যেভাবে উন্মোচন হলো জোড়া খুনের রহস্য

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারি, ২০২০     আপডেট : ২ মাস আগে  
  

দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়ায় ট্রাক থেকে জোড়া লাশ উদ্ধার ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পরপরই ডাম্পিং পয়েন্টের দেয়ালের কিছু অংশ ভাঙা দেখতে পান মোগলাবাজার থানার পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা বুঝতে পারেন ট্রাকটি এমন অবস্থায় রাখা হয়েছে যাতে মোটামুটি দুর্ঘটনার একটি জমজমাট নাটক সাজানো যায়। নাটক সাজানোর অপচেষ্টার বিষয়টি তারা শুরুতেই ধরে ফেলেন ট্রাকটির অবস্থা দেখে। সেটি ছিল অক্ষত। সন্দেহ আরো জোরালো হয় ট্রাকের কয়েকটি চাকা না থাকায়। ভেতরের মৃতদেহ দুটি এমনভাবে পড়েছিল, যা দেখেই তারা বুঝতে পারেন মৃত্যু দুর্ঘটনাই হয়নি। তারা লাশ দুটি সনাক্তের জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট গ্রহণ ও সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু করেন। এসময় দুটি লাশের গলায় চিহ্ন দেখে প্রাথমিকভাবে শ্বাসরুদ্ধ করে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বিবেচনা করেই তদন্তের কাজ শুরু করেন। শুরু হয় ট্রাকের ভেতর ও আশপাশ তল্লাশি। এসময় মালামালের ইনভয়েস, কিছু মোবাইল নম্বর ও পাওয়া যায়। মিলে যায় ট্রাক মালিকের নম্বরও। তার কাছ থেকে জানা যায়, ট্রাকটি গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে লুমিনাস এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে অটোরিক্সার পার্টস নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ড্রাইভার জাহাঙ্গীর ও রাজু সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাহাঙ্গীরকে ফোন দিলে রহস্যজনকভাবে আগের ড্রাইভার মোহাম্মদ ইব্রাহীম তালুকদার ফোন রিসিভ করে জানান, জাহাঙ্গীর ঘুমুচ্ছেন। ট্রাকের মালিক এরপর থেকে যতোবার কল দিয়েছেন, ততোবারই জাহাঙ্গীরের মোবাইল বন্ধ পেয়েছেন। সকালে ইব্রাহীম জানান, জাহাঙ্গীর তাকে এবং তার সহযোগী ফজর মিয়াকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানার আউশকান্দিতে নাস্তায় রেখে চলে গেছেন। ইব্রাহীমের মোবাইল নম্বরের অবস্থান হুমায়ুন রশীদ চত্বর এলাকায় পাওয়া যায়। তাকেই প্রথমে সন্দেহ করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। সাথে সাথে অভিযানের প্রস্তুতি নেন তারা। কিন্তু তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মোবাইল নম্বরের অবস্থান পাওয়া যায় এয়ারপোর্ট থানার ধোপাগুল এলাকায়।
মোগলাবাজার থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার পলাশ রঞ্জন দের নেতৃত্বে এসআই রাজিব কুমার রায়, এএসআই সেলিম এয়ারপোর্ট থানার কালাগুল ক্যাম্পের ইনচার্জে সাহায্যে ইব্রাহীম তালুকদারকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। জিজ্ঞাসাবাদে ইব্রাহীম তালুকদার তার সহযোগী ফজল মিয়ার পরিচয় প্রকাশ করে এবং তার মোবাইল নম্বরের অবস্থান শনাক্ত হয় নগরীর আম্বরখানা এলাকায়। দ্রুত অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় তাকেও। শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে, ড্রাইভার মো. ইব্রাহীমই পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জাহাঙ্গীর ও তার সাথে বেড়াতে আসা রাজুকে ট্রাকের ভেতরে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করে। তার জবানবন্দি অনুযায়ী মালামাল উদ্ধারের জন্য মোগলাবাজার থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার, অফিসার ইনচার্জ, এসআই রাজিব কুমার রায়সহ একদল পুলিশ সদস্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান। এক পর্যায়ে হবিগঞ্জের মাধবপুর থানার জগদীশপুরের মুক্তিযোদ্ধা চত্বর সংলগ্ন একটি দোকান থেকে ওই ট্রাকের তিনটি চাকা ও পাঁচটি রিং উদ্ধার সম্ভব হয়। হতকড়া পরানো হয় সেগুলোর ক্রেতা মো. জালাল মিয়ার হাতে। জাহাঙ্গীর ও রাজুর তিনটি মোবাইল হ্যান্ডসেট উদ্ধার করা হয় ফজল মিয়ার শশুড়বাড়ি দক্ষিণ সুরমার কোজাবাইন গ্রাম থেকে। সর্বশেষ সংবাদ, শনিবার আদালতে চালান দেয়া হলে তারা সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন মিলার আদালতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনজনই এখন সিলেটের কেন্দ্রীয় কারাগারে।

আরও পড়ুন



শিল্পকলায় প্রতিযোগিতা আবৃতিতে প্রথম অর্পিতা অমি

সিলেট শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত কবিতা...

*জিজিএ মেধাবৃত্তি’১৮এর ফলাফল প্রকাশিত *

জিজিএ এডুকেশন গ্রুপ কর্তৃক আয়োজিত...

আমার দু’শো টাকার শিক্ষক যতীষ স্যার

জুনায়েদুর রহমান: ২০০৮ সালে ক্লাস...