মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

প্রকাশিত : ১৯ জুন, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। মনু নদের পানি বিপদসীমার ১৮০ সেন্টিমিটার থেকে কমে ৬৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পৌর শহরের প্লাবিত অংশ থেকে নামছে পানি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তিনটি উপজেলার সঙ্গে স্বাভাবিক হয়েছে সড়ক যোগাযোগ। তবে কমলগঞ্জ উপজেলা এবং সিলেটের সঙ্গে এখনও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

বড়হাট এলাকা দিয়ে শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় পৌর শহরের তিনটি ওয়ার্ড। বড়হাট হয়ে নদীর পানি মৌলভীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক ডুবিয়ে সাইফুর রহমান রোডে চলে আসে। তবে বর্তমানে সাইফুর রহমান রোড থেকে পানি নেমে গেছে। সময় যত যাচ্ছে দৃশ্যমান হচ্ছে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কও। চলমান গতিতে পানি কমতে থাকলে ১ থেকে ২ দিনের মধ্যে সড়ক থেকে পানি পুরোপুরি নেমে যাবে বলে আসা করছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা। উজান থেকে পানি নামলেও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে এই পানিতেই। মৌলভীবাজার শহর থেকে পানি কমলেও নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সদর উপজেলার আমতৈল ও নাজিরাবাদ ইউনিয়নের কিছু অংশ।

এ দিকে রাজনগর উপজেলার কদমহাটা নামক স্থানে মনু নদের বাঁধ ভেঙে তিনটি উপজেলার সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় জেলা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা। বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়ক থেকে পানি নেমে যাওয়ায় এই সড়ক দিয়ে যান চলাচল করছে। তবে বন্যার পানির স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই সড়ক।

সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যার পানির স্রোতে সড়কের অর্ধেক ভেঙে গেছে। নিচ থেকে মাটি বের হয়ে গেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিলেট সেনানিবাসের ২১ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নের সদস্যরা মেজর মুহাইমিন বিল্লার নেতৃত্বে সড়কটিকে যান চলাচলের উপযোগী করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে মনু নদের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এবং শহর রক্ষা বাঁধ চরম ঝুঁকিতে পড়ায় সাইফুর রহমান রোডে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। যা এখনও বন্ধ আছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত হওয়ার পর সাইফুর রহমান সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। মৌলভীবাজার শহরের ব্যস্থতম বাণিজ্যিক এই সড়কের সব দোকানপাট এবং বিপণীবিতান পুরাতন থানার সামনে থেকে পশ্চিম বাজার মোড় পর্যন্ত এখনও বন্ধ আছে। নিরাপত্তার জন্য পাহারায় আছে পুলিশ।

অন্যদিকে জেলার রাজনগর, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জেও বন্য পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় যাদের ভিটে থেকে পানি নেমে গেছে তারা নিজ ঘরে ফিরে তা মেরামত করছেন। যারা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন তারা দিনের বেলায় নিজ বসত ঘর বাসযোগ্য করার জন্য সারাদিন ঘরে কাজ করে রাত্রীযাপনের জন্য আবার নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছেন।

রাজনগরের আশ্রাকাপন গ্রামে গিয়ে তেমনি একটি পরিবারের দেখা মিলে। তারা বুক সমান পানি পারি দিয়ে সকালে নিজের ভিটেতে গিয়ে সারাদিন মেরামত কাজ করে বিকেলে আবার পানি মাড়িয়ে ফিরছিলেন। ওই পরিবারের সদস্য জায়িদুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে পানি ওঠায় শহরে আশ্রয় নিয়েছি, আজ ভিটে থেকে পানি নেমেছে শুনে দেখতে আসছি। ঘর মেরামত করে বসবাসের উপযোগী করছি।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী পার্থ জানান, পানি যে গতিতে কমছে তাতে আমরা আশাবাদী খুব তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন