লক ডাউন / বিবেক ডাউন

প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২০     আপডেট : ৩ দিন আগে  
  

জুয়েল সাদত : ৭ সপ্তাহের দ্বারপ্রান্তে। এই সময়টা নিয়ে মহাকাব্য্ রচিত হবে। কেমন গেল? কিভাবে কাটালাম? কি ভুমিকা রাখলাম? নাকি দায় এড়ালাম?

সব উত্তর হল কিছুটা কাজ হয়েছে আমার মাধ্যমে। এ রকম অবসর জীবনে ফিরবে না। নানান মাধ্যমে কাজ করেছি। কবিতা, প্রবন্ধ, লাইভ, টক শো, হোষ্ট, সামাজিক এওয়ারনেস সবই হয়েছে। করোনা শুরুর প্রথম ধাপে পিবি টিভিতে জয়েন করলাম পরিচালক হিসাবে, এখন সেটার” হ্যালো আমেরিকা ” করি। ৫ টি শো করেই বেশ জনপ্রিয় আমার শো-টা। গেষ্ট বাছাই করি হাই প্রফেশনাল।
৭ বছরের ঢাকার বন্ধু র মেয়ে সিজদা কে নিয়ে একটা শো করলাম ৩০ লাখ দেশ বিদেশে দেখলেন। এটা জীবনের একটা মাইল ফলক।
আরও নানান টিভিতে অতিথি হিসাবে ছিলাম, কখনও দিনে ২/৩ টা। নানান পেইজে আমাকে এডমিন বানিয়ে অনুরোধ করায় সেগুলোতে ছিলাম সরব। সর্ব নিম্ন ৪ হাজার থেকে ৩০ লাখ ভিউয়ার রা আমার লাইভ / টক শো দেখেছেন। RTV সহ ( ঢাকা) লন্ডন / ঢাকা/ সিলেট/ নিউ ইয়র্ক এর নানান টিভিতে সরব থাকার চেষ্টা করেছি।
নানান লোকেশনে, নানান বিষয়ে সবাইকে আমেরিকার আপডেট দেবার চেষ্টা করলাম। একাধিকবার গাড়ি চালিয়ে শহর দেখিয়েছি তথ্য প্রদানের চেস্টা করেছি।।
নতুন এই ভিজুওয়াল মাধ্যমে নতুন হিসাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

নানান নাম জানা, না জানা মাধ্যমে চ্যারিটি করার প্রানান্ত চেস্টা অব্যাহত রয়েছে। সাদাত ফাউন্ডেশন একটি যুগান্তকারী ভুমিকা রেখে যাচ্ছে।

কখনো মন খারাপ থাকায় ফটোস্যুট করেছি,বিভিন্ন লোকেশনে পার্ট অব লাইভ শোতে।

চাইলেই পারা যায়। চেয়েছিলাম, সুযোগ গুলো আমার দ্বারে চলে এসেছিল। নতুন অনেক কিছুতেই জড়িত হলাম। নাম বলে বিরক্ত করব না।
তবে – monosheba.com অন্যতম। বাঙলা ভাষাভাষী র মানসিক সমস্যা সমাধানের একটি নন প্রফিট সংগঠন।

মরহুম ডাক্তার মইন উদ্দিন কে নিয়ে অনেক লিখেছি, অনেক বলেছি । অপপ্রচার কারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব ও দিয়েছি। উনার শুন্যতা সারা জীবন অনুভব করব।

প্রিয় ও একমাত্র ভাতিজি মিশুর বিয়ে সম্পন্ন করলাম করোনা কালিন সময়ে খুব ই সাদামাটা ভাবে। তাদের জন্য দোয়া চাই।

সাবেক প্রধান বিচাপতি মুহাম্মাদ হাবিবুর রহমানের কুরআনের বাংলা কোরআন পড়ি সব সময় । সবাই পড়বেন, কুরআন বুঝা খুব জরুরী।

দেখতে দেখতে অনেক সময় চলে গেল। বাসায় স্টুডিও বানিয়ে দিন রাত আমেরিকার কথাই বলেছি।। যে কোন সময় যুক্ত হই টিভিতে। সব সময় শেইভ করে ফিটফাট থাকতে হয়।
বাচ্চাদের এত কাছাকাছি ছিলাম, সে এক অন্য অনুভুতি।

( পার্ট ২) :

