মৌলভীবাজার -৪ আসনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি ঃ শহীদ না রফিক ?

প্রকাশিত : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ঃ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর ৩ মাস বাকি থাকলেও মৌলভীবাজার- ৪ (কমলগঞ্জ- শ্রীমঙ্গল) আসনে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে অনেক আগে থেকেই। আর দিন যত এগিয়ে আসছে প্রতিদিনই নির্বাচনী আলোচনায় যোগ হচ্ছে নিত্যনতুন গল্প ও বিভিন্ন সমীকরণ। উভয় দলেরই একাধিক প্রার্থী রয়েছেন মাঠে। এর মধ্যে সর্বশেষ আওয়ামী লীগের ৬ এবং বিএনপির ২ জনের নাম আলোচনায় রয়েছে। আর জাতীয় পার্টি যদি জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে তাহলে এ আসনে প্রার্থী না থাকাটা একরকম চুড়ান্ত, তবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিলে ২ জন নেতা প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র কোনো প্রার্থীর নাম এখন পর্যন্ত শোনা না গেলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে চা জনগোষ্ঠী থেকে প্রার্থী বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন করার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর পরিবার থেকে প্রার্থী মনোনয়ন পেলে জনগণ ও দলের জন্য শাপেবর হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক অনুসন্ধান ও বিভিন্ন সমীকরণ এবং প্রাপ্ত তথ্য – উপাত্ত থেকে জানা যায়, এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ৪ জন মনোনয়ন প্রাপ্তির আশা প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত, শহীদ – রফিকের মধ্যেই টিকিট প্রাপ্তির মুল প্রতিযোগীতা বজায় থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে।
বর্তমান সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড.মো. আব্দুস শহীদ নিজের অবস্থান ধরে রাখতে জনগণের সাথে প্রতিনিয়ত সংযোগ সাধনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সামাজিক সুরক্ষার আওতায় ভিজিডি, ভিজিএফ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্বোধন ইত্যাদির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখছেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। দলীয় বিভিন্ন লোকজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, দলীয় নেতা -কর্মী- সমর্থকরা অনেকটা নীরব ভূমিকায় রয়েছেন, তাঁরা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছেন।
বর্তমান সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. মো.আব্দুস শহীদ জানান, বেশিরভাগ সময়ই তিনি এলাকায় সময় দিচ্ছেন এবং এলাকার সমস্যা- সম্ভাবনা, জনগণের আশা-আখাঙ্খা সবকিছু সম্পর্কে তিনি অবগত। এ আসনের দুই উপজেলায় স্কুল-কলেজ ও গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি বিগত ৯ বছর নিরন্তর কাজ করে গেছেন। অনেক সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে তিনি দাবী করেন, আশানুরুপ উন্নয়নকার্য ৯০% সম্পন্ন হয়েছে। আরো উন্নয়ন কাজের জন্য জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।
মনোনয়নের ব্যাপারে অন্যান্য প্রার্থীদের আখাঙ্খার ব্যাপারে তিনি বলেন, এতো বড় দলে প্রতিযোগীতা থাকতে পারে, এটাই স্বাভাবিক। এতে ঈর্ষান্বিত হওয়ার কিছু নেই বা তথাকথিত কোন্দল অথবা পারস্পরিক শীতল সম্পর্কের কিছু নেই। তিনি গঠনমুলক সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যারা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে, উন্নয়নকাজ চোখে দেখতে পায় না, তাদের সাদামনে বিচার করার কথা বলেন তিনি। এলাকার জনগণকে ‘ভালো’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সচেতন জনগণ বরাবরের মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মনোনীত যোগ্য প্রার্থীকেই নিজেদের সমর্থন প্রদান করবেন। তিনি এবারো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন এবং মনোনয়ন পেলে জনগণের সমর্থন নিয়ে বিগত ৫ বারের মতো এই আসন আবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অপরদিকে শক্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে সরব রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য, কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রফিকুর রহমান। তিনি কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিজের সর্বাত্বক উপস্থিতি নিশ্চিত করছেন। সকল শ্রেণীর মানুষের সাথে অন্তরঙ্গতার দরুন এ আসনে তাঁর জনসমর্থন প্রচুর রয়েছে বলে অনেকেই বলছেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান বলেন, ‘১৯৬৬ সাল থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে নিজের অবস্থান থেকে কাজ করছি। যদি মনোনয়ন প্রাপ্তি ঘটে তাহলে এলাকার প্রত্যাশিত উন্নয়ন, সাধারণের ভাগ্য উন্নয়ন, যুবক ও তরুনদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছানো, সরকারের সকল বরাদ্দ ও কার্যাদি, দলীয় কার্যালয়ের অভাববোধ আমাদের অনেকদিনের, কার্যালয় রাজনীতির ইনস্টিটিউশন; দুই উপজেলায় স্থায়ী দলীয় কার্যালয় স্থাপন, জনগণকে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অবহিত করা হবে।
তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্নভাবে প্রতিনিয়ত মাঠের রাজনীতির খোঁজ খবর নিচ্ছেন, তিনি নিজে মনোনয়নের বিষয়টি দেখভাল করছেন। জনগণের জন্য কাজ করতে হলে ক্ষমতা প্রয়োজন, আবার ক্ষমতার নামে কর্তৃত্ববাদে আমি বিশ্বাসী নই। জনগনের মনের ভাষার প্রেক্ষিতে বলতে পারি, আমি মনোনয়ন প্রাপ্তির ব্যাপারে খুবই আশাবাদী এবং মনোনয়ন পেলে জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনে নৌকা মার্কার বড় বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে আসব, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও সোনার বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদে নিজের এলাকার গণমানুষের কথা বলার সুযোগ পাওয়া হবে আমার পুরো রাজনৈতিক জীবনের পরম সৌভাগ্য।’ অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক ও জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মৌলভীবাজার জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট এ এস এম আজাদুর রহমান শ্রীমঙ্গলের সাবেক পৌর চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রহিম ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা রণধীর কুমার দেব জানিয়েছেন, ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে তারা প্রার্থিতা চাইতে পারেন।
অন্যদিকে বিএনপি থেকে এ আসনে বিগত ৯ম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিউনিটির সদস্য আলহাজ মুজিবুর রহমান চৌধুরী। তিনি আওয়ামী লীগের দুর্গে হানা দিয়ে এ আসন থেকে ৯ম সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৮০ হাজার ভোট ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। যা বিএনপির ইতিহাসে এ আসনে সর্বাধিক ভোট প্রাপ্তি। এছাড়া, তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী অথচ একটি প্রভাবশালী গোষ্টির সমর্থনে বর্তমান সাংসদ আব্দুস শহীদের সাথে নির্বাচনে প্রায় বিশ হাজার ভোটের অল্প ব্যবধানে হেরে যান। কিন্তু, সময়ের পরিক্রমায় হাজী মুজিব বিএনপি’তে যোগদান করলে আওয়ামীলীগের এক সময়ের জনপ্রিয় নেতারা বেকায়দায় পড়েন। দেড় যুগেরও বেশী সময় ধরে, এসব নেতা – কর্মীরা আওয়ামীলীগে এক প্রকার অবহেলিত হয়ে আছেন।
মনোনয়নের ব্যাপারে হাজি মুজিব জানান, যদি বিএনপি নির্বাচনের পরিবেশ পায় তাহলে তিনি সব নেতাকর্মীকে নিয়ে প্রার্থী হবেন এবং আওয়ামী লীগের কোন্দল ও বিএনপি’র জনসমর্থনকে কাজে লাগিয়ে জয়ের মালা উপহার দেবেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল। আইনশৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়ায় জনসমক্ষে বের হতে পারেন না, এমন কি ঈদেও বাড়ি যেতে পারেননি।
এ দিকে এ আসনে আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিতেও রয়েছে বেশ মতপার্থক্য। তবে দলীয় কোন্দলের কারণে হাজি মুজিবের সঙ্গে মতের অমিল থাকায় বিএনপির বিশাল একটি অংশ তার কাছ থেকে দূরে রয়েছেন। যে কারণে বিএনপি থেকেও একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এলাকায় হাজি মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সরব রয়েছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান লাল হাজির নাম। একই সঙ্গে এলাকায় সরব রয়েছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী।
অন্যদিকে, প্রয়োজনানুসারে, বর্তমান সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন মৌলভীবাজার জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক হাজী মো. কামাল হোসেন।

আরও পড়ুন



২০টি টয়লেটকে ব্যবহার উপযোগী করলো রোটারি ক্লাব মেট্রোপলিটন

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: কুলাউরা কাউকাপন...

সিলেট প্রেসক্লাবে পরিকল্পনা মন্ত্রীর সংবর্ধনা আজ

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট প্রেসক্লাবের...

গ্রীস যাওয়ার পথে বালাগঞ্জের যুবক নিহত

তুরস্ক থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে...

সিলেট-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ফয়সল চৌধুরী

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : আসন্ন...