•  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তাসলিমা খানম বীথি :
নীলার চেঁচামেচিতে জামিলের মনে পড়ল রসুনের কথা। ঝটপট ল্যাপটপ শার্টডাউন দিয়ে দ্রুত গতিতে নীলা আসার আগেই রুম থেকে বের হলো। বাইক স্ট্রাট দিতেই নীলা ইতিমধ্যে বারান্দা চলে আসছে। দুতলা থেকেই জামিলকে বলতে লাগলো রসুন কোথায়? এখন কেন ঘর থেকে বের হচ্ছো। কথা শেষ হবার আগেই জামিল বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। কিছু দূর যাবার পর মনে পরল করোনা ভাইরাসের কারনে পুরো শহরকে লকডাউন করা হয়েছে। বিকেলে দিকে কিছু দোকানপাঠ খুলা থাকলেও এখন সেগুলোও চোখে পরছে না। রাগে নিজের মাথার চুল চিরতে ইচ্ছে করছে তার। উফ! কবে যে এই করোনা মুক্তি আর হোম কোয়ারিন্টন শেষ হবে। যাই হোক, জামিল আশাহত হচ্ছে না। যে করেই হোক আজকে সে রসুন না নিয়ে ফিরবে না। ৫ তলা সিঁড়ি বেয়ে ওঠে কলিংবেল দিতে দরজা খুলেই ঠ্াস করে লাগিয়ে দিলো জামিলের খালা। এরকম আচরণে সে অবাক! খালা এমন করছেন কেন?। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে নীলার অনেকগুলো মিসকল। আবারো কলিংবেল। তাতে লাভ হলো না। কিছুক্ষণ পর খালা কল দিয়ে বললেন, এত রাতে তুই কেন আসছি। জানিস না চারদিকে করোনা মহামারি চলছে। খালার কথা শেষ হতেই জামিল বলল আমাকে দুটো রসুন দিতে পারবেন। আমি ঘরে ভেতরে যাবো না। বাইরে থাকবো। না। কোন রসুন নেই। খালা রেগেমেঘে লাইনটা কেটে দিলো।
২. মাত্র সন্ধ্যায় হলো চারদিকে সুনসান নিরবতা দেখে চেনা শহকে অচেনা লাগছে জামিলের কাছে। বাইক নিয়ে রসুনে জন্য আত্মীয় স্বজন আর বন্ধুদের বাসা বাকি রইল না। সবাই করোনা ভয়ে তাকে রসুন দিতে চাইলো না। হঠাৎ মনে পরল মেঘলার কথা। তাদের পাড়াতে থাকে। সেদিন মেঘলার বাবা রাস্তা মাথা ঘুরে পরে যান তখন জামিল বাসায় পৌছে দিয়েছিল। একেই পাড়ায় থাকলোও কে কাউকে চিনে না জামিল আর মেঘলা। সেদিনই মেঘলার সাথে প্রথম পরিচয়। মোবাইল চেক করে দেখে মেঘলার নাম্বারটা আছে। বাসার সামনে এসেই কল দিতে গিয়ে আটকে গেলো। কল দিয়ে সে কি রসুনের কথা বলবে। নাকি মেঘলাও সবার মত রসুন না দিয়ে করোনা ভয়ে দরজা বন্দ করে দেবে। উফ! কেন যে দিনে বাজার করতে ভুলে গেলাম। নীলার ত কোন দোষ নেই সে ত অনেক বার মনে করে দিয়েছে। কুয়ারিন্টনে থেকে কি অফিসের কাজ করা যায়। আর যাই হোক অফিসের কাজ ঘরে সম্ভভ না। মেঘলাকে কল দিয়েই দিলো। যা হবার তাই হবে।
কল রিসিভ করে মেঘলা বলল-এত রাতে কল! আপনাদের ঘরের সবাই ঠিক আছে তো।
-এত রাত কোথায় মাত্র সন্ধায় হলো জামিল উত্তর দেয়।
-কি বলছেন রাত সাড়ে ১০ বাজে। জামিল মোবাইলে স্কিনে দিকে তাকিয়ে দেখে সত্যিই তো। মেঘলাকে আর কোন কথার সুযোগ না দিয়েই জামিল বলে উঠল আপনাদের ঘরে কি রসুন আছে। আমাকে দুটো রসুন দিতে পারবেন। খুবই উপকার হতো।
-মেঘলা বলল, অবশ্যই দিতে পারবো। এভাবে বলছেন কেন?। বাসার ভেতরে আসেন। জামিল উত্তর দিলো ধন্যবাদ। ২টি রসুন দিলেই হবে। মেঘলা অনেকগুলো রসুন নিয়ে বাইরে আসে। রসুন হাতে নিয়েই বাসার দিকে ছুটতে লাগলো জামিল।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

ঘুরে এলাম ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি

        জ্যোতিষ মজুমদার: ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি,...

         নিজস্ব প্রতিবেদক লাখো মানুষের...