মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে,আল্লাহ ছাড়া উপায় নাই

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ, ২০২০     আপডেট : ২ মাস আগে  
  

মোঃ নিজাম উদ্দিন  নিরব নিস্তব্ধ পুরো পৃথিবীর, নিশ্চুপ সমস্ত জনপদ নেই কোন কোলাহল,নেই কোন হাক ডাক। বন্ধ আজ রাজ দরবার ছুটিতে আছেন বিচারপতি,রাজা প্রজা পাইক পেয়াদা গোলন্দাজ। একজনের বিচার থেমে নেই তার কাছে সবাই মুখাপেক্ষী আজ সারা বিশ্ব,তার দরবার সবার জন্য উন্মুক্ত তিনি বিশ্বভ্রমান্ডের মালিক আমার আল্লাহ। তিনি চাইলে কি না করতে পারেন,বাধ্যতামূলক ছুটিতে আজ পুরো বিশ্ব। কিছুদিন আগেও বিশ্ব মোড়লরা কি এমন পরিস্থিতি চিন্তা করেছিলেন? নিশ্চয়ই না। সবাই ব্যস্থ ছিল তার নেতৃত্ব আর কতৃত্ব নিয়ে,অনেক দেশে ছিল পরিকল্পিত মুসলমান নিধনের চেষ্টা কোথাও রীতিমতো মুসলমান নিধনের প্রতিযোগিতা,পৃথিবী জুড়ে ছিল যুদ্ধ যুদ্ধ অবস্থা। আল্লাহ নিরবে সবই দেখছিলেন মনে মনে হাসছিলেন,হয়তো বলেছিলেন রাখো মিঞারা তোমরা অনেক যুদ্ধ লড়াই দূর্ণীতি করেছ তোমাদের একটু রেষ্টের প্রয়োজন। তাই হয়তো আজ বিশ্ব মোড়ল আর তাদের অধিনস্তদের এক সাথে বাধ্যতামূলক ছুটি। অবাক করা বিষয় যে ডাক্তার মানুষকে সেবা দিয়ে সুস্থ্য করে সেই ডাক্তার আজ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে নিরাপদ নয়,অনেক দেশে ডাক্তাররা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ আল্লাহর ভয়ে পবিত্র কোরআনের উদৃতি দিয়ে আমার আল্লাহর প্রশংসা করে। এতো হাই সিকিউরিটির মধ্যেও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন,মহান আল্লাহ চাইলে কি না করতে পারেন চিল্লাইয়া বলেন ঠিক কি না। আজ বিশ্ব পরিস্থিতির ভয়াবহতায় হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর ধর্মগুরুরা আমাদের প্রিয়নবী বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) এর জীবন বিধান পরম সম্মানের সাথে অনুস্মরণ করছেন,আমল করার নির্দেশ দিচ্ছেন তার অনুগতদের। আজ সমগ্র পৃথিবীর সকল মোড়লরা ঐক্যবদ্ধ ক্ষুদ্র একটি করোনাভাইরাস মোকাবেলায়,সবাই বলছেন করোনা নাকি অভিন্ন শত্রু। বাংলাদেশের মানুষ কেমন আছে, ডাক্তাররা প্রোটেকটিভ ব্যবস্থা কি পাচ্ছে ? করোনা আতঙ্কের চাইতেও ভয়ংকর আতঙ্ক হচ্ছিল বাংলাদেশের মন্ত্রীদের বক্তব্য,আল্লাহ যেন তাদের হেদায়েত দান করেন। মানুষ দিশাহারা হচ্ছে তিনারা হচ্ছেন বেদিশা, কখন হয়তো বলবেন আমাদের কোন দায়িত্ব নেই আমরা কোন দায়িত্ব নেব না। দেশের মানুষ আমাদের ভোট দেয় নাই, আপনারা যা ভালো মনে করেন তাই করেন। আমাদের মন এমনিতেই ভালো নেই আমরা এক বছর পূর্ব থেকে কতো প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম জন্মদিন পালন করবো খবিস করোনা ভাইরাস আমাদের কথা শোনেনি বড় অসময়ে চলে আসলো, তার তো এখন আসার কথা ছিল না। মোদী সাহেব মানে আমাদের দাদাকে অভ্যর্থনা জানাবো তিনির কাছে আমরা কতো ঋণী কতো উচ্ছাস আকাংঙ্খা তার মন জয় করবো, থাকে কতো উপহার দেব তা আর হলো না। আমাদের মন খারপ করে চিন্তার জগৎকে লন্ডভন্ড করে দিল সামান্য করোনাভাইরাস। আমরা ভেবেছিলাম করোনা চায়না থেকে সোজা ইউরোপের ইতালী হয়ে কোথাও হারিয়ে যাবে কিন্তু না প্রোগ্রামও করতে দিল না বরং মহা এক টেনশনে আমাদের রেখে দিল। তিনাদের ভাবসাবে মনে হচ্ছে, কতো আরামে ছিলাম দেশে রাজনীতি নাই বিরোধী দলের লাফালাফি নাই, আমরা দাওয়াত দিলাম না অথচ করোনাভাইরাস এসে গেল। কি আর করা অপ্রস্তুত অবস্থায় মূখে যা আসে তা বলে ফেলি রাগের মাথায় করোনা যদি চলে যায় তাহলে আমরা যে কতো শক্তিশালী পাবলিক একটু দেখুক। করোনা নিশ্চয়ই বলেছে রাখো নেতারা তোমাদের বেকুব বানাবো, আমি এতো তাড়াতাড়ি যাব না, তোমাদের সামর্থ আর বুদ্ধি কতটা দেখে নেই। এক সাথে পুরো বিশ্বের ক্ষমতাসীন নেতা সহ পাতিনেতাদের ঈমান আমল যোগ্যতার পরীক্ষা শুরু হয়েছে, আমাদের আল্লাহ নিশ্চয়ই সবই দেখছেন। এক এক দেশ হয়ে লকডাউন হলো পুরো পৃথিবী, হঠাৎ করে থমকে গেলো সারা বিশ্ব, করুণ আর্তনাদ সবার চোখে মূখে, প্রিয়জনকে নিয়ে বেঁচেথাকার চেষ্টা সংগ্রাম আকুতি। এর আগে এক সাথে এতো মানুষের মৃত্যুভয় হয়তো কখনও তাড়া করেনি। সিরিয়ার সেই ছোট্ট শিশু বলে গিয়েছিল ওপারে গিয়ে আল্লাহকে সব বলে দেব। মহান আল্লাহ বিশ্ববাসীকে দেখালেন মানুষ মারতে বা কোন জাতিকে ধ্বংস করেতে ক্ষেপণাস্ত্র কামান গোলাবারুদ মিশাইল রকেটলান্সার লাগে না, তার চাইতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটা করোনা ভাইরাসই যতেষ্ট। যুগে যুগে শত বছর পর মহান আল্লাহ বিশ্ববাসীকে এমন করে কোন ভাইরাসে আক্রান্ত করে দেখাচ্ছেন বিভিন্ন আলামত দিয়ে। হে মানবজাতি তোমরা সতর্ক হও তোমরা সীমা লঙ্গণ করনা আমি হযরত ঈসরাফিল (আঃ) কে প্রস্তুত করে রেখেছি তোমাদের ধ্বংস করতে আমার একটি নির্দেশই যতেষ্ট। আল্লাহ পাকরাব্বাল আলামীন যুগে যুগে বিভিন্ন রাষ্ট্রে মহারাষ্ট্রে কতো দূর্দান্ত প্রভাবশালী পরাক্রমশালী ব্যক্তিদের নিমিষেই পতন ঘটিয়েছেন। কেন মানুষ নেতারা এতো দম্ভ করে সব কিছুরই তো একটা শেষ আছে,একদিন তোমার দম্ভ চুর্ণ হবে বিচার হবে আখেরাতে। আসুন মহান আল্লাহর মহত্ত্ব কে অনুভব করে আকড়ে ধরি তার কুদরতি কদমে। পৃথিবীর লক্ষ কোটি মিথ্যার মধ্যে চিরন্তন একটি সত্য, প্রতিটি মানুষকে একদিন মৃত্যু বরণ করতে হবে। সুতরাং জীবিত অবস্থায় ভালো মহৎ কল্যাণকর কিছু কাজ যেন আমরা করতে পারি আল্লাহ যেন তাওফিক দান করেন,আমরা সবাই বলি আমিন। আমাদের গোনাহের কারণে তওবা করি, ক্ষমা চাই দয়াল মাবুদের দরবারে। হে আল্লাহ পরওয়ারদিগারে আলম, ও আমার মুনিব তোমার রহমত দিয়ে আমাদের হেফাজত করো, অতি দ্রুত করোনাভাইরাস কে ধ্বংস করে দাও আমিন ইয়ারাব্বাল আলামীন। সাবেক চেয়ারম্যান খুরমা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ, ছাতক।

আরও পড়ুন



অবশেষে আরিফই পেলেন ধানের শীষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সকল জল্পনা কল্পনা...

বালাগঞ্জে সালিশ বৈঠকে খুন

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গৌরিপুর...

সিলেটে রবীন্দ্রনাথের শববর্ষ স্মরণোৎসবের লোগো উন্মোচন ৩ জুলাই

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিলেট আগমনের...