মানুষ গড়ার কারিগর মাস্টার শামসুদ্দিন

,
প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর, ২০২০     আপডেট : ৪ মাস আগে
  • 41
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    41
    Shares

মুনাজ্জির আহমদ :১.মাস্টার শামসুদ্দিন সাহেব। মানুষ গড়ার কারিগর একজন আদর্শ শিক্ষক,পাশাপাশি নালিশ কমিটির একজন ন্যায়বান বিচারক হিসেবে সিলেটের পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে এক সুপরিচিত নাম।
২০০৫ সালে কুমারগাওয়ের মুয়াজ বিন জাবাল কোর’আনিক ইন্সটিটিউটে পড়ার সুবাদে মুহতারাম মাস্টার শামসুদ্দিন সাহেবকে ভালো করে চেনার সুযোগ হয়। উনার ছেলে Akm Bodruzzaman ভাইকে প্রায়ই দেখতে আসতেন মাদ্রাসায়।তখন কথা হতো,বিভিন্ন দিক নির্দেশনা আমাদেরকেও দিতেন। উনার কথা শোনতে খুব ভালো লাগতো,কারণ কথা বলার মাঝে চমৎকার একটা আর্ট ছিলো।
২.
২০১৩ সালে যখন চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে দাওয়াহ বিভাগে পড়াশোনা শুরু করলাম, সেই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আ.ফ.ম. নুরুজ্জামান স্যার ছিলেন উনার বড় ছেলে।স্যার যেহেতু ফ্যামিলি নিয়ে টিচার্স ডরমিটরিতে থাকতেন তাই নাতি নাতনীকে দেখার জন্যে মাঝেমধ্যে ক্যাম্পাসে আসতেন।তখনো দেখা হতো,কথা হতো।
কিছুদিন পরে বদরুজ্জামান ভাইও দা’ওয়াহ বিভাগে চান্স পেলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সর্বক্ষেত্রেই মেধার স্বাক্ষর রাখলেন, আলো ছড়ালেন নিজ যোগ্যতার, বিকশিত করলেন সুপ্ত প্রতিভার।বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই বদরুজ্জামান ভাইকে নুরুজ্জামান স্যারের ফটোকপি বলতো।কারণ স্যারও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালীন সময়ে সর্বক্ষেত্রেই সফলতার মুকুট ছিনিয়ে আনতেন।
৩.
২০১৭ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী আইন অনুষদে চান্স পেলো মুহতারাম শামসুদ্দিন চাচার ৩য় ছেলে এ.এস.এম. রুকনুজ্জামান। সেও বড় দুই ভাইয়ের পথ ধরেই সফলতার সিড়ি বাইতে থাকলো। সেও সিট পেয়েছিলো আবু বকর হলে। যে হলে বদরুজ্জামান ভাই থাকতেন।
৪.
২০১৮ সালের শুরুর দিকে বদরুজ্জামান ভাই হঠাৎ করেই খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন।পরিবার থেকে দূরে থাকা মানুষকে সহপাঠী কিংবা হলের ভাই হিসেবে আমরা সর্বোচ্চ দেখভালের চেষ্টা করছিলাম।
একদিন বিকেলে ক্যাম্পাসে এসে হাজির শামসুদ্দিন চাচা।অসুস্থ ছেলের খবর পেয়ে আর বসে থাকতে পারলেন না বাড়িতে৷ যদিও তখন উনি নিজেও ছিলেন অনেকটা অসুস্থ। তারপরেও ছেলেকে দেখার জন্যে এক এক করে ৬ তলা বেয়ে উপরে উঠলেন।
ছেলেকে দেখলেন,গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিলেন,সাহস যোগালেন।
আমিও তড়িঘড়ি করে দ্রুত এসে হাজির হয়েছিলাম চাচার সাথে সাক্ষাৎ লাভ করার জন্য। ইতিমধ্যে উনি জেনে গিয়েছিলেন আমি এই হলের প্রধান নকিব(ছাত্র প্রতিনিধি)।
উনি আমাকে অনেকটা আবদার করেই বললেন আমার ছেলেটা অসুস্থ। তার সিট ৬ তলায় কেন?তাকে নিচের দিকে সিট দিলে ভাল হয়।আপনি হল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তাকে একটু ব্যবস্থা করে দিয়েন।
আমিও বুঝিয়ে বলছিলাম,হলের ভর্তির সিরিয়াল অনুযায়ীই স্টুডেন্টরা রুম পায়। সে কারণেই বদরুজ্জামান ভাই ৬ তলায় সিট পাইছেন। তারপরেও হল প্রভোস্ট স্যারের সাথে কথা বলবো,নিচে নামানোর ব্যপারে।
যদিও হল প্রভোস্ট ছিলেন উনারই বড় ছেলে শ্রদ্ধেয় Afm Nuruzzaman স্যার।যিনি নিয়ম নীতির ব্যাপারে সবসময়েই থাকেন আপোষহীন। প্রভোস্ট হওয়ার পরেও একজন ছাত্র বলতে পারবেনা, উনার ২ ভাইকে আলাদা করে একটু বাড়তি সুবিধা দিয়েছেন। এ যেন ন্যায়বান বিচারক শামসুদ্দিন চাচার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।
যাইহোক, সেই বদরুজ্জামান ভাই আজকে মাস্টার্স করছেন, তুরস্কের অন্যতম সেরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
৪.
একজন সাদা মনের মানুষ,অমায়ীক ব্যবহারের অধিকারী পাশাপাশি দৃঢ়চেতা ছিলেন মাস্টার শামসুদ্দিন চাচা।বয়সের ভারে দূর্বল হওয়ার পরেও এলাকাবাসী যেকোন বিচারকার্যে উনাকে নিয়ে যেতো।কারণ সকলের আস্থা ও বিশ্বাস ছিলো বিচারটা যথাযথ হবে।
একজন আদর্শ শিক্ষকের পাশাপাশি ন্যায়বান বিচারক হিসেবে সবসময়ই ছিলেন সকলের কাছে গ্রহণীয় ব্যক্তিত্ব।
৫.
সেই আদর্শ শিক্ষক, ন্যায়বান বিচারক ও একজন সফল পিতা মুহতারাম শামসুদ্দিন মাস্টার সাহেব গতকাল ইন্তেকাল করেছেন।ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
আল্লাহ তা’য়ালা মরহুমের জীবনের সকল ভুল ত্রুটি ক্ষমা করুন। এবং আজীবন মানব কল্যান মূলক যে কাজ করে গেছেন সেসকল পূণ্যের বিনিময়ে মহান রব তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন।


  • 41
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    41
    Shares

আরও পড়ুন

বড়লেখায় হাজী আব্দুল করিম হাফিজিয়া মাদ্রাসায় পুরস্কার বিতরণ

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: মৌলভীবাজার জেলার...

মুক্তাক্ষর এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দু’দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

2        2Sharesসিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক আবৃত্তি সংগঠন...

ছড়াকার এমদাদ আলীর পিতৃবিয়োগ জালালাবাদ কবি ফোরামের শোক

66        66Sharesজালালাবাদ কবি ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক...