটি আপনাকে অন্য একটি পৃথিবীতে ভ্রমণ করতে দেয়। যেখানে সবকিছু আলাদা। বই পড়ে আপনি অন্যান্য সংস্কৃতি এবং স্থানের ঝলক পাবেন। বইগুলি আপনার দিগন্তকে প্রসারিত করে, আপনাকে অন্য দেশ, অন্যান্য লোক এবং এমন অনেকগুলি জিনিস দেখতে দেয় যা আপনি কখনও দেখেননি বা কল্পনাও করেননি। এটি আপনার মনের মধ্যে একটি অদ্ভুত দেশ ভ্রমণের সঠিক উপায়।
(২) সামাজিকী করণ করে: বই আমাদের মধ্যে সামাজিকতা জাগ্রত করে। আমরা আমাদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সহকর্মিদের সাথে কি করা উচিত তা জানা যায়। আবার জানা বিষয়টি সবার সাথে সর্বদা আমরা ভাগ করতে পারি। বই সামাজিকীকরণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। মানুষ সামাজিক জীব এবং স্মার্টফোনের বিশ্বে আমরা সামাজিকী করণের ক্ষমতা হারাচ্ছি। বই পাঠের ফলে বুক ক্লাব এবং অন্যান্য ফোরাম গঠনের মাধ্যমে আমরা সামাজিকতা করার সুযোগ পাই।

১১তম বক্তা:
(১) সৃজনশীলতা উন্নত করে: টেলিভিশন দেখা ও বই পড়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল, বই আপনার সৃজনশীলতা বৃদ্ধির সুযোগ দেয়। আপনি যত বেশি পড়বেন, ততই আপনি নতুন জিনিস শিখবেন। নতুন চিন্তা এবং জীবনকে নতুন এবং আরও ভাল উপায়ে আবিষ্কার করতে মনকে প্রসারিত করে। আমরা বিশ্বকে অন্যভাবে দেখতে শুরু করি এবং এইভাবে আমরা নতুন সৃজনশীল সমাধান খুঁজে পাই।
(২) পছন্দমত ব্যবহার: বই পড়ার আরেকটি সুবিধা হল আপনি নিজের গতিতে পড়তে পারেন। যেহেতু আপনার কাছে বইটি থাকে, আপনি সর্বদা এমন কোনও বিভাগে ফিরে যেতে পারেন যা আপনি পছন্দ করেন। আপনি একটি অধ্যায় যতবার ইচ্ছা পুনরায় পড়তে পারেন।

১২তম বক্তা:
(১) প্রচুর পছন্দের সুযোগ: এমন অনেকগুলি বই রয়েছে যে, আপনি আজীবন পড়েও শেষ করতে পারবেন না। শতাব্দী ধরে বই লেখা হয়েছে। ভবিষ্যতেও বই লেখা হবে। অনুপ্রেরণার, হাসানোর, রোম্যান্স করার বা কোনও নতুন দক্ষতা অর্জনের জন্য অসংখ্য বই রয়েছে। দুর্দান্ত বইয়ের অভাব কখনই হবে না।
(২) নৈতিকতা উনন্নয়নে সহায়ক: বই খারাপ ধারণা থেকে ভাল ধারণা নির্ধারণে সহায়তা করে। একটি বই জীবনের বিভিন্ন পদ্ধতি এবং সমস্যা সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে। বই পড়ে আপনি জীবনে আরও ভাল সিদ্ধান্ত নিতে শিখেন।

