রুহুল আমিন রুহেল : সব্যসাচী এক কবি প্রতিকৃতি

প্রকাশিত : ১১ আগস্ট, ২০১৯     আপডেট : ১১ মাস আগে

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল
‘মানুষ মানুষের জন্য’ কথাটি বোধ হয় হৃদয়ের মফস্বলে বীজযন্ত্রের মতো গেঁথে আছে। মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মে, সৃজনসৌষ্ঠবে।
সিলেটের অন্যতম প্রতিভাদীপ্ত লেখক, গীতিকবি, সংগঠক ও সমাজহিতৈষী রুহুল আমিন রুহেল। তার নিরন্তর সাহিত্যচর্চা
বাংলাসাহিত্যের পটভূমিকে আরো সুফলাশৈলীতে ভরে তুলছে। দূর প্রবাসে থেকেও, ব্যস্ততার প্রতিটি অবসর তিনি বাঙালি ও
বাংলাসাহিত্যের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। সব্যসাচী এই লেখক বইপড়া, লেখালেখি ও সমাজের উনড়বয়ন কর্মকা-ের
ভেতরেই তার বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চান। তাকে নিয়ে আজকের এই নিবন্ধে, রুহুল আমিন রুহেল শুধু ব্যক্তি হিসেবে নয়,
একজন কবি ও কথাশিল্পী হিসেবে বাঙালি পাঠক সমাজে কতটা সফল, তাই তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
বাংলা মরমী সংগীতের সূচনাপর্বের অন্যতম ধারা পুঁথি। কাহিনীকাব্য, গীতিকবিতা, ধর্মীয়শ্লোক, উপাখ্যান, জীবনচরিত, ঐতিহাসিক
ঘটনাপ্রবাহ ইত্যাদির আদি সৃষ্টিযোগ এই পুঁথি। পুঁথির ভাষা সহজ, সরল-রসযুক্ত, সুরারোপিত, ছন্দমধুর, দরদপূর্ণ ও বিভিনড়ব ভাষা
থেকে আগত শব্দের সুললিত নির্যাস। যা শোনা মাত্রই শ্রোতার হৃদয় আবেগ-উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে।
পুঁথির বিষয় ইতিহাস হতে পারে তা পুঁথির জন্য নতুন কিছু নয়। আদিতে ইতিহাসকে আশ্রয় করে অনেক গাথা পুঁথি রচিত হয়েছে।
আধুনিক যুগে এসেও এ ধারাটির চর্চা অব্যাহত রেখেছেন লেখক ও গীতিকবি রুহুল আমিন রুহেল। তার এই আন্তরিক প্রয়াসে ওঠে
এসেছে চৈতন্যদেবের ঐতিহাসিক উপজেলা গোলাপগঞ্জের কথা। পুঁথির ভাষায় কবি তার রচনাটি সমৃদ্ধ করেছেন।
গোলাপগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে। তার সবই গদ্যে। তবে সম্ভবত গোলাপগঞ্জ নিয়ে পুঁথি ইতিহাস এটাই
প্রম। লেখক তার আপন ছন্দ ও তথ্যচিত্রণের মাধ্যমে গ্রন্থটি রচনা করেছেন। পুঁথি ছন্দে গোলাপগঞ্জের ইতিবৃত্ত গ্রন্থটি পাঠকের সমাদর
পাবে এটাই প্রত্যাশা।
রুহুল আমিন রুহেল একজন গীতিকবি হিসেবে সুখ্যাতির অধিকারী। ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তার
