মৌলভীবাজার-৪ আসনে: মনোনয়ন পেলেন পাঁচবারের সাংসদ আব্দুস শহীদ

প্রকাশিত : ২৬ নভেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

বিশ্বজিৎ রায়, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ঃ
অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ আসনে ৬ষ্ঠ বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেলেন সাবেক চিফ হুইপ, সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি।
আজ রবিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত প্রার্থী হিসাবে তাকে মনোনয়নের চিঠি তার হাতে পৌছাঁর পর নির্বাচনী এলাকার দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে একে অপরকে মিষ্টিমুখ করিয়ে আনন্দ উল্লাস করতে দেখা গেছে।
উল্লে¬খ্য, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন-২৩৮, মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন বর্তমান সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ এস এম আজাদুর রহমান।
গত ১৪ নভেম্বর ঢাকায় গণভবনে সবাই দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও মাঠ জরিপের মাধ্যমে সব দিক বিবেচনা করে এই আসনে ৬ষ্ঠ বারের মতো আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সাবেক চিফ হুইপ, সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপিকে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করেন।
শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ কর্মীদের মতে, গত দশ বছর তাঁর নির্বাচনী এলাকায় মানুষ শান্তিতে ও নির্বিঘেœ জীবন যাপন করেছে। এলাকায় যেমন ছিলনা কোন রাজনৈতিক হানা হানি তেমনি ছিলনা চাঁদাবাজদের কোনো দৌরাত্ম্য। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডে তার অগ্রণী ভূমিকার কারনে তিনি অর্জন করেছেন আস্থা, বিশ্বাস আর ভালোবাসা। সর্বোপরি রাজনৈতিক দূরদর্শীতা, মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দলমত নির্বিশেষে তিনি এই অঞ্চলের গণমানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন।
ষষ্ঠবারের মতো দলীয় মনোনয়ন লাভের প্রতিক্রিয়ায় উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ বলেন, ‘আমার এলাকার প্রিয় নেতাকর্মী ও জনগণের দোয়া-আশীর্বাদ এবং ভালোবাসা ও শুভকামনার ফসল আওয়ামী লীগের এই মনোনয়ন। সে জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা ও দলের মনোনয়ন বোর্ডের সবার কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ। ‘আমার রাজনৈতিক ভিশন হচ্ছে নির্বাচনী এলাকার গণমানুষের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায় ও তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা। নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণের শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করা।
উল্লেখ্য যে,সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ ইতিপূর্বে পরপর পাঁচবার এই আসন থেকে নৌকা প্রতীকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি মৌলভীবাজার-৪ আসন থেকে ১৯৯১ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই আসন থেকে এরপর ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আব্দুস শহীদের সঙ্গে এই আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।
১৯৯৬- ২০০১ পযর্ন্ত জাতীয় সংসদে হুইপ, ২০০১- ২০০৬ পযর্ন্ত সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ, ২০০৯- ২০১৪ পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলেরও তিনি সদস্য।
উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ ২০০৬ থেকে ২০১৭ পযর্ন্ত মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা ও ১৯৬৯ সালের ১১ দফা আন্দোলনে ও পূর্বাপর সকল আন্দোলনে সিলেট জেলা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য হিসাবে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালে ছাত্রলীগ মনোনীত সিলেট মদনমোহন কলেজ ছাত্র সংসদে নাট্য ও প্রমোদ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৬- ১৯৬৮ পযর্šÍ তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। একই সময়ে তিনি ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহঃসভাপতি ছিলেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯১- ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম মেম্বার ছিলেন তিনি।
উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এম.কম ডিগ্রি লাভ করেন। সম্প্রতি (২০১৮) তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের উপর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

আরও পড়ুন