১৩তম বক্তা:
(১) ইতিহাস শিক্ষা: আমাদের জীবনে ইতিহাস জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি আপনার দেশ, পরিবার এবং সাধারণভাবে বিশ্ব সম্পর্কে শেখার সুযোগ পাবেন। আপনার অতীতকে ঘুরে দেখার এবং বর্তমানের প্রশংসা করার এক সহজ উপায়।
(২) অর্থ সঞ্চয়: সাশ্রয়ী হওয়া ছাড়াও আপনি বই পড়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারেন। নির্দিষ্ট দক্ষতার উপর বই যেমন রান্না, কাঠের কাজ বা সাধারণ ডিআইওয়াইয়ের কাজগুলি শেখা যায়। তখন ঠিকাদারের ভাড়া নেওয়ার জন্য যে অর্থ ব্যয় হত তা সংরক্ষণ করা যায়। কেবল নতুন দক্ষতা অর্জন নয়, অনেক ব্যয়ও সাশ্রয় হয়।

১৪তম বক্তা:
(১) স্বাস্থ্যপ্রদ: টেলিভিশন দেখা বা ভিডিও গেম খেলতে বেশি সময় ব্যয় করা চোখের বা স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘ মেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে। বই নিরাপদ এবং সহজ। খুব বেশি বই পড়ে কেউ কখনও অন্ধ হয়ে যায়নি। বই পড়ার কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা বিপদ নেই। কিন্তু অনেক মজা ও সুবিধা আছে।
(২) স্মার্ট করে তোলে: বই থেকে অনেক কিছু শিখার থাকে। যারা নিয়মিত পড়েন তারা সাধারণত অন্যের চেয়ে স্মার্ট ও বুদ্ধিমান হন। তারা মুক্ত মনের অধিকারী হন এবং তাদের চারপাশ সম্পর্কে থাকেন সচেতন।

১৫ তম বক্তা:
(১) চলচ্চিত্রের চেয়ে বই ভাল: বই থেকে এতগুলি সিনেমা তৈরী হয়েছে। আপনি যদি কোনও বই পড়ে থাকেন এবং তার মুভিটি দেখে থাকেন তবে আপনি সম্মত হবেন যে, বইটি চলচ্চিত্রের চেয়ে শত গুণ ভাল। একটি চরিত্র যা ভাবছে তার মতোই থাকে। চলচ্চিত্র তার অন্য দিকটা কখনও ক্যাপচার করতে পারে না।
(২) অতুলনীয় আনন্দ: আপনি যদি আপনার জীবনে একটি ভাল বই পড়ে থাকেন, তবে আপনি জানতে পারবেন বই আপনাকে কী দিয়েছে। বই পাঠককে অতুলনীয় আনন্দ দেয়। বই পড়া একটি অমূল্য কাজ। তবে বেশিরভাগ লোকেরা জানেন না বই পড়ার ফলে তার কত রকম উপকার হয়।

বক্তৃতা শেষ হলে আমরা সকলে নিজ নিজ রিপোর্ট তৈরী করি। তারপর হ্যান্ডনোট সহ সরেজমিন প্রতিবেদন জমা দেই। প্রাসঙ্গিকতা, সময় ও বিষয় ভিত্তিক যৌক্তিকতা, নোট এবং প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে রিজাল্ট হয়।শিক্ষার্থিদের সৃজনশীল মেধা অন্বেষণের মূল উদ্দেশ্য সফল ও স্বার্থক হয়েছে বলেই আমাদের কাছে প্রতিয়মান হয়েছে।

২৩ এপ্রিল দিনটি ছিল বিলেতের জাতীয় কবি বার্ড অব অ্যাভন বা অ্যাভনের চারণকবি উইলিয়াম শেকসপিয়রের জন্ম দিবস। ১৫৬৪ সালের এই দিনে তিনি পৃথিবীতে আসেন। আবার ১৬১৬ সালের এই দিনে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। আমাদের অনুষ্ঠানটি তাকে উৎসর্গ করা হয়।

আরও পড়ুন



১৩ দিনব্যাপি শিশু চারুকলা উৎসব এর উদ্বোধন

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: আগামীর আকাশে...

প্যারিসে “ইলুসিয়ন দু’ন প্রমনাদ” এর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

বদরুজ্জামান জামান, প্যারিস থেকে: ফ্রান্স...

মা ও দুই মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: নগরীর দক্ষিণ...