মাহবুবা সামসুদ বুলবুল— আবার ফিরুক তার সতেজসুস্থতা

প্রকাশিত : ১৮ জুলাই, ২০২০     আপডেট : ২ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফায়সাল আইয়ূব :
মাহবুবা সামসুদ বুলবুল— বৃহত্তর সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের এক উজ্জ্বল তারকা। সদাসহাস্যমুখ প্রিয়জন। দুই যুগের বেশি সময় ধরে তার সাথে আমার বিনম্রশ্রদ্ধার হার্দ্যসম্পর্ক।
বাবা-মায়ের বড়োসন্তান হওয়ায় আমার কোনো আপা ছিলো না— এমন অন্তরবেদনার কোনো এক বাঁকে বুলবুল আপা আমার বড়ো-আপা হয়ে যান। আর বড়ো-আপা তো পরিবারের বাইরের কেউ হন না। যদিও সিলেটের তোপখানা ও চৌহাট্টার দূরত্ব ছিলো কয়েক কিলোমিটার। তবু আমার মনে হতো আপা আমার কাছেই আছেন, ঘরেই থাকেন।
প্রতিমাসে নন্দিনীর সাহিত্য আড্ডা ছাড়াও আমার ভালোলাগা বাড়াতে আর মন্দলাগা কমাতে, প্রতিবছরের ১৮ অক্টোবর তাঁর জন্মদিনে, দৈনিক জালালাবাদ ও সিলেটের ডাকের সাহিত্যপাতার জন্যে ছোটগল্প, কবিতা প্রবন্ধ-নিবন্ধ নিয়ে আসতে, এমনকি প্রেমিকা নিয়েও আমি তার বাসায় অসংখ্যবার গিয়েছি। আর একবার বাসায় ঢুকে গেলে তো কথাই নেই— একাধিক ট্রে-ভর্তি আপার হাতের সুস্বাদু খাবারের স্বাদ না-নিয়ে বেরোনো যেতো না।
২০০৯ সালে সিলেট ছেড়ে লন্ডন পাড়ি দেওয়ার আগ মুহূর্তে আপার যে ভালোবাসা আমি অধম পেয়েছি সে ঋণ কোনোদিন পরিশোধযোগ্য নয়।লন্ডনের সাড়ে পাঁচ বছরের প্রবাসজীবন এবং ফ্রান্সের সাড়ে পাঁচ বছরের প্রবাসজীবনে আপার সাথে টেলিফোনে এবং সৌশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে একাধিকবার আমার যোগাযোগ হয়েছে। যতোবার কথা হতো একটি প্রশ্ন কোনো-না-কোনো ফাঁকে জিজ্ঞেস করতেনই— তুমি কি আর দেশে আসবে না? আবেগাপ্লুত হয়ে প্রতিবারই জবাব দিতাম— আসবো আপা, আসবো।
আজ বড়ো ভয় হচ্ছ— আমি হয়তো দেশে যাবো, তোপখানায় থাকবো কিন্তু চৌহাট্টায় যাবো কিনা, আপাকে পাবো কিনা! আমার আপার শারীরিক অবস্থা মাত্র ১১ বছরের ব্যবধানে এতোটা নাজুক হয়ে যাবে কখনও কল্পনা করিনি। গত কয়েকদিন আগে সৌশ্যাল মিডিয়ায় তার শয্যাশায়ী কয়েকটি ছবি আমাকে ভিতরে ভিতরে ভেঙ্গে দিয়েছে। আমার আপার প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জানান দিতে পারবো না আর— এমনটা ভাবলেই গা শিউরে উঠে, চোখে অন্ধকার দেখি।
আসলে প্রবাসে আসার পর থেকে গত ১১ বছরে অনেক আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, পরিচিতজন, কাছের মানুষ, বন্ধুবান্ধবকে হারিয়ে ফেলেছি। যাদের কথা ও মুখ মনে হলে কষ্টে বুক ভেঙে যায়। অনেককে শেষ দেখাটুকু দেখতে পারিনি! অনেকের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসতে পারিনি— সে কষ্ট প্রকাশ-অযোগ্য। আমরা প্রবাসে আসি আর ক্রমাগত হারাতে থাকি আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পরিচিতজন— এ এক নির্মম বাস্তবতা; এড়ানোর ক্ষমতা কারো নেই!
গত কয়েকদিন আগে আমার ভাগনা বাপ্পির (আপার বড়ো ছেলে) কাছ থেকে জানতে পেরেছি আপার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো। এ খবরে আমি কিছুটা ভালোবোধ করছি। তবু আমি মনেপ্রাণে চাই— আপা শতভাগ সুস্থ হয়ে উঠুক! আবার ফিরুক তার সতেজসুস্থতা! আবারও তার মুখে সবার জন্যে সেই ধ্রুবতারাহাসি ফুটুক! আবারও তার বাসার ড্রয়িংরুম হরেক রকম সুস্বাদু খাবারের গন্ধে মৌ মৌ করুক! তার বাসাটি আবারও সিলেটের সাহিত্যানুরাগী, তরুণ সাহিত্যামোদীদের মায়াময়ী প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হোক!
জুলাই ১৫, ২০২০ ।। প্যারিস, ফ্রান্স।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

রেডক্রিসেন্ট রক্তকেন্দ্রে নতুন সেল সেপারেটর মেশিন উদ্বোধন

40        40Shares নিজস্ব প্রতিবেদক বিএমএ’র মহাসচিব...

শায়খুল হাদীস গলমুকাপনীর ইন্তেকাল

          সিলেটের প্রখ্যাত বুযুর্গ শায়খুল...

ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জয়নাল আবেদীন জামিনে মুক্ত

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: গোয়াইনঘাট (সিলেট)...

মশা নিধনের জন্য স্মারকলিপি প্রদান

           সিলেট কল্যাণ সংস্থা ও...