দেখতে দেখতে আড়াই মাস, আমরা একটি অদৃশ্য ভাইরাসের কারনে গৃহবন্দী। আস্তে আস্তে সব কিছু স্বাভাবিক হবার পথে। পরিবার ও বাচ্চাদের সাথে আমরা একটি কোয়ালিটি সময় অতিবাহিত করলাম।
অনেকটা চাপে পড়েই আমরা পরিবার পরিজন ও বাচ্চাদের খুব কাছ থেকে দেখার ও বোঝার সুযোগ পেলাম। সেই সময়টার চমৎকার কিছু ছবি আজ প্রকাশ করলাম।
ব্যাডমিন্টন,লুডু খেলা, সাইকেল চালানো,মাছ ধরা, বাসার পেছনে দোলনায় খেলা, কত কিছুই না করলাম। সাথে ছিল আমার স্টুডিও তে দিনরাত রেকর্ডের কাজ,লাইভ। বাচ্চারা আমাকে অনেক সহযোগিতা করল।
কাজ ছাড়া একটি পুর্নাঙ্গ রমজান পালন করলাম। প্রায় ৬০/৭০ দিন টানা জামাতে নামাজ পড়েছি ও পড়াচ্ছি।
৪০ দিন একটানা নামাজ পড়লে ভাল নামাজি হওয়া যায়। আমার বাচ্চারাও নামাজ, আযান আকামত দিল। কত সুন্দর ও মুল্যবান সেই সময়টা, যা জীবনেও সম্ভব হত না।
“করোনা তুমি অন্য রকম আশির্বাদ”
তুমি সামাজিক পারিবারিক বন্ধনের এক ইতিহাস।
অনেক ফটোসেশান হল। ১০ টি টিভিতে, ৪ টি পেইজে ও পিবি টিভি তে ছিলাম সক্রিয়। ষ্টেশন,বিমানবন্দর, গাড়ি চালিয়ে লাইভ করেছি মার্চ থেকে মে প্রায় তিন মাস। বিবেকের তাড়নায় সংবাদমাধ্যম এর মানুষ হিসাবে ভুমিকা রাখার প্রানান্ত চেষ্টা দৃশ্যমান ছিল।

চ্যারিটি করেছি সিলেটের দশ টি সংগঠনের মাধ্যমে ছবি প্রকাশ ছাড়া। আমেরিকার মানুষদের ও খাবার পৌছিয়ে দিয়েছি। বাজার করে দিয়েছি।

যে যেখান থেকে ইশারা করেছেন, সাথে সাথে একটিভ থেকেছি।। মহাকাব্য লেখা হবে একদিন।

“”প্রকৃতি তার শোধ নিল পুরোটা হিসাব করে “‘

আমরা মশার মত ছোট প্রানির কাছ থেকে বাচতে মশারির ভেতর লুকাই, আজ করোনা ভাইরাস সারা পৃথিবীর প্রায় ৬০০ কোটি মানুষকে গৃহবন্দী করেছে।। তারপর ও আমাদের দম্ভ / অহংকার থামবে না।

স্মৃতির পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ইদ মোবারক।।
যারা রমজানে ইফতার পার্টি করতেন প্রতিবছর তারা সেই টাকাটা দান করবেন। করপোরেট ও বিভিন্ন ব্যাংক বীমা, রাজনৈতিক দল, সংগঠন, প্রতিষ্টান লাখ লাখ টাকা বাজেটের ইফতার পার্টির করতেন। তাদের উচিত ইদের পরও সেই টাকাটার ত্রান বিতরন করবেন।
কয়েক শত মিলিয়ন ডলার বেচে গেল ইফতার পার্টি না করে, সেই টাকাটা চ্যারিটি করেন।।
সবাই অনন্ত জলিল কে ফলো করেন।
তাহলেই দেশ ঘুরে দাঁড়াবে।

সারা রমজান জুড়ে সুরা বাকারা ‘র বাংলা তরজমা পড়লাম। কেউ জিঙ্গেস করতে পারেন ৩০ দিনে একটি মাত্র সুরা। জি, দায়িত্ব নিয়ে বলছি শুধু সুরা বাকারার বাংলা পড়েন, জীবনের গতিপথ সোজা হয়ে যাবে। একটি মাত্র সুরাতেই সারা পৃথিবীর সব কিছু বিদ্যমান। এই সুরার মর্মাত্ব মানলে বেহেশতের পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।
আমিন।

আরও পড়ুন



মাধবপুরে জলাতঙ্ক রোগ নির্মূলে অবহিতকরণ সভা

আবুল হোসেন সবুজ,মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:...

গাঁজাসহ শাবি ছাত্রলীগের দুই নেতাসহ আটক তিন

গাজাঁসহ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি...