মানুষের জীবন বহমান নদীর মত

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

কাইটস মাসুদ: আমার কাছে মানুষের জীবনটাকে বহমান নদীর মত মনে হয়।নদীর বুকে কখন যেমন উত্থাল ঢেউ বয়ে যায়।আবার কখন নদীর জ্বল হয় সান্ত কোমল।নদী তার বুকে সব যন্ত্রনা বয়ে বেরায় অবলীলায়।মানুষের তৈরী দুষিত বর্জ যেমন বিষক্ত করে নদীর পানিকে।তেমনি কৃষ্নচুড়া গাছের তলা থেকে বয়ে যাওয়ার সময় পানিতে ফুলগুলো পরলে নদীর পানি সুগন্ধময় হয় কিনা জানিনা, তবে গ্রাম্য বধু নিমেষেই ডুব দিয়ে বাড়ি ফেরে নদীর তীর থেকে।পূজোর প্রসতুতি সরুপ ঠাকুর মষাই যেমন গঙ্গাস্নান শেরে কিছুটা জ্বল নিয়ে মন্দিরে যায়।ইমাম সাহেবও তেমনি ওজু শেষে মসজিদে যাত্রা করে।আর নদী সবাইকে পবিত্র করার তৃপ্তিটুকু নিয়ে বয়ে চলে আপন গতিতে।।আমার জীবনটাও তেমনি এক নদী।সবাইকে তৃপ্তির হাসিটুকু উপহার দিয়ে আরালে রুমাল ভিজাই চোখের পানিতে।আমার জীবনটাও তেমনি এক নদী।যে নদীর কোন কুল নেই।যে নদীর কোন কিনারা নেই।আর এই কুল কিনারা বিহীন নদীর মাঝে আমি সাতরিয়ে বেরাচ্ছি।কিছু সময় পর পর ভাবি ঐ বুঝি তীরের দেখা মিলেছে।তীব্র বাসনা নিয়ে সাতরে যাই সেই তীরের দিকে।কাছে যেতেই দেখি এটা একটা বড় ঢেউ।যে ঢেউ নিমেষেই লন্ডভন্ড করে দেয় আমাকে।খতবিখ্যত করে দেয় আমার মনকে।ঢেউয়ের প্রবল বেগে আমি তলিয়ে যাই নদীর অতল গহ্বরে।হাবুডুবু খেতে থাকি সেই প্রলয়ন্কারী ঝড়জটকার মাঝে।ভাবি আর হয়ত নি:শাস নেয়া হবে না বুক ভরে।আর হয়ত দেখা হবে না আগামী দিনের নতুত সূর্য।মাঝি বিহীন নৌকার মত ছেড়ে দেই শরীরটাকে।সময়ের হাতে সপে দেই জীবন তরী।খানিক পরেই উপলবদ্ধি করি কে যেন গূনটানা নৌকার মতো আমায় টেনে নিয়ে যাচ্ছে সুদূরে।আমি বলি, কে তুমি? কেনইবা আমায় টেনে নিয়ে যাচ্ছ এভাবে? কোথায় পেলে আমায়।আমিত ঝড়ের বেগে হারিয়ে গেছি নদীর বুকে।আর কেন এভাবে আমায় ভবিশ্যতের সপ্ন দেখাচ্ছ? না আমি বিশ্বাস করি না।তুমি যেটা বলছো সেটা হবার নয়।তুমি আমার বিধাতার প্রেরিত কোন দূত নও।নও তুমি কোন স্বর্গিয় মানব।তুমি কেন আমায় বাঁচালে? তাহলে কি তুমি আমার বিধাতার ইশারায় আমায় বাঁচিয়েছ? তুমিইকি হবে আমার বেচেঁ থাকার অবলম্বন? না !তুমিও একদিন আমায় ছেড়ে চলে যাবে।আজকের এই শক্ত করে ধরে রাখা হাতদুটো , একদিন তুমি আলত করে ছেড়ে দিবে।সে দিন আমি কোথায় যাব? সে দিনতো আমি আজকের মত আবার তলিয়ে যাব এই নদীবখ্খে।তার থেকে আজই ইতি টানি এই দূর্বিষহ জীবনের।না তুমি বাঁধা দিও না।প্রতিনীয়ত এভাবে খুরে খুরে মররার থেকে একেবারেই মৃত্যুকি শ্রেয়। তোমার মত অনেকেই বিধাতার দূত হয়ে স্বপ্ন জাগীয়ে,আবার হারিয়ে গেছে অজানার পথে।আমি পরে রয়েছি সেই আগের জায়গায়।তার থেকে এবার আমি চিরস্থায়ী জায়গায় যেতে চাই।বাঁধা হয়ে দাড়িওনা সামনে।এই নদীর বুকই আমার আসল ঠিকানা।না আমি কাপুরুষ না।আমি ভীরু না।আমারও লড়াই করার শক্তি ছিল।তোমরা আমার হাতিয়ার কেড়ে নিয়েছ, আমি খালি হাতে আবার যুদ্ধে নেমেছি।এভাবে করে আর কতদিন? এবার আমায় মুক্তি দাও।আমার জায়গায় তোমরা হলে কি করতে?আমি যতটুকু পেরেছি ,তোমরা তা পারতে না।আমি যা অর্জন করেছি তোমরা তা করতে না।।আমি হলাম যীবন যুদ্ধে এক পরাজীত সৈনিক। তোমরা এবারও আমায় যেতে দিচ্ছ না।তবে তাই হোক।পাশে থেক তুমি/তোমরা।ছেঁড়ে যেওনা আমায়।আমি আবার সপ্ন দেখব নতুন দিগন্তের।আবারও বুক ভরে নি:শাস নিব এই ভূবন মাঝে।তোমাদের নিয়ে রং তুলিতে আঁকব জীবনকে।নিজের ভবিষ্যতকে যত্ন করে বুনব রঙিন সুতর মাঝে।

আরও পড়ুন