মৌলভীবাজারের ৩ প্রবাসী নিহত

প্রকাশিত : ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০     আপডেট : ৮ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরিবারে মাতম ॥ ধার-দেনা করে ৬ মাস আগে গিয়েছিলেন কমলগঞ্জের আলম
ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় মৌলভীবাজার জেলার ৩ জন প্রবাসী নিহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে গত রোববার বিকালে দেশটির রাজধানী মাস্কাট থেকে কাজ সেরে বাই সাইকেলে করে বাসায় ফেরার পথে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে আদম জেলার জুবার এলাকায় সালালাহ মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত হন তারা। নিহতরা হলেন, কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের বিলেরপার গ্রামের লিয়াকত আলী (৩৫), শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জরপুর গ্রামের সবুর আলী (৩৩) ও কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের চিতলীয়া বাজারের টিলালাইন এলাকার আলম আহমদ (৩৫)। খবর শোনার পর নিহতদের পরিবারে মাতম চলছে।
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) থেকে নিজস্ব সংবাদাদাতা জানান, খবর শোনার পর গতকাল সোমবার বিকালে নিহত আলমের বাড়িতে গেলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এ সময় নিহতের ছোট ভাই ওয়াসিম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার বড় ভাই পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরে আনার আশায় বাড়ীতে স্ত্রী ও ২ সন্তানকে রেখে ধার-দেনা করে ৬ মাস পূর্বে ওমানে পাড়ি দেন। এদিকে, মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আলম মিয়া নিহত হওয়ায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ, মরদেহ দেশে পাঠানো প্রক্রিয়া এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। বাংলাদেশে দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, ওই মহাসড়ক দিয়ে কর্মস্থল থেকে একযোগে সাইকেলযোগে বাসায় ফিরছিলেন স্থানীয় একটি কোম্পানিতে চাকরিরত ৭/৮ জনের বাংলাদেশী কর্মীর দল। বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে পিছন থেকে দ্রুতগামী একটি গাড়ি তাদের চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই ৪ জনের মৃত্যু হয়। পরে রয়েল ওমান পুলিশ এসে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত একজন নিযুয়া হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক খবরে বলা হচ্ছে, মহাসড়কে সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় বাংলাদেশী কর্মীরা ওমানি গাড়ি চালকের হর্ন শুনতে পারেননি এবং নিয়ন্ত্রণ হারান গাড়িচালক।
একটি সূত্র জানিয়েছে, কর্মস্থলে সারাদিনের ক্লান্তি শেষে কানে হেডফোন লাগিয়ে মোবাইল থেকে গান শুনতে শুনতে তারা ফিরছিলেন। তাই গাড়ির হর্ণ শুনতে পারেননি। পকেটে রেসিডেন্ট কার্ড না থাকায় একজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দূতাবাস কর্মকর্তারা।
নিহতদের মধ্যে দুইজনের মরদেহ নিযুয়া হাসপাতাল এবং বাকী দুজনের মরদেহ আদম হাসপাতালের মর্গে আছে। চার প্রবাসীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে ওমানপ্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন