মানুষের জীবন : এক মহা মূল্যবান আমানত

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: মানুষ তার জীবনের মালিক নয় । জানের মালিক আল্লাহ । এ মহা মূল্যবান জীবনটা আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে আমানত । আমানতের শরয়ী বিধান হল, আমানত যেভাবে গ্রহণ করা হয় ঠিক সেভাবেই সংরক্ষণ করতে হয় । কোন ভাবেই রদ-বদল করা জায়েয নয় । আর যখন মালিক তা নিতে চায়, তখন তাকে সেভাবেই দিয়ে দিতে হয় । যেমন, এক ব্যক্তি এক হাজার টাকা কারো কাছে আমানত রেখেছে । এর মধ্যে ১০০ টাকার নোট ৫ টি আর ৫০০ টাকার নোট একটি । এখন আমানত গ্রহিতার নিকট জায়েয নেই যে, ৫০০ টাকার নোট দিয়ে পাঁচশত টাকার ভাংতি নেয়া । এমনটি করা হলে গুনাহ হবে অর্থাত্‍ আমানতের খেয়ানত হবে ।

জীবনটা যেহেতু আল্লাহ পাকের আমানত, সেহেতু তার রক্ষণা-বেক্ষণ করা ও যত্ন করা প্রত্যেকের যিম্মায় ফরজ। জীবন রক্ষার জন্য যাবতীয় ক্ষতিকর বস্তু থেকে বিরত থাকা । যেমন যেসব খাবার দাবারে জীবন নাশের আশঙ্কা রয়েছে তা পরিহার করা । সাপ, বিচ্ছু, আগুন, বিদ্যুত্‍ ইত্যাদি মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে । তাই এগুলো থেকে সতর্ক থাকা । রোগ ব্যধির জন্য ভাল চিকিত্‍সা নেয়া । অবহেলা ও অবলিলায় জীবনটা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আল্লাহর নিকট জবাব দিতে হবে । নিজের কষ্টতো আছেই, তা ধরতব্য নয় । এক রোগাগ্রস্ত বখিল তার ছেলেকে বলল,”তুমি বাজারে গিয়ে দেখবে ঔষধের দাম বেশি, না কাফনের দাম বেশী । যদি ঔষধের দাম কম থাকে তবে ঔষধ নিয়ে আসবে। আর যদি ঔষধের দাম বেশী হয় তবে কাফনের কাপড় নিয়ে আসবে ।
উক্ত বখিলের জন্য তা করা জায়েয হয়নি । তার জন্য ওয়াজিব ছিল আল্লাহর দেয়া অর্থ দিয়ে আল্লাহর দেয়া জানের চিকিত্‍সা করা । এটা হত বহু বড় ইবাদত ।
মানুষের শরীর ও আত্মার মালিক একমাত্র আল্লাহ । আল্লাহ পাকের মর্জি মত তা ব্যবহার করার হুকুম রয়েছে । আল্লাহর মর্জির খেলাফ ব্যবহার করা জায়েয নয় । যেমন এক ড্রাইভার মালিকের কাছ থেকে গাড়ী নিয়ে চালাচ্ছে । এখন ড্রাইভারের জন্য আইনসিদ্ধ হবেনা গাড়ি বিক্রয় করা বা পরিবর্তন করা । যদি তা করে তবে সে সর্ব আদালতে অপরাধী হিসেবে সাভ্যস্ত হবে । ঠিক তেমনি ভাবে মানুষের শরীর ও তার আত্মা ধ্বংশ করা মোটেই জায়েয নয় । এটা অমার্জনীয় অপরাধ । আর এটাও তার জন্য বৈধ নয় যে, সে তার শরীরের কোন অঙ্গ অন্যের কাছে বিক্রি করবে বা দান করবে।যেমন মৃত্যুর পূর্বে অছিয়ত করে যায় যে, আমার মৃত্যুর পর আমার চক্ষু, কিডনী বা বাল্প দান করে দিও।যেহেতু এসবের মালিক সে নয় বিধায় এগুলো বিক্রি করা বা দান করার অধিকার তার নেই। অন্যের আমানতি মাল দান করা কোন অবস্থাতেই বৈধ নয়। এই মাল তার মালিকের কাছেই ফেরৎ দিতে হবে। আমানতি মাল চাওয়ার আগেই মালিককে ফেরত দিতে পারলে অতি উত্তম।