গীতিকবিতার গ্রন্থ পঞ্চরঙ্গ। গ্রন্থটি তিনি তার কবিবন্ধু শামীম আহমেদকে উৎসর্গ করেছেন। পুরো গ্রন্থটি কবি প্রেম ও ভক্তিমূলক লিখা
দিয়ে সাজিয়েছেন। আমরা এখন তার গ্রন্থভুক্ত কবিতাগুলোর উপর আলো ফেলতে চাই। একজন রুহুল আমিন রুহেলকে খোঁজে পেতে
হলে তার রচনাগুলো আমাদের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
পঞ্চরঙ্গ গ্রন্থে একশ’টি গীতসংকলিত করেছেন কবি। সেখান থেকে পাঠকের জন্য কিছু উদ্ধৃতি তুলে ধরছিÑ‘তুমি চাইলে আমি ডাকি
তুমি এই দেহ রথে/ আমি গুণাগার সাজিলাম বলো কোন সূত্রমতে।’ স্রষ্টার কাছে কবি প্রশড়ব করছেন। যেহেতু স্রষ্টার সানিড়বধ্য প্রতিটি
মানবশরীরে অবস্থান করছে, সেই প্রেক্ষিতে মানুষ কীভাবে পাপে লিপ্ত হতে পারে? তাহলে কী স্রষ্টার অদৃশ্য কোনো সূত্র রয়েছে অথবা
কোনো রহস্য, যা মানুষকে বাধ্য করে কোনো অশুভ পরিণতির দিকে এগিয়ে যেতে। কবির এই প্রশড়ব অনাদিকাল থেকে মানুষ অহরহ
করে যাচ্ছে। আগামিতেও করে যাবে।
পঞ্চরঙ্গের আরেকটি কবিতায় কবি লিখেছেনÑ‘সোনার নূপুর পায়, হলুদ মাখা গায়/ দক্ষিণা বাতাসে শাড়ির আঁচল উড়ায়/ যেজন
দেখেছে কন্যা বারেক ফিরিয়া চায়।’ রূপবতী কোনো কন্যার প্রশংসায় কবি পঞ্চমুখ। আবহমান বাংলার লজ্জাবতী নারীর চিরায়ত রূপ
এখানে ফোটে উঠেছে। সুন্দরী নারীর রূপে কবি মুগ্ধ হলেও তার এই মুগ্ধতাকে টেনে নিয়ে গেছেন জীবনের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত। কবি
বলেন, ‘তোমার অঙ্গের বসন আমার হয় যেন কাফন/ শেষ বিদায়বেলা ওগো আমার শেষ নিবেদন।’ মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ব না থাকলে
কেউ মানুষ হতে পারে না। মানুষের দুঃখ-কষ্ট-অসহায়ত্বের সময় মানুষ এলে সহযোগিতার হাত না বাড়ালে, সে কিসের মানুষ। কবি
মনের খেদ প্রকাশ করে বলেন, ‘মানুষ হয়ে জন্ম নিয়া মনুষ্যত্ব দেয় বিসর্জন/ মানুষের দুঃখ দেখে, জল ঝরে না চোখে/ ওগো আমার
বিধাতা কেমন মানুষ করলে সৃজন।’ কবি রুহুল আমিন রুহেল পঞ্চরঙ্গ গ্রন্থের কবিতায় বিভিনড়ব রস ও আসক্তির চিত্র এঁকেছেন।
‘গোলাপ’ তার কবিতায় নারীর একটি চিরন্তন প্রতীকী রূপ। তিনি লিখেছেন, ‘ঝরে যদি যাবে হে গোলাপ তবে কেন ফুটেছিলে/
আজীবন যদি হাসিবে না ক্ষণিক কেন হেসেছিলে।’
‘আত্মা’ শব্দ থেকে ‘আত্ম’-এর পথ ধরে ‘স্বার্থ’-শব্দের ভেতর মানুষ আটকে আছে। স্বার্থ ছাড়া মানুষ এখন আর একটি মুহূর্ত কাটাতে
পারে না। কোনো কাজ, কোনো সম্পর্ক, কোনো চেতনাই আর স্বার্থমুক্ত নয়। কবি ভারাμান্ত মনে লিখেছেন, ‘স্বার্থের তাগিদে কাছে
আসে মনের টানে কেউ আসে না। আমি বুঝছি আজ কেউ কারো হয় না/ মানুষ মানুষকে ভালোবাসে না।’ ঠিক তার বিপরীত ধাতের
কিছু মানুষ এ পৃথিবীতে রয়েছেন। তাদের মঙ্গলচিন্তা, সহানুভূতি ও সহযোগিতায় সমাজের বঞ্চিত এবং নিপীড়িত মানুষ ভালোভাবে
বেঁচে থাকতে পারে। তাদের কথাই কবি লিখেছেন এভাবেÑযারা এই মানুষের কাছাকাছি থাকে/ সাড়া দেয় যারা ক্ষুধার্ত মানুষের
ডাকে/ শুধু ওরাই মানুষ, আমি কী মানুষ? কবি এখানে আত্মযাচাই করছেন। আত্মবিবেককে প্রশড়ববিদ্ধ করছেন।

পঞ্চরঙ্গ কবিতাগ্রন্থে কবি একইভাবে সিলেটের ওলী-আউলিয়ার কথাও ফুটিয়ে তুলেছেন তার কবিতায়। উপমহাদেশের অন্যতম
ওলীকুল শিরোমনী হজরত শাহজালাল ইয়েমেনী (রহ.)-এর আগমনে সিলেট কীভাবে ধন্য হলো তার কথা লিখেছেন কবিÑ‘সিলেটের
মাটি, যার পরশে খাঁটি/ তাপসী মায়ের দুলাল বাবা শাহজালাল।’
কবি ভালোবেসে তার মনমিতাকে বিশ^াস করতে পারছেন না। তার মনে কতো সন্দেহ, প্রশড়ব। তিনি বলছেন, ‘ওগো মনমিতা, আমাকে
ভালোবাসা ছিল বুঝি/ তোমার আরো এক বিলাসিতা।’ প্রেমের কবি রুহুল আমিন রুহেলের অনন্য কাব্যগাথা পঞ্চরঙ্গ। কবি পরম যώে
তার এই গ্রন্থটিতে কবিতাভুক্ত করেছেন। আরেকটি কবিতায় আমরা তার মনের আকুলতা ফোটে ওঠতে দেখিÑ‘দূর থেকে দেখে দেখে
হয়েছি আকুল/ বুঝিনি তো তুমি ছিলে কাগজের ফুল।’ কবি রুহুল আমিন রুহেলের আরো দু’টি গীতিকবিতা গ্রন্থ রয়েছে। ‘রুহেল
সঙ্গীত প্রম খ- ও দ্বিতীয় খ-। গ্রন্থ দু’টি যথাμমে ২০০০ ও ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থদ্বয়ে তিনশ’টি সংগীত অন্তর্ভুক্ত করা
হয়। তার লিখা সংগীতে ইতিমধ্যে কণ্ঠ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পীরা। এর মধ্যে অন্যতম হলেন, মুজিব পরদেশী,
সাজ্জাদ সুমন, নিগার সুলতানা, বাউল আলী মিয়া, দুলাল সরকার, বাবুল আহমেদ, ইকবাল শিশির, ফটিক মিয়া, বিরহী কালা মিয়া,
সোমা বেগম, নাজমা বেগম, জহির খান, ঝুমা আক্তার, বিউটি তালুকাদার, রহিমা আক্তার রুহী, উপমা তালুকদার, মায়া ও জেসমিন
ঝুমা প্রমুখ। তার লিখা গানের সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন প্রবাসী ব্যবসায়ী। ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে
তিনি বিলেতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এতো ব্যস্ততার মধ্যে থেকেও তিনি সব্যসাচীর ন্যায় তার লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংগীত রচনার পাশাপাশি তিনি উপন্যাস ও লিখেছেন। তার লেখা উপন্যাস ও গীতিকবিতা ইতিমধ্যে ইংরেজিসহ বিভিনড়ব ভাষায় অনুবাদ
হয়েছে। এখানে আমরা তার অসাধারণ সৃষ্টি ‘জীবনের সাতরং’ উপন্যাস নিয়ে কিছু বক্তব্য তুলে ধরব। ‘জীবনের সাতরং’-এর ইংলিশ
ভার্সনে লেখক নিজেই তার উপন্যাস সম্পর্কে একটি বক্তব্য দিয়েছেন। সেটি হচ্ছেÑ‘ঞযবৎব রং হড় ফড়ঁনঃ ঃযধঃ সধহু
পযধৎধপঃবৎং রহ ঃযরং নড়ড়শ রিষষ ৎবঢ়ষরপধঃব সধহু রহ ৎবধষ ষরভব. ও যধাব হড়ঃ ৎিরঃঃবহ ঃযরং হড়াবষ ঃধৎমবঃরহম ধহু
ঢ়ধৎঃরপঁষধৎ ঢ়বৎংড়হ. ও যধাব ৎিরঃঃবহ রঃ, ধং ঃযবৎব ধিং ধ হববফ ভড়ৎ রঃ. ও যধাব ংববহ ষরভব ভৎড়স ধ পষড়ংব
ঢ়ৎড়ীরসরঃু ধহফ ংঃরষষ ধস ংববরহম রঃ. ও যধাব ংববহ যড়ি ঢ়বড়ঢ়ষব যধাব ঃধশবহ ৎবপড়ঁৎংব ঃড় ংঁপয ধ ংঁনঃবৎভঁমব
ধং ভবরমহরহম ড়ৎ ঢ়ৎবঃবহফরহম ঃড় নব যধঢ়ঢ়ু. ঞযরং ঃযবু ফড় ভড়ৎ ড়হব ৎবধংড়হ–ঝড়পরবঃু. অং বি ষরাব রহ রঃ, বি
হববফ ঃড় পড়হভড়ৎস ঃড় রঃং সড়ৎবং. ডব পধহহড়ঃ নৎবধশ রঃ রং রঃ ঢ়ৎড়ংপৎরনবং ড়ঁৎ রহফরারফঁধষ ফবংরৎব. ও ধস ধ
সবসনবৎ ড়ভ ঃযরং ঝড়পরবঃু ধং ডবষষ.’ লেখক লিখেছেনÑ‘সুখ, দুঃখ, মান-অভিমান, স্বার্থ, ঝামেলা নিয়ে এই উপন্যাস। তাই
পাঠক সমাজের কাছে আমার আবেদন সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকুন। এখন আমি আপনাদেরকে কাজীর কাছে নিয়ে যাচ্ছি। বাহার জোর
করে আমানুদ্দিন মাস্টারের জমির দলিল ছিনিয়ে এনেছে। কাজী বন্দুকের ভয়ে সেদিন কিছু বলেনি তবে সে একটা বদের হাড্ডি।
এভাবে বসে থাকবে না। নিজের বাড়ির চাকরের চোখের সামনে এই অপমান কেমন করে সহ্য হয়? শুধু কি তাই? মাস্টারের মেয়েকে
বিয়ে করার যে স্বপড়ব তাও ধুলিস্যাৎ হয়ে গেল। কাজীর বর্তমান সময়টা খুবই কঠিন। আগের মতো ঘর থেকে বেরোয় না। বাহারকে
কেমন করে শায়স্তা করতে হবে সেই ফন্দি আঁটে। সারাদিন আক্কাসের সাথে পরামর্শ হয়। কাইজ্যাকেও ধরতে হবে। একটা পাগলা
কুকুরের মতো অবস্থা। আক্কাস কাজীকে মিছে সান্ত¡না দিয়ে যায়। আক্কাস খুন খারাবি মোটেই পছন্দ করে না। তবুও অনিচ্ছাসত্ত্বেও
কাজীকে হাতে রাখতে হয়। এই চাকুরিটা তার খুবই প্রয়োজন।’
লেখকের এ দু’টি বক্তব্য থেকে আমরা জীবনের সাতরং উপন্যাসের একটি পরিচ্ছনড়ব পরিচিতি খোঁজে পাই। উপন্যাসের প্রধান বা
কেন্দ্রীয় চরিত্র আমানুদ্দীন মাস্টার। এই চরিত্রটি একজন সাহসী কবি। তার লেখনী সমাজের ভুঁইফোঁড় চাটুকারদের গায়ে জ¦ালা ধরায়।
উপন্যাসের শেষের দিকে আমানুদ্দীনকে এই সমাজের হাতেই খুন হতে হয়। এই আমানুদ্দীনের পরিচয় দিচ্ছেন লেখক
এভাবেÑআমানুদ্দীনের কাঁখে ঝুলানো ব্যাগ, বেশ কিছু বইপত্র আছে মনে হয় কবি মানুষ কখন কি প্রয়োজন হয় কে জানে। আজ
নতুন পাঞ্জাবি পরেছেন। বেশ মানিয়েছে। কবি টাইপের মানুষ যারা তাদেরকে পাঞ্জাবিতে বেশ মানায়। যদি খোঁচা খোঁচা দাড়ি থাকে
তাহলে তো একেবারে সোনায় সোহাগা!
আমানুদ্দীনের মেয়ে মিলি। উপন্যাসের অন্যতম নায়িকা। মিলি নদী ভালোবাসে। লেখক লিখেছেনÑনদী মানুষকে কাছে টানে। এই
নদীর বুকে বড় মায়া। কতো দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছোটে আসে। কিসের টানে মানুষ নদীর এতো কাছাকাছি আসতে চায় তার সঠিক
কোনো ব্যাখ্যা নেই।’ মিলির ভালোবাসার মতো একটি কোমল হৃদয় থাকলেও তার রয়েছে প্রতিবাদ করার ক্ষমতা। তাই সে কাজীর
নিপীড়নের জবাব দেয় এভাবেÑ‘আমি রমিজের মেয়ে নই, পুবপাড়ার কুলসুমও নই যে নীরবে সবকিছু সহ্য করে যাবো। আমি জানি
কেমন করে সময়ের সাথে লড়াই করতে হয়। আমানুদ্দীনের এই মেয়ে লোহা থেকেও অনেক বেশি শক্ত। এই কথাগুলো মনে থাকে
যেন। আমাকে যেতে দিন, রাস্তা ছাড়–ন, নইলে জুতা পেটা এক্ষুণি শুরু হয়ে যাবে।’ উপন্যাসের একটি রম্যচরিত্র কবি শ্রী গণেন্দ্রনাথ।
উপন্যাসের টানা পঠনবিরক্তি এড়াতে লেখক বেশ সুদক্ষ। তিনি গণেন্দ্রনাথ সৃষ্টি করে পাঠককে রসসিক্ত করেছেন। তিনি
লিখেছেনÑ‘কবিতা নং ১১৪, স্থান ঢাকাদক্ষিণ, সময় ২টা ৩১ মিনিট, সাল ১৯৯৪ইং, কবিতার নাম টিকটিকি, কবি শ্রী গণেন্দ্রনাথ।’
পাঠক এই কবির টিকটিকি কবিতা পড়ে হাসি বন্ধ করতে পারবেন না। লেখক তার সৃষ্ট চরিত্র মিলি সম্পর্কে লিখেছেনÑএই উপন্যাসে
মিলি চরিত্রে যে মেয়েটি অভিনয় করেছে আমি চাই সে সুখী হোক। অথচ বাস্তব বড়ই কঠিন। সুখ এতো সহজে আসে না। এমনকি
ইচ্ছা করেও কাউকে সুখ দেয়া যায় না। তবে প্রায় সময় এই মেয়েটিকে সুখী দেখতে পাই তখন আমার মন ভালো হয়ে যায়। কেন মন
ভালো হয় তা বলব না, উপন্যাসের শেষের দিকে এই জবাব অবশ্যই পাওয়া যাবে।’ অত্যন্ত মনোগ্রাহী এই উপন্যাস পুরোপুরি না পড়ে

পাঠক আনন্দ পাবেন না। তবে ছাপার মান ও বানানবিভ্রাট পাঠককে বিভ্রান্ত করবে। লেখক তার পরবর্তী সংস্করণে এসব সংশোধন ও
পরিমার্জন করবেন বলে আশা করছি।
‘জীবনের সাতরং’ উপন্যাসের দ্বিতীয় খ-েও একই সমান্তরালে কাহিনি এগিয়ে নিয়ে গেছেন লেখক। সংসারের বাধা-বিপত্তি, ত্যাগতিতিক্ষা,
বুল বুঝাবুঝি এসব নিয়েই গল্পের সমাপ্তি ঘটেছে। সব্যসাচী কবি ও লেখক রুহুল আমিন রুহেল উপন্যাস রচনার ক্ষেত্রে নতুন
এক ধারার প্রবর্তন ঘটিয়েছেন। যা উপন্যাস পাঠকালে পাঠককে অবশ্যই আনন্দ দেবে।
রুহুল আমিন রুহেল ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের দত্তরাইল গ্রামে এক মুসলিম
পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আব্দুল মতিন চান মিয়া। মাতার নাম সৈয়দা আনোয়ারা খানম। প্রবাসের শত ব্যস্ততা ও
প্রতিকূলতার মাঝে থেকেও তিনি সাহিত্যচর্চা করে যাচ্ছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা আটটি। যথাμমে, ১. রুহেল সঙ্গীত ১মখ-
(প্রকাশকাল ২০০০খ্রি.), ২. রুহেল সঙ্গীত ২য়খ- (প্রকাশকাল ২০০১খ্রি.), ৩. জীবনের সাত রং ১মখ- (প্রকাশকাল ২০০৮খ্রি.), ৪.
এইতো জীবন (প্রকাশকাল ২০০৮খ্রি.), ৫. কেন এমন হয় (প্রকাশকাল ২০১০খ্রি.), ৬. জীবনের সাত রং ২য়খ- (প্রকাশকাল
২০১০খ্রি.), ৭. পঞ্চরঙ্গ গীতিকাব্য (২০১৯খ্রি.), ৮. ভাবতরঙ্গ গীতিকাব্য (২০১৯খ্রি.)। এছাড়া তার আরো ৪টি গ্রন্থ প্রকাশের
অপেক্ষায় ‘শেষ চিঠি’ ‘সুখের চূড়ান্ত সীমা’ ‘এইতো জীবন ৩য়খ-’ এবং ‘শান্তমণি’।
ইতোমধ্যে তার গানের বারোটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। কৃতি এই কবি প্রায় তিনহাজারের বেশি গান রচনা করেছেন। এটি
নিঃসন্দেহে তার জন্য অমরকীর্তি হয়ে থাকবে। তিনি বর্তমানে আব্দুল মতিন চান মিয়া এডুকেশন ট্রাস্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান,
অনোয়ার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বর্তমান কেন্দ্রীয় বোর্ড অব ডাইরেক্টর ছাড়াও সাবেক সভাপতি দত্তরাইল
ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সাবেক উপদেষ্টা গোলাপগঞ্জ হেল্পিং হেন্ডস ইউকে, সদস্য ঢাকাদক্ষিণ উনড়বয়ন সংস্থা
ইউকে, সহ সভাপতি গোলাপগঞ্জ সোশ্যাল ট্রাস্ট ইউকে এবং জীবন সদস্য মুসলিম সাহিত্য সংসদ।
লেখক : প্রকাশক ও প্রাবন্ধিক

আরও পড়ুন