মায়ের জন্য কাঁদে প্রাণ

প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে

বেলাল আহমদ চৌধুরী:

আজ আমার মা নিদারুন ভয় বিস্ময় আর যন্ত্রনার অনেক উর্ধ্বে
আজ আমার মায়ের গৌরবর্ণ দেহ আর হরিনীর মতো কালো চোখ দেখিনা
দু’টি চোখ কোমল পলকে আবৃত্ত আছে তাও দেখি না।
আজ, আমার মায়ের এলোমেলো আগোছালো কথা শুনি না
চাঁদের আলোর মত হাসিও দেখি না।
আজ, আমার মায়ের আধিপত্য সুলভ কথা ও শিক্ষক সুলভ শাসনও কেউ করে না
আজ, আমার মায়ের পানের ভাটা নিয়ে ঘাঁটা-ঘাঁটি নেই
আজ, আর তার অসন্তোষের ঠোঁঠ বাকানো কথা শুনা যায় না।
আজ, আমার মা তার সাজানো রাজত্ব্যে বিছনা সম্বলিত শয়ন কক্ষে আবদ্ধ নেই
বুকে সাদা কম্বল জড়িয়ে আড়াআড়ি ভাবে
মুখটা ঢেকে আছেন তাও দেখি না।
আজ, তাঁকে ছোট বাটিতে বেড়ে দুধ খাওয়ানোর তাড়া নেই
এক মাত্রা ঔষধ ভাগ করে দিতে হয় না
আজ, আর আমার মাকে গোলাপ ডালিয়া জুই চামেলির বাগানে তদারকিতে দেখা যায় না।
আজ, আমার মা ফজরের মুয়াজ্জিনের আযান শুনে
মসজিদে যেতে তাগদা দেন না।
আজ, আমার মা তার কাছে বসে কুরআন তেলাওয়াত করতেও বলেন না।
নিদারুন বেদনা আর যন্ত্রণা আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে
আমি হতভাগা, রাত গভীরে দুরু দুরু পায়ে মায়ের শয়ন কক্ষে দাঁড়াই
আজ, তার বিছানা বালিশ সাদা দবদবে পরিপাটি
শুধু শোনা যায়না কোন নি:শ্বাসের শব্দ
আমার শক্তিতে ছাপিয়ে উঠে হতাশা
আমি উদ্বান্ত হয়ে অন্ধকারে হাত বাড়াই
রাতের কৃষ্ণ রেখা হতে ভোরের শুভ্র রেখা প্রতিভাত হবে
আমার আকাশে আঁধারিতে ঢাকা
ইহ জীবনে আর মায়ের সাথে দেখা হবে না।
আমৃত্যু স্মৃতিকে নিয়ে আমাকে হাবুডুবু খেতে হবে
আমি হতভাগা কর্তব্য পালনে হাজিরা দিতে ব্যর্থ হয়েছি
তার প্রয়োজনের তুলনায় সেবা দিবার নূন্যতা আমারে শুধুই কাঁদায়।

আরও পড়ুন