মৌলভীবাজার ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভা

প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯     আপডেট : ৫ মাস আগে  
  

বর্তমান বাজারদেরে সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে মূল মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণা, গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন ও অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখা। ২০ সেপ্টেম্বর ১৯ শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের কোর্টরোডস্থ(মনুসেতু সংলগ্ন) কার্যালয়ে জেলা ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভা থেকে এই দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুল মোহাইমীনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি কবি শহীদ সাগ্নিক, মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ২৩০৫ এর সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল, মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ২৪৫৩ এর সভাপতি মোঃ সোহেল মিয়া, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শ্রমিক সংঘ রেজি নং চট্টঃ ২৮৬৪ এর সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, চা-শ্রমিক সংঘের যুগ্ম আহবায়ক হরিনারায়ন হাজরা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও ধ্রবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ-এর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের কালেঙ্গা আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন কুলাউড়া উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ মিজান মিয়া, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন শেরপুর আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ ইকবাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুজিবুর রহমান, চা-শ্রমিকনেতা নারায়ন গোড়াইত ও সত্য পাশী, হোটেল শ্রমিকনেতা মোঃ শাহিন মিয়া, তারেশ বিশ্বাস সুমন, সুহেল আহমেদ সুবেল, সুমন মিয়া, রিকশা শ্রমিকনেতা দুলাল মিয়া, কিসমিত মিয়া, মোঃ জসিমউদ্দিন প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন চাল, ডাল, তেল, লবন, পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি; বাড়ি ভাড়া, গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি; চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদির ব্যয় বৃদ্ধির ফলে শ্রমিক শ্রেণি ও শ্রমজীবী জনগণের জীবন-যাপন আজ দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনায় এসডিজি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় লগ্নিপুঁজি তথা সাম্রাজ্যবাদীদের সর্বোচ্চ মুনাফার লক্ষ্যে নির্মম শোষণ-লুন্ঠনের ফলে জাতীয় জীবনের সমস্যা-সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে চলেছে। এর সাথে চলমান বৈশ্বিক মন্দার সামগ্রিক প্রভাব পড়ছে আমাদের দেশে। শ্রমিক শ্রেণি ও শ্রমজীবী জনগণের জীবন-যাপনের এই ভয়াবহ অবস্থায় টিকে থাকার জন্য দরকার বাঁচার মত ন্যূনতম মজুরি। অথচ নেই বাঁচার মত সেই মজুরি, না আছে ৮ ঘন্টা শ্রম দিবস, দেওয়া হয় না অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি। কর্মক্ষেত্রে নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক, সাপ্তাহিক ছুটি, উৎসব ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটি, অসুস্থতাজনিত ছুটি, নারী ও পুরুষের সমকাজে সমমজুরি ইত্যাদি আইনি অধিকার ব্যক্তিমালিকানাধীীন অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে কার্যকরী করা হয় না। দীর্ঘ ৯ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও চা-শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি করা হচ্ছে না। বর্তমানের অগ্নি মূল্যেও বাজার আজও একজন চা-শ্রমিকের দৈনিক মজুরি সর্বোচ্চ ১০২ টাকা। চা-শ্রমিক নেতাদের বাড়ি-গাড়ি, বিত্ত-বৈভব ক্রমাগত বাড়লেও শ্রমিকদেও ভাগ্যে কোন পরিবর্তন হচ্ছে। আজকের বাজারদরে একজন চা-শ্রমিকের পরিবার-পরিজন নিয়ে কোন রকমে বেঁচে থাকলে গেলে মাসিক ২০ হাজার টাকার হিসেবে দৈনিক ৬৭০ টাকা মজুরি দরকার। অথচ কথিত চা-শ্রমিকনেতারা সেই যৌক্তিক দাবিটুকু পর্যন্ত তুলে ধরে না। অথচ চা-শ্রমিকদের রক্ত ঘাম করা পরিশ্রমে চায়ের উৎপাদান ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মালিকের মুনাফাও সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে।
বক্তারা আরও বলেন পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থা মন্দা থেকে মহামন্দার দিকে ধাবিত হয়ে ইতিহাসের এক কঠিন সময় অতিক্রান্ত করছে। আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বে বাজার ও প্রভাব বলয় পূণঃবন্টন নিয়ে বৈশিক অর্থনৈতিক সংকট ও মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে বাণিজ্যযুদ্ধ, মুদ্রাযুদ্ধ, স্থানিক ও আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপে বিশ্বযুদ্ধের বিপদকে ক্রমাগত বৃদ্ধি করে চলেছে। এর বিপরীতে শ্রম ও পূঁিজর দ্বন্দ্ব এবং নিপীড়িত জাতি ও জনগণের সাথে সাম্রাজ্যবাদের দ্বন্দ্ব তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে ধনী আরো ধনী এবং গরীব আরো গরীব হওয়াসহ বিশ্বের দেশে দেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, করের বোঝা বৃদ্ধি, বেকারত্ব বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে বেঁেচ থাকা দায় হয়ে পড়ায় শ্রমিক শ্রেণি ও জনগণের আন্দোলন ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে বিপ্লব তথা বিশ্ব বিপ্লবের সম্ভাবনা তরান্বিত করছে। আমাদের দেশের শ্রমিক শ্রেণিকেও পুঁজির শোষণের বিরুদ্ধে সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ ও বৃহত্তর আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।

সভা থেকে বর্তমান বাজারদেরে সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে মূল মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণা, গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন ও অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, মাসিক বেতনের সমপরিমান উৎসব বোনাস প্রদান, চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৬৭০ টাকা, হোটেল, স’মিল, প্রেস, রাইস মিল, নির্মাণ, দর্জিসহ বিভিন্ন সেক্টরে ৮ ঘন্টা কর্মদিবসসহ শ্রমআইন বাস্তবায়ন ও সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরি কার্যকর, রিকশা শ্রমিকদের উপর জুলুম-অত্যাচার বন্ধ ও ন্যায্য ভাড়ার তালিকা প্রদান, সমকাজে সমমজুরি ও কর্মক্ষেত্রে সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করার দাবি জানানো হয়।

আরও পড়ুন