নিজেকে দয়া করুন, নিজের প্রতি রহমদীল হোন। কোন কিছু নিয়ে এতো চিন্তা করে কী হবে? প্রতিটা মানুষের জীবনের স্রোত আলাদা, একের সাথে আরেকটা মিশে না। অন্যের সাথে তুলনা করতে যাবেন না। এমনকি নিজের অতীতের সাথেও না। শুধু জেনে নিন, আপনার জীবনে সামনে যা আসে, তা আল্লাহর পাঠানো। কিছুতেই তা এড়িয়ে যেতে পারতেন না। গ্রহণ করে নিন জীবনে যা কিছু আসে, আসবে। হাসিমুখ থাকুন, চিন্তাক্লিষ্ট হয়ে দুশ্চিন্তা ও আশংকা করে নিজেকে নষ্ট করবেন না।আমাদের উপরে যা কিছু আসে তা আমাদের সাধ্যের অতিরিক্ত নয়, এ আল্লাহর স্পষ্ট ঘোষণা। আস্থা রাখুন নিজের উপরে। দুর্যোগ মানেই জীবন ধ্বংস নয়, হোক তা প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট। দুর্যোগ কেটে যায়। ধ্বংসস্তূপ সারিয়ে তুলতে হয় সেই আপনাকেই। তাই, অপেক্ষা করুন নতুন করে গড়ে নেয়ার। এটাই জীবন। অতিকাব্যিক কিছু নেই পৃথিবীর জীবনে। আসল সফলতা আল্লাহর কাছে। দুনিয়ায় কাজ হলো সুন্দর করে মূহুর্তগুলোতে আপনার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া। ফলাফল আল্লাহর হাতে। সবই আল্লাহর হাতে।সহজভাবে গ্রহণ করুন জীবন। হাসিমুখ থাকুন, হাসিমুখ তৈরি করুন। কাজ করুন। মন দিয়ে কাজ করুন। কাজের মাঝে বেঁচে থাকুন যেন এগুলো সাদকায়ে জারিয়া হয়ে মরণের পরেও বন্ধু হয়ে রয়।

হে আল্লাহ! আমি জানি আপনি আমাকে যতটা সুন্দর করে সৃষ্টি করেছিলেন, যতটা যত্ন ও ভালোবাসায় আমাকে অজস্র রাহমাতে পরিপূর্ণ করেছিলেন আমি ততই সবকিছুকে পায়ে ঠেলে নাফরমানিতে আর ভুলে ডুবে ছিলাম। নিজের অবস্থান নিজেই নিচ থেকে নিচে নামিয়েছি, অমর্যাদা করেছি নিজের, যুলুম করেছি নিজের উপরে। হে আল্লাহ, নিজের ভুলেই আপনার কাছ থেকে সরে গেছি দূর থেকে দূরে। হে আল্লাহ, যখন এই পৃথিবীর সব মানুষ আমার উপরে হতাশ হয়, ক্ষুব্ধ হয়, তখনো ঠিক ঐ মূহুর্তেই আমার তাওবা কবুল করে আমাকে ভালোবাসায় জড়িয়ে দিতে কেবল আপনিই থাকেন। কষ্টের সেই কঠিন সময়টাতে খুব ভালো করে বুঝি আপনি গাফুরুল ওয়াদুদ– আপনি প্রেমময় ও ক্ষমাশীল।

হে আল্লাহ! জীবনের ভুলগুলোর দিকে তাকিয়ে শত-শতবার উপলব্ধি করেছি আমি কতটা বোকা, অলস, একগুঁয়ে, দুর্বল চিত্তের, দুর্বল ঈমানের পাপী বান্দা। এই আত্মখেদ জেগে ওঠার সময় শয়তান আমাকে আরো দূরে ঠেলে দিতে চায় আপনার পথ থেকে। হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আপনি তাওবা কবুল করেন। আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। জীবনের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীর জীবনকে আপনার সন্তুষ্টির জন্যই তৈরি করার জন্য তাওফিক দিন।

হে আল্লাহ, আপনিই তো একমাত্র দাতা। আপনি ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই। আমরা দুর্বল, আমরা শুধু আপনার কাছেই হাত পেতে ভিক্ষা চাইছি। যেসব গুণাবলী অর্জন করলে আপনার আরো কাছে যেতে পাবো, আপনার ভালোবাসা পেতে পারব, সেগুলো অর্জন করার তাওফিক দিয়ে দিন। আপনার প্রিয় কাজগুলোকে ভালোবাসার তাওফিক দিয়ে দিন।হে রব্বুল আলামীন, অপর মুসলিম ভাইদের প্রতি ভালোবাসা আমাদের মাঝে তৈরি করে দিন, তাদের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা থেকে আমাদের অন্তরকে রক্ষা করার এবং অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার তাওফিক দান করুন।

হে আল্লাহ, সৎপথের সন্ধান পাওয়ার পর গোমরাহীর পথে আর যেন কখনো ফিরে না যাই। হে আল-মুজিব, আমাদেরকে আপনার পথের উপরে দৃঢ় ও অবিচল থাকার তাওফিক দিন। হে গাফুরুর রাহীম, হে আর-রাযযাক, আমাদের সকল অভাব ও অসহায়ত্ব থেকে কেবলমাত্র আপনার কাছেই আশ্রয় চাইছি। হে আল জাব্বার, আল-মুতাকাব্বির, আল-কারীম, আমাদেরকে দয়া করুন। জান্নাতী হবার জন্য যেসব গুণাবলী প্রয়োজন আপনি আমাদেরকে দান করুন। হে আল-কারিম, আল-মান্নান, আপনি ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই যে কিছু দিবে, আমরা শুধু আপনার কাছেই ভিক্ষা চাই। হে গাফুরুর রাহীম, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদেরকে জীবনকে কবুল করুন, আমাদের তাওবা কবুল করুন, আমাদের দু’আ কবুল করুন। হে আল্লাহ! এই জমীনের বুকে এই উম্মাহকে আপনি বিজয় দান করুন।

আরও পড়ুন