যে স্মৃতি মেনে নিতে কষ্ট হয়!

প্রকাশিত : ২৯ আগস্ট, ২০২০     আপডেট : ৪ সপ্তাহ আগে
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

মোশাররফ হোসনে সুজাত :
এইতো ক’দিন আগেও সপ্তাহে অন্তত একদিন মোবাইল পাঠাগারের সাহিত্য আড্ডায় নিশ্চিত দেখা হতো। করোনা কালের শুরুতেও দেখা হয়েছে কথা হয়েছে মোবাইল পাঠাগার ও পিকনিক নিয়ে। সে মানুষটি’র জানাজা গতকাল পড়লাম নগরীর মানিক পীরের টিলায়। যা সত্যি মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে, আর আমাদের এভাবেই মেনে নিতে হয় মেনে নিতে হচ্ছে একের পর এক প্রিয়জনের বিদায়।
কথা বলছিলাম নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ-কবি-ব্যবসায়ী, ইংরেজি দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর ডাইরেক্টর, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের জীবন সদস্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান সেলিম ভাইয়ের আকষ্মিক মৃত্যু নিয়ে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২০) সকাল সাড়ে নয়টায় সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, আমেরিকা প্রবাসী পুত্র ও এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শুক্রবার বাদ আসর মানিক পীর (রহ.)-এর গোরস্থানে মরহুম আবদুল হান্নানের নামাজে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
কবি আবদুল হান্নান সেলিম নগরীর প্রখ্যাত ব্যবসায়ী মহাজনপট্টির আবদুস সাত্তারের (সাত্তার মিয়ার) পুত্র। তার অনুজ বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ বিএনপি নেতা আবদুর রাজ্জাক। সিলেট শহরে জন্মগ্রহণকারী আবদুল হান্নানের কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে সিলেটের বাইরে। বিশেষ করে তার ব্যবসায়িক জীবনের একটি বড়ো অংশ কাটে চট্টগ্রামে। তিনি হাডওয়ার ব্যবসায়ীদের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে এফবিসিসিআইতে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দেশের প্রখ্যাত কবি নিমলেন্দু গুণ প্রমুখের সহপাঠী ছিলেন। অবসরে তিনি নগরীর ফরহাদ খাঁর পুলের বখতিয়ার বিবি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন ও আহমদ গ্যাস ফিলিং স্টেশন এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে অমায়িক ও অতিবিনয়ী একজন সাদা মনের মানুষ ছিলেন। তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর, সিলেট মোবাইল পাঠাগারের সাহিত্য আসরে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। এইসব আসরে স্বরচিত লেখা, কবিতা পাঠ ও রসাত্মক আলোচনায় অংশ নিতেন। অত্যান্ত প্রচার বিমুখ এ গুণী মানুষটি কিছুদিন আগে স্ট্রোক করছিলেন। কিন্তু তিনি এইসব তোয়াক্কা না করে নিয়মিত সাহিত্য আসরে অংশগ্রহণ করতেন। একসময় তিনি নিয়মিত লেখালেখি করতেন। ব্যবসা বাণিজ্যে জড়িয়ে যাবার পর তাঁর লেখালেখিতে সাময়িক ভাটা পড়ে। কিন্তু সিলেট ফিরে আসার পর তিনি আবার লেখালেখি শুরু করেন। আমার মতো অনেক শুভাকাঙ্খীরা বই বের করার জন্যে তাঁকে চাপ দিতেন। শুভানুধ্যায়ীদের অনুরোধে তিনি তার জীবনের স্মৃতিকথা লেখতে শুরু করেন। অসুস্থ হবার কিছুদিন আগে তা প্রকাশের জন্যে প্রেসে পাঠান। সবশেষে তিনি হাসপাতাল থেকে জানান, সুস্থ হবার পর বইয়ের কাজ শুরু করবেন। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি।
একজন মানুষের এতো পরিচয়ের পাশাপাশি সবচাইতে বড় পরিচয় ছিলো তিনি অতিভদ্র বিনয়ী একজন মানুষ। বয়সে তিনি আমার বাবার বয়সী কিন্তু কোনদিন আমাকে ও আমার চাইতে জুনিয়র কাওকে তুমি সম্বোধন করতে দেখিনি। সবসময় হাসিখুশি রসাত্মক আলোচনা আর আপনি সম্বোধন ছিলো তাঁর নৈতিক ভূষণ।
মনে পড়ে করোনা কালের আগে সালেহ আহমেদ খসরু ভাইর কেমুসাসে একটা প্রোগ্রামে আমি মঞ্চে কথা বলে এসে দেখি সঞ্চালক উনার নাম বলেন নি। এরপর আর সময়ও নেই প্রোগ্রাম শেষ পর্যায়ে। আমি বিষয়টি কোনভাবে মেনে নিতে পারিনি কিন্তু কিছু করারও ছিলোনা। হান্নান ভাইকে বল্লাম সরি হান্নান ভাই আমি বুঝতে পারছিনা আপনার নাম মিস হলো কেমনে। তিনি মুচকি হেসে বললেন বাদ দেন হয়তো সঞ্চালক খিয়াল করেন নি, কিন্তু আমি একটা কবিতা লিখে আনছিলাম আজকের আলোচিত ব্যক্তির উপর, সেটি পাঠ করাটা খুব প্রয়োজন ছিলো। কি করবেন মিসটিক হয়ে গেলো। পরে বিষয়টি শুনে সালেহ আহমেদ খসরু ভাইও খুব কষ্ট পেলেন। যার কারণে পরের দিন ফোন করে আমার কাছ থেকে হান্নান ভাইর নাম্বার নিয়ে উনাকে সরি বলছেন। আর বল্লেন আমিও যেন হান্নান ভাইকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলি। এখানে বলতে হয় শ্রদ্ধেয় সালেহ আহমেদ খসরু ভাইও অতিভদ্র বিনয়ী একজন মানুষ, যার কারণে তিনিও এ বিষয়ে কষ্ট পান। কারণ তিনি হান্নান ভাইকে বিষণ শ্রদ্ধা করতেন। কিন্তু হান্নান ভাইকে ফোন দিয়ে দেখলাম তিনি এসব মনেই রাখেন নি বা এটা কোন বিষয় মনে করেন নি। এই ছিলো বয়সে এতো প্রবীন এই গুনী মানুষটির মনে উদারতার একটি চিত্র মাত্র। মহান আল্লাহ উনাকে জান্নাতের মেহমান করে নিন আর তার শোকাহত পরিবার কে ধর্য ধরার তৌফিক দিন আমিন,,,🤲
বিঃদ্রঃ আমি সংশ্লিষ্ট প্রকাশনীকে অনুরোধ করবো হান্নান ভাইর অসমাপ্ত আত্মজীবনী যেন আলোর মূখ দেখে আপনাদের যথাযত আন্তরিকতায়।


  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

আরও পড়ুন

সিলেট ডায়াবেটিক সমিতির ৩৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা সম্পন্ন

         ডায়াবেটিক আজ প্রতিটি পরিবারের উদ্বেগের...

শৈশবের দিনগুলো বার বার ফিরে পেতে চাই

         তাসলিমা খানম বীথি: সিলেট এক্সপ্রেসের...