লন্ডনে বাংলা মিডিয়া – ১ সাংবাদিক নেতা নবাব উদ্দিন বুদ্ধিদীপ্ত সংগঠক

প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০২০     আপডেট : ২ মাস আগে

সাঈদ চৌধুরী :

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিলেতের প্রাচীনতম সাপ্তাহিক জনমতের সদ্য প্রাক্তন সম্পাদক নবাব উদ্দিন একজন বুদ্ধিদীপ্ত সংগঠক। সৃজনশীল নাট্যকার, সুশিক্ষিত ও বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষ। সাংবাদিক নেতা হিসেবেও সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

মানুষের মন জয় করা ভীষন কঠিন কাজ। এটা সবার পক্ষে সম্ভব হয়না। এক ধরণের ব্যক্তিত্ব ও হৃদয়তা না থাকলে অন্যকে মুগ্ধ করা বা অন্যের কাছে আপন হয়ে ওঠা সহজ নয়। নবাব উদ্দিন অনেক মানুষের প্রিয়পাত্র। দলমত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বহু মানুষ তাকে ভালবাসেন।

কর্মগুণে একজন মানুষ হয়ে ওঠেন অনেক মানুষের মাঝে নেতৃস্থানীয়। অগনিত মানুষকে মুগ্ধ করে হন দলপতি। নবাব উদ্দিন বিলেতে বাংলাদেশী সাংবাদিক সমাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন। নতুন দিনের সাহসী সম্পাদক মহিব চৌধুরী এই ক্লাবের অন্যতম উদ্যোক্তা ও দির্ঘকালীন সভাপতি ছিলেন। বিলেতের বিকাশমান কমিউনিটির ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলায় একজন সামনের কাতারের সৈনিক। মহিব চৌধুরীর পর প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা কোষাধ্যক্ষ নবাব উদ্দিন ক্লাবের সফল সভাপতি হিসেবে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। তার সময়ে প্রেস ক্লাবে সবচেয়ে বেশী লাইফ মেম্বার হয়েছেন। ব্যবসায়ী এবং পেশাজীবি সহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গকে তিনি ক্লাবের সাথে যুক্ত করেছেন।

নবাব উদ্দিন ক্লাবের জন্য সর্বোচ্চ ফান্ড সংগ্রহ করেছেন। প্রায় ৮৮ হাজার পাউন্ড তহবিল গড়েছেন তিনি। অফুরন্ত সাহস আর প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করেন নবাব উদ্দিন। সভাপতি হিসেবে অনেকের আগ্রহ ও ভাবনার বাইরেও কাজ করেছেন। সঠিক সময়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রেস ক্লাবের জন্য এনেছেন সরকারী গ্রান্ট, যা এর আগে বা পরে কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি। তার নেতৃত্বে ক্লাব চ্যারেটি রেজিষ্টার্ড হয়েছে।

প্রেস ক্লাবের ভেদাভেদপূর্ণ রাজনীতিতে নবাব উদ্দিন ছিলেন কৌশলী এবং হৃদয়বান। সদস্যদের মাঝে অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক বহাল রাখার এক জাদুকরি ক্ষমতা রয়েছে তার মাঝে। ২০০৩-২০০৫ সালে প্রেস ক্লাবের নির্বাহী কমিটিতে এক সাথে ছিলাম। ক্লাব ভবন ও গবেষনা কেন্দ্র চালুর ব্যাপারে সবাইকে উৎসাহিত করেছি। নবাব উদ্দিন বিষয়টাকে সিরিয়াসলি গ্রহন করে ছিলেন। সেদিন তিনি ফান্ড রাইজিংয়ের প্রস্তাব নিয়ে বিষদ আলোচনা শেষে উপস্থিত সকলের কাছ থেকে ১২ হাজার পাউন্ডের প্রুতিশ্রুতি আদায় করে ছিলেন। সে সময় আমাদের অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তার অতুলনীয় দক্ষতা ও দৃঢ়তা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

২০০০ সালে আমি যখন বিলেত আসি তখন জনমতের সাথে নবাব উদ্দিন এক যুগ অতিক্রম করেছেন। বাংলাদেশের জন্মের আগে ১৯৬৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে জনমত বাঙ্গালির মুখপত্র হিসেবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে জনমতের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। ১৯৯১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নবাব উদ্দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে জনমতে যুক্ত হয়েছেন। এর অনেক আগে থেকেই জনমত অফিসে যাতায়াত ছিল। তার ঘনিষ্ট বন্ধু বাংলা টিভির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ সামাদুল হক তখন জনমতের সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৭ সালের ৩১ অক্টোবর নবাব উদ্দিন সম্পাদক হিসেবে জনমতের দায়িত্ব নিয়েছেন। অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে কীভাবে স্বপ্ন আর সফলতা অর্জন করেছেন সে এক দীর্ঘ ইতিহাস।

২০০১ সালে বিলেতের নতুন প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে আমরা যখন ইউরো বাংলা নামে বাইলিঙ্গুয়াল (বাংলা-ইংলিশ) সাপ্তাহিক কাগজ করি, তখন তিনি আমাকে শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন। অনেকে বলেছিলেন, শুভেচ্ছার জন্য আমি যেন তার কাছে না যাই। কারণ তিনি খুব কাটখোট্টা লোক। প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে আমাকে নাখুশ করতে পারেন। কিন্তু আমি যখন এ বিষয়ে জনমতে গিয়েছি, তখন তিনি ঠিক আগের মত আতিথেয়তা দেখিয়েছেন এবং যথারীতি শুভেচ্ছা দিয়েছেন। তিনি আমাকে প্রতিদিন ফোন করে খবর নিতেন। এই ভালোবাসা তিনি আজও অব্যাহত রেখেছেন।

তবে তার ক্ষেত্রে অন্যদের ধারণা একেবারে অমূলক নয়। শুধু তাকে গভীর ভাবে বুঝার একটা ব্যাপার আছে। নবাব উদ্দিন যেটা বিশ্বাস করেন, তা অকপট বলে ফেলেন। কারো খুশি বা অনাগ্রহ তিনি তোয়াক্কা করেন না। এটা তার সহজাত অভ্যাস। কোন রকম ভনিতা না করেই সরাসরি কথা বলেন নবাব উদ্দিন। ফলে কেউ কেউ হয়ত তাকে প্রাথমিক ভাবে ভুল বুঝেন। দেরিতে হলেও একদিন তারা আবার তার আপন হয়ে ওঠেন।

২০০২ সালে যখন সংবাদ সংস্থা মিডিয়া মহল প্রতিষ্ঠা করি তখন তিনি আমাকে শুধু উৎসাহিত নয়, নানা ভাবে সহায়তা করেছেন। আমাদের উল্লেখযোগ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করেছেন। লন্ডন মুসলিম সেন্টার (এলএমসি) বিজনেস উইংয়ে মিডিয়া মহলের অফিস ছিল। প্রায় ১২ বছর ব্যাপী অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও সৃষ্টিশীল কর্মের বরকতময় জায়গা এটি। নবাব উদ্দিন প্রায়ই এলএমসিতে জুম্মার নামাজ পড়তেন। সেখানে আমরা কিছু সময় একত্রে কাটাতাম। অন্যরাও আসতেন। এক সময় এটা সাংবাদিকদের মিলন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল।

বিলেতে বাঙ্গালির সবচেয়ে বড় অর্জনের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে লন্ডন মুসলিম সেন্টার (এলএমসি) প্রতিষ্ঠা ও সঠিক ভাবে পরিচালনা। এলএমসিতে প্রিন্স চার্ল্স সহ বৃটেনের উল্লেখযোগ্য মন্ত্রি ও আমলা এবং দেশ-বিদেশের অসংখ্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ প্রায় নিয়মিত আসেন। যেখানে প্রতি শুক্রবারে ৭ থেকে ১০ হাজার নারি-পুরুষ জামাতে অংশ গ্রহন করেন।

লন্ডনের মাল্টি কালচারাল সমাজের বিভিন্ন জাতি-ধর্মের আধুনিক ও বিজ্ঞান মনস্ক মানুষ এলএমসিতে এসে ইসলামের পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভের সুযোগ গ্রহন করেন। আমাদের নতুন প্রজন্মের উপযোগী ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানের বহুমাত্রিক সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকান্ড নবাব উদ্দিন সম্যক অবহিত। বাংলাদেশী সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী সমাজের অনেকেই অনুধাবনের আগে তিনি এতে সম্পৃক্ত হয়েছেন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসলাম বিদ্বেষী কেউ কেউ নানা তকমা দিতে চেষ্টা করলেও নবাব উদ্দিন থোড়াই কেয়ার করেছেন।

২০০৩ সালে আমার সম্পাদনায় মিডিয়া মহল থেকে প্রকাশিত হয় অনেক তত্ব ও তথ্য সমৃদ্ধ বৃটেনে বাংলাদেশী ব্যবসা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গাইড ’ইউকে বাংলা ডাইরেক্টরি’। এটা তিনি জনমতে ব্যাপক ভাবে প্রচার করেছেন। দীর্ঘদিন নামমাত্র মূল্যে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন।

২০০৮ সালে বৃটেনের সকল এশিয়ান রেষ্টুরেন্ট নিয়ে আমার সম্পাদিত ইউকে এশিয়ান রেষ্টুরেন্ট ডাইরেক্টরি প্রকাশ কালেও তার ভূমিকা ছিল মনে রাখার মত। তখন এশিয়ান ১৮ হাজার রেষ্টুরেন্টের ঠিকানা সহ তালিকা প্রকাশ করি। এর মধ্যে সাড়ে নয় হাজার অর্থাৎ অর্ধেকের বেশী বাংলাদেশী মালিকানা প্রমান করেছি। বৃটিশ লাইব্রেরি এবং অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি সহ বৃটেনের মূল ধারায় ডকুমেন্ট হিসেবে এখন তা প্রযোজ্য।

২০১০ সালে আমার সবচেয়ে ফ্লাগশিপ প্রকাশনা ইসলামিক সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) ৫৭টি দেশের তত্ত্ব ও তথ্য সমৃদ্ধ মুসলিম ইন্ডেক্স সম্পাদনা কালেও তিনি প্রেরণা সঞ্চার করেছেন। এই ডাইরেক্টরি সমূহ ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এক অপরিহার্য অনুসঙ্গ।

এ রেসিস্ট মার্ডার অব আলতাব আলী শীরোনামে একটি অসাধারণ সংকলন সম্পাদনা করেছেন নবাব উদ্দিন। আলতাব আলী এবং সত্তর ও আশির দশকে বর্ণবাদ বিরোধী যোদ্ধাদের কথা বিধৃত হয়েছে এই বইটিতে। নবাব উদ্দিন সময়ের দাবি পুরণ করেছেন।

আলতাব আলী স্মরণে আমার একটি কবিতা প্রকাশিত হলে কত মানুষ আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের হৃদয়ানুভুতি প্রমান করে আলতার আলী বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এক জ্বলন্ত ইতিহাস।

অশ্রুজলে শোকগাথা শীরোনামে আলতাব অলীকে নিয়ে আমি লিখেছিলাম- ’অসংখ্য মানুষের অশ্রুজলে শোকগাথা/ ১৯৭৮ সালের ৪ মে বৃহস্পতিবার রাতে/ বর্ণবাদী হায়েনাদের উন্মাদনা ও অন্ধত্বে/ খুন হয়েছো তুমি ধারালো অস্ত্রাঘাতে।/ আলতাব আলী অসামান্য ইজমির বুরুজ / কালের কন্ঠে তুমি এখন হিরণ্ময় জ্যোতি/ তোমার ফোঁটা ফোঁটা রক্ত ভেজা জমিতে/ গড়ে উঠেছে বর্ণবাদ বিরোধী শহীদের স্মৃতি।/ রক্ত শুকিয়ে গোলাপের পাপড়ি হয়েছে/ দূর যাত্রায় স্পর্ধিত তারুণ্যের অহমিকা/ গৌরবের ইতিহাসে তুমি এক জ্বলজ্বলে নাম/ তুমি কমিউনিটির উত্তান, আলোকবর্তিকা।/ তুমি আকাশে দীপ্ত উজ্জ্বল পূর্ণিমার চাঁদ / যারা মানুষ খুন করেছে, তারা ঘাতক/ ইতিহাসে তুমিই অমর, গৌরবের সূর্যোদয়/ আর তারা ঘৃণ্য, জীবন থেকে পলাতক।/ পিছন থেকে যারা তোমাকে হত্যা করেছিল/ তারা নিশ্চয় তোমার পিছনেই থেকে যাবে/ তুমি আজ বাঙ্গালির অদম্য প্রেরণার উৎস/ তুমি আছো নয়ন ভরে আমাদের হৃদয় মাঝে।’

১৯৭৮ সালের ৪ মে আলতাব আলীর মৃত্যু গোটা কমিউনিটিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। আলতাব আলি যখন মারা গেলেন, তখন জনগনের সামনে আর কোনো পথ খোলা ছিলনা। বেঁচে থাকার জন্য সবাইকে লড়াইয়ে নামতে হলো। বর্ণবাদিরা পেছন থেকে তার ঘাড়ে ছুরি মেরেছিল। যেখানে তাকে ছুরি মারা হয়েছিল তার কয়েক মিটার দূর পর্যন্ত কোনো মতে শরীরটাকে টেনে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন আলতাব আলী। তারপরই রাস্তায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। রেসিস্ট রয় আর্নল্ড, কার্ল লাডলো এবং আরেক কিশোর মিলে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল। আলতাব আলি তাদের ব্যক্তিগত শত্রু ছিলেন না। তারা মূলত বিকাশমান বাংলাদেশী সমাজের একজনকে খুন করেছে। এই ঘটনায় ঘুরে দাড়ায় আমাদের তরুণ প্রজন্ম।

আলতাব আলী প্রসঙ্গে আরো একজন মানুষের কথা এখানে প্রাসঙ্গিক ভাবে স্মরণ করছি। তিনি হলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে দুই বারের বিজয়ী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নির্বাহী মেয়র লুতফুর রহমান। বৃটেনে ১৩ জন নির্বাচিত মেয়রের মধ্যে তিনিই ছিলেন একমাত্র অশ্বেতাঙ্গ এবং প্রথম মুসলিম ও প্রথম বাংলাদেশী মেয়র। বৃটেনের শীর্ষ পত্রিকা ডেইলি টেলিগ্রাফে সেরা ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তিনি। মেয়র লুতফুর রহমান আলতাব আলী পার্ক আধুনিকায়ন করে গণমানুষের ভালবাসার জায়গাটি দখল করে আছেন।

শীর্ষস্থানীয় বাংলা সাপ্তাহিকী জনমত জন্মের ৫০ বছর ও নবাব উদ্দিনের দক্ষ পরিচালনায় ২১ বছর পাড়ি দিয়ে ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ বৃহস্পতিবার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব উদযাপন করেছে। বৃটিশ পার্লামেন্টে আয়োজিত ঐতিহাসিক ক্ষণে বিপুল সংখ্যক এমপি, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী এবং কমিউনিটি ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের প্রাণজ উপস্থিতিতে পালিত হয় ৫০ বছর ধরে জনগণের জনমত এর সুবর্ণ জয়ন্তি। সেই সাথে শুরু হয় বছরব্যাপী উৎসব ও প্রযুক্তিয়ানের পথে উত্তরণে জনমতের যাত্রা।

হাউজ অব কমন্সের কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারিয়ান এসোসিয়েশন (সিপিএ) রুমে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানের হোস্ট ছিলেন নারী ও সমতা বিষয়ক ছায়া মন্ত্রী ডন বাটলার এমপি।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে বৃটিশ ফরেন এন্ড কমনওয়েলথ মিনিস্টার মার্ক ফিল্ড বলেন, জনমত তার পথচলায় ৫০ বছর পূর্ণ করায় আমি খুবই আনন্দিত এবং এটি যেন শতাব্দী ছুঁতে পারে সেজন্য শুভ কামনা থাকলো। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর এখানকার বাঙালি কমিউনিটি ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধনেও জনমত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। যুক্তরাজ্যের সাথে বাংলাদেশের শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে এবং এই সম্পর্ক দিনকে দিন আরো শক্তিশালী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ছায়া মন্ত্রী ডন বাটলার বলেন, বৃটেনে অভিবাসী কমিউনিটির মুখপত্র হিসেবে জনমতের ৫০ বছর এবং এর সাফল্য গাঁথায় আমি ভীষণভাবে গর্বিত। আজ এখানে বিপুল সংখ্যক অতিথিদের আমন্ত্রণ জানাতে পেরে এবং জনমতের বছরব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বটির হোস্ট হতে পেরে আমি আনন্দিত।

