রাজনগরে ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন, আটক ৬

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ০৮ জুলাই, ২০২০     আপডেট : ১১ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মৌলভীবাজারের রাজনগরে অজ্ঞাত এক যুবতীকে নর-পশুরা পাশবিক নির্যাতন করে ও গলা টিপে হত্যা করে। পরে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখে। ঘটনার পরের দিন পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার ২৩ দিনপর হত্যাকান্ডে কু¬-উদ্ধার করে পুলিশ।
এর মধ্যে দুইজন অজ্ঞাত যুবতী হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। গত সোমবার দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান, মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম(বার)।
এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই মহিলাসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন রাজনগর উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের মৃত তরমুজ মিয়া ওরফে তম্মু মিয়ার পুত্র জমশেদ মিয়া (৫২), একই উপজেলার চাঁনভাগ গ্রামের হোসেন খাঁর পুত্র বাদশা খাঁ (৩২), সৈয়দনগর (ভাঙ্গারহাট) ইলাছ মিয়ার পুত্র শিপন মিয়া (৩০), চাঁনভাগ (টিলাগাঁও) গ্রামের মজিদ মিয়ার স্ত্রী এনা বেগম ওরফে গোলাপী (৩৫), একই গ্রামের মনির মিয়ার পুত্র জাহাঙ্গীর আলম (২৭) ও সিলেট গোলাপগঞ্জ থানার রনিখাই গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের স্ত্রী সালমা বেগম (২৫)। এ ঘটনায় পলাতক রয়েছেন মৌলভীবাজার বড়দল গ্রামের মৃত শেখ আবুল কালাম আজাদ এর পুত্র শেখ হুমায়ুন আহমদ (২৫)।
পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার) ব্রিফিং-এ জানান, গত ১২ জুন সকালে রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের চাঁনভাগ দক্ষিণ টিলা গ্রামে জনৈক মুকুল মিয়ার আকাশী গাছের বাগান থেকে অজ্ঞাতনামা যুবতীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে আলামত জব্দ ও ময়না তদন্তে গণধর্ষণ ও হত্যার আলামত পায়। পরে আসামীদের ধরতে তার দিক নির্দেশনা মৌলভীবাজার সদর সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জিয়াউর রহমান নেতৃত্বে রাজনগর থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসিম, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম, এসআই বিনয় ভূষণ, এসআই কালাম ও এসআই অজিত কুমার তালুকদারসহ অন্যান্যদের নিয়ে গঠিত তদন্ত টিম বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তদন্তে নামে।
এক পর্যায়ে আসামী জামশেদ মিয়াকে আটক করে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসামী জমশেদ মিয়া স্বীকার করেন তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। জমশেদ এর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাকী আসামীদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরো জানান, অজ্ঞাত খুন হওয়া যুবতী একজন দেহ ব্যবসায়ী ছিল। আসামী সালমা বেগমকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, অজ্ঞাতনামা মৃত যুবতীর (ছদ্মনাম) সুমি বেগম। তবে তার কোন ঠিকানা জানা যায়নি এবং জনৈক রুকশানা বেগম মৃত (ছদ্মনাম) সুিম বেগমকে আসামী সালমার কাছে দেন।
আসামীরা ওই যুবতীকে সিলেটের হুমায়ুন চত্বর এলাকার সালমা বেগম এর কাছ থেকে দুই হাজার টাকা চুক্তিতে নিয়েছিল। তাকে প্রথম রাতে আসামীরা এনা বেগম ওরফে গোলাপীর বাড়ীতে রেখে অসামাজিক কাজ করে। দ্বিতীয় দিন যুবতী রাজী না হওয়ায় তারা তাকে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে রাখে। তবে গ্রেফতারকৃত আসামীদের কাছ থেকে ওই অজ্ঞাত নারীর পরিচয় এখনো পুলিশ শনাক্ত করতে পারেনি।
প্রেস ব্রিফিং এ উপস্থিত ছিলেন সদর সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জিয়াউর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন