মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সিলেটবাসি হারালো এক গুণী

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ২৬ মার্চ, ২০২০     আপডেট : ১২ মাস আগে
  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    14
    Shares

মোস্তাক চৌধুরী ২৫ মার্চভোরে মৃত্যু বরণ করেন সিলেটের সুশীল সমাজের এক সুপরিচিত মানুষ, মিতভাষী ও লেখক জুবায়ের সিদ্দিকী। তিনি সিলেটের সকল মহলের কাছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী নামে পরিচিত। তাঁর এ মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সিলেটবাসি হারালো এক গুণী, বুদ্ধিমান ও সমাজ চিন্তক মানুষকে, যে শুন্যতা কখনো পূরণ হবার নয়। ” সিলেটের দর্পণ” পরিবারের পক্ষ থেকে জানাই গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।

তিনি ১৯৪৯ খৃস্টাব্দের ৯ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম- তজম্মুল আলী সিদ্দিকী ও মাতার নাম- মরিয়মুন্নেছা চৌধুরী। তাঁর পিতা সিলেটের দূর্গাকুমার পাঠশালার প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস সিলেট জেলার বালাগন্জ উপজেলার পাঁচপাড়া গ্রামে।

তিনি ১৯৬৭ খৃস্টাব্দের ১৬ সেপ্টেম্বর ততকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসাবে যোগদান করেন এবং ১৯৯৯ খৃস্টাব্দের ৬ জানুয়ারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদবী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

অবসর জীবনে এসে তিনি সিলেটের স্কলার্সহোম স্কুল এন্ড কলেজের শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসে প্রিন্সিপাল হিসাবে যোগদান করেন এবং চাকুরীকালীন অবস্হায় মৃত্যু বরণ করেন। এখানে থাকা অবস্হায় তিনি সিলেটের বরণ্যে শিক্ষাবিদ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি স্কলারসহোমকে একটি ভালো মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচিতি লাভ করাতে সক্ষম হন। তাঁর শিক্ষাদানের কৌশল দেখে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্যের প্রার্থী কবিতার ঐ লাইনগুলির কথা মনে পড়ে–
হে সূর্য!
তুমি আমাদের স্যাঁতসেঁতে ভিজে ঘরে
উত্তাপ আর আলো দিও,
আর উত্তাপ দিও,
রাস্তার ধারের ঐ উলঙ্গ ছেলেটাকে।

বিশিষ্ট শিক্কাবিদ জুবায়ের সিদ্দিকী এই উত্তাপ ও আলো আমাদের সন্তানদের দিয়ে গেছেন অবলীলায় একথা বলা যেতে পারে।

জুবায়ের সিদ্দিকীর সাথে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে সাংবাদিক ফয়জুর রহমান ভাইয়ের মাধ্যমে। গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল ইন ইউ, কে এর সিলেট জেলা কমিটির তিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং আমি ঐ কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিলাম। এ সুবাদে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় (আমাদের উপজেলা সহ) ত্রাণ বিতরণ ও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজকর্ম একসাথে করেছি। তিনি খুবই সদালাপী ছিলেন এবং সজ্জন ও বন্ধুবতসল ছিলেন। তাঁর ব্যাক্তিত্ব, কাজের প্রতি নিষ্টা ও একাগ্রতা যে কারো জন্য শিক্ষণীয় ছিলো। সবশেষে গত ১৫/০৩/২০২০ রোজ রোববার সিলেটে একটি বিয়েরওয়ালিমা অনুষ্ঠানে দেখা হয় এবং অনেক কথা হয়। তিনি অতীতের ত্রাণবিতরণ কার্যক্রম সহ সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমের স্মৃতিচারণ করেন। এটাই তাঁর সাথে আমার শেষ দেখা ও কথা।

তিনি একজন উঁচুমানের লেখক ছিলেন। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তিনি স্হানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। আমার জানামতে এ পর্যন্ত তাঁর ৪-টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর জন্মের ৭০-বছর পূর্তিতে কৈতর, সিলেট এর উদ্যোগে এক সম্বর্ধনা পরিষদ গঠন করা হয় এবং এ পরিষদের মাধ্যমে “অকুতোভয় ” নামে একটি সম্বর্ধনা স্মারক প্রকাশিত হয়।

আর কখনো জুবায়ের সিদ্দিকী’র সাথে দেখা হবে না এবং তিনি কখনো ফিরে আসতে পারবেন না এটি সুনিশ্চিত বুঝেই বলছি এ সমাজে এমন একজন জুবায়ের সিদ্দিকীর এখনো প্রয়োজন। প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন জুবায়ের সিদ্দিকী সমাজে আপনার মতো মানুষের অভাব আমি ও আমরা সবসময়ই অনুভব করবো।


  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    14
    Shares

আরও পড়ুন

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: বৃহত্তর সিলেটের...

লেখক-গবেষক মো. ফয়জুর রহমানের মৃত্যুতে সিসিক মেয়রের শোক

         সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের...

Ways to Identify All mail Purchase Birdes-to-be

         A great way to marry,...

কোকো’র মৃত্যুবার্ষিকীতে ২৫নং ওয়ার্ডে এমদাদ চৌধুরীর শীতবস্ত্র বিতরণ

4        4Sharesবিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক...