মৌলভীবাজরের ৪টি রেল ষ্টেশন বন্ধ: যাত্রী দূর্ভোগ চরমে

প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

বিশ্বজিৎ রায়, কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
লোকবল সংকটের কারণে প্রায় ৯ বছর ধরে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ চারটি রেলষ্টেশন বন্ধ থাকায় যাত্রী ও মালপত্র পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে লোকবলের অভাবে আখাউড়া-সিলেট রেললাইনের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ও টিলাগাঁওয়ে ওয়ানওয়ে লাইন চালু রেখে স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করে রেল কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ছকাপন ও মনু স্টেশনে টিকিট কার্যক্রম আগে চালু থাকলেও গত তিন বছর ধরে সেই কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। তবে এসব স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে লোকাল মেইল, জালালাবাদ, কুশিয়ারা ও কমিউটার (ডেমু) চারটি ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে।
একসময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন স্থান থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে এসব ষ্টেশন ব্যবহার করত। কিন্তু ষ্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এসব স্টেশনে লোকাল ট্রেন থামলেও মাত্র ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিটের মধ্যে হুইসেল দিয়ে ছেড়ে যায়। এতে যাত্রীদেরকে ওঠানামা ও মালপত্র পরিবহনে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। অনেক সময় তাড়াহুড়ার কারণে দুর্ঘটনারও শিকার হন যাত্রীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারটি ষ্টেশনই তালাবদ্ধ। যাত্রী সাধারণের নেই কোনো আনাগোনা। ট্রেনের নির্ধারিত সময় অনুমান করে কয়েকজন যাত্রী লোকাল ট্রেনের অপেক্ষা করছে। তাদের জানা নেই কখন আসবে সেই ট্রেন।
যাত্রীরা জানায়, একসময় এসব ষ্টেশনে ট্রেনের সময়সূচি ও টিকিট পাওয়া যেত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ষ্টেশনগুলো বন্ধ। ফলে ট্রেনে যাতায়াতে নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্টেশনে টিকিট বিক্রির কোনো কার্যক্রম না থাকায় ট্রেনে উঠে সিলেট এবং অন্যান্য স্টেশনে পৌঁছার পর টিকিট চেকারদের কাছে হেনস্তা হতে হয়। অনেক সময় দ্বিগুণ টাকা দন্ড দিয়ে তাদের কাছ থেকে ছাড়া পেতে হয়।
ষ্টেশনগুলো চালুর দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন, অবরোধ এবং রেল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন স্থানীয়রা। কিন্তু দাবি পূরণ হয়নি আজও।
এদিকে গত ১০ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেনের মাধ্যমে রেলমন্ত্রী বরাবরে চারটি বন্ধ স্টেশন চালুর দাবিতে একটি স্মারকলিপিও পেশ করেছেন এলাকাবাসী।
আলাপকালে ভাটেরা ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ এ কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, ট্রেনযোগে সিলেট যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই স্টেশনটি আমাদের অন্যতম মাধ্যম ছিল। স্টেশনটি সচল রাখার দাবিতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মিকাঈল সিপার ও পার্শ্ববর্তী সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুস সামাদ চৌধুরীর কাছ থেকে ডিও লেটার নিয়ে রেলসচিবের কাছে দিয়েছি। কিন্তু আজও সেই দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। অচিরেই স্টেশনটি চালুর জন্য ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি।’ কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন ষ্টেশন মাস্টার মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি বছর খানেক হলো। বন্ধ ষ্টেশনগুলো মূলত ষ্টেশন মাস্টার ও পয়েন্ট ম্যানের অভাবে বন্ধ রয়েছে। আশা করছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মাস্টার ও পয়েন্ট ম্যান নিয়োগ দিয়ে ষ্টেশনগুলো আবার চালু করবে।

আরও পড়ুন



হোটেল অনুরাগের কক্ষ থেকে অধ্যক্ষের মরদেহ উদ্ধার

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট নগরীর...

বিচারবর্হিভ’ত হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চের বিক্ষোভ

বিচারবর্হিভ’ত হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চের...

সরে গিয়েও ১৪৭ ভোট পেলেন এডভোকেট শান্তিপদ ঘোষ

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ঃ একাদশ...