রাজন, রাকিব,রবিউলকে নৃশংসভাবে হত্যা, প্রজন্মের প্রতি রাষ্ট্রের দায় কি?

,
প্রকাশিত : ৩০ জুলাই, ২০১৫     আপডেট : ৭ বছর আগে

রুবেল আহমদ::সিলেটে রাজনকে নির্মমভাবে হত্যা করার ১৫ দিন যেতে না যেতেই ২৯ জুলাই খুলনায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে রাকিব নামক কিশোরকে। ঘটনাটি এ রকম-পিটিআই মোড়ের নূর আলম মটরসের শিশু শ্রমিক রাকিব প্রয়োজনে কবরখানা মোড়ের শরীফ মটরসের পাশের দোকানে রং আনতে যায়। এ সময় শিশু রাকিবকে জাপটে ধরে তার মটর গ্যারেজের ভিতরে নিয়ে যায় শরীফ। সেখানেই ছিল তার দূর সম্পর্কের চাচা মিন্টু খান ও তার মা বিউটি বেগম। শরীফ শিশু রাকিবকে তার গ্যারেজে কাজ না করার কারণে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় মজুরি বেশি পাওয়ায় ওখানে কাজ করছে জানিয়ে তাকে ছেড়ে দিতে আকুতি জানায় শিশু শ্রমিক রাকিব। এ কথা শুনে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে রাকিবের ফুলপ্যান্ট খুলে ফেলে শরীফ। তার মা বিউটি বেগম ও মিন্টু খান শিশু রাকিবকে গ্যারেজের ফ্লোরে চেপে ধরে এবং শরীফ বাস ও ট্রাকে হাওয়া দেবার কমপ্রেসার মেশিনের পাইপ মলদ্বারে ঢুকিয়ে পেটে হাওয়া দিতে শুরু করে। এ সময় শিশু রাকিব যন্ত্রণায় ছটফট শুরু করে। পেটে ও বুকে ব্যথার কথা বলে ছেড়ে দিতে আর্তনাদ করে। একপর্যায়ে বমি শুরু করে রাকিব। এ সময় ঘাতকরা পার্শ্ববর্তী গুডহেলথ ক্লিনিকে নিয়ে যায় রাকিবকে। সেখান থেকে খুলনা জেনারেল হাসপাতাল, পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শিশু রাকিবকে ঢাকায় নেবার পরামর্শ দেন। অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেবার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিশু রাকিবের মৃত্যু হয়। এরপরই ঘটেছে আরেকটি লোমহর্ষক ঘটনা। এবার বরগুনার তালতলীতে ১১ বছরের এক শিশু রবিউল ইসলামকে চোখ উপড়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মাছ চুরির অভিযোগে তাকে এভাবে হত্যা করা হয়। উপজেলার ছোট আমখোলা গ্রামের এক মাছের ঘের থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে ওই এলাকার ফরাজি বাড়ি দাখিল মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। তার বাবার নাম মো. দুলাল মৃধা। এসব কি হচ্ছে বাংলাদেশে? এ দেশের মানুষ কি বিবেক হারিয়ে পশুত্বজীবন বেছে নিতে চাইছে? কোথায় রাষ্ট্রীয় আইন? কেন এসব হায়েনাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠছে না? অনেকেই বলছেন বাংলাদেশ এগোচ্ছে। কোথায় এগোচ্ছে? নৃশংসতায়? প্রজন্মের প্রতি রাষ্ট্রের দায় কি? একটি ঘটনা দিয়ে উদাহরণ দিই। কয়েক বছর আগে আমার বড়ো মেয়ে যে ইন্টারমিডিয়েট স্কুলে পড়তো, সে স্কুলটি ঐ বছর ‘নাসা এক্সপ্লোরার স্কুল’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক স্বীকৃতি পেয়েছিল। গোটা যুক্তরাষ্ট্রে পঞ্চাশটি স্কুল এ সম্মাননা অর্জন করেছিল ওই বছর। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মাত্র চারটি স্কুল পেয়েছিল এ স্বীকৃতি। এ উপলক্ষে স্কুলে একটি বর্ণাঢ্য উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। এই স্বীকৃতির আনন্দকে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক সবার প্রাণে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আয়োজন হয়েছিল শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্ন-উত্তর পর্বের। সে অনুষ্ঠানে বিশ্বের এয়ার স্পেস বিজ্ঞানের মহাশক্তিশালী সংস্থা নাসার দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত হয়েছিলেন। তারা সানন্দে ছাত্রছাত্রী-অভিভাবকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন। ওয়াল্টার জেকব নামের একজন কর্মকর্তা নাসার বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা দিলেন। নাসা যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চাশটি স্কুলকে বেছে নিয়েছে মেধাবৃত্তিতে। এ স্কুলগুলোকে ৩ বছর মিলিয়ন ডলার গ্রান্ট দেবে নাসা। নাসার উদ্দেশ্য হচ্ছে এই পঞ্চাশটি স্কুল থেকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষামনস্ক মেধাবী ছাত্রছাত্রী গড়ে তোলা। মেধা বিবেচনায় নাসা প্রতি বছরই যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চাশটি স্কুলকে গ্রান্ট দিয়ে থাকে।
লেখক: কলামিস্ট, প্রবাসী।


আরও পড়ুন

দি সোয়াদ রেষ্টুরেন্ট এন্ড পাটি সেন্টার এর উদ্বোধন

 নগরীর জিন্দাবাজারে আধুনিক পরিবেশে উন্নত...

কুলাউড়ায় কওমী মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রীর লক্ষাধিক টাকা অনুদান বিতরন

 মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ।। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া...

সিলেট আওয়ামী লীগের নতুন কার্যালয়ের যাত্রা শুরু

 দীর্ঘদিন ধরে কার্যালয় ছাড়া রাজনৈতিক...