মৃতের উদ্দেশ্যে কুরআন খতম বা শবিনা খতম (কুরআনখানী) একটি বিদআতী প্রথা

প্রকাশিত : ০৯ জুন, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

প্রশ্ন: কুরআন খতম করার পর পরিবারের কোন মৃত ব্যক্তির নামে বখশিয়ে দেয়ার যে রীতি আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, সেটা কি সঠিক?

উত্তর: দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, বর্তমানে শহরে, গ্রামে-গঞ্জে মৃত মানুষের উদ্দেশ্যে কুরআনখানী ও ফতিহাখানী করার যে নিয়ম দেখা যাচ্ছে সে বিষয়ে না পাওয়া যায় কোন সহীহ হাদীস না যঈফ হাদীস। এমনকি এ ব্যাপারে কোন বানোয়াট হাদীসও পাওয়া যায়না। এটা এমনই বিদয়াত যা সুদৃঢ় প্রমাণাদীর সরাসরি বিরুদ্ধ। এ কুপ্রথা সমাজে এতটা ব্যাপকতা লাভ করার কারণ হল, পয়সালোভী, নাম সর্বস্ব লেবাসধারী আলেমগণ এ ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করছে আর জনসাধারণ এটাকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছে। এমনকি এটাকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বরং ফরযের স্তরে নিয়ে পৌঁছিয়েছে।

সুতরাং মৃতের উদ্দেশ্যে কবরের নিকট গিয়ে অথবা মসজিদ ও মাহফিলে কুরআনখানী বা শবিনাখতম করে তার সওয়াব বখশানো বা সওয়াব রেসানী করা সম্পূর্ণ বিদয়াত এবং গোমরাহী মূলক কাজ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে কখনো এ কাজের প্রতি পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ কোন নির্দেশ, দিকনির্দেশনা, উৎসাহ কিংবা উপদেশ দিয়ে যান নি। কোন সাহাবীর পক্ষ থেকেও কখনো এ রকম কথা বলা হয় নি। কুরআনখানী করলে মৃত ব্যক্তি যদি উপকৃত হত তবে সর্ব প্রথম সাহাবীগণ তা বাস্তবায়ন করে এ সৌভাগ্য অর্জন করতেন।
সুতরাং এ পদ্ধতি ইসলামের কোন কাজ হতে পারে না। বরং তা বিদআতী পন্থা।
আর বিদআতের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মতকে শক্তভাবে সতর্ক করে গেছেন।
তিনি বলেন:

يَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ

“(দীনের ক্ষেত্রে) নতুন আবিস্কৃত বিষয়াদীর ব্যাপারে তোমরা সাবধান হও। কারণ,প্রতিটি নতুন জিনিসই বিদয়াত আর প্রতিটি বিদয়াতই গোমরাহী। [মুসনাদ আহমাদ (৩৫/৯) প্রখ্যাত সাহাবী ইরবায ইবনে সারিয়া রা. থেকে বর্ণিত।]

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. হতে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও ঘোষণা করেছেনঃ

مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدّ

“যে আমাদের এ ব্যাপারে তথা ইসলামী শরীয়তে এমন নতুন কিছু আবিস্কার করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয় তা পরিত্যাজ্য। ”[সহীহ বুখারী,অধ্যায়: কোন আমলকারী অথবা শাষক যদি ইজতেহাদ করে ফায়সালা দেয় এবং না জানার কারণে সেটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ফয়সালার বিপরীত প্রমাণিত হয় তবে তা প্রত্যাখ্যাত। মুসলিম, অধ্যায়: অন্যায় বিধান ভেঙ্গে ফেলা।]

আল্লাহ তাআলা আমাদের সমাজকে বিদআতের মহামারী থেকে রক্ষা করুন। আমীন।

উত্তর প্রদানে:

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

আরও পড়ুন



৭ জন মাদক সেবনকারীকে কারাদন্ড

গত ২৭ জুন র‌্যাপিড এ্যাকশন...

বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তারা

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : জকিগঞ্জ...

অগ্রণী তরুণ সংঘের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ

সিলেট নগরীর অসহায় ও দুস্থ্যদের...