জনমতের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আমিরুল চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে অভ্যাগতদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান জনমত সম্পাদক নবাব উদ্দিন। জনমত ও কমিউনিটির মধ্যকার মেলবন্ধন তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন প্রধান সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা। উৎসবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন ‘জনমত উৎসব’ এর প্রধান সমন্বয়ক মাহবুব রহমান। ১৯৬৯ সালে জনমতের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ও সাবেক প্রধান সম্পাদক আনিস আহমদ সবাইকে জনমত শুরুর দিকের গল্প শোনান। সে এক স্মরণীয় স্মৃতিময় ঘটনা প্রবাহ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম, বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক বৃটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী, বেথনাল গ্রীণ এন্ড বো আসনের এমপি রুশনারা আলী, পপলার এন্ড লাইমহাউজ’র এমপি জিম ফিজপ্যাট্রিক, এলিং সাউথহল’র এমপি ভিরেন্দ্র শর্মা, সাটন এন্ড চেহাম’র কনজারভেটিভ এমপি পল স্কালি, ইউকে বাংলাদেশ ক্যাটালিস্ট অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির (ইউকেবিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট বজলুর রশিদ এমবিই, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের (বিসিএ) সাবেক প্রেসিডেন্ট পাশা খন্দকার এমবিই, ব্রেন্ট কাউন্সিলের সাবেক মেয়র কাউন্সিলর পারভেজ আহমদ, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হক চৌধুরী, ঢাকা রিজেন্সি হোটেল এন্ড রিসোর্টের চেয়ারম্যান মুসলেহ উদ্দিন, বাংলাদেশ সেন্টার লন্ডনের সহ-সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব প্রমুখ। সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন জনমতের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর জুনেদ চৌধুরী।

২০১৬ সালে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সদ্য প্রাক্তন সভাপতি ও জনমত সম্পাদক নবাব উদ্দিন একদল সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি নিয়ে আমেরিকা সফর করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাপ্তাহিক জনমতের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ নাহাশ পাশা, সাপ্তাহিক বাংলা পোস্ট সম্পাদক ব্যারিষ্টার তারেক চৌধুরী, জনমতের রাজনৈতিক সম্পাদক ইসহাক কাজল, টাওয়ার হ্যামলেটসের কমিউনিকেশন এডভাইজার মাহবুব রহমান, বৃটিশ বাংলাদেশী ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের (বিবিসিএ) সাধারণ সম্পাদক শাহানুর খান, বৃটিশ বাংলাদেশী পাওয়ার এন্ড ইন্সপায়ারেশনের (বিবিপিই) প্রতিষ্ঠাতা আবদাল উল্লাহ ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কলাম্বাস এজেন্সির স্বত্তাধিকারী বাবলুল হক।

২৪ ফেব্রুয়ারি তাদের সম্মানে টাইম টিভি ও বাংলা পত্রিকা এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। নিউইয়র্ক সিটির এস্টোরিয়াস্থ তাদের বার্তা কক্ষে আমেরিকান বাংলাদেশী সম্পাদক-সাংবাদিকগণ এতে অংশ গ্রহন করেন।

বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টিভি’র সিইও আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি তাসের মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্ক’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহীম হাওলাদার, বিএফইউজে’র সাবেক দপ্তর সম্পাদক ইমরান আনসারী প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।

সেখানে বক্তারা বলেন, প্রিন্ট মিডিয়ার প্রাণ হচ্ছেন পাঠক আর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রাণ হচ্ছেন তার দর্শক-শ্রোতা। যে মিডিয়া তার পরিবেশনার মাধ্যমে পাঠক আর দর্শক-শ্রোতার মন জয় করতে পারবে, সেই মিডিয়াই টিকে থাকবে। এক্ষেত্রে তারা বৃটেনের বহুল প্রচারিত ও প্রাচীনতম বাংলা সাপ্তাহিক ‘জনমত’ পত্রিকার উদারণ তুলে ধরে বলেন, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত জনমত প্রতি সপ্তাহে একটানা প্রকাশিত হয়ে আজ ৪৮ বছরে পদার্পণ করেছে। মাত্র দু’বছর পর জনমত পঞ্চাশ বছরে পদার্পণ করবে। বাংলাদেশের বাইরে বহির্বিশ্বে‘জনমত’ই একমাত্র বাংলা ভাষার পত্রিকা যার এই গৌরবের মূল শক্তি হচ্ছে তার পাঠক।

অনুষ্ঠানে লন্ডনের সাংবাদিকরা বলেন, বৃটেনে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত চতুর্থ প্রজন্ম সকল স্তরে সাফল্যের সাথে অবস্থান করার পেছনে মিডিয়ার অবদান রয়েছে। তারা বলেন, জনমত সহ লন্ডনের বাংলা পত্রিকাগুলো বৃটেনের মূলধারায় প্রভাব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে বিগত নির্বাচরে আমরা তিনজন বৃটিশ বাংলাদেশীকে এমপি নির্বাচিত করা সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জনপ্রিতিনিধি নির্বাচিত করতে পারছি।

সভায় বক্তারা লন্ডন-নিউইয়র্কের মধ্যে সেতু বন্ধনের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এক্ষেত্রে উভয় শহরের বাংলা মিডিয়া আর সাংবাদিকরা যথেষ্ট অবদান রাখতে পারেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে সময় টিভি’র যুক্তরাষ্ট্র ব্যুরো প্রধান শিহাব উদ্দীন কিসলু, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম, বিশিষ্ট সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণ, লেখক-কলামিস্ট ও দি অপ্টিমিস্ট-এর সভাপতি মিনহাজ আহমদ সাম্মু, টাইম টিভি’র বিশেষ প্রতিনিধি শিবলী চৌধুরী কায়েস, টাইম টিভি ও বাংলা পত্রিকা’র বিশেষ প্রতিনিধি শাহাব উদ্দিন সাগর, চ্যানেল আই’র আবিদুর রহমান, যমুনা টিভি’র যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি হাসানুজ্জামান সাকী, সাংবাদিক সোহেল মাহমুদ, টাইম টিভি’র আউটরীচ ডিরেক্টর সৈয়দ ইলিয়াস খসরু, টাইম টিভি’র বিজনেস কনসালটেন্ট ইকবাল ফেরদৌস, সমীক্ষা’র রশীদ আহমদ সহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় অতিথিগণ বিলেত থেকে বাংলা পত্রিকা প্রকাশনার শত বছরের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯১৪ সালে লন্ডন থেকে ‘সত্য যুগ’ নামে প্রথম বাংলা ভাষায় পত্রিকা প্রকাশিত হয়। আমরা ‘বৃটেনে বাংলা পত্রিকার শত বছর অনুষ্ঠান’ আয়োজনের চেষ্টা করছি।

নবাব উদ্দিনের কর্মময় জীবন নিয়ে ‘দীপ্ত পথচলা’ নামে সম্প্রতি একটি বই বেরিয়েছে। সাংবাদিক ও গল্পকার সাঈম চৌধুরী সম্পাদিত ৭১ জন সাহিত্যিক-সাংবাদিক ও সুধীজনের লেখা সংকলনটি বিলেতের বাংলা প্রকাশনা জগতে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

গত ২ ফেব্রুয়ারি পূর্ব লন্ডনে নবাব উদ্দিনের লেখা ‘যেতে যেতে পথে’, তার সম্পিাদিত গ্রন্থ ‘ এ রেসিস্ট মার্ডার অব আলতাব আলী’ এবং তাকে নিয়ে লেখা ‘দীপ্ত পথচলা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিভিন্ন সেক্টরের ২১ জন সফল মানুষ অতিথি ছিলেন। বিলেতের উল্লেখেযোগ্য বিশিষ্টজনের উপস্থিতি আনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় করে তুলেছিল।

সাংবাদিক সাঈম চৌধুরীর পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন লেখক ও সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইকবাল আহমদ ওবিই, চ্যানেল এস টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা মাহী ফেরদৌস জলীল, বেসরকারি দাতব্য সংস্থা আপাসেন’র প্রধান নির্বাহী মাহমুদ হাসান এমবিই, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী প্রমুখ।

প্রখ্যাত সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, পৃথিবীতে অনেক নবাব রয়েছে, কিন্তু আমাদের নবাব হচ্ছেন জনগণের নবাব! সে জীবনে যা করতে চেয়েছে তাই করেছে। এক জীবনে নাটক, খেলাধূলা, জনমতের মতো পত্রিকার সম্পাদনা, চ্যারিটির কাজ, বাচ্চাদের মানুষ করা সবই সে সফলতার সাথে করেছে।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইকবাল আহমদ ওবিই বলেন, নবাব আমার কাছে একজন স্টার! তার মতো ভালো বন্ধু এবং মধ্যস্থতাকারী পাওয়া আসলেই দুস্কর। আমার ব্যক্তিগত কয়েকটি সমস্যা সমাধানে নবাব যে ভূমিকা রেখেছেন, সেই কৃতজ্ঞতা জানাতেই আমি আজকে এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ নিয়েছি।

