যে কারণে মাঠে জামান ও মামুন

প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

ওয়েছ খছরু সুযোগের অপেক্ষায় সিলেটে জামান ও মামুন। দুই জনই সাবেক ছাত্রদল নেতা। এক সময় রাজপথ কাঁপানো এই নেতারা ইতিমধ্যে কাঁপাতে শুরু করেছেন ভোটের মাঠও। তাদের ঘিরে আলাদা আমেজ তৈরি হয়েছে সিলেটের ভোটের মাঠে। জামান সিলেটের রাজনীতিতে এক পরিচিত নাম। অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক। আর মামুনুর রশীদ মামুন ছিলেন চাকসুর এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা। ছাত্রদল, যুবদল হয়ে তিনি এখন কানাইঘাট বিএনপির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

এই দুই নেতাকে ঘিরে সীমান্তবর্তী সিলেটের দুটি সংসদীয় আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। সুযোগ হয়নি নেতৃত্ব কিংবা কর্তৃত্ব দেখানোর। এ কারণে এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

জামান ও মামুন দুজনই বিএনপির কাছে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন। এর মধ্যে অ্যাডভোকেট জামান চেয়েছেন সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসন। এ আসনে জামানের রয়েছে বহুল পরিচিতি। সিলেট ছাত্রদলের এক সময়ের মাঠ কাঁপানো নেতা জামান। সিলেট বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের রাজনীতিতে রয়েছে তার কর্তৃত্ব। তরুণ বয়সে জামান সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে চমক দেখিয়েছিলেন। সেই থেকে জামান সিলেট বিএনপির একাংশের নিয়ন্ত্রক হিসেবে রয়েছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে যুক্তরাজ্যে ছিলেন জামান। আন্দোলন ও সংগ্রামের জন্য তিনি ছুটে আসেন সিলেটে। এরপর আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে উঠেন। ওই সময় তিনি একাই তার বলয়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে শহরের পূর্বাংশে আন্দোলন চাঙ্গা করে তোলেন। এ কারণে মামলার পর মামলায় বিপর্যস্ত হন তিনি। ওই নির্বাচনের পর অর্ধশতাধিক মামলায় আসামি হয়ে সিলেট ছাড়েন জামান। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার আগে যখন সিলেট সফর করেন তখন সিলেটে পৌঁছে শোডাউন দেন জামান। তার শোডাউনের কারণে ওই দিন সিলেটের বিপুল সংখ্যক বিএনপির নেতাকর্মী মাঠে নামেন।
সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম। সেলিম দলের প্রবীণ নেতা। তিনি বেশ কয়েকবার ওই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। অসুস্থতায় ভর করলেও সেলিম এবারো এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছেন। আর এখান থেকে এবার মনোনয়ন চেয়েছেন জামানও। সেলিমের সঙ্গে জামানের সম্পর্কের ঘাটতি নেই। সিনিয়র নেতা হিসেবে সেলিমকে মানেন সবাই। কিন্তু সেলিম দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ থাকার কারণে জামান ওই আসনে সাংগঠনিকভাবে তার অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। জামান জানিয়েছেন, সিলেট-৪ আসন হচ্ছে বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি। ওই এলাকার মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে মুখিয়ে রয়েছে। আশা করি আমরা এ আসনটি আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে উপহার দিতে পারবো।’ তিনি বলেন, ‘সিলেট-৪ আসনে এমপি প্রার্থী নিয়ে কোনো বিরোধ নয়, প্রতিযোগিতা রয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় দলের সঠিক সিদ্ধান্তই কেবল পরিবর্তন ঘটাতে পারে।’ এদিকে এ আসনে শরিক দলের কোনো যোগ্য প্রার্থী নেই। ফলে সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে জামান।
সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে দীর্ঘ দেড়যুগ ধরে নির্বাসিত বিএনপি। এ আসনে ২০০১ সালে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াতের মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আহমদ। ২০০৮ সালেও তিনি এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবার এ আসনে প্রার্থী হয়ে দলের ভেতরে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন এক সময়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা মামুনুর রশীদ মামুন। তিনি ২০০৮ সাল থেকে কানাইঘাট থানা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ আসনে আগে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন পলাতক থাকা হারিস চৌধুরী। তিনি অনুপস্থিত থাকলেও দুই উপজেলার বিএনপি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এ আসনে তাদের প্রার্থী চায়। সে লক্ষ্য নিয়ে প্রায় এক যুগ আগে থেকে মাঠে কাজ করছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কানাইঘাটের সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন। তিনি এবার বিএনপির কেন্দ্রের কাছে দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছেন।
মামুনুর রশীদ মামুন আশির দশকে ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করেন। ওই সময় তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করেন। ইলিয়াস আলীর সময়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বেও ছিলেন। পরবর্তীতে যুবদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। নিজ এলাকা সিলেটে ফিরে শুরু করেন বিএনপির রাজনীতি। ২০০৮ সালে বিপর্যস্ত হওয়া কানাইঘাট বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে তিনি দলকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলেন। পাশাপাশি তিনি জকিগঞ্জ বিএনপিতেও নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে তিনি কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের ছায়ার মতো আগলে রাখছেন। এমনকি দুর্যোগ-দুর্দিনেও তিনি পাশে ছিলেন। কয়েক শ’ নেতাকর্মী মামলায় আক্রান্ত হলেও মামুন তাদের পাশে ছিলেন সব সময়।
সিলেট-৫ আসন থেকে মামুন এবার বিএনপির মনোনয়ন চান। সেটি কেবল দলের নেতাদের প্রয়োজনে বলে জানান তিনি। এর কারণ হিসেবে মামুন বলেন, ১৮ বছর ধরে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিতে পারে না। এখানকার বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে কষ্ট নিয়ে বসে আছেন। এবারো আশায় বুক বেঁধে আছে এখানকার মানুষ। বার বার এ আসনে জোটের প্রার্থীকে ছাড় দেয়ার কারণে এই আসনে যোগ্য নেতৃত্বও গড়ে উঠছে না। এ কারণে এবার এ আসন থেকে দলের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাদের। তাদের সমর্থনের কারণে তিনি এবার প্রার্থী হয়েছেন বলে জানান। সুত্র মানবজমিন

আরও পড়ুন