চ্যানেল এস টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা মাহী ফেরদৌস জলিল বলেন, নবাব উদ্দিন হচ্ছেন বিলেতের নবাব। তিনি যা করেছেন তা এই কমিউনিটির জন্য, বাংলা সংস্কৃতিকে ভালোবেসে করেছেন। তার মতো মানুষ সম্পাদক বলেই কমিউনিটিতে এখনো বাংলা পত্রিকার অবস্থান আছে। নবাব উদ্দিন তার কর্মে বেঁচে থাকবেন। তার উত্তরসুরীরা তাকে বাঁচিয়ে রাখবেন।

মাহমুদ হাসান এমবিই নবাব উদ্দিনের সাথে ৪ দশকের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, নবাব উদ্দিনকে আমি সেই ৪০ বছর আগে যেমন প্রাণ চাঞ্চল্যে ভরপুর দেখেছি আজো তেমনি আছেন। নবাবের কর্মময় জীবন তাকে বাঁচিয়ে রাখবে দীর্ঘদিন।

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, নবাব উদ্দিন মানুষের কতো কাছাকাছি সেটা আজকের অনুষ্ঠানের উপস্থিতিই বলে দেয়। একজন ব্যক্তির ডাকে এতো মানুষের উপস্থিতি বিরল।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে নবাব উদ্দিন জনমতের সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য ততকালীন সম্পাদক, বাংলা টিভির প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ সামাদুল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি অারো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আগে জন্ম নেয়া জনমতের যে আদর্শ ছিলো মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে কাজ করার, সম্পাদকের দায়িত্ব নেয়ার পর ২২ বছর সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ করে গেছেন।

নবাব উদ্দিন যাপিত জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, গত ২২ বছর সম্পাদকের জীবন সহজ ছিলোনা, অনেক মামলা, হামলা, হুমকী মোকাবেলা করে কমিউনিটির স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়ায় জনমত সারা বৃটেনে ঈর্ষণীয় সাফল্য পায়, অর্জন করে কমিউনিটির অন্যতম মুখপাত্র হওয়ার গৌরব।

নবাব উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ এই সময়ে পত্রিকা চালাতে গিয়ে, কমিউনিটির স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে অনেক সময় অনেক মানুষকে হয়তো কষ্ট দিয়েছি, আশা করি তারা আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।

অনুষ্ঠানে বই থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ পাঠ করেন আবৃত্তিকার ও সংবাদ পাঠক তৌহিদ শাকিল, শহিদুল ইসলাম সাগর, সাংবাদিক বুলবুল হাসান। আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী মুনীরা পারভীন।

নবাব উদ্দিনের রচিত নাটক থেকে পাঠ করেন উপস্থাপিকা উর্মি মাজহার ও আবৃত্তিশিল্পী সালাউদ্দিন শাহীন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে নবাব উদ্দিনের কর্মমময় জীবনের উপর আব্দুল হান্নান নির্মিত তথ্যচিত্র দীপ্ত পথচলা এবং ইস্ট হ্যান্ডস চ্যারিটি সংস্থার উপর দুটি পৃথক তথ্যচিত্র দেখানো হয়।

অনুষ্ঠানে সাপ্তাহিক জনমতের সম্পাদকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন নবাব উদ্দিন। তিনি ৩০ বছর ধরে জনমতের সাথে ছিলেন এবং ২২ বছর সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও সমাজসেবী নবাব উদ্দিনের জন্ম ১৯৬২ সালের ২৪ অক্টোবর মৌলবী বাজার শাহ বন্দর (ফতেহ পুর) মুন্সি বাড়িতে।বিলেত এসেছেন ১৯৭৮ সালে ১৫ জুলাই। তার গর্বিত পিতা মোহাম্মদ মুরাদ মিয়া ও মাতা করিমুন্নেসা। স্ত্রী ফৌজিয়া ওয়াহিদা ডলি একজন শিক্ষক। তাদের পুত্র নাবহান ওয়ামিক বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী কেপিএমজিতে ম্যানেজমেন্ট কন্সালটেন্ট। মেয়ে নাবিহা ওয়াফিকা ব্যারিষ্টার ও সলিসিটর, লন্ডনের একটি খ্যাতিমান ল’ ফার্মে কর্মরত।

আরও পড়ুন